গুগল গ্লাস পেলেন বাংলাদেশী ডেভেলপার !

2 250

বাংলাদেশী ডেভেলপার অভিজিত রায় কাব্য পেলেন পরীক্ষামূলক ভাবে সল্প সময়ের জন্য গুগল গ্লাস, এ বিষয়ে জনাব অভিজিত রায় কাব্য সাপ্তাহিক প্রবাসে গুগল গ্লাস নিয়ে নিজেই তার অনুভুতি ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন,তা হুবুহু পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল।

উল্লেখ্য এই প্রথম কোন বাংলাদেশী ডেভেলপার গুগল গ্লাস পরীক্ষামূলক ভাবে ব্যবহারের সুযোগ পেলেন ।

গত শুক্রবার দুপুর ৩টায় ম্যানহাটনের সেলসি মার্কেটের ৮ম তলায় অবস্থিত গুগল গ্লাস এর স্টুডিও থেকে রিসিভ করলাম গুগল গ্লাস। প্রযুক্তি কিভাবে মানুষের হাতের মুঠো থেকে এখন নাকের ডগায় তাই বোঝা যায় এই গ্লাস হাতে নিলেই। গুগল গ্লাস হল এমনই উচ্চতর প্রযুক্তির চশমা যা ব্যবহার করে ছবি তোলা, ভিডিও করা, কোন কিছু সম্পর্কে তথ্য জানা, বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করা, রাস্তায় দিক নির্দেশনা নেওয়া সবই করা সম্ভব। আর এগুলো করা যাচ্ছে ভয়েস কমান্ড দিয়ে এবং দেখা যাচ্ছে ঠিক ডান চোখের সামনেই!

Google Glass Bangladesh
অভিজিত রায় কাব্য গুগল গ্লাস চোখে

গুগল বর্তমানে সল্প সংখ্যক গ্লাস অনুমোদিত ব্যক্তিকে ক্রয় করার সুযোগ দিচ্ছে এবং ডেভেলপারদের পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করতে দিচ্ছে। ডেভেলপার হিসেবে সল্প সময়ের জন্য আমিও পেলাম এই গ্লাস ব্যবহারের সুযোগ।
গুগল গ্লাস আসলে সাধারন চশমা থেকে একটু ভিন্ন। এর ডান দিকে চোখের সামনে আছে একটি চারকোনার ছোট প্রিজম যা আসলে এই গ্লাসের ডিসপ্লে যা মিনি প্রজেক্টরের মাধ্যমে কাজ করে। ডান পাশে এই প্রিজমটি প্রসেসর ইউনিটের সাথে সংযুক্ত। এই প্রসেসর ইইউনিট আবার স্পর্শকাতর মানে টাচ করেও এই চশমা দিয়ে কাজ করা যায়। রয়েছে ছোট একটি হেডফোন যা চশমার সাথে লাগানো যাবে। গ্লাস যখন ফোনের সাথে ব্লুটুথ দিয়ে কানেকটেড থাকবে তখন মোবাইল কল সরাসরি গ্লাস এ আসবে এবং বিল্ট-ইন মাইক্রোফোনের মাধ্যমে গ্লাস দিয়েই কথা বলা যায়। হেডফোন ছাড়াও রয়েছে ছোট বিল্টইন  স্পিকার, যার মাধ্যমে হেডফোন না থাকলেও কথা শোনা ঠিক ডান কানের পাশে!

Google glass in an operating theatre
কি করে এই গ্লাস!
এই গ্লাস আসলে একটি ক্ষুদ্র কম্পিউটার বা মোবাইল। এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে চলে এই গ্লাস। মোবাইলে সাথে কিংবা ওয়াইফাই এর মাধ্যমে ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত থাকে। ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে ওকে গ্লাস বলে- টেক এ পিকচার বললেই হাই রেজুলেশন ক্যামেরা দিয়ে ছবি উঠে যায়। আবার উইঙ্ক করে মানে এক চোখ বন্ধ করেও ছবি তোলা যায়। কিংবা ছোট একটি বাটন চেপেও এই কাজ করা যায়। ভিডিও করতে বলতে হয় রেকর্ড এ ভিডিও। কোথাও যাবার হলে ঠিকানা বলে দিলেই পুরো পথের ডিরেকশন দেখিয়ে দেয়। স্থান বের করে জিপিএস দিয়ে। নেভিগেশন এর কাজ করে ঠিক চোখের সামনে, যেন সব কিছু নিজের ভেতরেই হচ্ছে। তোলা ছবি বা ভিডিও তাৎক্ষণিক শেয়ার করা যায় সোশাল মিডিয়ার বন্ধুদের সাথে। কিংবা মেসেজের মাধ্যমে পাঠানো যায় সে ছবি বা ভিডিও। করা যায় ভিডিও কল যার ফলে বন্ধুর ছবি দেখা যাবে চোখের সামনেই, কিন্তু বন্ধু দেখবে ঠিক আমি যা দেখছি! কোন স্থানে গিয়ে ঐ স্থান সম্পর্কে ছবি দিয়েই খোঁজা যায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। এছাড়াও ভয়েস কমান্ড দিয়ে গুগল এ যেকোন তথ্যই তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়। দেখা যায় ইউটিউব ভিডিও স্ট্রিমিং কিংবা ওয়েবসাইট। বিভিন্ন নিউজ বুলেটিন ও দেখা যায় গ্লাসে। আবার কমান্ড দিলে তা পড়েও শোনায় গ্লাস।

How glass work

যেসব কাজে লাগতে পারেঃ
মেডিক্যাল অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন গুলো কোন ঝামেলা ছাড়াই ভিডিও করা কিংবা লাইভ দেখানো সম্ভব। কোন স্থানের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা লাইভ সম্প্রচার সম্ভব সহজেই। পড়াশোনার ক্ষেত্রে শিক্ষকের লেকচার রেকর্ড করে তা আবার শোনা সম্ভব। এছাড়াও জরুরী লেকচার অনুপস্থিত ছাত্র/ছাত্রীদের ভার্চুয়ালি দেখানো যাবে। কোথাও যাবার আগে ঐ স্থানের সব কিছু গ্লাস থেকেই জানা যাবে। এয়ারপোর্টে গেলে জানা যাবে কোন ফ্লাইট কখন ছাড়ছে। যেকোন সময় আবহাওয়া সম্পর্কে কিংবা কম্পাসের মাধ্যমে দিক নির্দেশনা জানাবে গ্লাস। এছাড়াও হাইকিং কিংবা অপরিচিত কোন স্থান ভ্রমণে বিপদ অনেক কমিয়ে দিবে এই গ্লাস। সরাসরি যুক্ত পরিবার বা বন্ধুদের সাথে যুক্ত থাকা যায়। ইংরেজীতে অনুবাদ করে শোনায় ভিন্ন কোন ভাষা। এছাড়াও যাদের চোখে সমস্যা কিংবা পাওয়ার লেন্স ছাড়া যারা দেখতে পারেন না তাদের জন্য আলাদা করে ডাক্তারের পরামর্শসহ গ্লাসে লেন্স লাগানো যাবে। কিংবা বিভিন্ন ফ্যাশন সানগ্লাস বা স্টাইলিশ লেন্সও লাগানো যাবে এতে।
১২ গিগাবাইট ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এই গ্লাসের বিক্রয় এক্সপ্লোরার সংস্করণের মূল্য ধরা হয়েছে ১৫০০ ডলার। মূল্যমানে বেশী হলেও উন্নত প্রযুক্তির প্রতি মানুষের আগ্রহের কারণে হয়তো এটিও একসময় মানুষের চোখে চোখেই থাকবে। কেননা এর ব্যবহার সহজ। শুধুমাত্র কয়েকটি ভয়েস কমান্ড কিংবা আংগুলের  স্পশের্ই সব কাজ করে এই গ্লাস!!!

google-glass

2 মন্তব্য
  1. লিটন হাফিজুর বলেছেন

    শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ —-

  2. হামিদ খান বলেছেন

    ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য

উত্তর দিন