উইন্ডোজ সেভেনের জানা-অজানা কিছু কথা

12 75

বিসমিললাহির রাহমানির রাহিম
পিসি হেলপলাইন বিডির সবাইকে সালাম-আসসালামু আলাইকুম।আশা করি সবাই ভালো আছেন।আমি আপনাদের দোয়ায় এবং খোদার রহমতে খুব ভালো আছি।আমার আজকের পোসটটি নতুন ভাই-বোনদের জন্য।আর কথা না বাড়িয়ে লেখা শুরু করছি।

windows-7_422_48728

একটি কম্পিউটার চালাতে প্রয়োজন হয় একটি উন্নত অপারেটিং সিস্টেম। অপারেটিং সিস্টেম এর ওপর নিভর করে এর উন্নত পারফরমেন্স । তবে অনেক সময় উন্নত অপারেটিং সিস্টেম থাকার পরও কম্পিউটার চালাতে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য ‘থার্ড পার্টি’ বা অনেক প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে বিভিন্ন ‘সফটওয়্যার টুলস’ । এসব টুলসের ওপর শতভাগ নির্ভর করা যায় না। ক্ষেত্রবিশেষে এগুলো টাকা দিয়েও কিনতে হয়। এ ধরনের সমস্যা দূর করতে মাইক্রোসফটের তৈরি ‘উইন্ডোজ সেভেন’ অপারেটিং সিস্টেমে অনেক ‘ডিফল্ট’ সমাধান দেওয়া রয়েছে। তবে সমাধানগুলো অধিকাংশ কম্পিউটার ব্যবহারকারীরই অজানা রয়ে যায়। নীচে এরূপ কিছু সমস্যার সমাধান দেওয়া হলোঃ

মনিটরের রং সমন্বয়

  • কম্পিউটারের মনিটর কখনো কম, আবার কখনো অতিরিক্ত রং প্রদর্শন করে। উইন্ডোজ সেভেনের একটি টুলস ব্যবহার করে এ সমস্যার সমাধান করা যায়। এ ক্ষেত্রে উইন্ডোজের স্টার্ট বাটনে ক্লিক করে সার্চ eccw.exe টাইপ করে Enter বাটন চাপুন। এরপর নতুন যে উইন্ডো আসবে সেখান থেকে Next বাটন চেপে পরবর্তী নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করুন। এর সাহায্যে Gamma, Brightness, Contrast, Color সমন্বয় করে নেওয়া যাবে।

হার্ডডিস্ক রক্ষণাবেক্ষণ

  • হার্ডডিস্ক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিভিন্ন ধরনের টুল ব্যবহার হয়ে থাকে। যেমন-অ্যাক্রোনিস, প্যারাগন। তবে এগুলো উইন্ডোজে আলাদা করে ইনস্টল করে নিতে হয়। ঝামেলা এড়ানোর জন্য উইন্ডোজ সেভেনে ডিফল্টভাবেই একটি ‘ডিস্ক পার্টিশন ম্যানেজার’ অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে। উইন্ডোজ সেভেনে এর নাম Disk Part। এর সাহায্যে সহজেই প্রাইমারি, এঙ্টেন্ডেড, লজিক্যাল পার্টিশনসহ রেইড সিস্টেমকে বিভিন্নভাবে সাজানো যায়। উইন্ডোজের লোকাল হার্ডডিস্ক থেকে ভার্চুয়াল হার্ডড্রাইভের সুবিধা পাওয়ার জন্য Start থেকে সার্চ hard disk টাইপ করে Create and format hard disk partitions-এ ক্লিক করুন। এখানে Action মেন্যু থেকে Create VHD (Virtual Hard Disk)-এ ক্লিক করে ভার্চুয়াল হার্ডডিস্ক তৈরির পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করে ভার্চুয়াল হার্ডডিস্ক তৈরি করা যাবে। Disk Part-এর ফিচারগুলো ও এর কমান্ড লাইনের ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত মাইক্রোসফটের http://support.microsoft.com/kb/300415 এই লিংক থেকে পাওয়া যাবে।

কম্পিউটারের সমস্যা

  • কম্পিউটারের বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সমাধান দেওয়ার জন্য উইন্ডোজ সেভেনে দুটি শক্তিশালী টুল রয়েছে, যা ব্যবহার করে অপারেটিং সিস্টেমের ক্ষতিগ্রস্ত অ্যাপ্লিকেশন চিহ্নিত করা ও সমাধান বের করা সম্ভব। উইন্ডোজ ৭-এ Error মেসেজের সঙ্গে সমস্যার বর্ণনাসহ একটি পপআপ উইন্ডোতে দেখাবে। এই পপআপে ক্লিক করলে Action Center স্বয়ংক্রিয়ভাবে এর সমস্যা খুঁজে বের করে তা সমাধানের চেষ্টা চালাবে। Action Center সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম না হলে রেকর্ডার অন্যভাবে সাহায্য করার চেষ্টা করবে। এর জন্য আপনাকে স্টার্ট মেন্যুর সার্চ psr টাইপ করে enter চাপলে একটি নতুন উইন্ডো হাজির হবে। এই উইন্ডো থেকে Start বাটনে ক্লিক করে সমস্যাটি আবার বের করার চেষ্টা করুন। সমস্যাটি রেকর্ড হওয়ার পর Stop বাটনে ক্লিক করতে হবে। সাহায্যের প্রশ্ন চিহ্নিত আইকন সেটিংস মেন্যু থেকে বের করতে পারবেন। এখানে ফাইলটির এঙ্টেনশন হচ্ছে MHT কিন্তু তা জিপ ফরম্যাটে সেভ করা থাকবে। ফাইলটি বের করে Send to recipient -এ সাহায্যে সফটওয়্যার প্রোভাইডারের কাছে পাঠিয়ে সমস্যার সমাধান বের করে নেওয়া যাবে।

মাল্টিমিডিয়া (ভিডিও, ইমেজ, মিউজিক)

  • উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে মিডিয়া সেন্টারে অডিও, ভিডিও, ইমেজকে সিডি বা ডিভিডিতে বার্ন বা ISO ফাইল করার জন্য Magix বা Nero টুল ব্যবহার করতে হয়। উইন্ডোজ সেভেনে স্ট্রিম মিডিয়া সেন্টারের সুবিধা পাওয়া যায়। অ্যাডভান্সড মিডিয়া শেয়ারিংয়ের সাহায্যে উইন্ডোজ মিডিয়ার অডিও, ভিডিও কনটেন্টগুলো বিভিন্ন ধরনের বর্ধিত ডিভাইসের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে এবং তা রিমোটের সাহায্যে দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করার সুবিধা দেয়।

নিরাপত্তা

  • ইমেজভিত্তিক ব্যাকআপ টুলের সাহায্যে উইন্ডোজ সেভেন সম্পূর্ণ সিস্টেম হার্ডডিস্কের ক্লোন তৈরি করে রাখতে পারেন। এ সুবিধা পেতে Start -> All programs-> Maintenance-> Backup and Restore-এ ক্লিক করতে হবে। এখানে Create->System Image-এ ক্লিক করে Destination File-এর লোকেশন External Hard disk-এর লোকেশনকে দেখিয়ে দিতে হবে। এরপর Start backup-এ ক্লিক করলে ফাইলগুলো ব্যাকআপ নেওয়া শুরু হবে।

নেটওয়ার্ক

  • নতুন কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের কাছে ‘কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং’ কঠিন মনে হতে পারে। উইন্ডোজ সেভেনের সাহায্যে খুব সহজেই নেটওয়ার্কিং করতে পারবেন এবং পুরনো অপারেটিং সিস্টেমের কম্পিউটার থেকে WLAN-এর সাহায্যে উইন্ডোজ সেভেনের সঙ্গে সহজেই যুক্ত হতে পারেন।

উইন্ডোজ সেভেনের নেটওয়ার্ক সমস্যা সমাধানের জন্য Network and Sharing Center থেকে ট্রাবলশুটারের সাহায্য নিতে পারেন। এই সুবিধা পাওয়ার জন্য নেটওয়ার্কের নোটিফিকেশন আইকনের ওপর মাউসের ডান বাটন ক্লিক করে Troubleshoot Problems-এ ক্লিক করলে নতুন উইন্ডোর মাধ্যমে নেটওয়ার্কের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবে। সাধারণত এখান থেকেই উইন্ডোজ সেভেনের নেটওয়ার্ক-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান হয়ে যায়।
খোদা হাফেজ
blog:-www.http//letionhafijur.blogspot.com সময় থাকলে আমার এই blog এ ঘুরে আসতে পারেন।

12 মন্তব্য
  1. আব্দুল বারী বলেছেন

    nice post thanks for share it

    1. লিটন হাফিজুর বলেছেন

      ওয়েলকাম

  2. দিপু রায়হান বলেছেন

    ধন্যবাদ আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।

    1. লিটন হাফিজুর বলেছেন

      আপনাকেই ধন্যবাদ দিপু ভাই।

  3. sabuj4u বলেছেন

    অসংখ্য ধন্যবাদ এই রকম একটি সুন্দর পোষ্ট শেয়ার করার জন্য ।

    1. লিটন হাফিজুর বলেছেন

      আপনাকেই ধন্যবাদ সবুজ ভাই।

  4. Abachhar বলেছেন

    খুব ভালো লাগলো………..

    1. লিটন হাফিজুর বলেছেন

      ধন্যবাদ আবসার ভাই মনতব্য করার জন্য।

  5. নাঈম প্রধান বলেছেন

    🙄 লিটন ভাই নতুন লেখকের copy/past মানায় না ।

    1. লিটন হাফিজুর বলেছেন

      ধন্যবাদ নাঈম ভাই মনতব্য করার জন্য।আপনার উপদেশ আমার মনে থাকবে।ভালো থাকবেন।
      আসসালামু আলাইকুম

  6. আকাশ বলেছেন

    শেয়ার করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

    1. লিটন হাফিজুর বলেছেন

      ধন্যবাদ আকাশ ভাই মনতব্য করার জন্য।

উত্তর দিন