ওয়ালটন প্রিমো এক্স৫ : হ্যান্ডস অন রিভিউ

0 1,083

সম্প্রতি ওয়ালটন এই প্রথম দেশের মাটিতে উৎপাদন করেছে ৬ জিবি র‍্যাম বিশিষ্ট প্রথম স্মার্টফোন যেটি হচ্ছে ওয়ালটন প্রিমো এক্স৫।  অসাধারন ডিজাইন এর সাথে এই স্মার্টফোনটিতে পাওয়া যাবে দারুন ক্যামেরা ও হার্ডওয়্যার স্পেসিফিকেশন।  আজকের আর্টিকেলে চলুন আমরা এই নতুন স্মার্টফোনটি সম্পর্কে জানব বিস্তারিত, হ্যান্ডস অন রিভিউ।  ডিভাইসটির বাজার মূল্য ২৪৯৯৯ টাকা।

স্মার্টফোনটির বক্স এর ভেতর যা যা পাওয়া যাবেঃ

  • প্রিমো এক্স৫ হ্যান্ডসেটটি
  • টাইপ সি হেডফোন কনভার্টার
  • ব্যাককভার
  • এক্সট্রা প্রোটেকশন পেপার
  • অ্যাডাপটার
  • ইউএসবি কেবল
  • ইয়ারফোন
  • সিম কার্ড ইজেক্টর
  • ওয়ারেন্টি কার্ড ও সেফটি ইন্সট্রাকশন

ডিসপ্লে

এতে আছে ৫.৯৯ ইঞ্চি ১৮ঃ৯ রেসিও সমৃদ্ধ ফুল এইচডি ফুল ভিউ ডিসপ্লে যার রেজুলেসন ২১৬০*১০৮০ পিক্সেল।  ইন সেল আইপিএস প্রযুক্তির এই ডিসপ্লেটি সাইড দিক দিয়ে ২.৫ ডি কারভড।  ডিসপ্লেটি নিজ থেকে স্ক্রাচ প্রোটেকটিভ হলেও, বক্সের ভেতর আলাদা ভাবে থাকবে একটি  স্ক্রাচ প্রোটেকশন পেপার।

ইউজার ইন্টারফেস

অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে এতে রয়েছে অ্যান্ড্রয়েড ৮.১.০ অপারেটিং সিস্টেম।  এটার ইউজার ইন্টারফেস একদম স্টক  অ্যান্ড্রয়েড ৮.১.০ অরিও এর মতই এবং এটা থেকে ব্যবহারকারিরা একদম স্টক এর মত এক্সপেরিয়েন্স পাবেন।

ডিজাইন

এক্স৫ সম্পূর্ণ ডিভাইসটি মেটাল এবং গ্লসি প্লাস্টিক এর মিশ্রণে প্রস্তুত করা। আর এর সিনসি কাটিং মেটাল বডি ডিভাইস টির প্রিমিয়ামনেসকে বাড়িয়ে দিয়েছে শতগুনে।  ব্যবহারকারিরা এটিকে হাতে নিয়ে সেই উপলব্ধিটা খুব ভালভাবেই পাবে।  ডিভাইসটি প্রস্থে ৭৪.৩ মিলিমিটার,দীর্ঘে ১৫৯.৫৮ মিলিমিটার আর ডিভাইসটি মাত্র ৮.৪ মিলিমিটার পুরু।  আর ব্যাটারি সহ এই ডিভাইসটির ওজন ১৬৬ গ্রাম।

র‍্যাম এবং রম

ডিভাইসটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৬ জিবি র‍্যাম।  র‍্যামটি এলপি ডিডিআর৪ এক্স প্রযুক্তির হওয়ার ফলে পারফরমেন্স এর দিক দিয়ে এটি অন্যান্য গুলোর চেয়ে ৮০% বেশি ভালো।  আর ৪০% বেশি ব্যাটারি সাশ্রয়ী। ডিভাইসটিতে আরও থাকছে ৬৪ জিবি রম।

সিপিইউ এবং জিপিইউ

হার্ডওয়্যার এর দিক দিয়েও এই ডিভাইসটি বেশ শক্তপক্ত।  প্রিমো এক্স৫ ডিভাইসটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ২ গিগাহার্জ অক্টা-কোর প্রসেসর। আর গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট তথা এই ডিভাইসটির জিপিইউ হলো ‘মালি জি-৭১’।  যার ফলে বর্তমান সময়কার যেকোনো ৩ডি অফলাইন এবং অনলাইন গেমস এই ফোনে খুব ভালোভাবে খেলা যাবে।  আর অনেকগুলো অ্যাপস এর ক্ষেত্রে মাল্টিটাক্সিং পারফরমেন্স কেমন হবে , সেটা আর বলার বাকি থাকে না।

বেঞ্চমার্কিং রেজাল্ট

এনটুটূ বেঞ্চমার্ক স্কোরে এই ডিভাইসটির স্কোর এসেছে ৮৩৯৫৯ ।  আর গিকবেঞ্চ অ্যাপে এর স্কোর এসেছে সিঙ্গেল স্কোরে ৭৯২ এবং মাল্টি কোরে এসেছে ৩৭২২।

গেমিং

মালি জি-৭১ জিপিইউ, ২ গিগাহার্জ অক্টা-কোর প্রসেসর হওয়ার কারনে ডিভাইসটি যেকোনো প্রকার অ্যান্ড্রয়েড গেমিং এর জন্য একদম পারফেক্ট।  বর্তমান সময়ের বেশ জনপ্রিয় গেমস যেমনঃ পাবজি, নিড ফর স্পিড- মোস্ট ওয়ান্টেড, আস্পাল্ট ৯, কল অফ ডিউটি ইত্যাদি ৩ডি গেমস এবং সকল প্রকার ২ডি গেমস প্রায় ল্যাগবিহিন ভাবে খেলতে পারবেন।

ক্যামেরা

ডিভাইসটির রিয়ার প্যানেলে রয়েছে ১৩+৫ মেগাপিক্সেল ডুয়াল ক্যামেরা মডিউল।  এটি ডুয়াল লেন্স সমৃদ্ধ মডিউল যার এপারচার এফ/২.০।  ডিভাইস টির রিয়ার প্যানেল এর ক্যামেরা মডিউলটি অটোফোকাস এর দিক দিয়ে ব্যাপক ফাস্ট।  ১৩ এবং ৫ মেগাপিক্সেল দুটিই বিএসআই সেন্সর বিশিষ্ট ক্যামেরা।  এই রিয়ার প্যানেল ক্যামেরাটি ১৯২০*১০৮০ পিক্সেল রেজুলেসনে ফুল এইচডি ভিডিও রেকর্ড করতে সক্ষম।  এছাড়াও অন্যসব ফোনের মত এতে থাকছে আরো দারুন দারুন ক্যামেরা ফিচারস।  আর সাথে থাকছে অবশ্যই একটি শক্তিশালী এলইডি ফ্ল্যাশ।

ডিভাইসটির ফ্রন্ট প্যানেলে রয়েছে একটি ১৬ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা।  এটি  এপারচার এফ/২.০ বিশিষ্ট একটি ক্যামেরা যেটি সেলফি তোলার জন্য একদম সেরা।  এতেও অন্যসব ফোনের থাকছে  দারুন দারুন ক্যামেরা ফিচারস।  ক্যামেরাটির সাথে রয়েছে একটি সফট এলইডি ফ্ল্যাশ।

কানেকটিভিটি

২৪৯৯৯ টাকার এই স্মার্টফোনটি সম্পূর্ণ ৪জি সাপোর্টেড।  এটার নেটওয়ার্ক ব্যান্ড LTE FDD 850/900/1800/2100 MHz ।  ৪জি এর পাশাপাশি ডিভাইসটি ২জি এবং ৩জিও সাপোর্ট করবে।  এছাড়া ডিভাইসটিতে ওয়াইফাই,ব্লুটূথ এবং ওটিজি সাপোর্ট তো থাকছেই।

মাল্টিমিডিয়া

ডিভাইসটি দিয়ে একদম ফুল এইচডি ভিডিও উপভোগ তো করা যাবেই; পাশাপাশি রেকর্ড করার সুবিধাও থাকছে।  ।ডিভাইসটিতে অত্ত্যান্ত উন্নত মানের টপ নচ স্পিকার ব্যবহার করা হয়েছে ; যার ফলে এর লাউড স্পিকারে ব্যবহারকারিরা তাদের পছন্দের গান শুনতে পারবে আরো ক্লিয়ার এবং উন্নত অডিও কোয়ালিটিতে।

সিকিউরিটি

এর ফ্রন্ট প্যানেলে থাকা ১৬ মেগাপিক্সেল ক্যামেরার কারনে ডিভাইসটির ভেতর থাকা ফেস আনলক ফিচারটি খুব ভালোভাবে কাজ করবে।

প্রিমো এক্স৫ ডিভাইসটিতে দেয়া হয়েছে একটি ফাস্ট ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর।  যেখানে দাবি করা হচ্ছে এর রেস্পন্স টাইম মাত্র ০.১ সেকেন্ড।

ব্যাটারি এবং ফাস্ট ডাটা ট্রান্সফারিং

ডিভাইসটিতে ব্যবহার করা হয়েছে একটি ৩৪৫০ এমএএইচ ব্যাটারি।  আর ইউএসবি টাইপ সি এর পাশাপাশি এতে যে বিশেষ ফিচারটি লক্ষ্য করা যাচ্ছে তা হলো ফাস্ট ডাটা ট্রান্সফারিং।   আর টাইপ সি এর ফলে চারজিংটাও হবে অনেক ফাস্ট।    

এই ছিল ওয়ালটন প্রিমো এক্স৫ এর বিস্তারিত রিভিউ।  আশা করি এই নতুন স্মার্টফোনটি সম্পর্কে বিস্তারিত যাবতীয় তথ্য এই আর্টিকেল থেকে জানতে পেরেছেন।  আর আপনার কোন মূল্যবান জিজ্ঞাসা বা মতামত থাকলে তা নিচে জানাতে ভুলবেননা।  তাছাড়াও আরও বিস্তারিত জানতে হলে ঘুরে আসতে পারেন ওয়ালটন এর যেকোনো শোরুম বা স্মার্ট জোন।

উত্তর দিন