যেভাবে চিনবেন ভালোমন্দ ফ্রিল্যান্সিং সাইট!

4 106

بِسمِ اللَّهِ الرَّحمٰنِ الرَّحيمِ

আসসালামু আলাইকুম। সবাইকে মাহে রমজানের শুভেচ্ছা। আশা করি আল্লাহর রহমতে সবাই ভাল আছেন। বেশ কয়েকদিন পর আবার পোস্ট লিখতে বসলাম।  আজ আপনাদের বেশ কিছু পোস্ট উপহার দিবো। তবে আজকের পোস্টগুলো কোন ব্যবহারিক নই বরং প্রযুক্তি ও প্রতিবেদন মূলক বিষয়ক। আজকের ১ম পোস্টে আলোচনা করব ফ্রিল্যান্সিং সাইট রিভিউ নিয়ে। হয়ত আপনারা অনেকেই পূর্বে থেকে জানেন তাছাড়া অনেকেই পূর্বে হয়ত বিভিন্ন দামী ব্লগারের পোস্ট পড়েছেন। তবে যারা নতুনত্ব হিসাবে পড়তে চান কিংবা ফ্রিল্যান্সার হিসাবে নবীন অথবা যাদের ফ্রিল্যান্স সম্পর্কে মোটেও ধারনা নেই বা জানেন না তাদের জন্য আমাদের এই পোস্ট।  

ফ্রিল্যান্স আউট সোর্সিং আমাদের জন্য বিশেষ করে তরুন প্রজন্মের কর্মসংস্থানের জন্য এক অভাবনীয় সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জনের সুযোগ রয়েছে। সরকারের ঘোষিত প্রত্যেক পরিবারে একজনের জন্য কর্মসংস্থানের যে অঙ্গীকার, তা বাস্তবায়নেও এই খাত বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে।

আমরা লক্ষ্য করেছি আমাদের দেশের অনেক তরুণ খুবই সফলতার সাথে আন্তজার্তিক অঙ্গনে কাজ করে যাচ্ছেন। অনেক তরুন তাদেরকে অনুসরন করে এই পেশাতে যুক্ত হচ্ছেন ও আছেন।

প্রধানমন্ত্রীর অফিসে এটু আই প্রোগ্রামের আর্নিং বাই লার্নিং প্রোজেক্টের মাধ্যমে সরকার ফ্রিল্যান্সিংকে কার্যকর ও জনপ্রিয় করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। বাংলাদেশ সফট: শিল্পের প্রতিষ্ঠান বেসিস প্রতি বছর সেরা ফ্রিল্যান্সার  পূরস্কারের মাধ্যমে আমাদেরকে উৎসাহিত করছেন।

এমন অবস্থাতে ফ্রিল্যান্সি জনপ্রিয়তা ও মানুয়ের অজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধূ উদ্যোক্তা নিজেদের হীন স্বার্থসিদ্ধির জন্য মানুষকে বোকা বানাচ্ছে এবং প্রতারিত করছে। যদিও আমরা জানি যে, বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসের (Odesk, Freelancer, Elancer,Get a coder & V worker) রেজি: ফ্রি, কিন্তু এরা (প্রতারক চক্র) এসব সাইটে রেজি: ফির (১০ ডলার থেকে ১০০ ডলার) মাধ্যমে তরুনদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এবং এক সময় তাদের ওয়েবসাইটটি বা ব্যবসাটি বন্ধ করে দিচ্ছে। ২য়ত এসব প্রতারক কমিশনের লোভ দেখিয়ে নতুন নতুন তরুনকে তাদের এই ওয়েব সাইটে নিয়ে আসে ও সদস্য বানাচ্ছে। ফলে নতুন ফ্রিল্যান্সিং তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করা বাদ দিয়ে নতুন নতুন তরুনকে নিজের নেটওয়ার্কে নিয়ে আসতে সময় ও মেধা ব্যয় করে।

যারা বেশ কয়েক বছর ধরে ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিংয়ের সাথে জড়িত তারা জানেন, এই পেশার মূল যোগ্যতা হলো যে কোন বিষয়ে দক্ষতা। ফ্রিল্যান্সারেরা তাদের দক্ষতার বিনিময়ে উপার্জন বরেন এবং এই কাজ করতে করতে তাদের দক্ষতা বাড়তে থাকে। কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং সাইট গুলোতে ক্লিকের মাধ্যমে কোন দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব নই বরং কিছুদিন পর আগ্রহ ধরে রাখাটাও কঠিন। সুতরাং শুধু ক্লিক করাকে কখনো পেশা হিসাবে নেয়া উচিত হবে না।

দেখা যায়, যে ৭০০০/- টাকা দিয়ে সে রেজি: করেছিল সেই টাকা উঠাতে উঠাতে সে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। অনেকে আবার সাইবার ক্যাফেতে বসে বসে এসব ক্লিক করেন। ফলে সে যা আয় করে তার সিংহভাগই তার খরচ হয়ে যায়। এর মধ্য দেখা যায় এসব সাইট মাঝেমধ্যই বন্ধ থাকে। ফলে যারা ক্লিক করতে চান, তারা ঐ দিনের টাকাটা পান না। অনেক সময় তাদের সার্ভার একাধারে কয়েক দিনও বন্ধ থাকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী তাদের মূল্যবান লেখাপড়ার সময় দেখা যায় এসব ক্লিক বা নতুন নতুন ক্লায়েন্ট ধরতে ব্যয় করে। ফলে তার পড়ালেখাতেও এর খারাপ প্রভাব পড়ে। এর মধ্য একটি সামাজিক দিকও কিন্তু রয়েছে। দেখা যায় নতুন নতুন ক্লায়েন্ট ধরে সেক্ষেত্রে পরিচিতজনকেই তার নেটওয়ার্কে নেয়ার চেষ্টা করে। পরে যখন সাইটটি বন্ধ হয়ে যায় তখন সে অনেক সময় বন্ধুর মাধ্যমে প্রতারিত হয়েছে মনে করে থাকে। ফলে অনেক সময় বন্ধুত্ব বা আত্নীয়তার সম্পর্ক নষ্ট হতে পারে।

সর্বোপরি অর্থের বিনিময়ে রেজি: ও কমিশন প্রথার মাধ্যমে মূল ফ্রিল্যান্সিং কাজ থেকে বিভ্রান্ত করা, কোনরুপ দক্ষতার সুযোগ না থাকা ইত্যাদি বিভিন্ন কারনে এই ধরনের ফ্রিল্যান্সিং কাজকে বিভ্রান্ত করছে। কেননা এসব কোম্পানী চটকদার বিজ্ঞাপণ ও কমিশন ব্যবহার করার মাধ্যমে ৩ থেকে ৪ লক্ষ পর্যন্ত লোককে রেজি: করছে। ফলে একেকটি কোম্পানী বাজার থেকে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে। এই বিশাল পরিমাণ টাকা নিয়ে তারা যে কোন সময় ব্যবসায় বন্ধ করে দেশত্যাগ করতে পারে। সম্প্রতি স্ক্যাইল্যান্সার নামের কোম্পানীর স্বত্তাধীকারী  কয়েকশ কোটি টাকা নিয়ে দেশত্যাগের প্রাক্কালে ধানমন্ডি থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। আবার ডোল্যান্সার সাইটের সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে বেশকিছু পত্রিকাতে শিরোনাম ছিল-৫০০ কোটি টাকা নিয়ে  ডোল্যান্সার এর মালিক পলাতক ও শ্বশুড়বাড়ী ঘেরাও, ৫০০ কোটি টাকা আত্নসাত করে ডোল্যান্সার মালিক এখন সিঙ্গাপুরে ….ইত্যাদি। এখানে শুধু Dolancer বা Skylancer নই অআরো এই রকম যে সকল ভূয়া সাইট রয়েছে তাদের প্রত্যেকটির কার্যক্রম একই। মূল কথা- “মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ”

সম্মানীত ভিজিটরদের সুবিধার্থে নিচে টেবিলের মাধ্যমে ভালো ও মন্দ ফ্রিল্যান্সিং মার্কেট প্লেসের বিভিন্ন বৈশিষ্ট তুলে ধরা হল।

ফ্রিল্যান্সিং সাইটের তুলনা

নং

ক্রম বৈশিষ্ট্য

ভালো সাইট

মন্দ সাইট

০১রেজিষ্ট্রেশন ফী

নেই

আছে (১০ থেকে ১০০ ডলার পর্যন্ত) বা তার থেকে বেশী

০২কমিশন প্রথা

নেই

খুবই প্রকট

০৩প্রয়োজনীয় দক্ষতা

কিছুটা হলেও দরকার বলা চলে ৬০% অভিজ্ঞতা থাকতে হবে ও কাজে লাগাতে হবে

দরকার নাই

০৪দক্ষতা বৃদ্ধি করার সুযোগ

ধীরে ধীরে দক্ষতা বৃদ্ধি পায়

নেই

০৫আর্থিক ঝুকি

কোন ঝুকি নাই

প্রচন্ড ঝুকিপূর্ণ

০৬বায়ার Ranking ও Review

আছে

নেই

০৭কোডার বায়ার Ranking ও Review

আছে

নেই

০৮ফ্রিল্যান্সারদের মাঝে জনপ্রিয়তা

জনপ্রিয়

খুবই জনপ্রিয়

০৯সফল ফ্রিল্যান্সারদের রিভিউ/বক্তব্য

খুব ভালো

খুব খারাপ

১০মিডিয়া বক্তব্য

প্রশংসনীয়

প্রতারনামূলক

১১ফেসবুক বা অন্য মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের রিভিউ

প্রশংসনীয়

সার্ভার অনেক সময় বন্ধ থাকে

১২অন্য সার্ভিস ক্রয় করার জন্য

বিনিয়োগ নেই

অআছে

১৩পরিচালিত হয়

আন্তর্জাতিকভাবে

দেশের মধ্য তথা-বাংলাদেশ

১৪কাজের সংখ্যা

প্রচুর

কাজের সংখ্যা সীমিত। যা দেখানো হয় তাও ফেক!

কিছু অসাধু লোকের কারনে আজকে পুরো ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরটি হুমকির মুখোমুখি। আশা করি, যথাযথ কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এ ব্যাপারে দৃষ্টি দেবে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যখন কোন সাইটের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং করতে যাবেন, তখন সতর্কতার সাথে উপরোল্লিখিত ছকের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের সাথে মিলিয়ে নেয়া উচিত।

(তথ্যসূত্র- ফ্রিল্যান্সার জাবেদ মোর্শেদ চৌধূরীর লেখা হতে সংগৃহীত)

———————————————————–

Edited by-

Moriom-Jui-AMD-Aslam

4 মন্তব্য
  1. Nafiz Ur Rahman বলেছেন

    ধন্যবাদ ।

  2. sujan বলেছেন

    It is Good post for Clicker man.

  3. alo_adhar7 বলেছেন

    খুবী ভাল পোস্ট………

  4. মো: নাসির উদ্দিন বলেছেন

    নাইস। খুব ভাল পোস্ট। ধন্যবাদ আপনাকে।

উত্তর দিন