প্রথম চন্দ্রবিজয়ী নীল আর্মস্ট্রং এর বিদায় : চন্দ্রবিজয় বিতর্কের অবসান

6 183

পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদে প্রথম পা স্পর্শ করে ইতিহাসের পাতায় যিনি স্বর্ণাক্ষরে নাম লেখিয়ে ছিলেন, সেই চন্দ্রবিজয়ী নভোচারী নীল আলডেন আর্মস্ট্রং আর নেই| বিশ শতকে মানব জাতির সবচেয়ে বড় অর্জন যার মাধ্যমে এসেছিল, যার একটি ক্ষুদ্র পদক্ষেপ আমাদের পৌঁছে দিয়েছিল চাঁদের উচ্চতায়, সেই মার্কিন নভোচারী নেইল আর্মস্ট্রং আর নেই। গত ২৫ আগস্ট শনিবার ৮২ বছর বয়সে তিনি মারা যান। এর আগে গত ৫ আগস্ট ৮২তম জন্মদিন পালন করার ঠিক দুই দিনের মাথায় হূদরোগে আক্রান্ত হন আর্মস্টং। শনিবার তাঁর পরিবারের বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যমগুলো জানায়, আর্মস্ট্রং হূদপিণ্ডে অস্ত্রোপচারের ধকল সামলে উঠতে পারেননি ফলে কার্ডিওভাসকুলার পদ্ধতিতে জটিলতার ফলেই তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন।

জন্ম ও মৃত্যু

নীল আলডেন আর্মস্ট্রং ওহাইওতে ১৯৩০ সালের ৫ অগাস্ট জন্ম নেন। বাবার সঙ্গে ছয় বছর বয়সে বিমানে ওড়া আর্মস্ট্রং মাত্র ১৬ বছর বয়সেই তা চালানো শিখে ফেলেন। গাড়ি চালানোর লাইসেন্স পাওয়ার আগেই রপ্ত হয়ে যায় আকাশে ওড়ার কায়দা। এরপরের ইতিহাস সবার জানা| ইতিহাসের এই মহানায়ক ৮২ বছরে বাইপাস সার্জারির কিছুদিন পর গত ২৫ আগস্ট ২০১২ শনিবার ওহাইও-এর সিনসিনাটিতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

বৈবাহিক জীবন

১৯৫৬ সালে জেনেটকে বিয়ে করেন। ১৯৯৪ সালে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হলে তিনি বিয়ে করেন ক্যারল নাইটকে।

প্রথম মহাকাশ অভিযান

নীল আর্মস্ট্রং চাঁদে অবতরণকারী প্রথম মানুষ হিসাবে পৃথিবীর ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন। আর্মস্টংয়ের মহাকাশ অভিযানের শুরু ৩৫ বছর বয়সে। ১৯৬৬ সালের ১৬ মার্চ মহাশূন্যযান জেমিনি-৮ এ সেই অভিযানে তার সঙ্গী ছিলেন ডেভিড স্কট এবং তিনি ওই নভোযানের চালক হিসাবে ছিলেন। উক্ত অভিযানে তিনি ও ডেভিড স্কট মিলে সর্ব প্রথম দুইটি ভিন্ন নভোযানকে মহাকাশে একত্রে যুক্ত করেন।

দ্বিতীয় মহাকাশ অভিযান

আর্মস্ট্রং-এর দ্বিতীয় মহাকাশ মিশন ছিল এপোলো-১১ এর মিশন কমান্ডার হিসাবে। ১৯৬৯ সালের জুলাইয়ের ২০ তারিখ চাঁদে অবতরণ করে অ্যাপোলো ১১ যার কমান্ডার ছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। চাঁদের ভূমিতে অবতরণের ৬ ঘণ্টা পর গ্রীনউইচ মান সময় ১২:৩৬ পিএম এ নিল আর্মস্ট্রং সিঁড়ি বেয়ে নেমে চাঁদের বুকে পা রাখেন। এই বিরল ঘটনার মধ্য দিয়ে পৃথিবীর ইতিহাসে চাঁদে পা রাখা প্রথম নভোচারী হয়ে ওঠেন তিনি। সেদিন বিশ্বের ৫০ কোটিরও বেশি মানুষ টেলিভিশনে দেখেছিল সেই দৃশ্য। আর্মস্ট্রং ছিলেন মিশন কমান্ডার এবং ধূলিময় চন্দ্র পৃষ্ঠতলের চন্দ্র মডিউল পাইলট এডুইন বাজ অল্ড্রীন যোগ দিয়েছিলেন ২০ মিনিট পরে। মাইকেল কলিন্স, কমান্ড মডিউল পাইলট, চাঁদ এর চারপাশের কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করতে ছিলেন। প্রথম মানুষ হিসাবে চাঁদে পা রাখার সময় তিনি মন্তব্য করেন: This is a small step for a man, but a giant leap for mankind অর্থাৎ, এটি একজন মানুষের জন্য ক্ষুদ্র একটি পদক্ষেপ, কিন্তু মানবজাতির জন্য এক বিশাল অগ্রযাত্রা| চাঁদে আর্মস্ট্রং ও এডুইন অল্ড্রিন জুনিয়র অবতরণ করেন, ও ২.৫ ঘণ্টা কাটান।

কর্ম জীবন

বৈমানিক হিসেবেই তার বেশি পদচারণা| তাছাড়া আরো কিছু কর্মে তার সম্পৃক্ততা ছিল| নীল আর্মস্ট্রং নভোচারী হওয়ার আগে মার্কিন নৌবাহিনীর বৈমানিক ছিলেন। ১৯৫০ এর দশকের শুরুতে কোরীয় যুদ্ধের সময় নৌবাহিনীর ফাইটার জেট চালিয়েছেন তিনি। নেভিতে দুই বছর চাকরিকালে তিনি কোরিয়ান যুদ্ধে অংশ নিয়ে তিনটি পদক পান। এর পর তিনি ড্রাইডেন ফ্লাইট রিসার্চ সেন্টারের পরীক্ষামূলক বিমান চালক হিসাবে যোগ দেন। বিভিন্ন পরীক্ষামূলক বিমান নিয়ে তিনি ৯০০ এর ও অধিক বার উড্ডয়ন করেন। ১৯৫২ সালে সামরিক বাহিনী ছেড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়ায় মন দেন এবং ১৯৬২ সালে যোগ দেন মার্কিন মহাশূন্য কর্মসূচিতে। ১৯৫৫ সালে তিনি নাসায় যোগদান করেন। তিনি ১৯৬২ সালে মার্কিন মহাকাশ কর্মসূচিতে যোগ দেন। অ্যাপোলো ১১ ছিল আর্মস্ট্রংয়ের শেষ মহাকাশ অভিযান। ১৯৭১ সালে তিনি মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (নাসা) ছেড়ে যান। নীল আর্মস্ট্রং যখন চন্দ্র বিজয় অভিযানে যান, তখন তার বয়স ছিল ৩৮ বছর। আর্মস্ট্রং যে স্পেস স্যুট পরে চাঁদের মাটিতে নেমেছিলেন, তা আজও নাসায় সংরক্ষিত রয়েছে। অবশ্য সফল চন্দ্র অভিযানের এক বছরের মাথায় নীল আমস্ট্রংকে নাসার অ্যারোনটিকস বিভাগের ডেপুটি অ্যাসোসিয়েট অ্যাডমিনিস্ট্রেটর নিয়োগ দেওয়া হয়। আজ থেকে প্রায় ৪১ বছর আগে আর্মস্ট্রং নাসা থেকে অব্যাহতি নেন। যদিও নাসা এর সাথে তার সম্পর্ক ছিন্ন ছিল, তারপরও একজন সাবেক মহাকাশচারী হিসেবে তিনি নাসা ও তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একজন সমালোচক ছিলেন। তিনি চাঁদে ফিরতি মিশন এবং মঙ্গলে মনুস্য মিশনের সমর্থন করেন। লোএল মানমন্দিরে নতুন ডিস্কভারি চ্যানেল টেলিস্কোপ উন্মোচনই ছিল তার সর্বশেষ পাবলিক এপিয়ারেন্স। এরপর তিনি অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং-এর প্রফেসর হন এবং বিভিন্ন কোম্পানির বোর্ডে দায়িত্ব পালন করেন। অ্যাপোলো ১১ এর পরে আর্মস্ট্রং আর কোন মহাকাশ অভিযানে অংশগ্রহণ করেননি। পরবর্তী সময়ে তিনি শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন। ভবিষ্যতের নভোচারীদের তিনি এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং (বিমান ও নভোযান প্রকৌশল) বিষয়ে পড়াতেন। তিনি ১৯৭৯ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত ইউনিভার্সিটি অফ সিনসিনাটির ঊড্ডয়ন প্রকৌশলের অধ্যাপক হিসাবে কাজ করেন। স্ত্রী ক্যারলের সঙ্গে সিনসিনাটিতেই বসবাস করতেন তিনি।

সম্মাননা

একজন নভোচারী হিসেবে আর্মস্ট্রং সব সময়ই নিভৃতে থাকতে পছন্দ করতেন। তবে মার্কিন সরকার তাঁকে যোগ্য সম্মান দিতে কার্পণ্য করেনি। গত ২০১১ সালের নভেম্বরে আরো তিন নভোচারীর সঙ্গে নিল আর্মস্ট্রংকে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক কংগ্রেসনাল গোল্ড মেডেল প্রদান করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাকে হোয়াইট হাউসে সম্মান জানিয়েছিলেন। তাছাড়া আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের সময়ে “প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম” পদকে ভূষিত হোন।  এবং ১৯৫০ এর দশকের শুরুতে কোরীয় যুদ্ধের সময় নৌবাহিনীর ফাইটার জেট চালিয়েছেন তিনি। নেভিতে দুই বছর চাকরিকালে তিনি কোরিয়ান যুদ্ধে অংশ নিয়ে তিনটি পদক পান।

তার মৃত্যুর পরে কিছু বিবৃতি

* বিবিসি অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে, আর্মস্ট্রংয়ের মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আর্মস্ট্রং কেবল তাঁর সময়েরই নয়, বরং সর্বকালের সেরা মার্কিন মহানায়ক। আর্মস্ট্রংয়ের বিদায়ে শোক প্রকাশ করেছেন সেদিনের সেই অভিযানে তাঁর সহযাত্রী নভোচারী এডউইন অলড্রিন। তিনি বিবিসির নিউজআওয়ার অনুষ্ঠানে বলেন, চাঁদে অভিযানের ৫০তম বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে আমরা একসঙ্গে থাকতে পারব না, এটা খুবই দুঃখের বিষয়।”

* তার মহাকাশ সহচারী এডুইন বাজ অল্ড্রীন টুইটারে বলেন,

##”Neil & I trained together but were also good friends who will always be connected thru our participation in the Apollo 11 mission”

##”I know I am joined by millions of others in mourning Neil’s passing – a true American hero and the best pilot I ever knew.”

* NASA-এর অ্যাডমিনিস্ট্রেটর Bolden, আর্মস্ট্রং স্মরণ করে বলছেন:

“যতদিন ইতিহাসের বই আছে, নিল আর্মস্ট্রংকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।”

* পরিবার একটি বিবৃতি শেষ করা হয় একটি অনুরোধের মাধ্যমেঃ“For those who may ask what they can do to honor Neil, we have a simple request. Honor his example of service, accomplishment and modesty, and the next time you walk outside on a clear night and see the moon smiling down at you, think of Neil Armstrong and give him a wink”

চন্দ্র বিজয় সত্যিকার বিজয় নাকি সিনেমা?

১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই চাঁদে অবতরণের মাধ্যমে ‘মানুষের পক্ষে সবই সম্ভব’ এই বিশ্বাসকে সার্থক করতে সক্ষম হয়েছিল মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা। প্রযুক্তিগতভাবে এটিই ছিল গত শতাব্দীর সেরা অর্জন।কিন্তু এই অর্জনকে অনেকেই শতাব্দীর সেরা প্রতারণা হিসেবে মনে করে। আবার অনেকের কাছে এরাই ষড়যন্ত্রমূলক তাত্ত্বিক হিসেবে পরিচিত। এ তত্ত্বের মূল প্রবক্তা রকেট-প্রযুক্তির লেখক বিল কেসিং। তিনি ১৯৭৪ সালে ‘আমরা কখনও চাঁদে যাইনি : আমেরিকার ৩০ বিলিয়ন ডলারের জোচ্চুরি’ নামে একটি বই প্রকাশ করেন। মূলত এরপর থেকেই মানুষের চন্দ্রবিজয় নিয়ে নানা সন্দেহ বাড়তে থাকে।

সত্যিই কি মানুষ চাঁদে গিয়েছিল? নাকি নাসার পরিচালনায় কোনো পরিকল্পিত সিনেমা ছিল চন্দ্রবিজয়? এ নিয়ে প্রশ্নের শেষ নেই। আছে যথেষ্ট বিতর্কও। রকেট-প্রযুক্তির লেখক বিল কেসিংয়ের মতে, চাঁদ থেকেতোলা নাসার ছবিতে অনেক বৈসাদৃশ্য রয়েছে। তিনি দাবি করেন ১৯৬৯ সালে পৃথিবীর ভ্যান এলেন রেডিয়েশন বলয় থেকে মানুষকে রক্ষা করে চাঁদে পৌঁছানোর মতো প্রযুক্তি তখনো তৈরি হয়নি। এ বইতেকেসিং অ্যাপোলোর চাঁদে যাওয়ার বিষয়টিকে একটি তত্ত্ব আকারে প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অ্যাপোলো উৎক্ষেপণের পর মহাকাশ যানটি অদৃশ্য হলে ৩ নভোচারী বিশিষ্ট লুনার ক্যাপসুলটি একটি সামরিককার্গো বিমানে সরিয়ে ফেলা হয় এবং আট দিন পরে ক্যাপসুলটি প্রশান্ত মহাসাগরে ফেলে দেয়া হয়। তারপর কঠোর সামরিক নিরাপত্তা বেষ্টিত নেভাদার মরুভূমি অঞ্চলে নাসা কর্মকর্তারা চাঁদে অবতরণ নিয়েসিনেমা নির্মাণ করেন। কেসিংয়ের এ তত্ত্ব নিয়ে ১৯৭৮ সালে ক্যাপ্রিকর্ন ওয়ান নামে একটি চলচ্চিত্রও নির্মাণ করা হয়। এক দশক পর কেসিংয়ের তত্ত্ব নিয়ে ফঙ টেলিভিশনে একটি ডকুমেন্টারি প্রচারিত হয়, যেখানে এপোলোর ছবি এবং টিভি ফুটেজের বৈসাদৃশ্য তুলে ধরা হয়। যেমন :

১. চাঁদের আকাশে কোনো তারা দেখা যায়নি কেন?

২. মডিউলটি চন্দ্র পৃষ্ঠের যেখানে অবতরণ করে সেখানে গর্ত সৃষ্টি হওয়ার কথা। কিন্তু ভিডিও ফুটেজে গর্তের কোনো চিহ্ন নেই।

৩. চাঁদে বাতাস নেই অথচ দেখা যাচ্ছে আমেরিকার পতাকা উড়ছে।

৪. চাঁদ থেকে সংগৃহীত পাথর কি সত্যি চাঁদের পাথর ছিল?

৫. ফুটেজে দেখা যায় দুটি বস্ত্তর ছায়া পরস্পরকে ছেদ করেছে অথচ আলোর উৎস হওয়ায় তা সমান্তরাল হওয়ার কথা।

৬. কেন লুনার মডিউলের পায়াতে চাঁদের ধুলো জমেনি, যা রকেটের কারণে হতে পারত।

৭. কেন চাঁদের মাটিতে একেক বস্ত্তর ছায়া একেক রকম যেখানে আলোর উৎস সূর্য কেবল।

৮. কেন তোলা ছবিতে চাঁদের আকাশে তারা দেখা যায় না।

৯. কেন অভিযানের টেলিমেট্রি ডাটা খুঁজে পাওয়া যায় না (নাসা স্বীকার করেছে হারিয়ে গেছে)।

১০. কেন বিভিন্ন স্থানে তোলা ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড দেখতে একই রকম (যেন সিনেমার সাজানো সেট)

১১. কেন ক্যামেরার ক্রস হেয়ার ঢাকা পড়ে যায় বিভিন্ন বস্ত্ত দিয়ে যা বাস্তবে কখনই সম্ভব না..

১২. কিভাবে নভোচারীরা ভ্যান হেলেন বেলট এর মারাতদক রেডিয়েশন থেকে বেঁচে গেলেন যেখানে মরণ নির্ঘাৎ।

পরবর্তী সময়ে নাসা তাদের স্বপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করলেও কেসিংয়ের ষড়যন্ত্রমূলক তত্ত্ব এখনো অনেকে বিশ্বাস করে। ষড়যন্ত্রমূলক তাত্ত্বিকরা মনে করেন, স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সোভিয়েট ইউনিয়নকেঘায়েল করতে তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করার লক্ষ্যে নাসা কৃত্রিমভাবে চন্দ্রজয়ের ঘটনা তৈরি করে। অনেকে বলেন, নভোচারী গাস গ্রিসাম এই ভাওতার গোমর ফাঁক করতে চাওয়ায় তাকে সুকৌশলে হত্যা করা হয়। আবার কেউ কেউ বলেন এসব কীর্তি করা হয়েছিল এরিয়া ৫১ এর গোপন সুটিং স্পটে, যেকারণে ওখানে সাধারণ মানুষের ঢুকবার অনুমতি নেই। এসব তথ্য পড়লে যে কেউই ভাবতে পারেন মার্কিন চন্দ্রাভিযান মিথ্যা ছিল।

তবে নাসা এসব বিষয়ের যে ব্যাখ্যা দিয়েছে, তাও কিন্তু অগ্রহণযোগ্য নয়। যেমন চাঁদের আকাশে তারা না দেখা প্রসঙ্গে নাসা বলেথ বেশিরভাগ আলোকচিত্রী একমত হবেন যে একটি খুবই উজ্জ্বল বস্ত্ত এবং একটিতুলনামূলকভাবে খুবই অনুজ্জ্বল বস্ত্তর ছবিকে একসাথে ফুটিয়ে তোলা যথেষ্ট কঠিন। অভিযাত্রীদের উজ্জ্বল স্পেসস্যুটের কারণে চাঁদের আকাশে অনেক তারাই ফিকে হয়ে গিয়েছিল। আবার বাতাসে পতাকাওড়ার ব্যাপারেও নাসার ব্যাখ্যা রয়েছে। পতাকা ওড়া বা আন্দোলিত হওয়া কেবল বাতাসের ওপর নির্ভর করে, তা নয়। আসল ব্যাপার হলো অভিযাত্রীরা সেই পতাকার খুঁটিকে মাটিতে গেড়ে দেবার জন্যএটিকে নাড়ায়। আর পতাকাটিকে একটি অনুভূমিক দন্ডের মাধ্যমে সোজা করে রাখা হয়েছিল। এ কারণেই মনে হয়েছে পতাকাটি উড়ছে। সন্দেহবাদীদের ধারণা বায়ুপ্রবাহের কারণেই এই আন্দোলন ঘটেছিল।কিন্তু অ্যানিমেশনে দেখা যাচ্ছে যে, নীল আর্মস্ট্রংয়ের হাতের অবস্থা পরিবর্তিত হচ্ছে বটে কিন্তু সেই সময়ে পতাকার ভাঁজে কোনো পরিবর্তন হয়নি। তাছাড়া চাঁদে যদি বাতাস থাকত তাহলে তো সেখানেধুলোবালি ওড়ারও প্রশ্ন ওঠতো। কিন্তু কোনো ভিডিওতে এমনটি দেখা যায়নি। চাঁদের পাথর নিয়েও অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে। এ প্রসঙ্গে নাসার জনশন স্পেস সেন্টারের বিজ্ঞানী ড. ডেভিড ম্যাককে বলেন, চাঁদের পাথর আসলেই পৃথিবীর পাথরের তুলনায় ব্যতিক্রম। চাঁদের পাথরেরস্ফটিক কাঠামোতে পানির অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। সেই সঙ্গে পৃথিবীর পাথরে প্রাপ্ত খনিজ, কাদামাটি এগুলো চাঁদের পাথরে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। চাঁদের পাথর বিশ্লেষণে পাওয়া গেছে তিন বিলিয়ন বছর আগেরঅগ্ন্যুৎপাত এবং Meteoroid প্রভাবের কারণে সৃষ্ট বিশেষ ধরনের কাচের কণা। কিন্তু পৃথিবীতে পানির উপস্থিতির কারণে এই ধরনের কণার অস্তিত্ব মাত্র কয়েক মিলিয়ন বছরেই বিলুপ্ত হয়ে যায়। যা প্রমাণ করেএই পাথর নাসার বানানো নয়, এই পাথর চাঁদেরই। চাঁদের পাথরগুলো Meteoroid Impact এর কারণে ঝাঁঝরা হয়ে গেছে ব্যাখ্যা করেন ড. ম্যাককে। এই প্রভাব কোনো গ্রহের পাথরের ওপর তখনই পড়ে যদি ওই গ্রহে কোনো বায়ুুমন্ডল না থাকে। আরো কিছুজোরালো যুক্তি উপস্থাপন করে প্রমাণ করা হয় অ্যাপোলো-১১ এর নভোচারীদের সংগৃহীত পাথরগুলো অবশ্যই চাঁদের। উল্লেখ্য, নাসা চন্দ্রাভিযানের ক্ষয় হয়ে যাওয়া ভিডিও চিত্র পুনরুদ্ধারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ কাজে দায়িত্ব নিয়েছেন হলিউডের ‘লাউরি ডিজিটালের’ বিশেষজ্ঞরা। পৃথিবীজুড়ে সব বড় কাজ বড় সাফল্যের পেছনেই কম বেশি সমালোচনা ছিল। চাঁদে অভিযান নিয়েও কম-বেশি সন্দেহ রয়েছে হয়তো থাকবেও। এরপরও যতদিন পর্যন্ত এ বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে সিনেমাহিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে না ততদিন পর্যন্ত কিন্তু চন্দ্রবিজয়কে শতাব্দীর সেরা অর্জন বলে মানতেই হবে।

চাঁদে আসল ঘটনা নিয়ে নীল আর্মস্ট্রং এর শেষ বিবরণ

Krulwich একজন NPR(National Public Radio)এর বিজ্ঞান করেসপন্ডেন্ট। তিনি তার ব্লগে ৭ ডিসেম্বার ২০১০ তারিখে এপোলো ১১ এর প্রেক্ষাপট নিয়ে বলেন, আর্মস্ট্রং এবং বাজ অল্ড্রীন কেন তাদের ল্যান্ডারের থেকে ১০০ ইয়ার্ড দূরত্বের মাঝে হাটা চলা করেন? ঠিক তারপরের দিন আর্মস্ট্রং অর্থাৎ ৮ ডিসেম্বার তিনি তাকে একটি রিপ্লাই দেন। Krulwich এর মতে আর্মস্ট্রং এর বলা কারনগুলো ছিলঃ

১. চাঁদে প্রচণ্ড গরম ছিল, প্রায় ২০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট।আমাদের সুরক্ষার দরকার ছিল।

২. আমরা নতুন অত্যাধুনিক, জল-শীতলীকৃত ইউনিফর্ম পরা ছিলাম এবং কুল্যান্ট কতক্ষণ টিকবে জানতাম না।

৩. আমারা জানতাম না আমাদের স্পেস সুইট পরে কতদুর যেতে পারবো।

৪. নাসা কতৃপক্ষ চাচ্ছিল, আমরা যাতে পরীক্ষাগুলা একটা ফিক্সড ক্যামেরার সামনে রেখে করি।

৫. আমরা(নিল আর্মস্ট্রং) খুব সামান্য প্রতারণা করছিলাম এবং অল্প কিছু আকর্ষণীয় ছবি তুলেছিলাম।

(Krulwich এর পোস্ট ও আর্মস্ট্রং এর মেইল এপোলো ১১ এর প্রেক্ষাপট নিয়ে সেই লেখার লিঙ্ক দেখুন এই ঠিকানায় http://www.npr.org/blogs/krulwich/2010/12/08/131910930/neil-armstrong-talks-about-the-first-moon-walk)

6 মন্তব্য
  1. Nafiz Ur Rahman বলেছেন

    আপনাকে ধ্নযবাদ ভাই ।

  2. মো: নাসির উদ্দিন বলেছেন

    lokta onek valo silo.

  3. DesiRocker বলেছেন

    তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা রইল আজিবন।

  4. Razeeb Ahmed বলেছেন

    so sad

  5. Real বলেছেন

    সুন্দর পোষ্টের জন্য ধন্যবাদ ভাই ।

  6. HassanMahfuj বলেছেন

    Thanks … sundor postir jonno …

উত্তর দিন