কালিয়াকৈর এ গড়ে উঠছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর হাইটেক পার্ক

0 86

রাজধানী ঢাকা শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার এবং হযরত শাহজালাল (রাঃ) আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে গড়ে উঠছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর হাইটেক পার্ক। হাইটেক পার্কটি গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার উত্তর বক্তারপুর, জানেরচালা গোয়ালবাথান এবং হরতকিতলা মৌজায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে অত্যন্ত সুন্দর পরিবেশে অবস্থিত। হাইটেক পার্কটি রাজধানী ঢাকা, বন্দর নগর চট্টগ্রাম, খলনাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানের সাথে যোগোযোগের ক্ষেত্রে সড়ক ও রেল দ্বারা যুক্ত একটি চমৎকার অবস্থানে অবস্থিত।
উন্নয়নের জন্য শিল্পের প্রয়োজনীতা সর্বজন স্বীকৃত। বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে চীন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ভারত এবং ভিয়েতনাম হাইটেক পার্ক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নে অভূতপূর্ব গতি সঞ্চারে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গতি সঞ্চারের লক্ষ্যে এদেশেও হাইটেক পার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৯ সালের ১৩ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিনিয়োগ বোর্ডের ১২তম সভায় গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলাস্থিত তালেবাবাদ উপগ্রহ-ভূ-কেন্দ্রের অব্যবহৃত ২৩১.৬৮৫ একর জমিতে একটি হাইটেক পার্ক স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ভূমি মন্ত্রণালয় ১৪ এপ্রিল ২০০৪ সালে বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের নিকট ভূমি হস্তান্তর করে।

Kaliakoir high tech park

হাইটেক পার্ক সম্পর্কিত একটি তথ্যবিবরণী সূত্র মতে হাইটেক সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ করা হলো-
হাইটেক পার্ক স্থাপন কার্যক্রম : হাইটেক পার্ক স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের Bureau of Research Testing and Consultation (BRTC) এর মাধ্যমে একটি Fesibility study করা হয়। উক্ত সমীক্ষার আলোকে ২৫১ (দু’শ একান্ন) কোটি টাকা ব্যয় পরিকল্পনার একটি পিসিপি তৈরি করা হয়। আর্থিক সংস্থান না থাকায় প্রকল্পটি অনুমোদন না করে private sector Funded project হিসেবে গ্রহণের পরামর্শ প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে হাইটেক পার্ক তৈরির সহায়ক অবকাঠামো সৃষ্টির লক্ষ্যে Basic Infrastructure for Hi-Tech Park(1st phase) at Kaliakoir, Gazipur. শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ২৬ কোটি ৮৫ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের মাধ্যমে নিম্নবর্ণিত সুবিধাদি সৃষ্টি করা হচ্ছে- প্রশাসনিক ভবন, সীমানা প্রাচীর, গেটওয়ে, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন, পাম্প হাউস ও গভীর নলকূপ স্থাপন, ইন্টারনেট কানেকটিভিটি, নিরাপত্তারক্ষীদের সেড, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ। যার ৯৯ শতাংশের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় DFIO এর অর্থে Bangladesh private sector Development support project(PSDSP) India এর আওতায় Price water house Cooper (PWC) India এর নেতৃত্বে Devconsultant, mahindra, Consulting Engineers and IIFC Bangladesh নামীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানসমূহ সমন্বয়ে গঠিত কনোর্সোটিয়াম আরও একটি সমীক্ষা পরিচালনা করছে।
হাইটেক পার্ক হলে নিম্নবর্ণিত সুবিধা সৃষ্টি হবে : বিদেশেী বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে হাইটেক শিল্প প্রতিষ্ঠিত হবে। স্থাপিত শিল্পের মাধ্যমে উৎপাদিত দ্রব্যাদি দেশে ব্যবহারের মাধ্যমে আমদানি হ্রাস পাবে এবং বিদেশে বিনিয়োগ ও মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে। দেশের এবং শিল্পোদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, প্রায় ৬৫ হাজারেরও অধিক লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ায় মেধা পাচার রোধ হবে। ফরওয়ার্ড-ব্যাক ওয়ার্ড লিঙ্কেজ এর মাধ্যমে বিভিন্ন শিল্প গড়ে উঠবে এবং কর্মসংস্থান হবে।
BRTC এর হিসাব অনুযায়ী হাইটেক পার্ক নির্মাণে ৭ শত কোটি টাকা এবং PWC এর হিসাব অনুযায়ী মূলধন ব্যয় হবে প্রায় ৫৭ (সাতান্ন) মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থাৎ প্রায় ৪শ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। এ ছাড়াও পার্কের ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আরও প্রায় ৮৫.৫ মিলিয়ন মার্কন ডলার অর্থাৎ প্রায় ৬শত কোটি টাকার প্রয়োজন হবে মর্মে PWC তাদের Pre Final Report এ উল্লেখ করেছেন।
যেসব শিল্প স্থাপনে অগ্রাধিকার দেয়া হবে : তথ্য প্রযুক্তি, সফটওয়ার এবং হার্ডওয়ার, তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর শিল্পসমুহ, টেলিযোগাযোগ সম্পর্কিত শিল্প, বায়োটেকনোলজি এবং ফার্মাসিউটিক্যাল (গবেষণা ও উন্নয়ন)।
হাইটেক পার্কের মোট ২৩২ একর জমিকে মোট ৫টি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। ব্লক-১ এ মূলতদি প্রশাসনিক ভবন, আবাসিক ভবন, ট্রেনিং সেন্টার, হাসপাতাল, স্কুল এবং Multi Tenant Building (MTB) ইত্যাদি স্থাপিত হবে। ব্লক- ২ থেকে ৪ এ বিভিন্ন ধরনের শিল্প Ware house স্থাপিত হবে। হাইটেক পার্কে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়ে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সুপারিশ করেছেন। হাইটেক পার্ক বাস্তবায়নের জন্য PWC দু’টি পর্যায় নির্ধারণ করেছে। ১ম পর্যায় ২০১২ সালে এবং ২য় পর্যায় ২০১৮ সালে শুরু হয়ে ২০২০ সালে সমাপ্ত হবে।

উত্তর দিন