জেনে নিন কালের বিবর্তনে মহাশূন্য জয়ের ধারা পরস্পরা

0 109

বিছমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।এই পৃথিবীতে,বিশ্বে অনেকজন মহাশূন্য জয় করে এসেছে। কিন্তু আমরা কি জানি কোন কোন সালে কারা মহাশূন্য জয় করে এসেছে ।আজ আমি আপনাদের কাছে কালের বিবর্তনে মহাশূন্য জয়ের ধারাগুলো বর্ণনা করব । আপনারা এইখান থেকে অনেক কিছু জানতে পারবেন ।

mohasunno

মহাকাশ বিজ্ঞানের রহস্য ভেঙ্গে যেসব কিংবদন্তীর নাম ঐতিহাসিকভাবে বিশ্বময় স্বীকৃতি ও বহুলালোচিত রুশ নভোচারী তাদের সবার শীর্ষে । তাঁর পুরা নাম গ্যাগারিন । 9 এপ্রিল 2011 থেকে অর্ধশতাব্দিকাল আগে তিনিই মহাকাশ ভ্রমণে সফল মানুষ হিসেবে বিশ্ব ইতিহাসে প্রথম নাম লেখান । মহাকাশ ভ্রমণ এবং মহাশূণ্যে বিরাজমান রহস্যপুঞ্জি উৎঘাটনের আজ পর্যন্ত যতবার পৃথিবীর সাহসী মানুষেরা আমাদের জ্ঞান-গবেষণার দ্বারকে উন্মেচিত করেছেন সেসব ঐতিহাসিক তারিখ নিন্মে উল্লেখিত হলো ।

মহাশূন্য জয়ের ধারা পরস্পরায়

1957 সালের অক্টোবর: তৎকালীন সোভিয়েত রাশিয়া প্রথমবারের মত স্যাটেলাইট নভোযান স্পুটনেট-1 মহাশূন্যে পাঠায় ।

3 নভেম্বর: লাইকা নামক রাশিয়ার কুকুর প্রথমবারের মত মহাশূন্যে বিচরণ শেষে জীবিতঅবস্থায় পৃথিবীতে ফিরে আসে । তবে এটি পরবর্তীতে স্পুটনিট-2 আরোহনের সময় মারা যায় ।

অক্টোবর 1958: আমেরিকার মহাকাশ সংস্থা নাসা প্রতিষ্ঠা করা হয় ।

এপ্রিল 1961: মহাকাশযান ভোস্তোক -1 এর সাহায্যে গ্যাগারিন এককভাবে দীর্ঘ 108 মিনিটকাল কক্ষপথ পরিভ্রমণ শেষে প্রথমবারের ইতিহাস সৃষ্টি করেন ।

মে: মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন কেনেডি এ্যাপোলো কর্মসূচী উদ্বোধন করেন, যা ঐ দশকের শেষে মানুষের চন্দ্রপৃষ্টে অবতরণের পূর্বাভাস দেয় ।আমেরিকার অ্যালান শেফার্ড মার্কারি খেয়াযানে করে 15 মিনিট মহাশূন্যে ভ্রমণ করেন ।

ফেব্রুয়ারি 1962: আমেরিকার জন গ্লেন পৃথিবীর তিনটি কক্ষপথে পরিভ্রমণ সম্পন্ন করেন ।

আগষ্ট: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুক্রগ্রহে অভিযান শুরু করে ।

নভেম্বর: প্রথমবারের মত রাশিয়া মঙ্গল অভিমুখে অভিযান চালায় ।

জুন 1963: প্রথম সোভিয়েত মহিলা নভোচারী মিস ভ্যালোন্সিনা তেরস্কোভা মহাশূন্য অভিযান শুরু করেন ।

মার্চ 1965: নভোচারী আলেক্রি লিউনভ তার 26 ঘন্টার মহাকাশ ভ্রমনকালে প্রথম হেঁটে বেড়ান।

জানুয়ারি 1967: মহাশূন্য উৎক্ষেপন কেন্দ্র বিস্ফোরণে এ্যপোলো 1 এবং তিন অভিযাত্রী নিহত হন।

এপ্রিল: মহাকাশযান সুয়ুজ-1 থেকে প্যারাসুটে অবতরণকালে দুর্ঘটনায় নিহত হন নভোচারী ভ্লাদিমির কোমারফ।

জুলাই 1969: মার্কিন নভোচারী নীল আর্মস্ট্রং,এডউইন ‘বুজ’ অলড্রিন (এ্যাপোলা-11)প্রথম চন্দ্রপৃষ্টে পা রাখেন ।

এপ্রিল 1971: প্রথমবারের মত রাশিয়া কক্ষপথে মহাশূন্য স্টেশন স্যাল্যুট -1 উৎক্ষেপন করেন।

জুন: নভোযান সুয়ুজ-11 এর মডিউল থেকে অবতরণের সময় তিন নভোচারী মারা যান।

মে 1975: ইউরোপীয় মহাশূন্য সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয় ।

জুলাই: পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা অবস্থায় একটি মার্কিন এ্যাপোলো যানের সাথে একটি সোভিয়েত সুরুজ মহাযান জুড়ে দেওয়া হয় ।

ডিসেম্বর 1979: এরিয়েন রকেট উৎক্ষেপনের মধ্যে দিয়ে ইউরোপ মহাকাশ অভিযানে নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয় ।

এপ্রিল 1981: মার্কিন কলম্বিয়া প্রথম মানুষ্যবাহী মহাশূন্যযান হিসেবে অভিযাত্রা শুরু করে । পরবর্তীতে একই ধরণের যান চ্যালেঞ্জার ডিসকোভারী, আটলান্টিস এবং এলডেভারের উদ্ভোধন করা হয় ।

নভেম্বর 1998: আন্তজার্তিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) নির্মাণ কাজ শুরু হয় ।পরবর্তীতে 2000 সালে এটি কার্যপযোগী হয় ।

এপ্রিল 2001: মার্কিন ধনকুবের ডেনিস টিটো বিশ্বের প্রথম মহাকাশ পর্যটকের মর্যাদায় অভিষিক্ত হন।

ফেব্রুয়ারি 2003: মহাশূন্য খেয়াযান কলম্বিয়া টেক্রাসের সাথে সমন্বয় হারিয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসতে ব্যার্থ হয়ে 7 অভিযাত্রীর সবাই নিহত হন।

সেপ্টেম্বর 2004: ব্রিটেনের বিখ্যাত বিমান পরিবহন বিশেষজ্ঞ রিচার্জ ব্রানসন বাণিজ্যিকভাবে প্রথম ঘোষনা দেন।  ্রমণের প্রথম ঘোষনা দেন ।প্র

অক্টোবর: চীন প্রথম চাঁদ পরিভ্রমণকারী স্যাটেলাইট চ্যাং-1 উৎক্ষেপন করেন ।

সেপ্টেম্বর 2008:  প্রথম চীনা নভোচারী হিসেবে ঝাই ঝি গ্যাং নভোযান শেনঝু-7 এ আরোহন করে মহাশূন্য হাটাহাটি করেন।

অক্টোবর: ভারতের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলের জাতীয় মহাশূন্য কেন্দ্রে প্রথম ভারতীয় চন্দ্রাভিযানের মহাকাশযান বিস্ফোরিত হয় ।

ফেব্রুয়ারি 2009: স্থানিয়ভাবে তৈরি কক্ষপথের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন করে ইরান ।1 বছর পর তারা মহাশূন্যে জীব প্রেরণ করেন।

ফেব্রুয়ারি 2010:  মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আমেরিকার নাগরিকদের চাঁদ এবং মঙ্গলগ্রহ অভিযানের ভঙ্গুর পরিকল্পনা করেন।

ফেব্রুয়ারি 2011:  একেবারে অবসরের পূর্বে শেষবারের মতো খেয়াযান ডিসকোভারি তার মহাশূন্য ভ্রমণ সম্পন্ন করে পৃথিবীর মাটি স্পর্শ করে । এর আগে পূর্বসুরি হিসেবে স্পেস শাটল এন্ডেভর এবং আটলান্টিস তাদের স্ব স্ব মহাকাশ সফর শেষ করে অবসর গ্রহণ করেছেন । বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব কোন নভোযান অবশিষ্ট রইল না । এখন তাদেরকে সম্পূর্ণভাবে রাশিয়ান সুয়ুজ খেয়াজানের ওপরই নির্ভর করতে হবে মহাশূন্য ভ্রমণের জন্য ।

ধন্যবাদান্তে: মাসিক কারেন্ট নিউজ ।

বি:দ্র: আমি এই পোস্টটি সকালে করেছিলাম । কিন্তু ভূলে ব্লাঙ্ক পড়ে গিয়েছিল আবার আমি পোস্টটি আপডেট করে দিলাম।

কেমন লাগল আমার লেখাটা । নিশ্চই অনেক কিছু জানতে পেরেছেন এইটা থেকে ।সবাই ভালো থাকবেন।আল্লাহ হাফেজ ।     

উত্তর দিন