কেন অ্যান্ড্রয়েডে টাস্ক কিলার ব্যবহার করবেন না?

4 147

আমরা অনেকেই মনে করি যে অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে টাস্ক কিলার অ্যাপ্লিকেশন খুব কাজের। এটি ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি ব্যাকগ্রাউন্ডের নানা অপ্রয়োজনীয় অ্যাপস বন্ধ রেখে স্মার্টফোনের ব্যাটারি ব্যাকআপ ও পারফরমেন্স বাড়াতে পারবেন। টাস্ক কিলার অ্যাপ্লিকেশনগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকা নানা অ্যাপস বন্ধ করে দেয় ফলে র‍্যাম খালি হয়ে যায়। অনেক টাস্ক কিলার এই কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করে। প্রশ্ন হলো আসলেই এ ধরণের টাস্ক কিলার ইউজ করার আদৌ দরকার আছে নাকি? উত্তর – না। এ ধরণের টাস্ক কিলার ব্যবহার করার কোন দরকার নেই। কিন্তু কেন? সেটাই আমরা দেখব।

a

অধিকাংশ অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারী পিসিতে অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে উইন্ডোজ ব্যবহার করেন এবং সেখানে নানা ধরণের অপ্টিমাইজেশন টুলস ইউজ করতে করতে এক ধরণের ধারণা হয়ে গেছে যে অপ্টিমাইজেশন টুলস ছাড়া আপনি পিসি হোক বা স্মার্টফোন হোক কোনটিই ঠিকভাবে চালাতে পারবেন না। ব্যাপারটি ঠিক নয়। পিসির র‍্যাম বুস্টার নামের সফটওয়্যার যেমন কোন কাজ করে না ঠিক তেমনি অ্যান্ড্রয়েডে টাস্ক কিলারও কোন কাজে আসে না।

a

উইন্ডোজে আপনি কোন সফটওয়্যার ক্লোজ বা বন্ধ করে দিতে পারবেন কিন্তু অ্যান্ড্রয়েডে অ্যাপ্লিকেশন বন্ধ করার কোন সাধারণ উপায় নেই। আপনি মনে করবেন না যে এটি অ্যান্ড্রয়েডের সমস্যা। এটির অনেক সুবিধাজনক দিক আছে। আপনি যখন কোন অ্যাপ্লিকেশন থেকে ব্যাক করে মেইন স্ক্রিনে ফিরে যান বা অন্য কোন অ্যাপ্লিকেশন লঞ্চ করেন তখন কিন্তু অ্যাপ্লিকেশনটি সাধারণত বন্ধ হয়ে যায় না বরং সেটি পিছনে চলতে থাকে। অনেক অ্যাপ্লিকেশন এই অবস্থায় কোন সিপিইউ বা নেটওয়ার্ক রিসোর্স ব্যবহার করে না। আবার অনেক অ্যাপ্লিকেশন যেমন ফেসবুক অ্যাপস ব্যাকগ্রাউন্ডে চলার সময়ও সিপিইউ রিসোর্স ব্যবহার করে এবং নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে নোটিফিকেশন সার্ভিস চালু রাখে। কিন্তু আপনি যখন আবার ওই অ্যাপসটি রান করবেন তখন কিন্তু অ্যান্ড্রয়েড আবার নতুন করে অ্যাপস রান করে না বরং আগের স্টেট থেকে রিজিউম করে।

a

ব্যাকগ্রাউন্ডে চলার সময় বা স্থগিত থাকা অবস্থায় কিন্তু অ্যাপসগুলো র‍্যামে জায়গা দখল করে রাখে যেন পরে অ্যাপস আবার চালু করতে চাইলে দ্রুত তা চালু হতে পারে। এখন আপনি যদি টাস্ক কিলার ব্যবহার করেন তখন এই টাস্ক কিলার অ্যাপসগুলো পুরোপুরি বন্ধ করে ফেলে বা ফোর্সড ক্লোজ করে দেয়। এতে র‍্যাম খালি হয়ে গেলেও পরে ওই অ্যাপসগুলো রান হতে অনেক সময় লাগবে কেননা তখন সিপিইউকে অপেক্ষাকৃত কম গতির ইন্টারনাল মেমরি থেকে ডাটা নিয়ে অ্যাপস চালু করে হয়। এতে সিস্টেম ধীরগতির হয়ে যায় এবং অ্যাপস চালু হতে বেশ সময় লাগে। শুধু তাইই না, এমন অনেক অ্যাপ্লিকেশন আছে যা ঠিকভাবে কাজ করার জন্য সবসময় ব্যাকগ্রাউন্ডে চালু থাকা জরুরি। যেমন – ফেসবুক অ্যাপস যদি আপনি ফোর্সড ক্লোজ করে দেন তাহলে কিন্তু কোন প্রকার নোটিফিকেশন পাবেন না। সেক্ষেত্রে সমস্যা পড়ে যাবেন। আর র‍্যাম পূর্ণ থাকা কিন্তু কোন সমস্যা নয়। র‍্যামের কাজই হচ্ছে সিপিইউ যে ডাটা প্রসেস করবে তা যেন দ্রুত সরবারহ করতে পারে সে জন্য ডাটা সাময়িকভাবে স্টোর করে রাখা। এক্ষেত্রে র‍্যাম খালি করে রাখলে সিস্টেম কমগতির হয়ে যাবে এটা স্বাভাবিক। তাই টাস্ক কিলার ব্যবহার করা উচিত না।

এখন ধরুন আপনি টাস্ক কিলার ব্যবহার করছেন না। কিন্তু অ্যাপসগুলো র‍্যামে মেমরি দখল করে পূর্ণ করে ফেলেছে। আপনি চাচ্ছেন নতুন অ্যাপস চালাতে কিন্তু র‍্যামে কোন জায়গা নেই। সেক্ষেত্রে অ্যান্ড্রয়েড আগের যে অ্যাপস অনেক্ষণ ব্যবহার করেননি সেটি বন্ধ করে নতুন অ্যাপসের জন্য র‍্যামে জায়গা করে দেয়। অর্থাৎ এর জন্য আপনার আলাদা টাস্ক কিলারের দরকার নেই। অ্যান্ড্রয়েড ওএস স্বয়ংক্রিয়ভাবে র‍্যাম ম্যানেজমেন্টের কাজ করতে পারে। টাস্ক কিলার নিশ্চয়ই অ্যান্ড্রয়েডের চেয়ে অ্যাপস সম্পর্কে ভাল জানবে না তাই না!

হ্যাঁ অনেকেই বলতে পারেন যে টাস্ক কিলার ব্যবহারের কারণে সিস্টেম দ্রতগতির হয়েছে এবং ব্যাটারি ব্যাকআপ বেড়েছে। এর কারণ হচ্ছে কিছু অ্যাপস আছে যা অযথাই সিপিইউ সাইকেল দখল করে রাখে এবং সেটিকে সব সময় ব্যস্ত রাখে। ফলে ব্যাটারি খরচ বাড়ে। টাস্ক কিলার সেগুলো বন্ধ করে এই সমস্যা থেকে বাঁচায়। কিন্তু আপনি ভুলে যাচ্ছেন যে এতে একটি অ্যাপস বন্ধ করতে যেয়ে আপনি অন্য অ্যাপসগুলোর কাজে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছেন। ব্যাপারটা অনেকটা মশা মারতে কামান দাগার মতো হয়ে গেছে। তাই সবচেয়ে ভাল হয় অ্যান্ড্রয়েডে নিজস্ব টাস্ক ম্যানেজার দেখে যে অ্যাপস ব্যাকগ্রাউন্ডের কাজ করার সময় বেশি সিপিইউ দখল করছে তা আনইন্সটল করে দেয়া। কি দরকার এরকম বাজে অ্যাপস রাখার? আর টাস্ক কিলারও আনইন্সটল করে ফেলুন।

a

এটা আরেকটা ভুল ধারণা যে র‍্যাম খালি রাখলে ব্যাটারি কম নষ্ট হয়। মূলত র‍্যাম পূর্ণ অবস্থায় যে এনার্জি খরচ করে খালি থাকলেও সেটি করে। তাই টাস্ক কিলার ব্যবহার করে র‍্যাম বাঁচিয়ে ব্যাটারি ব্যাকআপ বাড়ানোর আশা না করাই ভাল। আসল কথা হলো টাস্ক কিলার করা বন্ধ করুন। কোন অ্যাপস যদি অস্বাভাবিক আচরণ করে তাহলে তা আনইন্সটল করে দিন। সেটাই সবচেয়ে ভাল সমাধান।

4 মন্তব্য
  1. Anindha Priyam বলেছেন

    সুন্দর পোস্ট। ধন্যবাদ,শেয়ার করার জন্য

  2. দিপু রায়হান বলেছেন

    ধন্যবাদ সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।

  3. হামিদ খান বলেছেন

    সুন্দর পোস্ট, শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ

  4. আকাশ বলেছেন

    আকর্ষণীয় পোস্ট উপহার দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।

উত্তর দিন