ফাইভারে কাজ শুরু করুন এখন থেকেই, সফল হবেন অবশ্যই

0 157

ফাইভার নিয়ে অনেকগুলো গাইডলাইনমুলক পোস্ট করেছিলাম। তারপরও অনেকে শুরু করতে পারেনি। মানুষ এখন কষ্ট করতে চায়না। সেইজন্য সফল হয় কম। সব রেডিমেট চায়।  আজকে আমি আমার জন্মদিন উপলক্ষ্যে সবার কাছে থেকে যে পরিমাণ উইশ পেয়েছি, যে পরিমাণ ভালবাসা পেয়েছি,  সেই ভালবাসার প্রতিদান উপলক্ষ্যে আজকে আমার এ গিফটি সবার জন্য দিলাম।

fiverr

 পিছনের কথা: এটি মুলত আমার এসইও ব্যাচের স্টুডেন্টদের জন্য একটা গাইডলাইন ছিল। ক্রিয়েটিভ আইটিতে যেকোন কোর্সের সাথেই আউটসোর্সিং কোর্স এবং অ্যাডভান্স সাপোর্টগুলো দেয়া হয়। আর সেজন্যই এখানে যারা কোর্স করে তারা আউটসোর্সিংয়ে সফল হয় বেশি।   এসইও ব্যাচের স্টুডেন্টদের আউটসোর্সিং কোর্সে ফাইভার সম্পর্কিত ক্লাশে যে গাইডলাইন তৈরি করে দেই সেটি আমি আমার জন্মদিনে সবার সাথে শেয়ার করলাম।

ফাইভার মার্কেটপ্লেসে কাজ করার আগে এ মার্কেটপ্লেসে কাজ করে মাসে ২০০০ডলারের বেশি আয় করছেন এমন ১জনের সাক্ষাৎকারটি আগে পড়ে নিন।

সাক্ষাৎকার লিংক: http://genesisblogs.com/freelancing-2/15227

ধরে নেই ফাইভারে কাজ করার ব্যপারে মনস্থির করে ফেলেছেন। এবার কাজ শুরু করার ব্যপারে একটা রুটিন তৈরি করে দিচ্ছি। সেই অনুযায়ি শুরু করে দিন।

পর্ব ১: ফাইভারে কাজ শুরুর প্রস্তুতি

১) ফাইভারে অ্যাকাউন্টটা খুলে ফেলেন। মাত্র ৫মিনিটের ব্যপার। অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য লিংক: https://www.fiverr.com/join

২)   অ্যাকাউন্ট খোলার পর লগইন করে settings e ক্লিক করে public profile settings  এ গিয়ে আপনার সম্পর্কে বিস্তারিত লিখে প্রোফাইলটা প্রস্তুত করুন।

সেখানে কি লিখবেন, বিষয়টা নিয়ে আপনার গবেষনার কাজটি আমি করে দিয়েছি। কয়েকটি প্রোফাইল ডেসক্রীপশনকে একসাথ করেছি। যা দেখে আইডিয়া করে নিজেরটা প্রস্তুত করে ফেলুন।

ডাউনলোড লিংক: প্রোফাইল স্যাম্পল

৩) এবার গিগ প্রস্তুত করুন। কি কি গিগ তৈরি করবেন, গিগের ভিতর কি লিখবেন। এ বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করার সময়ও আপনার নাই, সেটা মাথাতে রেখে আমি নিজেই সেই কাজটি করে রেখেছি।

গবেষণা করে বের করেছি যে যে কাজ আপনার পক্ষে করা সম্ভব, সেই গিগগুলোকে খুজে বের করেছি। সেসব লিংকে গিয়ে নিজের গিগের কনটেন্টকে প্রস্তুত করে ফেলুন।

ডাউনলোড লিংক: স্যাম্পল গিগ লিংক

৪) গিগকে প্রস্তুত করার আগে এ পোস্টটিও একবার পড়ে নিন: ফাইভারে সফল হওয়ার গাইডলাইন 

৫) গিগে ভিডিও যুক্ত করলে সেটি সেল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেডে যায়। গিগে ভিডিও যুক্ত করা সম্পর্কিত পোস্টটি পড়ে নিন।

গিগে ভিডিও যুক্ত করার টিপস: http://genesisblogs.com/freelancing-2/17201

১ম দিনের কাজ শেষ। সর্বোচ্চ সময় লাগবে ৫ঘন্টা।

পর্ব-২: গিগ বিক্রির মিশন

যেহেতু অনেকের গিগ থাকার কারনে আপনার গিগটি ফাইভার থেকে খুজে বের করা সহজ না। সুতরাং ফাইভার থেকে সরাসরি কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম। সুতরাং ফাইভারের বাইরে গিয়ে আপনার গিগকে প্রমোট চালানো শুরু করেন।

নিজের গিগের লিংককে প্রমোশন করার পরিকল্পনা সাজিয়ে ফেলুন। সোশ্যাল মিডিয়া, ব্লগিং, স্লাইডশেয়ার, ভিডিও মার্কেটিংকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা সাজিয়ে ফেলুন।

এ পরিকল্পনটাও সাজিয়ে দিচ্ছি।

১) যে বিষয়ে গিগ দিয়েছেন, সে বিষয়ে টিপস নিয়ে পাওয়ার পয়েন্টে স্লাইড বানিয়ে ফেলুন। নিজের কনটেন্ট না হলেও চলবে। কিভাবে মাত্র ১০মিনিটে একটি স্লাইড তৈরি করবেন। সেটি জানার জন্য আমার এ ভিডিওটি দেখুন।

ভিডিও লিংক:
https://youtu.be/4rfn_R_cypM

এ ভিডিওটি  ক্রিয়েটিভ আইটিতে  এসইও কোর্সের আ্উটসোর্সিং কোর্সের ফাইভার সম্পর্কিত ক্লাশের ধারণ করা ভিডিও রেকর্ড।

২) যারা উপরের ভিডিও লিংকটিতে গিয়ে ভিডিও দেখে ফেলেছেন, তারা ইতিমধ্যে জেনে গেছেন, সেই স্লাইড তৈরি হয়ে গেলে আপনার কাজটি কি?

অন্য কারও ওয়েবসাইটের এসইও প্রজেক্ট পেলে যা করতেন, সেটি আপনার গিগ নিয়েই শুরু করুন।

যেহেতু টিপস রিলেটেড স্লাইড বানিয়েছেন। সুতরাং সকল গ্রুপে আপনার স্লাইডটিকে অ্যাপ্লুভ করবে।

– প্রতিদিন আপনার স্লাইডটিকে ৩০টি ফেসবুক গ্রুপে শেয়ার করবেন। সকালে ১০টি গ্রুপে, দুপুরে ১০টি গ্রুপে, রাতে বাকি ১০টা গ্রুপে শেয়ার করবেন।

– প্রতিদিন ১৫টি টুইটার গ্রুপে শেয়ার করবেন। সকালে ৫টি গ্রুপে, দুপুরে ৫টি গ্রুপে, রাতে বাকি ৫টা গ্রুপে শেয়ার করবেন।

– গুগল প্লাসের ৯টি গ্রুপে শেয়ার করুন। সকালে ৩টি গ্রুপে, দুপুরে ৩টি গ্রুপে, রাতে বাকি ৩টা গ্রুপে শেয়ার করবেন।

– লিংকডিনের ৬টি গ্রুপে শেয়ার করুন। সকালে ২টি গ্রুপে, দুপুরে ২টি গ্রুপে, রাতে বাকি ২টা গ্রুপে শেয়ার করবেন।

প্রতি ৩দিন পর পর নতুন আরেকটা স্লাইড তৈরি করুন। তারপর ৩দিন ধরে উপরের রুটিন ধরে কাজ করুন।

৩) স্লাইডটিকে অটো প্লে করে সেটিকে স্ক্রীন রেকর্ডার দিয়ে রেকর্ড করে তারপর ভিডিও তৈরি করে ফেলুন। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিওটি আপলোড করুন। এ ভিডিওটি স্লাইড শেয়ারের রুটিনকে মেনে অনলাইনে প্রচার করা শুরু করুন। ভিডিওটি আপলোড করে ভিডিও ডেসক্রীপশনে আপনার গিগ লিংকটি যুক্ত করুন।

৪) প্রতিদিন টুইটার থেকে সার্চ করে কমপক্ষে ১০টি টার্গেটেড বায়ার খুজে বের করে সেখানে আপনার গিগের অফারটি দিয়ে আসবেন।

সেই বিষয়ে টিপস:  টুইটার থেকে টার্গেটেড ক্লায়েন্ট খুজে বের করুন

৫) আরেকটা টিপসও দিচ্ছি। আপনার ফাইভারে লগইন থাকা অবস্থাতে এ লিংকে (https://www.fiverr.com/users/ekramict/requests) ক্লিক করুন। সেখানে গেলে দেখবেন, অনেক বায়ার এসে তার কাজের জন্য লোক খুজতেছে। প্রতিটা পোস্টের ডান দিকে, ”Send Offer” নামে বাটন রয়েছে। আপনি যা যা গিগ তৈরি করেছেন, সেগুলোর সার্ভিস যদি কেউ সেখানে খোজ করে থাকে. তাহলে বাটনে ক্লিক করে আপনার গিগটির অফার দিন।

৬) যেহেতু আপনি এসইও জানেন, সুতরাং এসইওর অন্যান্য টিপসগুলো কাজে লাগাতে পারেন, আপনার গিগকে প্রচার করার জন্য।

সবশেষে  আরও  একটি এসইও ক্লাশের রেকর্ড করা ভিডিও শেয়ার করছি।  গিগকে নিয়ে মার্কেটিং করার জন্য এ ভিডিওটি কাজে লাগবে। যদিও এটি  অ্যাফিলিয়েশনের প্রোডাক্ট প্রোমোশন কিংবা ওয়েবসাইটে ট্রাফিক বৃদ্ধির জন্য সঠিক ভাবে প্রোমোশনের জন্য ক্লাশ ছিল। ফাইভারের গিগটিকেও একটি প্রোডাক্ট ধরে  প্রোমোশনের জন্য এ ক্লাশটির ভিডিও দেখা দরকার।

লিংক:
https://youtu.be/aIu3wwoEK1E

এভাবে চললে ৭দিনের মধ্যে অনেক কাজ পেয়ে যাওয়া কথা। না হলে একই প্রসেস কনটিনিউ করবেন। মনে রাখবেন  কোন কিছুর মার্কেটিং একদিন, পাচদিন মার্কেটিং করলেই সফল হয়ে যাবেন, সেই আশা করা উচিত না।  একটানা মার্কেটিং করে যেতে হয়, তারপর সফল হবেন।

এখানে এসইও কোর্সের স্টুডেন্টদের জন্যই অ্যানালাইস করে তৈরি করা। গ্রাফিক কিংবা ওয়েবডিজাইন নিয়ে যারা কাজ করবেন তারাও নিজেরটা কষ্ট করে অ্যানালাইস করে খুজে বের করে নিবেন। যত বেশি নিজে নিজে ঘাটাঘাটি করবেন, ততই নিজে সফলতার কাছে পৌছতে পারবেন।  এ পোস্টে ক্রিয়েটিভ আইটির এসইও কোর্সের দুটি ক্লাশের ভিডিও যুক্ত করা হয়েছে। এ ভিডিও দেখে  এখানকার ক্লাশগুলোর মান সম্পর্কেও আইডিয়া পাবেন।

আরও সহযোগিতার জন্য আমার ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন।

উত্তর দিন