অনলাইন শপিং (ইন্টারনেটে কেনা কাটা) একটা অপশন মাত্র

1 127

শপিং বলতে ঠিক যে-চিত্রটি কিছুদিন আগে পর্যন্ত আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠত, তা অনেকটাই বদলে গিয়েছে অতি অল্প সময়ের মধ্যে অনলাইন শপিং (ইন্টারনেটে কেনা কাটা) কল্যানে । নেপথ্যে, ভার্চুয়াল জগত্‌, আন্তর্জাল। বাড়ি থেকে বেরিয়ে, ভিড় ঠেলে, বেছে-বেছে, হাতে নিয়ে এখন আর অনেকেই জিনিসপত্র কেনেন না। কিন্তু শপিং তো আর থেমে থাকেনি! শপিং চলছে ইন্টারনেটে, অনলাইনে। বই থেকে ব্র্যান্ডেড জুতো-জামা-ইলেকট্রনিক গ্যাজেটস, অনলাইন শপিং ওয়েবসাইট গুলিতে দেদার বিকোচ্ছে এই সবকিছু। এবং দেখা যাচ্ছে, ক্রেতা হিসেবে ইয়ং জেনারেশনের উত্‌সাহই বেশি। নবীন প্রজন্মের কাছে শপিংয়ের এই মাধ্যমটি কতটা আকর্ষক, জনপ্রিয়? তারা অনলাইন শপিংয়েই কি স্বচ্ছন্দ বোধ করে?-এই নিয়েই এবারের ‘দেশ’ আড্ডা।

online shopping

স্থান, দক্ষিণ কলকাতার সাদার্ন অ্যাভিনিউ সংলগ্ন বিবেকানন্দ পার্ক। ভিতরে তো বটেই, পার্কের রেলিংয়ের ধারে বসেও চলে দিব্যি আড্ডা, চা খাওয়া। আর এখানেই নিয়মিত আড্ডা দেয় অর্ণব মুখোপাধ্যায়, প্রীতম চক্রবর্তী, ত্রিজিত্‌ ঘোষ, অর্ঘ্য বসু এবং রাজ কোনার। অর্ণব অনলাইন শপিং একটু বেশিই করে। তার বক্তব্য, ‘একটা জিনিস যা হয়তো দোকানে-দোকানে খুঁজেও পাওয়া গেল না। কিন্তু অনলাইনে পেয়ে গেলাম। এরকম অনেকবারই হয়েছে। অনলাইন শপিং তাই দরকারি।’

রাজ: কিন্তু অনলাইন সাইটগুলো কি আপডেটেড স্টক রাখে?

অর্ণব: অবশ্যই!

রাজ: না রে, একবার একটা ব্র্যান্ডেড সানগ্লাস কেনার জন্য একটা অনলাইন সাইট দেখেছিলাম। যেটা বাজারের সবক’টা দোকানে আছে, লেটেস্ট মডেল, সেটা অনলাইনে নেই।

প্রীতম: হ্যাঁ-হ্যাঁ, অনলাইনে প্রচুর আউটডেটেড স্টক রেখে দেয়। তার ওপর এমন ডিসকাউন্ট দেখায় যেন প্রায় ফ্রি-তেই দিচ্ছে! লোকে বুঝতে পারে না কেন কে জানে!

ত্রিজিত্: ওই ডিসকাউন্টের জন্যই তো অনলাইনের ক্রেজ়।

অর্ঘ্য: ডিসকাউন্টে অসুবিধে নেই, কিন্তু জিনিসটা সঠিক হতে হবে।

অর্ণব: জিনিস তো ভালই! এমনকী, তোর পছন্দ না হলে পালটাতেও পারবি।

রাজ: তাও একটা কথা বলি। এই যে অনলাইন বাজার করা, এর মধ্যে কোনও মজা পাস? আমার মনে হয়, ফিজ়িক্যালি গিয়ে কেনাতেই বেশি আনন্দ। যেটা কিনব, সেটা হাতে নিয়ে দেখব। ঘুরে-ঘুরে দেখব এ দোকান-সে দোকান। এটা অনেক বেশি ইন্টারেস্টিং।

অর্ণব: তো, অনলাইন শপিং করছিস বলে কেউ তোকে বারণ করছে না বাইরে থেকে কিনতে। আমি তো বাইরে থেকেও কত কিছু কিনি।

প্রীতম: দেখ, অনলাইন ব্যাপারটাকে জাস্ট একটা অপশন হিসেবে দেখাই ভাল। তবে, একমাত্র অপশন নয়।

ত্রিজিত্: আবার অনেক সময় অনলাইন শপিং কিন্তু টাইম বা এনার্জি সেভিং।

অর্ঘ্য: ঠিক, কিন্তু তখনই, যখন তুই পছন্দের জিনিসগুলো অনলাইনে পাবি, কম দামে। না হলে নয়।

অর্ণব: না হলে নয় কেন?

অর্ঘ্য: আরে, যেটা বাইরে গেলেই পাব, সেটা বেকার অনলাইনে কিনব কেন যদি কম দামে না পাই? সেই ফর্ম ফিল করো, অপেক্ষা করো, তারপর আসবে বাড়িতে। এত কেন করব!

প্রীতম: এসব যদি নাও ভাবি, তাহলেও আমার মনে হয় না, অনলাইন শপিংয়েই বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করে আমাদের জেনারেশন। যদি করত, তা হলে দিনরাত্রি এই শপিং মলগুলোতে এত ভিড় হত না!

রাজ: ধুর! তোর প্রথম বক্তব্যটা মানছি। কিন্তু পরেরটা মানতে পারলাম না। শপিং মলের ভিড় হল উইন্ডো শপিং। আরও ডিসগাস্টিং! অর্ধেক তো বসে থাকে, গল্প করে, খায়-দায়। বন্ধুদের মিটিং স্পট।

অর্ণব: তাহলেই বল, এসবের মাঝে না থেকে দরকারি জিনিস যদি ঠিক দামে পাওয়া তো অনলাইনে কেন ভিড় জমাবো না! কী না পাচ্ছিস বল তো আজকাল! অ্যালপিন টু এলিফ্যান্ট, এভরিথিং ইজ় দেয়ার!

অর্ঘ্য: সেটা ঠিক।

ত্রিজিত্: আসলে, অনলাইন শপিং ডেফিনিটলি বাজার করার একটা সহজ অ্যাপিলিং মাধ্যম। মানে, তোমার না পোষালে ক’রো না। কিন্তু অস্বীকার করার উপায় নেই।

 

বিষয়টি এখন হয়তো তাই-ই। তবে, অনলাইন শপিংয়ের জনপ্রিয়তা এখনও কম্পিউটার-শিক্ষিত, ইন্টারনেট ভাষিতদের মধ্যেই সীমিত, এও একটি ভেবে দেখার দিক।

1 টি মন্তব্য
  1. Abdul Mannan বলেছেন

    আমার কাছে http://joyeetashop.com এই সাইটা খুব ভালো লাগে কিন্তু এদের সেল কবে শুরু হবে কেউ বলতে পারেন?

উত্তর দিন