অনলাইনে কোরবানি পশুর হাট

4 710

ময়ের প্রয়োজনে বদলে যাচ্ছে পৃথিবী। সব কিছু হচ্ছে সহজ থেকে সহজতর। আর প্রযুক্তির উন্নয়ন সাধনের ফলে এখন কোন কিছুর প্রয়োজন হলে ঘরের বাইরে যেতে হয় না। এমনকি কোরবানির পশু কেনার জন্যও হাটে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। এখন অনলাইনেই কোরবানির পশু ক্রয় করা যাবে। দেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠিত ই-কমার্স সাইটের মাধ্যমে এ সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে অনলাইনে বুকিং দিয়ে কিছু অগ্রিম অর্থ পরিশোধ করলে নির্দিষ্ট সময়ে বাড়িতে গরু পৌঁছে দেবে বিক্রেতা বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান।

বাংলাদেশে আসন্ন ঈদুল আযহা বা কোরবানির ঈদ সামনে রেখে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অনলাইনে গ্রাহকদের জন্য কোরবানির পশু কেনাবেচার সুযোগ করে দিচ্ছে।

এর মধ্যে কোনো কোম্পানি সরাসরি কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত। আবার কোনো প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে শুধু গরু কেনাবেচার বিজ্ঞাপন প্রকাশ পাচ্ছে। কেনাবেচা প্রক্রিয়ায় শুধু বিক্রেতা ও ক্রেতা থাকেন।

‘আমার দেশ ই-শপ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান অন্য পণ্যের পাশাপাশি ঈদুল আযহা উপলক্ষে কোরবানির গরু বেচাকেনা করছে।

তাদের ওয়েবসাইটে বিভিন্ন আকারের গরুর ছবিসহ দাম উল্লেখ করা রয়েছে। যে কেউ চাইলে এখান থেকে গরু কিনতে পারেন। ওয়েবসাইটের ঠিকানা

একইভাবে গোয়াল থেকেই কাঙ্ক্ষিত মূল্যে পালিত কোরবানির পশু বিক্রি করতে পারছেন চাষি বা খামারিরা।

আর কোরবানির পশু ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে এই সেতুবন্ধ তৈরি করতেই গত বছর সীমিত পর্যায়ে চালু হলেও এবার ব্যাপক আয়োজন করেছে অনলাইনে কেনাবেচার হাট ‘আমারদেশ-ই-শপ ডটকম’।

এ জন্য প্রথমেই এই ঠিকানায় ভিজিট করুন। এখানে গেলে দেখা যাবে—কোরবানি উপলক্ষে বিক্রির অপেক্ষায় থাকা বেশ কিছু গরুর ছবি, কোড নম্বর, দাম এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর ভিডিও।

হাটে বিক্রির অপেক্ষায় থাকা কোরবানির গরুর দাম ৩৫ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে। দাম ও সাইজ দেখে কেউ যদি কোনো পশু পছন্দ করেন তবে দিয়ে দিতে পারেন অনলাইনে বুকিং।

এর পাশাপাশি ব্র্যাক ব্যাংক ও ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ই-ক্যাশ, বি-ক্যাশ কিংবা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে পছন্দের পশু কিনতে পারবেন ক্রেতারা।

ইচ্ছে করলে দেশের বাইরে থেকেও কেউ অর্ডার দিয়ে করতে পারবেন এই কেনাকাটা।

জানা গেছে, ‘আমার দেশে আমার গ্রাম’ প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত এই ই-কমার্স সাইটে কোরবানি উপলক্ষে আয়োজিত গরু ক্রয়-বিক্রয় আয়োজন শুরু হয়েছে গত মাসের ২৫ তারিখ থেকে।

অবশ্য শুরুর দিকে অনলাইনের এই কোরবানির হাট ছিল ক্রেতাশূন্য। তবে দিন দিন দর্শনার্থীর ভিড় বাড়ছে।

প্রতিদিনই একই সময়ে অনলাইনে এই কোরবানির হাটে ঘোরাঘুরি করছেন ৩০০ থেকে ৫০০ দর্শনার্থী। এরই মধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে বেশ কয়েকটি গরু।

অনলাইন এই কোরবানির হাট সম্পর্কে এই হাটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাদিকা হাসান সেঁজুতি জানান, তারা নিজ উদ্যোগেই ক্রেতাদের কাছে বিক্রীত গরু পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেছেন।

এজন্য আগামী ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত অনলাইনে বুকিং নেয়া হবে। ১৪ অক্টোবর শুরু হবে হোম ডেলিভারির কাজ। ডেলিভারির জন্য সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা চার্জ ধরা হচ্ছে।

কোরবানির গরু হওয়ায় পাঁচ শতাংশ সার্ভিস চার্জ বাদে বিক্রির পুরো টাকাই চাষি বা খামারিকে দেয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানালেন।

সেঁজুতি আরও জানালেন, ‘কোরবানির পশু সংগ্রহের জন্য এরই মধ্যে দেশজুড়ে পাঁচটি ই-সেন্টার করা হয়েছে।

সেন্টারগুলো রয়েছে নরসিংদী, টাঙ্গাইল, কুষ্টিয়া, যশোর ও রংপুরে। ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের বেড়াজাল এড়িয়ে ক্রেতা-বিক্রেতারা নির্ঝঞ্ঝাটভাবে কোরবানির পশু পেয়ে যাচ্ছেন ঘরে।

এ জন্য সময়, শ্রম ও অর্থ তিনই বাঁচছে। আমরা শুধু পরিবহন এবং ব্যাংক চার্জ ও অন্যান্য ব্যয়ের জন্য নামমাত্র সার্ভিস চার্জ নিচ্ছি।’

জানা গেছে, এ বছর নরসিংদী, টাঙ্গাইল ও কুষ্টিয়ার কৃষকের গরু বিক্রি করা হচ্ছে। মূলত কৃষকেরাই তাঁদের কাঙ্ক্ষিত দাম হাঁকেন, আর সেই দাম ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়।

তবে কেউ যদি দর-কষাকষি করতে চান, তাহলে যোগাযোগ করিয়ে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এক-তৃতীয়াংশ দাম নগদ কিংবা ক্রেডিট কার্ডে পরিশোধ করলে গরু বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়।

তখন বাকি অর্থ পরিশোধ করতে হয়। আর বাসায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিন হাজার টাকা সেবামাশুল নেওয়া হয়। এই মাশুল শুধু রাজধানীর মধ্যে প্রযোজ্য।

জানা গেছে, গত কোরবানির ঈদে ১৭টি গরু বিক্রি করেছে ‘আমার দেশ ই-শপ’। এবার ২০টি বিক্রির লক্ষ্য রয়েছে। ইতিমধ্যে পাঁচটি গরু বিক্রি হয়ে গেছে।

প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা আতাউর রহমান বলেন, ‘কোনো মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে নয়, আমরা কৃষক বা গৃহস্থকে সরাসরি বাজারসুবিধা দিতে চাই।

ক্রেতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করিয়ে দিতে চাই, যাতে ন্যায্যমূল্য পান তাঁরা।’

অন্যদিকে দেশের অন্যতম অনলাইনে বেচাকেনার পোর্টাল বিক্রয়.কমে কোরবানির পশু বেচাকেনা শুরু হয়েছে।

গতকাল বুধবার এই ওয়েবসাইটে বেশ কিছু গরু বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সেলবাজারের ওয়েবসাইটেও সুযোগ রয়েছে কোরবানির পশু কেনার।

এদিকে ক্লিকবিডি লিমিটেড নামের একটি অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানও তাদের ওয়েবসাইটে কোরবানির পশু বা গরু বিক্রির বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। মূলত বিক্রেতা নিজেই বিজ্ঞাপন দেন।

মাশুলের বিনিময়ে বিজ্ঞাপন নেওয়া হয়। এই ওয়েবসাইটে একটি গরু ও উট বিক্রির বিজ্ঞাপন রয়েছে।

 

priyotech

4 মন্তব্য
  1. Anindha Priyam বলেছেন

    সুন্দর পোস্ট। ধন্যবাদ,শেয়ার করার জন্য

  2. দিপু রায়হান বলেছেন

    ধন্যবাদ সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।

  3. হামিদ খান বলেছেন

    সুন্দর পোস্ট, শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ

  4. আকাশ বলেছেন

    আকর্ষণীয় পোস্ট উপহার দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।

উত্তর দিন