ছুটির দিনে গাজীপুর বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক ভ্রমন করে আসতে পারেন ।

3 190

গাজীপুর শ্রীপুরে গড়ে তোলা হয়েছে বিশ্বমানের সাফারি পার্ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক।

safari park gazipur

উপচে পড়া সবুজে সবুজময় ভাওয়াল শাল বনের ভেতর বিশাল অরণ্যভূমিতে তৈরি করা হয়েছে থাইল্যান্ডের সাফারি ওয়ার্ল্ড এবং ইন্দোনেশিয়ার ‘বালি সাফারি পার্ক’-এর অবয়বে এশিয়ার সর্ববৃহৎ ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্ক’।

রাজধানী থেকে ৪৫ কিলোমিটার উত্তরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাঘের বাজার থেকে ৩ কিলোমিটার পশ্চিমে গভীর শাল বনের ভেতর ৩ হাজার ৮১০ একর ভূমির ওপর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এ পার্ক।

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের দৃষ্টিনন্দন প্রধান ফটক পার হয়েই ভেতরে রয়েছে বিলুপ্ত ও দুর্লভ প্রজাতির বৃক্ষ, কোর সাফারি, সাফারি কিংডম, বায়োডাইভারসিটি পার্ক, এক্সটেনসিভ এশিয়া সাফারি, বাঘের আস্তানা, সিংহের আস্তানা, চিত্রা হরিণ, কালো ভাল্লুক, সাম্বার হরিণ ও জলহস্তীর আস্তানা। রয়েছে ডরমেটরি, বন্যপ্রাণী হাসপাতাল, ঝুলন্ত সেতু, ন্যাচারাল হিস্ট্রি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, গুইসাপ পার্ক, ফেন্সি কার্প পার্ক, ক্রাউন ফিজেন্ট পাখিশালা, পেলিকেল পাখির জলাধারা, অতিথি পাখির জলাধারা, বার্ডশো গ্যালারি, অর্কিড হাউস, ফোয়ারা, প্রজাপতি-পেঁচা ও শকুনের আস্তানা, ক্যাঙ্গারু গার্ডেন, হাতি গ্যালারি, লেক ও জলাধারা ইত্যাদি।

(২) পার্কে ঢোকার আগে পার্কের সামনে আমি আর আমার এক বন্ধু।


(৩) পার্কে ঢুকেই প্রথম এই ম্যাপটা দেখে নিলে আপনার পার্ক দেখাটা সহজ হবে।


(৪) প্রথমেই পুকুরের ফুটন্ত লাল শাপলা আপনার মন কেড়ে নেবে।


(৫) সাফারি কিংডম।


(৬) পাখিটা ক্যামেরা দেখে কেমন ভাবে পোজ দিয়ে দেখছেন ?


(৭/৮) নানা রঙের পাখিগুলো দেখে মুহুর্তেই মনটা ভালো হয়ে যায়।


(৯/১০) ঝগড়া বা খুনসুটি কোন কিছুতেই পিছিয়ে নেই ওরা।


(১১) ইচ্ছে হলে খুব কাছ থেকে ওদের সাথে ছবি তোলা যায়।


(১২) আবার নিজ হাতে খাওয়ানো ও যায়।


(১৩) কতো রকম পাখি যে আছে ?


(১৪) আমার প্রথম দেখা একটা চমৎকার ছোট্ট ফুল।


(১৫) একজন ক্ষুদে দর্শনার্থী।


(১৬/১৭) সাদা কালো রাজহাঁস।


(১৮/১৯) এমন আরো চমৎকার সব ছোট বড় বিভিন্ন প্রজাতির হাঁস রয়েছে একটি জলধারায়।


(২০) ময়ুর এবং আরো কিছু সুন্দর পাখির আস্তানা এটা, বিশাল নেটে ঢাকা জায়গা, উপর দিয়ে ফ্লাই ওভারের মতো জায়গায় দাড়িয়ে দর্শকরা পাখির সৌন্দর্য্য উপভোগ করবে।


(২১/২২) বিশাল নেট লাগানো জায়গাটায় শুয়ে বসে অলস সময় কাটাচ্ছে দুটি ময়ুর, লাল রঙের পাখি দুটি আপন মনে খেলে বেড়াচ্ছে।


(২৩) আছে ছোট বড় নানা রকম কুমির।


(২৪) কোর সাফারি পার্ক।


(২৫) জিরাফ।


(২৬) জঙ্গলে ঘুরে বেড়াচ্ছে হাতি, তবে ভয়ের কিছু নেই, সাথে আছে মাহুত।


(২৭) জঙ্গলে ছুটে চলা এমন জংলী গরু এতোদিন শুধু টিভির পর্দায়ই দেখেছি।


(২৮) জেব্রাগুলো হাটতে হাটতে কোথায় হারিয়ে গেলো পরে আর তাদের খুঁজে পেলাম না।


(২৯) জংলী পরিবশে হরিঙুলো মনে হয় বেশ ভালোই আছে।


(৩০) আমরা এটাকে বলি বিলাই চিমটি, খুবই ভয়ংকর জিনিস, গায়ে লাগলে চুলকাইতে চুলকাইতে জান শেষ।


(৩১) এবার বাঘ দেখার পালা।


(৩২) বাঘ এবং সিং দেখার জন্য রয়েছে খুবই চমৎকার দুটি রেষ্টুরেন্ট, রেষ্টুরেন্টে থেকে গ্লাসের ভেতর দিয়ে ওদের দেখে ছবি তোলায় ব্যস্ত দর্শকরা।


(৩৩/৩৪) গ্লাসের ভেতর থেকে তোলা বাঘদের ছবি।

আমি যখন গিয়েছিলাম তখনো সাফারি পার্কের গাড়ি চালু হয়নি, তাই যতটুকু দেখেছি হেটেই দেখতে হয়েছে, কিছুটা বাদ ও পড়েছে। এখন হয়তো গাড়ি চালু হয়ে গেছে, সুতরাং সাফারি পার্ক দেখতে একন আর কোন কষ্ট হবে না।

এখানে রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের প্রকৃতিবীক্ষণ কেন্দ্র, তথ্য ও শিক্ষাকেন্দ্র, নেচার হিস্ট্রি মিউজিয়াম, পার্ক অফিস, বিশ্রামাগার, ডরমিটরি, বন্যপ্রাণী হাসপাতাল, কুমির পার্ক, লিজার্ড পার্ক, ফেন্সি ডাক গার্ডেন, ক্রাউন্ড ফিজ্যান্ট এভিয়ারি, প্যারট এভিয়ারি, ধনেশ পাখিশালা, ম্যাকাউ ল্যান্ড, মেরিন একোয়ারিয়াম, অর্কিড হাউজ, প্রজাপতি বাগান, ক্লাইমেট হাউজ, ভালচার কর্নার, ঝুলন্ত ব্রিজ, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, ফোয়ারা, বাঘ পর্যবেক্ষণ রেস্তোরাঁ, সিংহ পর্যবেক্ষণ রেস্তোরাঁ, কচ্ছপ প্রজনন কেন্দ্র, ইকো-রিসোর্ট, ফুট কোর্ট, এলিফেন্ট শো গ্যালারি, বার্ড শো গ্যালারি, এগ ওয়ার্ল্ড ও শিশুপার্ক।

বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কে আছে ২৬ প্রজাতির কয়েক হাজার পশু ও পাখি, যার মধ্যে আছে ১১টি বাঘ, তিনটি সাদা সিংহসহ ১০টি সিংহ, ১০০টি ময়ূর, দুই শতাধিক হরিণ, চারটি জিরাফ, ছয়টি জেব্রা, ১৩টি বন গরু, চারটি হাতি, পাঁচটি ভল্লুক ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। এরা এখন পার্কে উন্মুক্ত বিচরণ করছে।

এসব প্রাণী দেখার জন্য রয়েছে প্রকৃতিবীক্ষণ কেন্দ্র, সুউচ্চ পর্যবেক্ষণ টাওয়ার।

বাঘ ও সিংহের বেষ্টনীতে সাফারী বাস ও জিপে করে পর্যটকরা প্রাকৃতিক পরিবেশে বিচরণরত বাঘ, সিংহ ও ভল্লুক দেখতে পারবেন। এছাড়া আফ্রিকান সাফারী পরিভ্রমণে জিরাফ, জেব্রা, ব্লু ওয়াইল্ড বিস্ট, ব্ল্যাক ওয়াইল্ড বিস্ট, ব্লেস বকসহ বিভিন্ন প্রাণী দেখতে পারবেন।

পার্কে প্রবেশ ফি

প্রতিজন বয়স্ক ৫০টাকা,
অপ্রাপ্ত বয়স্ক (১৮ বছরের নিচে) ২০ টাকা,
শিক্ষার্থীদের ১০ টাকা,
শিক্ষা সফরে আসা শিক্ষার্থী গ্রুপ (৪০-১০০ জন) ৪০০ টাকা,
শিক্ষা সফরে আগত শিক্ষার্থী গ্রুপ (১০০ জনের বেশি) ৮০০ টাকা,
বিদেশি পর্যটকদের পাঁচ ইউএস ডলার প্রবেশ ফি ধার্য করা হয়েছে।

পার্কিং ফি

প্রতিটি বাস/কোচ/ট্রাক ২০০ টাকা,
মিনিবাস/ মাইক্রোবাস ১০০ টাকা,
কার/জিপ ৬০ টাকা,
অটোরিকশা ২০ টাকা।

গাড়িতে সাফারী পার্ক পরিদর্শন অপ্রাপ্ত বয়স্ক প্রতিজন ৫০ টাকা,
বয়স্ক প্রতিজন ১০০ টাকা।
এছাড়া ক্রাউন্ড ফিজ্যান্ট এভিয়ারি পরিদর্শন ১০ টাকা,
ধনেশ এভিয়ারি ১০ টাকা,
প্যারট এভিয়ারি ১০ টাকা।

ঢাকা থেকে কিভাবে যাবেন গাজীপুর বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে ?

ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে রুটে বাঘের বাজার নামতে হবে, ওখান থেকে অটো রিক্সা বা সিএনজি নিয়ে তিন কিলোমিটার গ্রামের ভেতর দিয়ে পাকা রাস্তা।

3 মন্তব্য
  1. লিটন হাফিজুর বলেছেন

    ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য —–

  2. নাঈম প্রধান বলেছেন

    খুবই সুন্দর পোস্ট । শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ ।

  3. Simply Apon বলেছেন

    সুন্দর জায়গা।
    শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ!

উত্তর দিন