কম্পিউটারের প্রোগ্রামিং ভাষা এবং এর বিস্তারিত

5 130

Snap8

প্রথমেই পাঠকবৃন্দদের বলে রাখছি আজ আমি আপনাদের প্রোগ্রামিং ভাষা সম্মদ্ধে কিছু বলব । আশা করি আপনাদের আমার লিখাটি ভালো লাগবে এবং যারা অযথা কম্পিউটারে সময় নষ্ট করেন তারা পারলে ফ্রিল্যান্সিং করুন অথবা প্রোগ্রামিং ভাষা শিখুন তাহলে আমাদের দেশের এবং আপনার অনেক উপকার হবে ।

 

প্রোগ্রামিং ভাষা কি ? (উত্তর টি সবার জানা উচিত)

যে কোন কৃত্তিম ভাষা যা দিয়ে এমন কিছু শব্দ নির্দেশনাবলী তৈরী করা যায় যা শেষ পর্যন্ত কম্পিউটার দ্বারা প্রক্রিয়াকরণ ও নির্বাহ করা যায়, সেই ভাষাকে প্রোগ্রামিং ভাষা বলে ।

আরও সহজভাবে বলা যায় যে ভাষা দ্বারা কম্পিউটারকে নির্দেশ প্রদান করা হয় বা বুঝাতে সক্ষম হয়, তাকে প্রোগ্রামিং ভাষা বলে । (সংজ্ঞা যেকোন এক ভাবে দিলেই হলো তবো অর্থ যেন ঠিক থাকে)

 

 

প্রোগ্রামিং ভাষার শ্রেণী বিভাগ :

ইতিমধ্যে আপনারা হয়তো আমার লিখা পড়ে জেনে গেছেন, কম্পিউটার দিয়ে কাজ আদায় করার জন্য যে ভাষা দিয়ে কম্পিউটারকে নির্দেশ প্রদান করা হয় তাই হলো প্রোগ্রামিং ভাষা (Programming Language) । এই পর্যন্ত কয়েকশত কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ভাষা তৈরী হয়েছে । এই সবগুলি প্রোগ্রামিং ভাষাকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায় ।

 

১. যান্ত্রিক ভাষা (Machine Language)

২. এ্যাসেম্বলি ভাষা (Assembly Language)

৩. উচ্চস্তরে ভাষা (High Level Language)

 

(এবারে আপনাদেরকে এই তিনটি বিষয়ের উপরে কিছু বিস্তারিত বলি)

 

যান্ত্রিক ভাষা(Machine Language)

 

যান্ত্রিক ভাষার সহজ বা সংক্ষিপ্ত অর্থ হচ্ছে যন্ত্রের ভাষা । এ ক্ষেত্রে কম্পিউটার যন্ত্র যে ভাষাটি বুঝতে পারে সে ভাষাকেই যান্ত্রিক ভাষা হিসেবে উল্লেখ করা হয় । আর তা হল বিদ্যুতের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতি । মানুষের ভাষার এগুলোকে প্রতিনিধিত্ব করানো হয় দুটি মাত্র বর্ণ দিয়ে । এক(১) এবং শূন্য (০) । এই এক (১) এবং শূন্য (০) দিয়ে লিখিত ভাষায়ই কম্পিউটার মানুষের দেওয়া নির্দেশ বুঝতে পারে । একজন ব্যবহারকারী কম্পিউটারের কাজের সঙ্গে সংযুক্ত মনিটরে তার নিজের ভাষাতেই সব ধরনের ফলাফল দেখতে পায় । কিন্তু কম্পিউটার কাজের শুরু থেকে ফলাফল প্রদর্শন পর্যন্ত সব কিছুই তার নিজস্ব ভাষা অর্থাৎ এক (১) এবং শূন্য (০) এর সমন্বয়ে বা বাইনারী পদ্ধতিতে সম্পন্ন করে থাকে । কিন্তু মানুষের পক্ষে বাইনারী পদ্ধতিতে কম্পিউটারের সকল প্রকার ইনপুট এবং নির্দেশ প্রদান করা অত্যন্ত কঠিন । বাইনারী পদ্ধতিতে ইনপুট এবং নির্দেশ প্রদান করতে হলে প্রচুর পরিমাণ সংখ্যা টাইট করতে হয় । মানুষের ব্যবহৃত শব্দে প্রতিটি অক্ষরের জন্য সমতুল্য বাইনারী সংখ্যা মুখস্ত করে রাখতে হয় । উপরন্তু প্রচুর পরিমাণ সংখ্যা টাইপ করার জন্য অনেক সময় ব্যয় হয় এবং বিষটি অত্যন্ত পরিশ্রম সাধ্যও বটে ।

 

এ্যাসেম্বলি ভাষা(Assembly Language)

 

যান্ত্রিক ভাষার প্রোগ্রাম তৈরি ও নির্বাহ করার সমস্যা কাটিয়ে ওঠার জন্য এবং প্রোগ্রাম তৈরি ও নির্বাহের কাজ আরও সহজ এবং গতিশীল করার জন্য এসেম্বলি ভাষার সৃষ্টি করা হয় । কম্পিউটারকে সরাসরি বাইনারী পদ্ধতিতে ইনপুট এবং নির্দেশ প্রদানের পরিবর্তে ইনপুট এবং নির্দেশের ভাষাকে অনেকটা মানুষের ভাষার কাছিকাছি নিয়ে আসার চেষ্টা এ্যাসেম্বলি ভাষায় করা হয়েছে ।

এবারে আপনাদের একটি উদাহরণ দিয়ে বুঝাই : কম্পিউটারকে যোগ করার নির্দেশ দেয়ার জন্য মেশিনের ভাষায় বা বাইনারী পদ্ধতিতে, ধরি 1000101 টাইপ করতে হত । কিন্তু, এ্যাসেম্বলি ভাষায় সরাসরি ADD টাইপ করেই যোগ করার নির্দেশ দেওয়া সম্ভব হয় । ADD নির্দেশটি এখানে কম্পিউটারকে 1000101 বাইনারী সংকেতে অনুবাদ করে বুঝাতে পারে যে, তাকে যোগ করতে হবে । এই অনুবাদের কাজটি করে এ্যাসেম্বলার (Assebler) নামের একটি সফটওয়্যার । এ্যাসেম্বলারের কাজ হচ্ছে এ্যাসেম্বলি ভাষায় লিখিত নির্দেশকে মেশিনের ভাষায় অনুবাদ করা বা বাইনারী সংকেতে রূপান্তরিত করা ।

যান্ত্রিক ভাষায় প্রোগ্রাম লেখার চেয়ে এ্যাসেম্বলি ভাষায় প্রোগ্রাম লিখতে অনেক কম সময় লাগে । তবে এ্যাসেম্বলি ভাষায় কিছু সীমাবদ্ধতা আছে । যেমন এ্যাসেম্বলি ভাষা যন্ত্র নির্ভর । কাজেই এ্যাসেম্বলি ভাষা বিভিন্ন কম্পিউটারের জন্য বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে । ফলে এ্যাসেম্বলি ভাষা ব্যবহার করার জন্য যথেষ্ট প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয় ।

 

উচ্চ স্তরের ভাষা (High Level Language)

 

পাঠকবৃন্দরা হয়তো জানেন যে, বর্তমানে যান্ত্রিক ভাষা এবং এ্যাসেম্বলি ভাষাকে নিম্নস্তরের ভাষা (Low Level Language) বলে । পক্ষান্তরে বেসিক (BASIC), সি (C) [আমি কিন্তু কম্পিউটারের এই সি ভাষাটি পারি এবং আপনাদের শেখানোর উদ্দেশ্য পিসিহেল্পলাইনবিডি তে মাঝে মাঝে দুই একটি পোষ্ট করি যদি পারেন তাহলে অব্যশই সি এবং সি++ শিখার চেষ্টা করবেন যে কোন জায়গা হতে অথবা পিসিহেল্পলাইনবিডি হতে] , সি++(C++), প্যাসক্যাল (PASCAL), ফোরট্রান (FORTRN), কোবল (COBOL), জাভা (JAVA) ইত্যাদি প্রোগ্রামিংয়ের ভাষাকে উচ্চ স্তরের ভাষা (High Level Language) বলা হয় । এগুলোকে তৃতীয় প্রজন্মের ভাষা বলা হয় যা বর্তমানে প্রচলিত । উচ্চ স্তরের ভাষায় মানুষের বোধগম্য শব্দ ও বাক্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে । অর্থাৎ কোন একটি বিষয়ে আমরা ইংরেজী ভাষায় যেভাবে এবং যে শব্দ ও বাক্য ব্যবহার করে থাকি, উচ্চ স্তরের প্রোগ্রামিংয়েও প্রায় একইভাবে এবং একই ভাষা ব্যবহার করা হয়ে থাকে । উচ্চ স্তরের ভাষাকে রূপান্তরিত করার জন্য কম্পাইলার (Compiler) বা ইন্টারপ্রিটার (Interpreter) নামের সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়ে থাকে [ আপনাদের যারা সি প্রোগ্রামিং শিখেন তাদের উদ্দেশ্য আমি বলবো যে কম্পাইলার হিসেবে আপনারা CodeBlocks সফটওয়্যার টি ব্যবহার করবেন এতে অনেক সুবিধা আছে ] । কাজেই, কম্পাইলার বা ইন্টারপ্রিন্টার ব্যবহার করে উচ্চ স্তরের ভাষায় রচিত প্রোগ্রাম যে কোন ধরনের কম্পিউটারে ব্যবহার করা যায় ।

 

আজ আপনাদের কম্পিউটারের প্রোগ্রামিং ভাষা সন্মন্ধে আমার জানা কিছু তথ্য শেয়ার করলাম । আশা করছি পরবর্তীতে আপনাদের কম্পাইলার ও ইন্টারপ্রিন্টার এর সন্মন্ধে এবং এই দুটির মধ্যে কোনটি ব্যবহার করলে বেশি সুবিধা এবং প্রোগ্রাম রচনার বিশেষ বিশেষ কিছু ধাপ নিয়ে সাধারণ আলোচনা করবো ।

5 মন্তব্য
  1. sayem743 বলেছেন

    CodeBlocks software ta post koran please

  2. হামিদ খান বলেছেন

    সুন্দর পোস্ট, ধন্যবাদ

  3. লিটন হাফিজুর বলেছেন

    চমৎকার পোস্ট। শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ সবুজ ভাই।

    1. sabuj বলেছেন

      আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ একটি মূল্যবান comment করার জন্য ।

  4. মোঃ আসলাম পারভেজ বলেছেন

    ধন্যবাদ শেয়ার জন্য ।

উত্তর দিন