মা-বোনদের উদ্দেশ্যে বলছি- টয়লেট, শপিং সেন্টার, পার্লার প্রভৃতি স্থানের হিডেন ক্যাম (গোপন ভিডিও ক্যামেরা) থেকে নিজেকে রক্ষা করুন!!!! (ছবিসহ আপডেট)

3 119
بِسمِ اللَّهِ الرَّحمٰنِ الرَّحيم
আসসালামু আলাইকুম, মহান আল্লাহ-তায়ালার রহমতে নিশ্চই সবাই ভালোই আছেন।

এই পোষ্টটি নিজে মনোযোগ সহকারে পড়ুন এবং প্রচুর পরিমাণে সোসাল মিডিয়াতে প্রচার করুন। অবশ্য এর আগেও আমি এই সম্পর্কে একটি পোষ্ট করেছিলাম। কিন্তু ঐটাতে এত্তো বিস্তারিতভাবে বলিনি। আজ ছবিসহ পূর্ণাঙ্গভাবে বিস্তারিত বললাম—–

“বিজ্ঞানের আবিষ্কার মানুষের জন্য আর্শিবাদ” একথা অনস্বীকার্য। কিন্তু এক শ্রেণীর চরিত্রহীন লোক এই আর্শিদবাদ মূলক বিজ্ঞানকে ব্যবহার করে আসছে তাদের কুকীর্তি হাসিলের জন্য। আর এর শিকার হচ্ছেন সমাজের সর্বস্তরের মানুষ। তবে ইদানীং কয়েক বছর ধরে মারাত্বকভাবে আমাদের মা-বোনদেরকেও বিজ্ঞানের বিভিন্ন আবিষ্কার করা যন্ত্রাদি দিয়ে বিব্রত করা হচ্ছে। কথাটা আরো স্পষ্ট করে বলি, যেমন আজকাল কিছু মহিলারা যেভাবে চলাফেরা করে ততে মনে হয় ৮৫% মুসলমানদের এই দেশে এখন ৫% ও মুসলামান নাই! কি? আমার কথাটি কি আপনার অনেক খারাপ লাগল? যদি খারাপ লেগে থাকে তাহলে একটু কষ্ট করে বাংলা দেশের বা ঢাকারই পূর্ণাঙ্গ,সরকারী, বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় বা শপিং মল অথবা রাস্তা ঘাটের অবস্থা দেখুন একটু খেয়াল করে দেখলেই বা আপনার যদি মোটামুটি একটু ইসলামী পর্দার জ্ঞান থেকে থাকে তাহলেই আপনি স্পষ্টই বুঝতে পারবেন যে মহিলারা কিভাবে চলাফেরা করে থাকে। মুসলিম নিমানুসারে হিজাব তো দূরের কথা তথাকথিত আধুনিক মেয়ের দেখছি ওড়না ছাড়া টাইট জিন্স ও একটি শর্ট গেঞ্জি পরেই রাস্তায় বের হয়। দয়া করে আমার কথায় কেউ রাগ হবেন না। কারণ আমি আমাদের অপসংকৃতির বাস্তব চিত্রগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্ট করছি। তবে আমার টপিক তা নয়। অনক কথা বলে ফেললাম।

আসলে আমার কথা হচ্ছে আমাদের মা-বোন দের এই রকম চলা ফেরা গুলো শুধুমাত্র সমাজের জন্যই নয় তাদের জন্যও বিশাল ক্ষতি কর। যারা প্রচুর পরিমাণে শপিং মলে ঘুরে বেড়ান তারা যানেন কি? আপনি যে ট্রায়াল রুমে কাপড় বদলাচ্ছেন বা কাপড়ের ফিটিং চেক করছেন, তাতে একটি গোপন ক্যামেরা থাকা খুব অস্বাভাবিক কিছু নয়! আজকাল দেখাযাচ্ছে যে, মোবাইলে-মোবাইলে বা নেটে প্রতিনিয়ত মা-বোনদের ইজ্জত বিনামূলে বা নাম মাত্রমূলে বিক্রয় করা হচ্ছে। আর এই ভিডিও গুলোর অধিকাংশই টয়েলট, পার্লার বা ট্রায়াল রূমের গোপন ক্যামেরা দিয়েই সংগ্রহ করা হচ্ছে! তাই আমি মনে করি মা-বোনদের এসব শপিং মলে একটু কম যাওয়া বা সতর্কতা অবলম্বন করা কি উচিত নয়? আপনি যদি মনে করে থাকেন উচিত না তাহলে এই পোষ্টি আর পড়ার দরকার নেই ব্যাকে যান, আর যদি মনে করেন উচিত তাহলে নিচের অংশটুকু পড়েন……………….

আজকাল চলতে ফিরতে আমাদের নিরাপত্তা বলতে কিছুই নেই আর যতটুকু আছে তা অপ্রতুল।আর তাই বর্তমানে গোপন ক্যামেরা এবং আয়না একটি আতংকের নাম।শপিংমলের টয়লেট থেকে শুরু করে সবখানে এই গোপন ক্যামেরার আতংক। ইন্টারনেটে ঢুকলেই নানান সাইটে দেখা মিলে গোপন ক্যামেরার ভিডিও ও ছবি বা নিউজ।আমাদের মা-বোনদের ইজ্জতের দাম ওদের কাছে হাসির খোরাক।শপিংমলের ড্রেসিং/ট্রায়াল রুমে (যেখানে মেয়েরা কাপড় পাল্টায় বা ফিটিং চেক করে),লেডিস টয়লেটে গোপন ক্যামেরা লাগানো হচ্ছে সবার অজান্তে।কেউ জানেনা এই খবর, কিন্তু সেই ক্যামেরায় ধরা পড়ছে আমাদের অসংখ্য মা-বোন।অল্পকিছু টাকার বিনিময়ে বিক্রি হচ্ছে সেসব নগ্ন ভিডিও বা ছবি।

 

খুব সহজে নির্নয় করা যায় রুমে গোপন ক্যামেরার অস্তিত্ব আছে কিনা। এরজন্য আপনার লাগবে একটা মোবাইল ফোন(সিম এক্টিভ করা) যেখান থেকে কল করা যায়।
এবার ট্রায়াল রুমে(যেখানে কাপড় পাল্টাবেন) ঢুকে আপনার মোবাইল থেকে কাউকে কল দেয়ার চেষ্টা করুন।যদি কল করা যায় ও নেটওয়ার্ক থাকে- তাহলে গোপন ক্যামেরা নাই।আর যদি কল করা না যায় ও নেটওয়ার্ক হঠাৎ করে ডাউন হয়ে যায়- তাহলে অবধারিতভাবে বুঝবেন সেখানে গোপন ক্যামেরা রয়েছে।
hidden+camera-300x300
গোপন ক্যামেরার সাথে ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবল থাকে।সিগনাল ট্রান্সফার করার সময় এর ইন্টারফিয়ারেন্স হতে থাকে।যার জন্য মোবাইল নেটওয়ার্ক ঐখানে কাজ করে না।এভাবেই আপনি পারেন গোপন ক্যামেরার নোংরামি থেকে বাঁচতে।
শপিংমলের ড্রেসিং/ট্রায়াল রুমে (যেখানে মেয়েরা কাপড় পাল্টায় বা ফিটিং চ্যাক করে) সেখানে যে আয়না থাকে সেটা আসল নাও হতে পারে, এটিও গোপন ক্যামেরার মতই মারাত্মক।আসল আয়নার মাঝে এখন যুক্ত হয়েছে নকল আয়না, যাকে বলা হয় দ্বিমুখী আয়না।এই আয়নায় আপনি আপনার চেহারা দেখতে পারবেন, কিন্তু ভুলেও বুঝতে পারবেন না যে অন্যপাশে একজন আপনাকে দেখছে!
আপনার আঙ্গুল আয়নার উপর রাখুন।যদি আপনার আঙ্গুলের মাথা প্রতিবিম্ব আঙ্গুলের মাথার সাথে না লাগে(মাঝে যদি ফাঁকা থাকে) তাহলে আয়না আসল।
আর যদি আঙ্গুলের মাথা প্রতিবিম্বের মাথার সাথে লেগে যায়, তার মানে আয়না নকল! এটা আসল আয়না না, একটা দ্বিমুখী আয়না- যার অন্যপাশে থেকে আপনাকে দেখা যাবে, কিন্তু আপনি তাকে দেখতে পাবেন না। মানে অন্যপাশে থেকে কেউ আপনাকে দেখছে বা ভিডিও করছে! কারন আসল আয়নার সিলভার প্রলেপ থাকে আয়নার পিছনে, যার জন্য আপনার আঙ্গুল ও প্রতিবিম্বের মাঝে ফাঁকা থাকবে আয়নার পুরুত্বের জন্য।আর নকল আয়নার (দ্বিমুখী) সিলভার প্রলেপ থাকে আয়নার সামনে, যার জন্য আপনার আঙ্গুলের ছাপ আপনার আঙ্গুলের প্রতিবিম্বের সাথে লেগে যাবে কারন মাঝে কোনো বাধা নেই। আরও পরিষ্কার করে বলি-
নিচের ছবিগুলো দেখুন:
Captureচিত্র-১: দ্বিমুখী আয়না (2way Mirror) এই ছবিতে দেখুন আঙ্গুল যখন আয়নায় স্পর্শ করানো হলো তখন কিন্তু আয়নার প্রতিবিম্ব আর বাস্তব আঙ্গুল একত্রে মিশে গিয়েছে আর এটিই হলো দ্বিমুখী আয়নার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
Capture-copyচিত্র-২: প্রক্ষান্তরে একমূখি আয়নায় বৈশিষ্ট্য হল প্রতিবিম্বটা কিছু দূরে পরে। অর্থাৎ দুই আঙ্গুলের মাঝে সামান্য পরিমাণ হলেও ফাক থাকে।
mirror-difrences
চিত্র-৩:  সাধারণ আয়না আর দ্বিমুখী আয়নার পার্থক্য দেখুন, ছবির প্রথমাংশে আয়নাতে শুধু গাছটিকেই দেখা যাচ্ছে, কিন্তু পিছনে যে একটি মেয়ে আছে তা কিন্তু দেখা যাচ্ছে না।
আর ছবির দ্বিতীয়াংশে আয়নার সামনের গাছটিকে দেখা যাচ্ছে না! দেখা যাচ্ছ গাছের পেছনের মেয়েটিকে।
তাই আসুন নিজেকে ইসলামী মতাদর্শে গড়ে তুলি, আর আমরা সবাই সচেতন হই। নিজের দেশের মা-বোনদেরকে রক্ষা করি এই নোংরামির হাত থেকে। আল্লাহ আমাদের সাবাইকে সহযোগীতা করুন। আমিন।
ভাই আমিওতো আপনার মতই রক্তে মাংসে গড়া একজন মানুষ। তাই আমারও ভূল হওয়াটাই স্বাভাবিক নয় কি?
আল্লাহ হাফেজ
3 মন্তব্য
  1. লিটন হাফিজুর বলেছেন

    খুব সুন্দর পোস্ট। শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।

  2. হামিদ খান বলেছেন

    আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ, এই ধরনের একটি ভাল উদ্যোগ প্রকাশ করার জন্য

  3. মোঃ আসলাম পারভেজ বলেছেন

    আপনাকে অনেক ধন্যবাদ এই সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য ।

উত্তর দিন