মা-বোনদের উদ্দেশ্যে বলছি- টয়লেট, শপিং সেন্টার, পার্লার প্রভৃতি স্থানের হিডেন ক্যাম (গোপন ভিডিও ক্যামেরা) থেকে নিজেকে রক্ষা করুন!!!!

10 166

 

بِسمِ اللَّهِ الرَّحمٰنِ الرَّحيم
আসসালামু আলাইকুম, মহান আল্লাহ-তায়ালার রহমতে নিশ্চই সবাই ভালোই আছেন।

“বিজ্ঞানের আবিষ্কার মানুষের জন্য আর্শিবাদ” একথা অনস্বীকার্য। কিন্তু এক শ্রেণীর চরিত্রহীন লোক এই আর্শিদবাদ মূলক বিজ্ঞানকে ব্যবহার করে আসছে তাদের কুকীর্তি হাসিলের জন্য। আর এর শিকার হচ্ছেন সমাজের সর্বস্তরের মানুষ। তবে ইদানীং কয়েক বছর ধরে মারাত্বকভাবে আমাদের মা-বোনদেরকেও বিজ্ঞানের বিভিন্ন আবিষ্কার করা যন্ত্রাদি দিয়ে বিব্রত করা হচ্ছে। কথাটা আরো স্পষ্ট করে বলি, যেমন আজকাল কিছু মহিলারা যেভাবে চলাফেরা করে ততে মনে হয় ৮৫% মুসলমানদের এই দেশে এখন ৫% ও মুসলামান নাই! কি? আমার কথাটি কি আপনার অনেক খারাপ লাগল? যদি খারাপ লেগে থাকে তাহলে একটু কষ্ট করে বাংলা দেশের বা ঢাকারই পূর্ণাঙ্গ,সরকারী, বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় বা শপিং মল অথবা রাস্তা ঘাটের অবস্থা দেখুন একটু খেয়াল করে দেখলেই বা আপনার যদি মোটামুটি একটু ইসলামী পর্দার জ্ঞান থেকে থাকে তাহলেই আপনি স্পষ্টই বুঝতে পারবেন যে মহিলারা কিভাবে চলাফেরা করে থাকে। মুসলিম নিমানুসারে হিজাব তো দূরের কথা তথাকথিত আধুনিক মেয়ের দেখছি ওড়না ছাড়া টাইট জিন্স ও একটি শর্ট গেঞ্জি পরেই রাস্তায় বের হয়। দয়া করে আমার কথায় কেউ রাগ হবেন না। কারণ আমি আমাদের অপসংকৃতির বাস্তব চিত্রগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্ট করছি। তবে আমার টপিক তা নয়। অনক কথা বলে ফেললাম।

fb (40)
চিত্র: মধ্য প্রাচ্যর হিজাব পরিহীতা মহিলা পুলিশ বোনেরা।
আসলে আমার কথা হচ্ছে আমাদের মা-বোন দের এই রকম চলা ফেরা গুলো শুধুমাত্র সমাজের জন্যই নয় তাদের জন্যও বিশাল ক্ষতি কর। যারা প্রচুর পরিমাণে শপিং মলে ঘুরে বেড়ান তারা যানেন কি? আপনি যে ট্রায়াল রুমে কাপড় বদলাচ্ছেন বা কাপড়ের ফিটিং চেক করছেন, তাতে একটি গোপন ক্যামেরা থাকা খুব অস্বাভাবিক কিছু নয়! আজকাল দেখাযাচ্ছে যে, মোবাইলে-মোবাইলে বা নেটে প্রতিনিয়ত মা-বোনদের ইজ্জত বিনামূলে বা নাম মাত্রমূলে বিক্রয় করা হচ্ছে। আর এই ভিডিও গুলোর অধিকাংশই টয়েলট, পার্লার বা ট্রায়াল রূমের গোপন ক্যামেরা দিয়েই সংগ্রহ করা হচ্ছে! তাই আমি মনে করি মা-বোনদের এসব শপিং মলে একটু কম যাওয়া বা সতর্কতা অবলম্বন করা কি উচিত নয়? আপনি যদি মনে করে থাকেন উচিত না তাহলে এই পোষ্টি আর পড়ার দরকার নেই ব্যাকে যান, আর যদি মনে করেন উচিত তাহলে নিচের অংশটুকু পড়েন……………….

 আজকাল চলতে ফিরতে আমাদের নিরাপত্তা বলতে কিছুই নেই আর যতটুকু আছে তা অপ্রতুল।আর তাই বর্তমানে গোপন ক্যামেরা এবং আয়না একটি আতংকের নাম।শপিংমলের টয়লেট থেকে শুরু করে সবখানে এই গোপন ক্যামেরার আতংক। ইন্টারনেটে ঢুকলেই নানান সাইটে দেখা মিলে গোপন ক্যামেরার ভিডিও ও ছবি বা নিউজ।আমাদের মা-বোনদের ইজ্জতের দাম ওদের কাছে হাসির খোরাক।শপিংমলের ড্রেসিং/ট্রায়াল রুমে (যেখানে মেয়েরা কাপড় পাল্টায় বা ফিটিং চেক করে),লেডিস টয়লেটে গোপন ক্যামেরা লাগানো হচ্ছে সবার অজান্তে।কেউ জানেনা এই খবর, কিন্তু সেই ক্যামেরায় ধরা পড়ছে আমাদের অসংখ্য মা-বোন।অল্পকিছু টাকার বিনিময়ে বিক্রি হচ্ছে সেসব নগ্ন ভিডিও বা ছবি।

খুব সহজে নির্নয় করা যায় রুমে গোপন ক্যামেরার অস্তিত্ব আছে কিনা। এরজন্য আপনার লাগবে একটা মোবাইল ফোন(সিম এক্টিভ করা)যেখান থেকে কল করা যায়।
এবার ট্রায়াল রুমে(যেখানে কাপড় পাল্টাবেন) ঢুকে আপনার মোবাইল থেকে কাউকে কল দেয়ার চেষ্টা করুন।যদি কল করা যায় ও নেটওয়ার্ক থাকে- তাহলে গোপন ক্যামেরা নাই।আর যদি কল করা না যায় ও নেটওয়ার্ক হঠাৎ করে ডাউন হয়ে যায়- তাহলে অবধারিতভাবে বুঝবেন সেখানে গোপন ক্যামেরা রয়েছে।
গোপন ক্যামেরার সাথে ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবল থাকে।সিগনাল ট্রান্সফার করার সময় এর ইন্টারফিয়ারেন্স হতে থাকে।যার জন্য মোবাইল নেটওয়ার্ক ঐখানে কাজ করে না।এভাবেই আপনি পারেন গোপন ক্যামেরার নোংরামি থেকে বাঁচতে।
শপিংমলের ড্রেসিং/ট্রায়াল রুমে (যেখানে মেয়েরা কাপড় পাল্টায় বা ফিটিং চ্যাক করে) সেখানে যে আয়না থাকে সেটা আসল নাও হতে পারে, এটিও গোপন ক্যামেরার মতই মারাত্মক।আসল আয়নার মাঝে এখন যুক্ত হয়েছে নকল আয়না, যাকে বলা হয় দ্বিমুখী আয়না।এই আয়নায় আপনি আপনার চেহারা দেখতে পারবেন, কিন্তু ভুলেও বুঝতে পারবেন না যে অন্যপাশে একজন আপনাকে দেখছে!
আপনার আঙ্গুল আয়নার উপর রাখুন।যদি আপনার আঙ্গুলের মাথা প্রতিবিম্ব আঙ্গুলের মাথার সাথে না লাগে(মাঝে যদি ফাঁকা থাকে) তাহলে আয়না আসল।
আর যদি আঙ্গুলের মাথা প্রতিবিম্বের মাথার সাথে লেগে যায়, তার মানে আয়না নকল! এটা আসল আয়না না, একটা দ্বিমুখী আয়না- যার অন্যপাশে থেকে আপনাকে দেখা যাবে, কিন্তু আপনি তাকে দেখতে পাবেন না। মানে অন্যপাশে থেকে কেউ আপনাকে দেখছে বা ভিডিও করছে!
কারন আসল আয়নার সিলভার প্রলেপ থাকে আয়নার পিছনে, যার জন্য আপনার আঙ্গুল ও প্রতিবিম্বের মাঝে ফাঁকা থাকবে আয়নার পুরুত্বের জন্য।আর নকল আয়নার (দ্বিমুখী) সিলভার প্রলেপ থাকে আয়নার সামনে, যার জন্য আপনার আঙ্গুলের ছাপ আপনার আঙ্গুলের প্রতিবিম্বের সাথে লেগে যাবে কারন মাঝে কোনো বাধা নেই।
আর তাই আসুন আমরা সবাই সচেতন হই।নিজের দেশকে রক্ষা করি এই নোংরামির হাত থেকে।
ওহ! আর একটি কথা এই পোষ্টটি বেশী থেকে বেশী শেয়ার করতে কিন্তু ভূলেবন না।
ভাই আমিওতো আপনারই মতই রক্তে-মাংসে গড়া একজন মানুষ। সুতরাং আমারওতো ভূল-ত্রূটি থাকতেই পারে তাই না? [আল্লাহ হাফেজ]
10 মন্তব্য
  1. B Islam বলেছেন

    Thanks for share with us …..

  2. দিপু রায়হান বলেছেন

    ধন্যবাদ আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।

  3. sabuj4u বলেছেন

    আপনার পোষ্টটি খুব সুন্দর হয়েছে, তাই আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ ।

  4. Shamim al-masud বলেছেন

    খুব ভাল লাগল তাই লাইন টু লাইন পড়লাম। ধন্যবাদ।

  5. জাকির হোসেন বলেছেন

    শেয়ারের জন্য ধন্যবাদ।

  6. লিটন হাফিজুর বলেছেন

    অসাধারন পোসট।শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ রনি ভাই।

  7. নাঈম প্রধান বলেছেন

    ভাল একটি পোস্ট । শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।

  8. সিহাব সুমন বলেছেন

    Ahmed Solayman Rony ভাই, সময়োপযোগী দারুন এবং প্রয়োজনীয় পোষ্ট করার জন্য ধন্যবাদ। আপনার ইমেইল চেক করুন।

  9. zahed বলেছেন

    Thank you for your such important post. Go ahead.

  10. মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেছেন

    আপনাকে ধন্যবাদ সুন্দর একটি পোস্ট দেওয়ার জন্য।

উত্তর দিন