থ্রিজি কি, থ্রিজিতে মোবাইলে কি কি সুবিধা পাওয়া যাবে ?

4 999

থ্রিজিতে অনেক সুবিধাতৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল ফোন সেবা বা ‘থ্রিজি’ বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের প্রায় দোরগোড়ায়। বেশ কয়েক দফা পেছালেও থ্রিজির নিলাম যে ৮ সেপ্টেম্বর হচ্ছে, এটা প্রায় নিশ্চিত। থ্রিজি চালু হলে ব্যবহারকারীদের কতটা লাভ হবে, তা জানাচ্ছেন রাহাত রহমান, কালের কণ্ঠ

রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম অপারেটর ‘টেলিটক’ দেশে থ্রিজি সেবা চালু করলেও তা রয়েছে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে। পুরোদমে এ সেবা চালু করতে তরঙ্গ নিলামের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা। ইতিমধ্যে গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি, এয়ারটেল ও সিটিসেল দেশের এই পাঁচ বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটরকেই থ্রিজি তরঙ্গের নিলামে অংশগ্রহণের যোগ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এদের যেকোনো তিনটি থ্রিজি লাইসেন্স পেতে যাচ্ছে। এ ছাড়া নতুন কোনো বিদেশি অপারেটরের জন্যও বরাদ্দ ছিল আরো একটি লাইসেন্স। তবে কেউ আবেদন না করায় সেটিও এই পাঁচ অপারেটরের কেউ পেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে বিটিআরসি।

থ্রিজি কী?
তারবিহীন মোবাইল নেটওয়ার্কের থার্ড জেনারেশন বা তৃতীয় প্রজন্মের প্রযুক্তিকে সংক্ষেপে ‘থ্রিজি’ বলা হয়। টুজির চেয়ে থ্রিজিতে উচ্চগতির ও উন্নত মোবাইল সেবা পাওয়া সম্ভব। বাংলাদেশে থ্রিজির জন্য নির্ধারিত তরঙ্গ ২ হাজার ১০০ মেগাহার্জ হলেও টুজির জন্য নির্ধারিত তরঙ্গ ৯০০ এবং ১ হাজার ৮০০ মেগাহার্জ এতে কাজ করবে। এ প্রযুক্তিতে ‘সিডিএমএ২০০০’, ‘টিডি-এসসিডিএমএ (ইউএমটিএস-টিডিডি)’ এবং ‘ডাবি্লউ-সিডিএমএ (ইউএমটিএস)’_মূলত এ তিনটি ভাগ রয়েছে। ১৯৯১ সালে ফিনল্যান্ডে টুজি প্রযুক্তি শুরুর প্রায় ১০ বছর পর ২০০১ সালে জাপানে বাণিজ্যিকভাবে থ্রিজি সেবা চালু হয়। উচ্চগতির তারহীন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট, ভিডিও কল, মোবাইল টিভির মতো অনেক সুবিধা এ প্রযুক্তিকে আকর্ষণীয় করে তোলে। টুজি যেখানে ভয়েস ট্রান্সমিশনের দিকে জোর দিয়েছিল সেখানে থ্রিজি নেটওয়ার্ক ভয়েসের পাশাপাশি ডেটা আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। অর্থাৎ থ্রিজি নেটওয়ার্ক একসঙ্গে একাধিক উন্নতমানের সেবা দিতে পারে। বাংলাদেশে এ সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলে তথ্য ও যোগাযোগ অনেক সহজ হবে।

কম খরচে বেশি সুবিধা
থ্রিজির সেবা পেতে টুজির চেয়ে খুব বেশি খরচ করতে হবে না। অপারেটররা প্রায় একই খরচে থ্রিজির মাধ্যমে আগের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি সেবা দিতে পারবে। প্রকৃতপক্ষে এতে সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বা গ্রাহকদেরই লাভ হবে।

সাধারণ ব্যবহারে
কথা বলা বা এসএমএস পাঠানোর মতো সাধারণ সেবার ক্ষেত্রে টুজির চেয়ে থ্রিজি খুব ভালো, খালি চোখে এমনটা মনে না হলেও এখানে যোগ হচ্ছে নতুন মাত্রা। যেমন_ টুজিতে এসএমএস কিংবা এমএমএস আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা থাকে। কিন্তু থ্রিজিতে এ ধরনের তথ্য কিছু থাকবে না। আদান-প্রদানের গতিও বেড়ে যাবে অনেক।

দ্রুতগতির ইন্টারনেট
টুজি ও থ্রিজির মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য বোঝা যাবে ডেটা ডাউনলোড ও ওয়েব ব্রাউজিংয়ে। বিশেষ করে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা এই নেটওয়ার্কে তুলনামূলকভাবে অনেক উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা পাবেন। কেননা যেখানে টুজি নেটওয়ার্কের গতি ৫০ হাজার বিটস পার সেকেন্ডেরও কম, সেখানে থ্রিজি নেটওয়ার্কে ৪০ লাখ বিটস পার সেকেন্ডের বেশি গতি পাওয়া যাবে। এতে স্মার্টফোনের পাশাপাশি সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরাও উন্নত ইন্টারনেট সেবা পাবেন।

ভিডিও কলিং
থ্রিজির সঙ্গে সাধারণ মানুষের প্রথম পরিচয়ই হয়েছিল মূলত ভিডিও কলিংয়ের মাধ্যমে। এতে কথা বলার সময় যার সঙ্গে কথা বলছেন তার ভিডিও দেখা যাবে। টুজি অপেক্ষা থ্রিজিতে গতিশীল ডেটা আদান-প্রদানের সুবিধা থাকায় এ সুবিধা পাওয়া যায়। টেলিটকের পরীক্ষামূলক থ্রিজি সেবায় ভিডিও কলিং সুবিধা থাকলেও খরচ অনেক বেশি হওয়ায় এর বহুল ব্যবহার হয়নি। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলে বাজার দখলের প্রতিযোগিতায় এ খরচ অনেক কমে আসবে। এ সেবা পেতে অবশ্যই ফ্রন্ট ক্যামেরাসহ স্মার্টফোন ব্যবহার করতে হবে। আশার কথা, এ ধরনের স্মার্টফোনের দাম এখন সাধারণ ক্রেতাদের হাতের নাগালেই।

মোবাইল টিভি
থ্রিজি প্রযুক্তির আরেক উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য, মোবাইল ডিভাইসে সরাসরি টেলিভিশন দেখার সুবিধা। থ্রিজি প্রযুক্তিতে দ্রুতগতিতে ডেটা আদান-প্রদানের সুবিধা থাকায় গ্রাহকরা নির্বিঘ্নে এ সুবিধা পাবেন। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকায় টেলিটক থ্রিজিতে আপাতত কয়েকটি টিভি চ্যানেল উপভোগ করা যাচ্ছে। দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে থ্রিজি কার্যক্রম শুরু হলে বাজার ধরতে অন্য অপারেটররাও এ সেবা চালু করবে। তখন মোবাইলে অধিকাংশ চ্যানেলই দেখা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।

একই সঙ্গে অনেক কাজ
টুজি প্রযুক্তিতে একসঙ্গে একাধিক কাজ করা না গেলেও থ্রিজিতে এ প্রতিবন্ধকতা থাকছে না। যেমন_টুজিতে ব্রাউজ কিংবা কিছু ডাউনলোড করার সময় কল এলে ইন্টারনেট ডেটা আদান-প্রদানে বিঘ্ন ঘটে। আবার ফোনে কথা বলা অবস্থায় যদি ইন্টারনেটে কিছু দেখা দরকার হয়, সে ক্ষেত্রে স্মার্টফোন থাকা সত্ত্বেও টুজি নেটওয়ার্কে তা সম্ভব নয়। কিন্তু থ্রিজিতে কথা বলার পাশাপাশি ইন্টারনেট ব্যবহার সম্ভব। ফলে দুটি মাধ্যমই নিরবচ্ছিন্নভাবে উপভোগ করা যাবে।

নিরাপত্তা
তথ্য আদান-প্রদানের নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে সবাই বেশ চিন্তিত। সম্প্রতি মাইক্রোসফট, গুগল, ফেইসবুকের মতো প্রতিষ্ঠানও এ ধরনের সমস্যায় পড়েছে। এ ক্ষেত্রে থ্রিজি প্রযুক্তি অনেক এগিয়ে। কারণ এ নেটওয়ার্কে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার পরই কেবল দুটি ডিভাইসের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়। টুজি যেখানে নিরাপত্তার জন্য ‘এ৫ সাইফারিং অ্যালগরিদম’ ব্যবহার করে সেখানে থ্রিজিতে আরো নিরাপদ ও শক্তিশালী এনক্রিপশন পদ্ধতি ‘কাসুমি এনক্রিপশন’ ব্যবহার হয়। ফলে থ্রিজিতে তথ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকি তুলনামূলক কমে আসবে।

সুত্রঃ কালের কণ্ঠ
4 মন্তব্য
  1. আকাশ বলেছেন

    পোস্টটি উপহার দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। 🙂

  2. >>>" হামিদ খান "<<< বলেছেন

    পোস্টটি উপহার দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ

  3. নাঈম প্রধান বলেছেন

    দারুন লেগেছে। শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।

  4. Md.Al-amin বলেছেন

    আমাদের জানানোর জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
    অনেক কিচুই জানলাম ও শিখলাম ।কিন্তু একটা জিনিস খারাপ লাগলো সেটা গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি, এয়ারটেল ও সিটিসেল এদের লাইসেন্স দিচ্ছে কেন টেলিটকে থাকলে কি এমন ক্ষতি হত? আমরা বাঙালি বাহিরের ওপর নির্ভরশীল গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি, এয়ারটেল ওরা সব বিদেশী কোম্পানি বাংলাদেশকে কিছু দিবে আর সব নিয়ে যাবে। আমরা ত পারি টেলিটক ব্যাবহার করতে না করে অন্ন কম্পানির সিম চালাই দেশের টাকা কেন বাহিরে দিব ? আমরা সবাই টেলিটক ব্যাবহার করি দেশের টাকা দেশে রাখি। তাহলে বাংলাদেশ কিছুটা হলেও উন্নত হবে বলে আমি আশা করি সরকারের কাছে আমার দাবী টেলিটক এর নেটওয়ার্কটা যেন R এক্তু ভাল করে তাহলে ইনশাহ আল্লাহ্‌ সবাই টেলিটক ব্যাবহার করবে।
    R হ্যাঁ সুন্দর একটা পোস্ট শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ

উত্তর দিন