নিম্নমানের মোবাইল ফোন ও যন্ত্রাংশে বাজার সয়লাব ক্রেতারা প্রতারিত হয়েই চলেছে ।

6 128

রাজধানীর ট্যানারি মোড়ের বাসিন্দা আফজাল খান মোবাইল ফোনের একটি ব্যাটারি কিনেছেন সাড়ে তিন শ’ টাকায়। ফুল চার্জ দেয়া হলেও দুই ঘণ্টার বেশি চার্জ ধারণক্ষমতা নেই ব্যাটারিটিতে। দোকানির কাছে নিয়ে গেলে দোকানির জবাব ‘কিছু করার নেই’। তাহলে সাড়ে তিন শ’ টাকার কী হবে। দোকানি জানালেন, প্যাকেট থেকে খোলার পর তা ফেরত হয় না। আফজাল জানালেন, কিভাবে বুঝবেন ব্যাটারিটি ভালো না মন্দ। আসলেই বোঝার কোনো উপায় নেই। আর এভাবে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা।

নিম্নমানের মোবাইল সেট সামগ্রীতে এখন বাজার সয়লাব। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানীর অভিজাত মার্কেট-বিপণিবিতান থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামেও এখন মোবাইল পার্টসের ব্যবসায় জমজমাট।

মোবাইল ফোনের ব্যাপক ব্যবহার তাদের পুঁজি। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকানের মতোই মোবাইল পার্টসের দোকানেও এখন দিনভর ভিড় লেগে থাকে। আর এই সুযোগটি নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।

মোশাররফ হোসেন নামে এক ব্যক্তি জানান, তিনি বায়তুল মোকাররম থেকে মোবাইল ফোন সেটের ওপরের কভার কিনেছেন। তিন দিনের মধ্যে ওপরের রঙ উঠে ফ্যাকাসে হয়ে যায়।

তিনি ওই দোকানে গিয়েছিলেন কভারটি বদলে নেয়ার জন্য। কিন্তু দোকানি তা বদলে দেননি। দোকানি বলেছেন, এর কোনো গ্যারান্টি বা ওয়ারেন্টি নেই।

মোবাইল ফোনের চার্জার কিনে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। দেখা যায় দু-এক মাসের মধ্যেই তা নষ্ট হয়ে যায়। আবারো চার্জার কিনতে হয়।

কবির নামে এক ক্রেতা জানান, তিনি বরিশালের একটি দোকান থেকে মোবাইল সেটের একটি ব্যাটারি কেনেন। সাড়ে তিন শ’ টাকা দাম রাখা হয় ওই ব্যাটারির।

কবির জানান, আসলেও ওই ব্যাটারির মূল্য সাড়ে তিন শ’ টাকা কি না তা যাচাই করার কোনো উপায় নেই। পুরনো ব্যাটারি কাজ না করায় তিনি বাধ্য হন ওই দামে ব্যাটারি কিনতে।

তাকে ছোট্ট একটি কাগজের টুকরো ধরিয়ে দেয়া হয়, ওয়ারেন্টি কার্ড হিসেবে, যার সিরিয়াল নম্বর ৪৫৩১। ওই চিরকূট ধরিয়ে দিয়ে দোকানি বলে দেন ব্যাটারির কোনো সমস্যা হলে দেশের যেকোনো দোকানে গিয়ে ওই ওয়ারেন্টি কার্ড দেখালেই ব্যাটারি বদলে দেবে।

ব্যাটারিটি দুই-তিন ঘণ্টারও চার্জ ধারণ করে না। কবির জানান, তিনি কয়েকটি দোকানেই গিয়েছেন কিন্তু কেউ ব্যাটারিটি বদলে দেয়নি। অজুহাত তাদের দোকান থেকে নেয়া হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আমদানি, সরবরাহ ও বিক্রির ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আবার দেশের অভ্যন্তরেও মোবাইলের ব্যাটারি ও চার্জারসহ কিছু সামগ্রী তৈরি হচ্ছে।

এর ওপরও কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। নেই মান নিয়ন্ত্রণের কোনো কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার মোবাইল যন্ত্রাংশ বাংলাদেশে আসছে।

এর কোনটি কোন মানের তা দেখার কোনো কর্তৃপক্ষ নেই। ফলে এগুলোই কিনে প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। আসাদুজ্জামান নামে এক ক্রেতা জানান, পার্টস দেখে সাধারণ ক্রেতাদের বোঝার কোনো উপায় নেই।

ক্রেতাদের পুরনো যন্ত্রাংশ ধরিয়ে দিলেও তাদের বোঝার উপায় নেই। আর এই সুযোগে কিছু অসৎ ব্যবসায়ী পুরনো যন্ত্রাংশ ঘষে-মেজে ধরিয়ে দিচ্ছেন ক্রেতাদের।

সূত্র জানায়, মোবাইল ফোনের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে যন্ত্রাংশ ও মোবাইল সেট মেরামতের প্রতিষ্ঠান।

যারা মোবাইল ফোন মেরামত করছেন তাদের বেশির ভাগের কোনো প্রশিক্ষণ নেই। ফলে তাদের দ্বারাও প্রতারিত হচ্ছেন মানুষ।

ক্রেতা অধিকার রক্ষা ফাউন্ডেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী তুহিন আহমেদ বলেছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ দিকে কোনো খেয়ালই নেই।

অথচ অল্প কয়েক বছরের মধ্যে এই সেক্টরটির এমন বিস্তৃতি ঘটেছে যে, প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।

কিন্তু এই সেক্টরের ক্রেতাদের অধিকার রক্ষায় সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই বলে সাধারণ ক্রেতারা প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন।

বায়তুল মোকাররম মার্কেটের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, তারা শুধু যন্ত্রাংশ বিক্রি করেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় ব্যাটারি আর চার্জার।

প্রতিটি দোকানেই বিভিন্ন ব্রান্ডের যন্ত্রাংশ বিক্রি হয়। তারা বেশি বিক্রির চেষ্টা করেন সে কোম্পানির জিনিস যে কোম্পানির কাছ থেকে বেশি কমিশন পাওয়া যায়।

সে ক্ষেত্রে তারা কোনো মান বিচার করেন না। ওই ব্যবসায়ী বলেন, এমনকি, যারা পুরনো যন্ত্রাংশ বিক্রি করছে তাদের দোকানেও পাওয়া যাবে নতুন যন্ত্রাংশ।

তিনি বলেন, সেক্টরটি কয়েক বছরের মধ্যে ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করলেও কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে যে যেভাবে পারছেন কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন এই সেক্টর থেকে। আর দোকানিরাও যে যেভাবে পারছেন যন্ত্রাংশ বিক্রি করছেন।
সূত্র: দৈনিক নয়াদিগন্ত

6 মন্তব্য
  1. আকাশ বলেছেন

    আকর্ষণীয় পোস্ট উপহার দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।

  2. Nafiz Ur Rahman বলেছেন

    পোস্টটি শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ.

  3. নাঈম প্রধান বলেছেন

    শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।

  4. হামিদ খান বলেছেন

    thanks for share

  5. মুক্ত পাখি বলেছেন

    অনেক ধন্যবাদ সুন্দর একটি পোস্ট উপহার দেয়ার জন্য ।

  6. লিটন হাফিজুর বলেছেন

    thanks for share

উত্তর দিন