জেনে নিন আমাদের প্রিয় নবী মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স:) এর বিদায় হজ্জ্বের সেই ভাষণটি এবং সাথে নিয়ে নিন মক্কা ও মদীনার ইতিহাসের ভিডিও

5 145

বিছমিল্লহির রাহমানির রাহীম

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি ।আশা করি সবাই আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন । আজ আমি আপনাদের কাছে মহানবী (স:) তাঁর বিদায় হজ্জ্বের সময় পুরো পৃথিবীর মুসলিম বিশ্বের জন্য যে ভাষণটি দিয়ে গেছেন সেটি নিয়ে আলোচনা করব ।আপনাদের মধ্যে অনেকেই এই ভাষণটি জানা আছে তাও আমি আবার আপনাদের মনে করিয়ে দিচ্ছি।

moca o modina

দশম হিজরি সনের ঘটনাঃ এই সময়ে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) মুসলমানদের ইসলামের সকল রকম ইবাদাত, ইসলামী জীবন যাপন প্রণালী ইবাদত সমূহ পালন করার বিধিমালা ব্যাপকভাবে শিক্ষাদান করেন। এই সনে পবিত্র কোরআনের এমন এক আয়াত নাযিল হয় যার ব্যাখ্যা দ্বারা বুঝা যায় যে, মহানবী (সঃ) দুনিয়া হতে বিদায়ের মুহূর্ত সম্ভবত আসন্ন হয়ে গেছে।  হুযুর পাক (সঃ) নিজেই উপলব্ধি করতে পারিলেন যে তাঁর উপর আরোপিত আল্লাহ পাকের মহান দায়িত্ব ও কর্তব্যসমূহ সমাধা হয়েছে এবং তাঁহার জীবনের প্রদীপ নিভিয়া আসিতেছে।

ছাব্বিশে জিলকদ মহানবী (সঃ) এর শেষ হজ্জ যাত্রার দিন নিদিষ্ট করা হল। চারদিক থেকে লোক মদিনায় সমাবেত হতে লাগল। নিদিষ্ট তারিখে মহানবী (সঃ) গোসল করে নতুন কাপড় পরিধান করলেন। তাঁহার চেহারা মোবারক হতে তখন উজ্জ্বল নূরের আলো প্রতিফলিত হতে লাগল। এই হজ্জ যাত্রাই ছিল হুযুর পাক (সঃ) এর শেষ হজ্জ যাত্রা। এর এই জন্যই একে ইসলামের ইতিহাসে হজ্জাতুল বিদা বা বিদায় হজ্জ বলা হয়।

arafar moydan

মদিনা হতে রওনা হওয়ার ছয় মাইল পথ অতিক্রম করার পর যুল হলায়ফা নামক স্থানে পোঁছে রাত্রি যাপনের জন্য সেখানে তাঁবু স্থাপন করিলেন। ভোরে ফজরের নামায আদায় করে হুযুর (সঃ) গোসল করিলেন। তারপর তাঁর পবিত্র দেহে হযরত আয়েশা (আঃ) সুগন্ধি আঁতর মেখে দিলেন। তারপর হুযুর পাক (সঃ) দাড়িয়ে দুই রাকাত নফল নামায আদায় করিলেন। অতঃপর উচ্চ স্বরে মহানবী (সঃ) লাব্বাইক তাকবীর ধ্বনি করিতে করিতে শুরু করিলেন। ঐ ধ্বনি ছিল এইরূপ –লাব্বাইকা আল্লাহহুম্মা লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইকা ইন্নাল হামদা আন আনামাতা লাকা আলমূলক লা শারিকা লাকা।

জিলহজ্জ মাসের চার তারিখে রোজ রবিবার প্রত্তষে যখন প্রাতঃকালীন সূর্য উদয় হয়েছিল আর তখন সাথে সাথে পবিত্র মক্কার দৃশ্যাবলী হজ্জ যাত্রীদের চোখের সামনে উদ্ভাসিত হতে লাগল। ওদিকে মক্কার হাশেমি বংশের কিশোর বালক বালিকারা যখন জানতে পারল আখেরি নবী মোহাম্মদ (সঃ) মক্কায় আগমন করিতেছে তখন তারা নিজেদের কক্ষ ছেড়ে মহানবী (সঃ) কে দেখার জন্য ছুটে আসল। মহানবী (সঃ) কিশোরদের দেখে আনন্দে অভিভূত হয়ে গেলেন। মক্কায় পোঁছে সর্বপ্রথম মহানবী (সঃ) কাবা তওয়াফ করলেন। তারপর মাকামে ইব্রাহীমের নিকট পোঁছে দুই রাকাত নফল নামায আদায় করলেন। কাবা যিয়ারত করার পর হুযুর পাক (সঃ) সাফা ও মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মাঝখানে তাশরিফ নিলেন। পাহাড়দ্বয়ের উপর হতে কাবাঘরের দিকে তাকিয়ে বুলন্দ আওয়াজে ঘোষণা করিলেনঃ ­আল্লাহ তায়ালা এক ও অদ্বিতীয়। তাঁর কোন শরীক নেই। তিনি পৃথিবীর সবকিছু সৃষ্টি করেন এবং তিনিই সব কিছুর মৃত্যু ঘটান। তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। তিনি সর্বশক্তিমান। তিনি তাঁর সৃষ্টিকুলের মধ্যে মানব জাতিকেই ‘ আশরাফুল মাখলুকাত’ দান করেছেন।

makameibrahim

জিলহজ্জ মাসের আট তারিখে হুযুর পাক (সঃ) তাঁহার সঙ্গীসহ মিনায় উপস্থিত হলেন। পরদিন শুক্রবার নয় তারিখ ফজরের নামায আদায় করে আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে যাত্রা করিলেন। পথে ‘অদিয়ে নামেরায়’ কিছু সময় অবস্থান করে জোহরের নামায আদায় করে অপরাহ্ণে কাফেলাসহ আরাফাতের পবিত্র ময়দানে উপস্থিত হলেন। অতপর হজ্জ সম্পন্ন করে তিনি আরফাতের পাহাড়ের চূড়ায় দাড়িয়ে এক মর্মস্পশ ভাষণ দান করিলেন। তাঁহার সেই ভাষণের মধ্যেও তাঁহার মহা বিদায়ের ইঙ্গিত ছিল।

বিদায় হজ্জ্বের অমূল্য ভাষণ

হুযুর পাক (সঃ) তাঁর নবুওতের পূর্ণ আবেগসহ ভাষণ আরম্ভ করিলেন। ইহাই ছিল তাঁর জীবনের শেষ উপদেশ বাণী। এই ভাষণের মাধ্যমে তিনি একটি আদর্শ মুসলিম সমাজ চরিত্র সমবেত জনতার সম্মুখে তুলে ধরিলেন। ভাষণের শুরুতে তিনি মহান আল্লাহ পাকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করিলেন। অতঃপর সমবেত জনসাধারণকে লক্ষ করে বলিলেনঃ

  • হে প্রিয় বন্ধুগণ! আমার কথাগুলি মনযক সহকারে শ্রবণ কর। আমি বুঝতে পারছিনা যে আগামি বছর আমি তোমাদের সাথে এখানে মিলিত হতে পারব কিনা।
  • হে আল্লাহ্‌র বান্দাগণ! রোজ কেয়ামতে নিশ্চই তোমাদের আল্লাহ্‌র দরবারে উপস্থিত হতে হবে। সেখানে তোমাদের যাবতীয় কাজকর্মের হিসাব গ্রহণ করা হবে।
  • হে মুসলমানগণ তোমরা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করিও না এই অতিরিক্ততার ফলে তোমাদের পূর্ববর্তী বহু জাতি ধ্বংস হয়ে গেছে।
  • হে আমার ভক্তগণ! তোমাদের স্ত্রীর উপর তোমাদের যেরুপ হক ও অধিকার রয়েছে সেরুপ তোমাদের উপর তাদের সেরূপ অধিকার ও হক আছে। তোমরা নিজেদের স্ত্রীর প্রতি সদয় ব্যবহার করিও। দাস দাসীদের প্রতিও সর্বদা সদয় ব্যবহার করিও। তোমরা যা আহার কর তাদেরকে তা খাওয়াবে। তোমরা যা পরিধান কর তাদেরকে তা পরিধান করাবে। যদি তারা তোমাদের উপর অন্যায় করে তা যদি তোমাদের অমার্জনীয় হয় তবে তাদেরকে ছাড়িয়া দিও। কিন্তু তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করিও না। কারণ তারাও আল্লাহ্‌র সৃষ্টি এবং তোমাদের মত মানুষ।
  • হে আল্লাহ্‌র বান্দাগণ! আন্ধকার যুগের সকল খুনের প্রতিশোধ গ্রহণের রক্ত বাতিল করা হল। এর সর্বপ্রথম আমার বংশের ইবনে হারেশের সকল রক্ত বাতিল ঘোষণা করলাম। অন্ধকার যুগের সকল সুদ বাতিল ঘোষণা করা হল। সকলের আগে এজন্য আমি আমার পিতৃব্য আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের সুদের যাবতিও দাবী দাওয়া মাফ করে দিলাম।

তারপর তিনি বলিলেনঃ হে মুসলিম জনতা জানিও সমস্ত মুসলিম পরস্পর ভাই ভাই।

হে মুসলিম ! আমি তোমাদের অবলম্বন স্বরূপ আল্লাহ্‌র কালাম এবং তাহারই প্রেরিত রাসুল (সঃ) এর উপদেশাবলি রেখে যাচ্ছি। যতদিন তোমরা এই দুটি জিনিষ ধরে রাখবে ততদিন তোমাদের কেও কোন ক্ষতি করতে পারবে না। চারটি কথা বিশেষভাবে স্মরণ রেখ শিরখ করিও না, অন্যায়ভাবে নরহত্যা করিও না, পরসম্পদ অপহরণ করিও না এবং বেভিচারে লিপ্ত হইয়ো না।

sahabi tree

ভাষণের শেষ পর্যায়ে হুযুর পাক (সঃ) ইসলামের মুল বুনিয়াত সম্পর্কে বক্তব্য উল্লেখ করলেন। মুসলমানগণ তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের ইবাদত করিবে, পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করিবে, রমযানের রোজা পালন করিবে এবং আমার অন্যান্য উপদেশগুলি যথাযথভাবে মেনে চলিবে। তাহলেই তোমরা পরকালে বেহেশতের অধিকারি হতে পারবে। হুযুর পাক (সঃ) আবার সকলকে উদ্দেশ্য করে বলিলেন, আজ যারা এখানে উপস্থিত আছ তারা অনুপস্থিতদের আমার এই বাণী পোঁছে দিও। হয়ত অনুপস্থিতদের অনেকে এর দ্বারা আরও বেশি উপকৃত হবে।

ভাষণ দান সমাপ্ত হলে মুয়াজ্জিন বেলাল (রঃ) আযান দিলেন। এই দিন হুযুর পাক (সঃ) যোহর ও আছরের নামায একসাথে আদায় করিলেন। নামায আদায় করার পর তিনি তাঁবুর দিকে রওয়ানা হলেন। এই সময় মহানবী (সঃ) এর খাদেম উছামা ইবনে যায়েদ তাঁহার উটের লাগাম ধরে অগ্রসর হইতেছিলেন। তাঁবুর নিকট পোঁছে হুযুর পাক (সঃ) আল্লাহ্‌র দরবারে দীর্ঘ মুনাজাত করিলেন। মুজদালিফায় তাঁহার তাঁবু খাটানো হয়েছিল। অতঃপর এশার নামায আদায় করে রাত্রি যাপন করিলেন।

rock

হে মুসলিম ভাই ও বোনেরা আমাদের সকলের উচিত মহান আল্লাহ তায়ালার কোরআন ও মহানবী (স:) এর হাদীস মেনে আমাদের জীবণটাকে সুন্দর ও সাবলিল করি । আল্লাহ আমাদের সবাইকে এইগুলো মানার তেীফিক দান করুন । শেষ করার আগে সহীহ বুখারী শরীফের শেষ হাদিসটি

হযরত আবু হুরায়রা (রঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন দুটি বাক্য যা পরম দয়ালু মহান আল্লাহর কাছে অতি প্রিয় যা বলতে সহজ অখচ পাল্লাতে খুব ভারী  তা হলো –

সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি । সুবহানাল্লাহিল আযিম । ( সহীহ বুখারী 3806)

অর্থ : মহান আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি তাঁর প্রশংসার সাথে । মহান আল্লাহ পবিত্র ।

 

মক্কা ও মদীনার সেই স্মৃতি বিজারিত স্থান ও ইতিহাস জানতে    এখানে ক্লিক করুন 

ইসলামের আরও ঐতিহাসিক ছবি দেখতে খালেদ মাহমুদ ভাইয়ের পোস্টটি দেখুন  এখানে ক্লিক করুন

 

————————————————–   

আমার একটি ইসলামিক পেইজ আছে আপনারা পারলে একটু দেখিয়েন

https://www.facebook.com/IsalamaDharmaSabaraSera

——————————————————

ধন্যবাদান্তে

মোহাম্মদ জাকারিয়া

6-10-2013

5 মন্তব্য
  1. আকাশ বলেছেন

    চমৎকার পোস্ট! শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।

  2. নাঈম প্রধান বলেছেন

    শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

  3. Nafiz Ur Rahman বলেছেন

    পোস্টটি শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ,

  4. লিটন হাফিজুর বলেছেন

    সুবাহানআললাহ।অসাধারন সুনদর পোসট।অনেকদিন পরে ইসলামিক পোসটি পড়ে খুব ভালো লাগলো।আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য জাকারিয়া ভাইকে অশেষ ধন্যবাদ।

  5. হামিদ খান বলেছেন

    ধন্যবাদ আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য

উত্তর দিন