জেনে নিন এলসিডি এবং এলইডি মনিটরের মধ্যে পার্থক্য

9 94

বিছমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

পরম কুরুনাময় ও অসীম দালু আল্লাহর নামে শুরু তরছি । আমাদের এখন বর্তমান যুগে crt  মনিটরের সংখ্যা খুব কম দেখা ায় । এখ বর্তমানে lcd  ও  led  মনিটরের পভাব বেশি দেখা যায় । আজ আমি আপনাদের কাছে এলসিডি এবং এলইডি মনিটরের মধ্যে পার্থক্য বর্ণনা করব । আপনারা আনেক কিছু জানতে পারবেন এইখান থেকে।

9907_396804020434614_1681394290_n

এটি মূলত আউটপুট ডিভাইস অর্থাৎ মনিটরের কাজ হচ্ছে অন্য কোন উৎস্য হতে প্রাপ্ত প্রক্রিয়াকৃত তথ্য দৃষ্টিলব্ধ করে উপস্থাপন করা। আবার অনেক মনিটর আছে যেগুলো আউটপুট ডিভাইসের পাশাপাশি ইনপুট ডিভাইস হিসেবেও কাজ করে। যেমন টাচ স্ক্রিন মনিটর। যুগের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অনেক কিছুর পরিবর্তন ও পরিবর্ধন হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে বাজারে তিন ধরনের মনিটর পাওয়া যায়। ক্যাথোড রে টিউব (সিআরটি), লিকুইড ক্রিস্টাল ডিসপ্লে (এলসিডি) এবং অন্যটি হচ্ছে লাইট এমিটিং ডায়োড (এলইডি)। সিআরটি মনিটর এনালগ মনিটর হিসেবে পরিচিত হলেও এলসিডি ও এলইডি মনিটর ডিজিটাল মনিটর হিসেবেই পরিচিত। মূলত সিআরটি, এলসিডি ও এলইডি মনিটরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে প্রযুক্তিগত।

এলসিডির তুলনায় এলইডি অনেক উন্নত টেকনোলজী। বাজারে এলসিডি এবং এলইডি দুই ধরনের মনিটরই পাওয়া যায়। কিন্তু বাংলাদেশের বাজারে এলইডি মনিটর বলে যেগুলো ব্যবহার করা হয় সেগুলো প্রকৃত এলইডি টেকনোলজীর নয়। এগুলো এলইডি ব্যাকলাইট সম্বলিত এলসিডি মনিটর। প্রকৃত এলইডি টেকনোলজীর না হলেও এলসিডির তুলনায় এতে বেশ কিছু সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়। আসুন দেখে নেই পার্থক্যগুলো

টেকনোলজীঃ
————-
এলসিডি এবং এলইডি মনিটর ইমেজ প্রদর্শনের জন্য একই টেকনোলজী ব্যবহার করে, মূল পার্থক্য ব্যাকলাইট এর উৎস। এলসিডি মনিটরে ব্যাকলাইটিং এর ব্যবহার করা হয় CCFL (Cold Cathode Fluorescent Lamps) আর এলইডি মনিটরে ব্যবহার করা হয় Led (Light Emitting Diodes)

কনট্রাস্ট রেশিওঃ
——————
এলইডির কনট্রাস্ট রেশিও এলসিডির তুলনায় বেশী। ফলে এলসিডির তুলনায় এলইডিতে আরও নিখুত ছবি দেখা যায়।

ভিউয়িং অ্যাঙ্গেলঃ
——————
এলসিডির তুলনায় এলইডির ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল বেশী থাকে।
পাওয়ারঃ এলসিডির তুলনায় এলইডি প্রায় ৩০%-৪০% পর্যন্ত কম পাওয়ার খরচ করে।

ডট পিচ :
——————
ডট পিচ হচ্ছে দুটি পিক্সেলের মধ্যবর্তী দূরত্বের পরিমাণ। ডট পিচের পরিমাণ যত কম হবে মনিটরে ইমেজ প্রদর্শন তত সূক্ষ্ম ও নিখুঁত হবে। গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজের সাথে যারা জড়িত তাদের জন্য ০.২২ মি.মি. ডট পিচের মনিটর ও অন্যদের জন্য তা ০.২৬ থেকে ০.৩০ মিলিমিটার হলে ভালো হয়।

ইনপুট ইন্টারফেস :
——————
প্রথমদিকের এলসিডিগুলোতে ভিডিও সিগন্যাল ইনপুটের জন্য VGA (Video Graphics Accelaretor) পোর্ট ব্যবহার করা হতো, যা ডিজিটাল সিগন্যালকে এনালগে রূপান্তর করে তা আবার ডিজিটালে পরিণত করার পর ডিসপ্লেতে প্রদান করতো। কিন্তু নতুন সব এলসিডিতে ইনপুট ইন্টারফেস হিসেবে DVI (Digital Visual Interface) দেয়া থাকে, যা ডিজিটাল সিগন্যালকে কোনো রূপান্তর ছাড়াই এলসিডিতে প্রদর্শন করতে সক্ষম। HDCP (High-bandwidth Digital Content Protection) ইন্টারফেস আরো ভালো গতি ও উন্নতমানসমৃদ্ধ ভিডিও সিগন্যাল সরবরাহ করতে পারে। সবচেয়ে ভালো ইন্টারফেসটি হচ্ছে HDMI (High-Definaion Multimedia Interface) যা উচ্চক্ষমতার ভিডিও ও অডিও সিগন্যাল একসাথে সরবরাহ করতে সক্ষম। তাই মনিটরে ডিভিআই পোর্টের পাশাপাশি এইচডিএমআই পোর্ট থাকাটা একটি বিশাল সুবিধা।

রেসপন্স টাইম :
——————
মনিটরে একটি ইমেজ প্রদর্শনের পর আরেকটি দেখানোর মাঝের সময়কে রেসপন্স টাইম বলা হয়। রেসপন্স টাইম বেশি হলে নতুন জেনারেট হওয়া ছবিতে আগের ছবির একটা আবছা ছায়া (ঘোস্টিং) বা ঘোলাটে ভাব (ব্লারিং) দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে গেম খেলার সময় গেমাররা এ ধরনের সমস্যায় বেশি পড়ে থাকেন। প্রথমদিকের এলসিডিগুলোর চেয়ে সিআরটি মনিটরগুলোর রেসপন্স টাইম বেশি ছিল। কিন্তু এখন এলসিডিতে সেই সমস্যা কাটিয়ে তোলা হয়েছে। এলসিডির ক্ষেত্রে রেসপন্স টাইম ১ থেকে ১৬ মিলিসেকেন্ড পর্যন্ত হতে পারে। গেমারদের জন্য ১-২ মিলিসেকেন্ডের রেসপন্স টাইমের মনিটর হলে ভালো হয়। রেসপন্স টাইম যত কম হয় তত ভালো।

রিফ্রেশ রেট :
——————
প্রতি সেকেন্ডে ডিসপ্লেটিকে কতবার আলোকিত করা হয় তার পরিমাণ হচ্ছে রিফ্রেশ রেট। যেমন, একটি প্রজেক্টর সেকেন্ডে ২৪টি ফ্রেম দেখাতে পারে। প্রতিটি ফ্রেম প্রদর্শনের আগে তা দুই থেকে তিনবার আলোকিত করা হয় ল্যাম্প ও পর্দার মধ্যে অবস্থিত শাটারের মাধ্যমে। দুইবার আলোকিত করা হলে ৪৮ এবং তিনবার হলে ৭২ হার্টজ রিফ্রেশ রেট হবে। মনিটরের রিফ্রেশ রেট বেশি হলে তা চোখের ওপরে চাপ ফেলে কম, তাই বেশিক্ষণ কাজ করা যায়। তবে সিস্টেম সাপোর্টের চেয়ে বেশি রিফ্রেশ রেট প্রয়োগ করা হলে মনিটরের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে।

কন্ট্রাস্ট রেশিও
——————
কন্ট্রাস্ট রেশিও হচ্ছে সবচেয়ে উজ্জ্বল রঙ (সাদা) ও সবচেয়ে গাঢ় রঙের (কালো) লুমিনেন্সের অনুপাত। সাদা ও কালোর মাঝে সামঞ্জস্য করে অনেক বেশি শেড দিতে সক্ষম বেশি কন্ট্রাস্ট রেশিওসমৃদ্ধ মনিটরগুলো।

পাওয়ার কনজাম্পশন :
——————
সিআরটির সাথে তুলনা করলে এলসিডিগুলো এক-তৃতীয়াংশ কম বিদ্যুৎ খরচ করে। বেশ কিছু নতুন টেকনোলজি যোগ করায় মনিটরগুলো আরো বেশি বিদ্যুৎসাশ্রয়ী হয়ে উঠছে।

ব্যাকলিট লাইটিং :
——————
আগেই বলা হয়েছে ফ্লুরোসেন্ট ল্যাম্পের পরিবর্তে এলইডি (LED) ব্যাকলিট ব্যবহার করা হলে তাকে LED Backlit LCD মনিটর বলে। এখন দেখা যাক LED Backlit থাকার সুবিধাগুলো কি কি?

০১. এলইডি মনিটরের কন্ট্রাস্ট ও ব্লাক লেভেল প্রোডাকশন ক্ষমতা বেশি।
০২. লাইট ইমিটিং ডায়োড ফ্লুরোসেন্ট ল্যাম্পের চেয়ে বেশি টেকসই।
০৩. এলইডি এলসিডি মনিটর সাধারণ এলসিডির চেয়ে হালকা।
০৪. এলইডি ৪০% কম বিদ্যুৎ খরচ করে ফ্লুরোসেন্ট ল্যাম্পের তুলনায়।
০৫. এলইডি কালার প্রোডাকশন করার ক্ষমতা বেশ ভালো।
০৬. এলইডি টেকনোলজিতে মার্কারি ব্যবহার করা হয় না বলে তা পরিবেশের কোনো ক্ষতি করে না।
এত সুবিধা থাকার কারণে সাধারণ এলসিডির তুলনায় এলইডি মনিটরের দাম কিছুটা বেশি হওয়াই স্বাভাবিক।

নতুন ল্যাপটপগুলোর ডিসপ্লেতে LED Backlit-এর প্রয়োগ বেশ লক্ষণীয়।

প্যানেল : এলসিডি মনিটরে বেশ কয়েক ধরনের প্যানেলের ব্যবহার দেখা যায়, এগুলোর মধ্য জনপ্রিয় কয়েকটি হচ্ছে :

০১. TN (Twisted Nematic);
০২. VA (Vertical Alignment);
০৩. IPS (In Plane Switching)।

টিএন প্যানেলের মনিটরগুলো দামে সস্তা এবং এগুলোর রেসপন্স টাইম ভালো। কিন্তু এ প্যানেল কালার রিপ্রোডাকশন, কন্ট্রাস্ট রেশিও এবং ভিউয়িং অ্যাঙ্গেলের দিক থেকে বেশ দুর্বল। ভিএ প্যানেলের মনিটরগুলোকে মাঝারি পর্যায়ে ফেলা যায়, কারণ তা টিএন প্যানেলের চেয়ে বেশি এবং আইপিএস প্যানেলের চেয়ে কম সুবিধা দেয়। ভিএ প্যানেলের সবচেয়ে বড় সুবিধা ভালো মানের কন্ট্রাস্ট রেশিও এবং সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে খারাপ রেসপন্স টাইম। মাঝারি দামের এ প্যানেলযুক্ত মনিটরগুলোতে ইনপুট ল্যাগ ও কালার শিফটিং সমস্যাও দেখা দেয়। ভিএ প্যানেলের কিছু রকমভেদ রয়েছে। যেমন- PVA, S-PVA, MVA ইত্যাদি। আইপিএস প্যানেল হচ্ছে সব প্যানেলের মাঝে সেরা। সূক্ষ্ম ও নিখুঁত ছবি, প্রাণবন্ত ভিডিও, সর্বোচ্চ ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল এবং সেরা মান দেবার জন্য এ প্যানেলযুক্ত মনিটরের দাম কিছুটা বেশি। এছাড়াও S-IPS, A-IPS, H-IPS, E-IPS, P-IPS ইত্যাদি আরো বেশ কিছু ধরনের আইপিএস প্যানেলের মনিটর পাওয়া যায়। এছাড়া AFFS (Advanced Fringe Field Switching) ও ASV (Advanced Super View) প্যানেলের দেখাও মিলতে পারে। তবে আমাদের দেশে টিএন প্যানেলের ব্যবহার দেখা যায় বেশি। আইপিএস প্যানেলের মনিটরের দেখা তেমন একটা মেলে না আমাদের বাজারে।

এছাড়াও এলইডি মনিটর ব্যবহার করলে চোখের উপর কম প্রেসার পড়ে। এগুলো ছাড়া এলসিডি আর এলইডি মনিটরের মাঝে তেমন কোন পার্থক্য নেই। আর বাজারে স্কয়ার এলইডি মনিটর পাওয়া যায় না। শুধুমাত্র ওয়াইড মনিটর পাওয়া যায়।

আপনারা নিশ্চই অনেক কিছু জানতে পেরেছেন এইখান থেকে।সবাই ভালো থাকবেন।আল্লাহ হাফেজ ।

 

 

 

 

9 মন্তব্য
  1. মাহমুদ কলি বলেছেন

    কিছু কিছু বিষয় আগে থেকেই জানতাম। নতুন মনিটর কিনতে আগ্রহিদের এই টিউনটা কাজে দেবে। সুন্দর টিউনটির জন্য আপনাকে অসংখ ধন্যবাদ।

  2. মাহমুদ কলি বলেছেন

    not to bad

  3. নাঈম প্রধান বলেছেন

    ভাল একটি পোস্ট 🙄 শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।

  4. দিপু রায়হান বলেছেন

    ধন্যবাদ আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।…

    1. মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেছেন

      @দিপু রায়হান: দিপু ভাই আপনাকেও ধন্যবাদ

  5. আকাশ বলেছেন

    চমৎকার! সুন্দর পোস্ট উপহার দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ ৷

    1. মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেছেন

      @আকাশ: আকাশ ভাই আপনাকেও ধন্যবাদ

  6. লিটন হাফিজুর বলেছেন

    thanks for share

  7. মোঃ আসলাম পারভেজ বলেছেন

    dhonnobad vai share korar jonno .

উত্তর দিন