বাংলাদেশ ইন্টারনেট স্বাধীনতায় ১০০ তে ৪৯

6 93

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ফ্রিডম হাউস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১৩ সালে বাংলাদেশ সারা পৃথিবীর মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারে স্বাধীনতার দিক থেকে ১০০ তে ৪৯ এ অবস্থান করছে। আর এই অবস্থানকে প্রতিষ্ঠানটি “আংশিক স্বাধীন” বলে উল্লেখ করেছে। ফ্রিডম হাউসের গবেষণা অনুযায়ী, তিন বছর ধরে বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট স্বাধীনতা ক্রমশ কমেছে। বর্তমানে বিশ্বে ব্যক্তিগত ইন্টারনেট ব্যবহারের স্বাধীনতার দিক থেকে শীর্ষ দেশ আইসল্যান্ড। এরপর রয়েছে এস্তোনিয়া। যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি এর পরের অবস্থানে। ইন্টারনেট স্বাধীনতার দিক থেকে সবার নিচে চীন, কিউবা ও ইরান।

৮৮২ পেজের ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ইন্টারনেট সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে ১১২ নং পেজ থেকে ১২১ নং পেজ পর্যন্ত।

সেখানে রাজীব হায়দারকে হত্যা, শাহবাগের আন্দোলন, বিটিআরসি কর্তৃক ইউটিউব-ফেসবুক বন্ধ, সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ, ব্লগ সাইট বন্ধ, ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণে কালো আইন পাশ, অনলাইন থেকে লেখা মুছে দেওয়া ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

এদিকে প্রযুক্তি ও ব্যবসাবিষয়ক ওয়েবসাইট বিজনেস ইনসাইডারের এক খবরে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট স্বাধীনতার ক্ষেত্রে ২০১৩ সাল এক কঠিন বছর।

এ বছর পাকিস্তানে হাজার হাজার সাইট বন্ধ হয়েছে, ভেনেজুয়েলায় ইন্টারনেটে সেন্সরশিপ বাড়ার মতো নানা ঘটনা ঘটেছে।

এ বছর অ্যাডওয়ার্ড স্নোডেনের হাতে মার্কিন গোয়েন্দাদের ইন্টারনেটে নজরদারি ফাঁস হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে সরকারি নজরদারির বিষয়গুলো মানুষ জানতে পেরেছে।

ফ্রিডম হাউসের গবেষণা অনুযায়ী, তিন বছর ধরে বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট স্বাধীনতা ক্রমশ কমেছে। বর্তমানে বিশ্বে ব্যক্তিগত ইন্টারনেট ব্যবহারের স্বাধীনতার দিক থেকে শীর্ষ দেশ আইসল্যান্ড।

এরপর রয়েছে এস্তোনিয়া। যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি এর পরের অবস্থানে। ইন্টারনেট স্বাধীনতার দিক থেকে সবার নিচে চীন, কিউবা ও ইরান।

ফ্রিডম হাউস ইন্টারনেট স্বাধীনতার বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করার সময় বিভিন্ন দেশের অনলাইনে বাক-স্বাধীনতা আইন, অনলাইনে কিছু বলার জন্য গ্রেফতারের সংখ্যা, সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ, নজরদারি প্রভৃতি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

ফ্রিডম হাউসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিল্টারিং ও সেবা বন্ধ করার পাশাপাশি অনলাইনে রাজনৈতিক, ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে কটূক্তিকারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশ কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। অনলাইনে কটূক্তি করলে গ্রেফতার ও বিভিন্ন সাজার ব্যবস্থা রয়েছে।

পাশাপাশি ইন্টারনেটে বিভিন্ন বিষয় নজরদারির উদ্যোগ নেওয়ায় ইন্টারনেট স্বাধীনতার ক্ষেত্রে প্রভাব পড়েছে। এ তালিকায় বাংলাদেশ, তুরস্ক ও আজারবাইজানের মতো দেশগুলো পড়েছে।

যেভাবে বাংলাদেশ ৪৯
গবেষণায় বাংলাদেশের ইন্টারনেট স্বাধীনতার বিষয়টিকে ‘আংশিক স্বাধীন’ হিসেবে দেখানো হয়েছে, যাতে ৯টির মধ্যে বর্তমানে ৬টি বিষয় স্বাধীন নয়।

এতে বাংলাদেশের মোট পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ৪৯।

এর মধ্যে কোনো ওয়েবসাইটে প্রবেশের বাধার ক্ষেত্রে ১৩, কোনো লেখায় বাধার ক্ষেত্রে ১২ ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর অধিকার আটকানোর ক্ষেত্রে ২৪ পয়েন্ট পেয়েছে বাংলাদেশ।

১০০ এর মধ্যে পয়েন্ট যত কম হবে সেই দেশটি ইন্টারনেট স্বাধীনতার দিক থেকে তত উদার।

পয়েন্টের দিক থেকে শূন্য থেকে ৩০ হলে, সে দেশটি ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে স্বাধীন হিসেবে ধরা হয়েছে।

পয়েন্ট ৩১ থেকে ৬০ হলে, সে দেশটিকে আংশিক স্বাধীন বলে উল্লেখ করেছে ফ্রিডম হাউস।

১০টি উপায়ে ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ করে সরকার
ফ্রিডম হাউসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূলত ১০টি উপায়ে ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ রাখে বিভিন্ন দেশের সরকার। নিম্নে তা উল্লেখ করা হলো।
০১. ইন্টারনেট বন্ধ বা ফিল্টার করা,
০২. সমালোচকদের বিরুদ্ধে সাইবার হামলা চালানো,
০৩. অনলাইনে ধর্মবিষয়ক রাজনীতি বা সামাজিক বিষয় নিয়ে লেখা রুখতে আইন বা গ্রেপ্তার,
০৪. অর্থ খরচ করে বিভিন্ন ফোরামে সরকারি প্রচার,
০৫. শারীরিক আক্রমণ বা খুন,
০৬. নজরদারি,
০৭. অনলাইনে বিভিন্ন পোস্ট মুছে দেওয়ার ব্যবস্থা,
০৮. সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোতে নজরদারি,
০৯. মধ্যপন্থী হিসেবে কাজ করা এবং
১০. মোবাইল সেবা বন্ধ রাখা।

6 মন্তব্য
  1. আকাশ বলেছেন

    চমৎকার পোস্টটি শেয়ার করার জন্য থ্যাংকস ভাই!

  2. নাঈম প্রধান বলেছেন

    শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

  3. মুহম্মদ রনি বলেছেন

    যেখান থেকে কপি করছেন সেখানে স্পষ্ট বলা আছেঃ “এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি”.
    কাজেই, সোর্স উল্লেখ করুন। না করা হলে আপনার সবগুলো পোস্ট মুছে ফেলা হবে এবং তা এই মাসের সর্বাধিক পোস্ট পাবলিশার হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না… ধন্যবাদ…

  4. দিপু রায়হান বলেছেন

    sorce diyen

  5. হামিদ খান বলেছেন

    no need, this post is copy

  6. লিটন হাফিজুর বলেছেন

    ভাই লেখাটি কোথায় থেকে নেওয়া হয়েছে তা জানালে ভালো হয়।ধন্যবাদ।

উত্তর দিন