গ্রামিনফোন, এয়ারটেল, রবি, বাংলালিংক ও টেলিটক অপারেটরের থ্রিজি প্যাকেজের দাম

2 222

দেশের শীর্ষ গ্রামিনফোন, এয়ারটেল, রবি,বাংলালিংক ও টেলিটক সেলফোন অপারেটর কোম্পানি চালু করেছে বহুল কাঙ্ক্ষিত থ্রিজি সেবা। ইতিমধ্যে কোম্পানিগুলো ঘোষণা করেছে থ্রিজি ইন্টারনেট ব্যবহারে নানা প্যাকেজ। তবে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় আমাদের দেশে থ্রিজি ডাটার দাম খানিকটা বেশিই। বাণিজ্যিক যাত্রার দ্বিতীয় ধাপে পা রেখেছে বাংলাদেশ। প্রথম ধাপে ২০১২ সালের ১৪ অক্টোবর এইচএসপিএ প্রযুক্তিতে তৃতীয় প্রজন্মের নেটওয়ার্ক চালু করে রাষ্ট্রীয় সেলফোন অপারেটর টেলিটক। আর গত মাস থেকে রবি, বাংলালিংক, গ্রামিনফোন এবং এয়ারটেল বাণিজ্যিকভাবে রাজধানী ঢাকা এবং চট্টগ্রামে থ্রিজি উদ্বোধন করে।

গ্রামিনফোন :
দেশে সেলফোন গ্রাহক সংখ্যায় গ্রামিনফোনেরর থ্রিজি প্যাকেজকে ভাগ করা হয়েছে তিনটি স্তরে। হেভি, স্মার্ট ও স্ট্যান্ডার্ড এই তিনটি প্যাকেজ আবার সেকেন্ডপ্রতি ৫১২ কিলোবাইট এবং ১ মেগাবাইট_ এ দু’ভাগে বিভক্ত। মাসিক হেভি প্যাকেজে সর্বোচ্চ ৮ জিবি ডাটা ব্যবহারে ভ্যাট ছাড়াই ৫১২ কিলোবাইট গতিতে ৯৫০ এবং ১ মেগাবাইট গতিতে এক হাজার ২৫০ টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। একইভাবে স্মার্ট প্যাকেজে ডাটা ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে সর্বোচ্চ ১.৫ জিবি। এজন্য ৫১২ কিলোবাইট গতিতে ৮০০ এবং ১ মেগবাইট গতিতে এক হাজার ১০০ টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। অন্যদিকে স্ট্যান্ডার্ড প্যাকের ২ জিবি ডাটা ব্যবহারে ৫১২ কেবিপিএস গতির জন্য ৪০০ এবং ১ এমবিপিএস গতির জন্য পরিশোধ করতে হচ্ছে ৭০০ টাকা।

বাংলালিংক :
গ্রাহক সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বাংলালিংকের থ্রিজি প্যাকেজের ডাটা স্থানান্তর গতি সেকেন্ড ১ মেগাবাইট। তিন স্তরে বিভক্ত এই মাসিক প্যাকেজে সর্বোচ্চ ৬ জিবির মূল্য ৭৫০ টাকা। একই ভাবে ২ জিবির জন্য ৩৫০ এবং সর্বনিম্ন ৭০০ এমবি প্যাকেজের দাম ধরা হয়েছে ২০০ টাকা। অবশ্য গ্রাহক ব্যবহার সুবিধার জন্য এই প্যাকেজগুলোকে নয়টি স্তরে সাজানো হয়েছে। এর স্তর মূল্য ৩০ টাকা [৫০ এমবি] থেকে শুরু হয়ে এক হাজার ৬০০ টাকায় [১০ জিবি] সীমাবদ্ধ।

রবি :
বাণিজ্যিক থ্রিজি সেবা চালুর পর আগের টুজি প্যাকেজকেই নতুন করে সাজিয়েছে রবি আজিয়েটা। তিনটি আলাদা প্যাকেজে বিভক্ত সর্বনিম্ন ১ জিবি ডাটা প্যাকের মূল্য ২৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩ জিবির দাম ৪৫০ এবং ৫ জিবির দাম ধরা হয়েছে ৬৫০ টাকা। অপারেটরটি নিজেদের থ্রিজি সেবার গতি ৩.৫জি। রবির ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, যদি ৩.৫ জি সেবায় নিবন্ধিত গ্রাহক ২জি প্যাক কেনে ৩জি নেটওয়ার্কে কানেক্ট করে, সংশ্লিষ্ট ২জি ডাটা প্যাক ব্যবহার করতে পারবে, কিন্তু তার কানেকশনের গতি হবে ২জির সমান।

এয়ারটেল :
টুজির দামে থ্রিজি প্যাকেজের ঘোষণা দেওয়া এয়ারটেলের রয়েছে সেকেন্ডে ১ মেগাবাইট গতির সাতটি আলাদা প্যাকেজ। সময়ভিত্তিক প্যাকেজের মধ্যে তিন দিনের মধ্যে ১৫ এমবি ডাটা ব্যবহারে গ্রাহককে গুনতে হচ্ছে ১৫ টাকা। সাত দিনের প্যাকেজে ৩০ এমবির জন্য ৩০ টাকা, ৫০ এমবির জন্য ৫০ এবং ২৫০ এমবির দাম ১০০ টাকা। এ ছাড়া ১৫ দিনের প্যাকেজে ৫০০ এমবি ডাটা ব্যবহারমূল্য ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ৩০ দিন মেয়াদি প্যাকে ১ জিবির মূল্য ৩৫০ ও সর্বোচ্চ ৫ জিবি ডাটা প্যাকেজ ব্যবহারের জন্য গ্রাহককে ভ্যাট ছাড়াই পরিশোধ করতে হচ্ছে ৯৫০ টাকা।

টেলিটক :
বেসরকারি সেলফোন অপারেটরদের থ্রিজি সেবা চালুর সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের থ্রিজি প্যাকেজে ব্যাপক রদবদল ঘটিয়ে বৈচিত্র্য এনেছে রাষ্ট্রীয় সেলফোন অপারেটর টেলিটক। রেকর্ড পরিমাণ ২৩টি প্যাকেজে বিভক্ত করা হয়েছে টেলিটক থ্রিজি সেবা। পাঁচটি ভিন্ন গতির ভিত্তিতে প্রণীত টেলিটক থ্রিজি প্যাকেজের মধ্যে সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ডাটা স্থানান্তর গতি ৪ মেগাবাইট। ৬৫০ টাকা মূল্যের এই প্যাকেজের ডাটা ব্যবহার সীমা ২০ জিবি। সর্বনিম্ন সেকেন্ড ২৫৬ কিলোবাইট গতির তিন দিন মেয়াদি প্যাকেজে ৪০ এমবি ডাটা ব্যবহারের মূল্য ধরা হয়েছে ২৫ টাকা। একই গতির ৫০০ এমবি ব্যবহারে ৩০ দিনে গুনতে হচ্ছে ২০০ টাকা।

সাশ্রয়ী প্যাকেজে কে সেরা :
থ্রিজি নেটওয়ার্কের মতোই প্যাকেজমূল্যে এগিয়ে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান টেলিটক। অনুসন্ধানে দেখা গেছে. টেলিটক তার প্রচারণায় থ্রিজি প্যাকেজে যে গতির উল্লেখ করা হয়েছে, তা সর্বনিম্ন গতি। আর বেসরকারি অপারেটররা এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গতির কথা উল্লেখ করে প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে সাত বিভাগীয় শহরসহ দেশের ১৮টি জেলায় থ্রিজি সেবা চালু করেছে টেলিটক। থ্রিজি নেটওয়ার্ক বিস্তৃতিতে বেসরকারি অপারেটরদের সঙ্গে কাজ করছে হুয়াই এবং এরিকসন। এক্ষেত্রে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, থ্রিজি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে সমানতালে এগিয়ে গেছে গ্রামীণ ও রবি। বেসরকারি অপারেটরদের মধ্যে সবচেয়ে কম মূল্যে থ্রিজি নেটওয়ার্ক সেবা দিচ্ছে রবি আজিয়াটা। ৩.৫ জি প্রযুক্তি সেবা নিয়ে ভ্যাটসহ ৭৪৮ টাকার বিনিময়ে ৬ জিবি ডাটা ব্যবহার করতে পারছেন রবির থ্রিজি গ্রাহকরা।

প্রতিবেশি দেশে থ্রিজির দাম :
সার্কভুক্ত দেশের মধ্যে পাকিস্তান ছাড়া বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলংকা, আফগানস্তান, নেপাল ও ভুটানে তৃতীয় প্রজন্মের সেলফোন নেটওয়ার্ক চালু আছে। এই সেবা পাচ্ছে পর্যবেক্ষক আফগানিস্তান ও চীনের সেলফোন ব্যবহারকারীরা। এশিয়ার মধ্যে সার্কভুক্ত দেশ হিসেবে নেপালে প্রথম থ্রিজি নেটওয়ার্ক সেবা চালু হয় ২০০৭ সালে। এর পরের বছর ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে প্রতিবেশী দেশ ভারতে শুরু হয় থ্রিজি নেটওয়ার্কের যাত্রা। গিরিকন্যা নেপালের থ্রিজি সেবার গতি ১৪.৪ এমবিপিএস। সেখানে ৩০ দিন মেয়াদে সর্বোচ্চ ১০ জিবি প্যাকেজের মূল্য দুই হাজার ৫০০ টাকা। আর একই গতিতে একদিন মেয়াদি সর্বনিম্ন ৩ এমবির দাম বাংলাদেশি টাকায় ৫ টাকা। অন্যদিকে ভারতের থ্রিজি সেবার গতি ৩.৬ এমবিপিএস। এখানে ৩০ দিন মেয়াদে সর্বোচ্চ এক হাজার ২৫৯ টাকায় দেওয়া হয় ১০ জিবি প্যাকেজ সুবিধা। আর সর্বনিম্ন তিন দিন মেয়াদে ২০ টাকায় দেওয়া হচ্ছে ১০ মেগাবাইট ডাটা সুবিধা। একইভাবে শ্রীলংকায় বাংলাদেশের টাকায় ৮৮৮ টাকায় ১২ জিবি এবং সর্বনিম্ন একদিনে ৫৫ এমবি ১৪ টাকায়। আর গতি ১৪.৪ এমবিপিএস। অপরদিকে ভুটানের থ্রিজি গতি ২১.১ এমবিপিএস। এখানে ৩০ দিন মেয়াদে সর্বোচ্চ ৫ জিবি ডাটার মূল্য ১ হাজার ২৩৬ এবং ৩৩৩ মেগার মূল্য ৪১২ টাকা।
সূত্র: দৈনিক সমকাল

2 মন্তব্য
  1. হামিদ খান বলেছেন

    thanks….

  2. Nafiz Ur Rahman বলেছেন

    ধন্যবাদ ভাই শেয়ার করার জন্য ।

উত্তর দিন