আর. আর. ফাউন্ডেশনের গল্প

4 181

আসসালামু আলাইকুম

কেমন আছেন সবাই? আশা করি ভাল ; আজ আপনাদের সাথে কোন ট্রিক্স বা টিপস নিয়ে কথা বলব না আজ আপনাদের সাথে এমন একজনের কথা বলব যার দ্বারা আপনি নিজেও উপকৃত বা কিছু শিখতে পারবেন বা আপনার কাজে লাগার মত কিছু কথা জানতে পারবেন। forumlogo

বাংলাদেশের সফল একজন সফল ফ্রিলেন্সার ও আর. আর. ফাউন্ডেশনের উদ্যোক্তা রাসেল আহাম্মদ! সম্প্রতি তিনি তার নিজের ও তার ফাউন্ডেশনের অতিত ও আগামী লক্ষ্য দুটিই তার ফেসবুকে শেয়ার করেছেন সেখান থেকে তার বলা কথা হুবহু তুলে ধরছি আপনাদের জন্য।

গ্রামে থেকে ওয়েব ডিজাইন শেখাটা একসময় স্বপ্নের ছিল। গ্রামে নেই কোন ভাল ট্রেনিং প্রতিষ্ঠান, নেই কোন ব্যবস্থা। যখন আমি কাজগুলো একটু করে শেখার চেষ্টা করছিলাম, আমি একটু করে পিছিয়ে পড়তাম। আমি পেতাম না কোন গাইডলাইন। একটা জিনিস শিখতাম, সেটা ভালো না লাগায়, কোড না বোঝাতে আমি আবার অন্যটাতে চলে যেতাম। তাই অন্য কোড ও সঠিকভাবে বুঝতাম না।

ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট এমনই একটা বিষয় যেখানে ধারাবাহিকভাবে না শিখলে সঠিকভাবে আগানো যাবে না। তাই আমার শেখাটা হত খাপছাড়া এবং উল্টা-পাল্টা। এভাবে শিখে কাজ পাওয়াটা ছিল অনেক কষ্টের।

ওয়েব ডিজাইন শিখতে গেলে হাজারোটা প্রশ্ন আসে মনে। কোড লিখতে গিয়ে ভুল হতেই পারে। অথবা, দেখা যায় একটা জিনিস অনেক চেষ্টার পরও হচ্ছে না। আবার কাজ করার পর সেটাকে কিভাবে আরও ভাল করা যায় সেটা কখনোই জানতে পারতাম না।এমনি করে আস্তে আস্তে চলছিল আমার শেখা। আমি কোন প্রতিষ্ঠান থেকে শিখি নাই। জিপি ইন্টারনেট দিয়ে বিভিন্ন টেক্সট টিউটোরিয়াল দেখে শিখতাম এক একটি জিনিস। ছিল না তখন কোন বাংলা ভিডিও টিউটোরিয়াল। ইংরেজি ভিডিও টিউটোরিয়াল থাকলেও আমার ডাউনলোডের ক্ষমতা ছিল না সেগুলো।

আমি যখন আস্তে আস্তে সব শিখে ফেললাম, মার্কেটপ্লেসে মোটামুটি কাজ করছি তখন থেকেই আমার মনে হল আমার মত অনেকেই আছে। আমাকে যিনি সবসময় প্রত্যেকটা কাজে উৎসাহ জানাতে, আমাদের মোহাম্মদ রাজিবুল ইসলাম স্যার ও আমি সিদ্ধান্ত নিলাম আমরা এলাকার বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ দিব। সেই প্রশিক্ষণটা হবে বিনামূল্যে অথবা স্বল্পমূল্যে।শুরু করলাম আমি প্রশিক্ষণ দেওয়া। অনেকেই এখান থেকে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ নিলেন। এদের মধ্যে সঠিক গাইডলাইন পেয়ে তৈরি হল ফ্রিল্যান্সার। মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ল আমাদের কথা। অনেকেই আমাদের প্রশিক্ষণ নিতে চাইলো।কিন্তু আমাদের সমস্যা ছিলো অনেকগুলো। প্রথমত, দুরে থেকে এখানে এসে অনেকেই সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ নিতে পারছিলেন না। আবার ফ্রি প্রশিক্ষণ দেবার কারনে আমাদের বিভিন্ন ট্রেনিং সরঞ্জাম ব্যবস্থা করতে পারছিলাম না। আমাদের এই প্রশিক্ষণের আসন সংখ্যা ছিল তিন মাসে মাত্র ১৫ জন। দুরে হওয়ার কারণে অনেক মেয়েরা এই প্রশিক্ষণে আগ্রহ প্রকাশ করলেও অংশগ্রহণ করতে পারত না।

আমরা চাইলাম এমন একটা পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ পদ্ধতি চালু করতে যার মাধ্যমে ঘরে বসে থেকেই আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণ নিতে পারবে সবাই। শুধু বাংলাদেশ থেকে নয়, বিশ্বের যে কোন স্থান থেকে প্রশিক্ষণ নিতে পারে।আমাদের সেই সিদ্ধান্তের নাম ই হল আর. আর. ফাউন্ডেশন। আমি শুরু করলাম ভিডিও টিউটোরিয়াল তৈরি, আপলোড করতে থাকলাম ইউটিউবে। আস্তে আস্তে আমার করা টিউটোরিয়ালের পরিমাণ বাড়তে থাকলো। সবাই দেখতে থাকলো। খুব সহজ করে টিউটোরিয়ালগুলো বানানো হয়েছে, দেখে সবাই খুব সহজেই কঠিন কঠিন ব্যাপারগুলো বুঝতে পারলো।

আর. আর. ফাউন্ডেশন একটি সম্পুর্ণ সামাজিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আর. আর. ফাউন্ডেশন হাজারো মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা ও দোয়া নিয়ে নিঃস্বার্থভাবে সমাজের সকল স্তরের মেধাবী তরুণ যুব সমাজকে দেশপ্রেমের পবিত্র মন্ত্রে উজ্জীবিত করে সফলভাবে কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে এবং ভবিষ্যতের একটি সোনালী রূপরেখা বাস্তবায়নের নিমিত্তে আর. আর. ফাউন্ডেশনের সকল সদস্য কাজ করে আসছে।

প্রথমে আমি শুরু করলেও পরবর্তীতে একদল তরুণের দেখা পেয়ে যাই। একদল তাজা প্রাণ একত্রিত হয়েছে কিছু একটা করার জন্য। যাদের রক্তে রয়েছে যে কোন চ্যালেঞ্জ নেবার ক্ষমতা। যাদের মেধা একত্রিত করলে কোন বাধা তাদের সামনে দাড়াতে পারে না।আমরা যেমন মানুষের ভালবাসা পেয়েছি, তেমনি কিছু খারাপ মানুষের দেখাও পেয়েছি। কিছু মানুষ চেয়েছে আমাদের আর. আর. ফাউন্ডেশন বন্ধ হয়ে যাক। বিভিন্ন ভূইফোড় ট্রেনিং প্রতিষ্ঠান আমাদের অনেক ক্ষতি করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু তারা সফল হয়নি। লাখো মানুষের ভালবাসার কাছে তারা হেরে গেছে।

বর্তমানে আর. আর. ফাউন্ডেশনের ফেসবুক গ্রুপ এর মাধ্যমে ১০ হাজারের ও বেশী মানুষ প্রত্যক্ষভাবে ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং নিচ্ছেন। প্রতিদিন আমাদের গ্রুপে দেখা যায় আমাদের টিউটোরিয়াল দেখে কাজ শিখে তিনি এখন স্বাবলম্বী। সেই সকল পোস্ট দেখে মন ভরে যায়। আমি অপেক্ষা করি সেইসব পোস্টগুলো দেখার জন্য। ওইসব পোস্ট এর আড়ালে দেখি তার পরিবারের সদস্যের হাসিমাখা মুখ। আর্থিক স্বচ্ছলতাই আমাদের মুক্তি দিতে পারে।

আর. আর. ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম পরিচালিত হয় কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার একটি গ্রাম থেকে। আমরা বিশ্বাস করি গ্রাম থেকেই সবকিছু করা সম্ভব। তাই আমরা উদ্যোগ নিয়েছি আমাদের এই সেবামূলক কার্যক্রম বাংলাদেশের প্রত্যেকটি গ্রামে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য।

সেই উদ্যেশ্যেই আর. আর. ফাউন্ডেশন তাদের ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে বাছাই করেছে অ্যাডভান্স, সেবা করার মানসিকতা ও চ্যালেঞ্জ নেবার জন্য প্রস্তুত কিছু তরুণ যুবকদের। তাদের আর. আর. ফাউন্ডেশনে এনে আবাসিক রেখে ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে। তারা এই প্রশিক্ষণ শেষে নিজের এলাকাতে প্রশিক্ষণ দেবেন।বর্তমানে আর. আর. ফাউন্ডেশনের একমাত্র অফিস কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় তৈরি হচ্ছে। আমি আমার নিজের আয় দিয়ে এই অফিস তৈরি করছি। ইতিমধ্যেই ৫০% কাজ সম্পাদিত হয়েছে। আশা রাখা যায় আগামী জানুয়ারীতেই আমাদের যাত্রা শুরু হবে।

দুঃখের বিষয় হল এই অফিস নির্মানের জন্য আমি অনেক জায়গাতে ফান্ড এর জন্য চেষ্টা করেছি, কিন্তু কোন প্রকারের কোন সাহায্য সহযোগিতা আমি পাইনি। তাই বসে না থেকে নিজের আয় থেকেই শুরু করেছি।

আগামী জানুয়ারী থেকে আমাদের এই অফিসে ১০০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। তাদের সবাইকে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিভিন্ন জেলা থেকে নেওয়া হবে ৬০ জন শিক্ষার্থীকে এবং আমার নিজ জেলা থেকে নেওয়া হবে ৪০ জন শিক্ষার্থী।এদের প্রত্যেককে প্রফেশনাল ফ্রিল্যান্সার হিসেবে তৈরি করা হবে। তারপর তাদের নিজ এলাকায় আর. আর. ফাউন্ডেশনের সহযোগি হয়ে কাজ করতে হবে।

আমাদের অফিসে নির্দিষ্ট একটি সময়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ফ্রি ইন্টারনেট ব্রাউজিং করতে পারবে। ইন্টারনেটে কিভাবে পড়াশুনা করতে হয় তা তাদের শেখানো হবে। বাচ্চাদের বিনামূল্যে কম্পিউটার শেখানো হবে।মেধাবী দরিদ্র ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার দায়িত্ব নেবে আর. আর. ফাউন্ডেশন। তাদের প্রশিক্ষিত করে তুলে কর্মসংস্থান করবে।

বর্তমানে, বিভিন্ন মাদ্রাসা, কওমী মাদ্রাসায় তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার সন্তোষজনক নয়। তাই আর. আর. ফাউন্ডেশন নিজ উদ্যোগে তাদের তথ্য-প্রযুক্তি শিক্ষা প্রদান করবে। ইতিমধ্যে আমি আমার উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসাগুলোর তালিকা করে আমাদের কার্যক্রম সম্পর্কে আলোচনা করেছি।বিভিন্ন এতিমখানার অবস্থা আরও করুণ। সঠিক গাইডলাইনের অভাবে তারা সঠিকভাবে শিক্ষিত হতে পারছে না। একবার ভাবুন তো মা-বাবা ছাড়া তারা কিরকম কষ্টের মধ্যে দিন কাটায়!

আর. আর. ফাউন্ডেশন এইসব অভাবী, দুঃখী মানুষের পাশে দাড়াবে। শুধু আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণ নয়, তাদের কর্মক্ষম করতে সকল ধরনের সহযোগিতা করবে আর. আর. ফাউন্ডেশন।download

আমরাও আশা করি এই রকম আর. আর. ফাউন্ডেশনের হাত ধরে আমাদের দেশের অনেক মেধাবী তরুন সাফল্য বয়ে আনবে নিজের জন্য এবং নিজের দেশের জন্য।


আরো বিস্তারিত জানার জন্য যেতে পারেন এখানে….


বিদায়,ভাল থাকুন;শুভ রাত্রি


4 মন্তব্য
  1. milon khan বলেছেন

    ধন্যবাদ ভাই শেয়ার করার জন্য

  2. দিপু রায়হান বলেছেন

    @নাঈম প্রধান: ধন্যবাদ আপ্নাকেও পোস্ট টি দেখার জন্য।

  3. নাঈম প্রধান বলেছেন

    শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

  4. লিটন হাফিজুর বলেছেন

    thanks for share.

উত্তর দিন