যে কারণে আপনার Motorola MOTO X 2014 কেনা উচিৎ

0 114

বর্তমানে স্মার্টফোন কেনাটা কিছুটা ঝামেলার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা, চারদিকে ছড়িয়ে থাকা নতুন-পুরাতন স্মার্টফোনগুলো নানা দিক থেকে নিজেদের তুলে ধরে রেখেই ব্যবহারকারিকে সিদ্ধান্তহীনতার এই সমস্যার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। বিশেষ করে জনপ্রিয় অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনগুলো বাজারে সাধ্যের মধ্যে থাকায় এবং একই বাজেটে মোটামুটি অনেক গুলো স্মার্টফোন থাকায় ব্যবহারকারিরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হিমসিম খায়। আবার মিড-এন্ড বা হাই-এন্ডের স্মার্টফোনগুলোতেও একই সমস্যা থেকে যায়। ধরুন, একই দামের একটি মডেলে হয়তো র‍্যাম বেশি আবার অন্যটিতে র‍্যাম কম হলেও ক্যামেরাটি চমৎকার। যাই হোক, আমি আজকে একটি স্মার্টফোনকে আপনাদের সামনে রিভিউ করতে যাচ্ছি তবে রিভিউটিতে আমি শুধু এর চমৎকার কিছু দিক আলোচনা করবো। যদি এরকম হয়ে থাকে যে আপনি এই স্মার্টফোনটি কিনতে চাচ্ছেন কিন্তু সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না তবে আজকের এই পোষ্টটি আপনার সিদ্ধান্তে বেশ খানিকটা পুশ করে আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে বলে আমি আশা করছি। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।

স্ক্রিন

মটো এক্স ডিভাইসটি মিড-রেঞ্জের ডিভাইস হলেও ডিভাইসটির স্ক্রিন স্মার্টফোনটিকে দুটি চমৎকার সুবিধা প্রদান করেছে। এক, স্মার্টফোনটির স্ক্রিনের আকার ৫.২” হবার কারণে ডিভাইসটি ফ্যাবলেটের আওতায় পরে, কিন্তু চমৎকার গঠনের কারণে ফ্যাবলেট ডিভাইস হলেও এটি আপনি খুব সহজেই এক হাতে নিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন। অনেক ব্যবহারকারিরাই ফ্যাবলেট ডিভাইস অপছন্দ করে থাকেন বেঢপ আকারের কারণে। তবে, এই স্মার্টফোনে এই সমস্যাটি একদমই নেই। দুই, যেহেতু স্মার্টফোনের স্ক্রিনের আকার বড় হলেই শুধু হয়না বরং স্ক্রিন বড় হলে সাথে আরও কিছু প্যারামিটার থাকতে হয় তাই এই স্মার্টফোনটির রেজ্যুলেশনও আপনাকে মুগ্ধ করবে। মটো এক্স ২০১৪ ডিভাইসটির রেজ্যুলেশন ১০৮০পি অর্থ্যাত ফুল এইচডি এবং আপনার এক্সপেরিয়েন্সকে আরও রিচ করার জন্য এর ডিসপ্লের প্রতি ইঞ্চিতে স্মার্টফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৪২৩ পিক্সেল। তাই, আপনার যদি চমৎকার ডিসপ্লে সমৃদ্ধ মিড-রেঞ্জ ডিভাইস পছন্দ হয়ে থাকে তাহলে এই ডিভাইসটি আপনার জন্য হতে পারে একটি আদর্শ ডিভাইস।

1

ক্যামেরা

মটো এক্স (২০১৪) ডিভাইসটিতে রয়েছে ১৩ মেগাপিক্সেল ব্যাক ক্যামেরা যা খুবই চমৎকার ছবি তুলতে সক্ষম, সাথে মটোরোলা যুক্ত করেছে কিছু চমৎকার ফিচার যার মধ্যে একটি হচ্ছে আপনি একই সময়ে বেশ কিছু ছবি তুলতে পারবেন যার মধ্যে থেকে সবচাইতে ভালো ছবিটি ব্যবহারকারি ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়াও, এর রিং ফ্ল্যাশ অন্ধকারে চমৎকার ছবি তুলে থাকে। জেনে হয়তো অবাক হবেন স্মার্টফোনটি ৩০ ফ্রেম পার সেকেন্ডে ২১৬০পিক্সেল ভিডিও ধারণ করতে সক্ষম এবং এতে ৪কে ভিডিও ধারনের ক্যাপাবিলিটিও যুক্ত করা হয়েছে। খুব সহজে দ্রুত ছবি তোলার জন্য রাখা হয়েছে ট্যাপ সুবিধা, ফলে স্ক্রিনের যে কোন খানে ট্যাপ করেই আপনি ছবি তুলতে পারবেন।

2

পিছনের কভার

আপনি আপনার ইচ্ছা মত স্মার্টফোনটির ব্যাক কভার কাস্টোমাইজ করতে পারবেন। কাঠা, প্লাস্টিক বা লেদার – শুধু পছন্দ করা মাত্র, স্মার্টফোনটিতে খুব সহজেই যুক্ত করা কোটিং করা যাবে। তাই, যারা নিজের ইচ্ছামত কাস্টোমাইজ করা যায় এমন ডিভাইস পছন্দ করেন তাদের জন্য এই স্মার্টফোনটি সত্যিই আপ্রোপ্রিয়েট একটি ডিভাইস।

3

বিল্ড কোয়ালিটি

মটো এক্স (২০১৪) ডিভাইসটিতে ব্যবহারিত মেটাল ফ্রেম যে শুধুমাত্র স্মার্টফোনটিকে একটি হাই-এন্ড এবং কোয়ালিটি লুক দিয়েছে তাই নয়, এটি স্মার্টফোনটিকে রোবাস্ট করতেও সাহায্য করেছে। পেছনের অংশে একটি কার্ভ সৃষ্টি করা হয়েছে যাতে করে স্মার্টফোনটি ব্যবহার করার সময় এটি আপনার হাতের তালুতে চমৎকার ভাবে মিলে যেতে পারে এবং এর ফলে অনেক্ষন ব্যবহার করলেও আপনার হাত ঘামবে না। স্মার্টফোনটির এজ গুলোও কার্ভড এর ফলে প্রিমিয়াম লুকের পাশাপাশি ডিভাইসটি ব্যবহারকারিকে প্রদান করে চমৎকার একটি স্মার্টফোন এক্সপেরিয়েন্স। ১৪৪ গ্রামের স্মার্টফোনটি আপনার পকেটে যেমন ভারী বোঝা হয়ে থাকবেনা তেমন খুব বেশি হালকা হয়ে এর গাম্ভীর্যও হারাবেনা, আপনি সলিড একটা ফিল পাবেন। শুধু ফ্রেমেই নয় বরং ডিসপ্লেতেও ব্যবহার করা হয়েছে কর্নিং গরিলা গ্লাস যা ডিসপ্লের প্রোটেকশন নিশ্চিত করে এবং স্মার্টফোনটি ওয়াটার রেজিস্ট্যান্টও।

5

ইউজার ইন্টারফেস

অনেকেই আছেন যারা পিওর অ্যান্ড্রয়েডে বিশ্বাসী, তাদের জন্য হয়তো এই ইন্টারফেসটা কিছুটা হলেও খারাপ মনে হবে তবে সামান্য টুইক করা ইন্টারফেসটি কিন্তু ব্যবহারকারিদের আরও রিচ এক্সপেরিয়েন্স দেয়ার কারণেই তৈরি হয়েছে। অ্যান্ড্রয়েড ৪.৪ ভার্সনের এই সামান্য টুইকড ভার্সনটি আপনার স্মার্টফোন এক্সপেরিয়েন্সকে সামান্যতম হলেও বৃদ্ধি করবে বলে আমি আশাবাদী। বোল্টওয়্যার ছাড়া শুধু মাত্র প্রয়োজনীয় ফিচারে ভরপুর কিন্তু সিম্পল ইন্টারফেসটি দেখে অন্তত আমি মুগ্ধ!

5

ভয়েস কন্ট্রোল

অ্যান্ড্রয়েডের ওকে গুগল সুবিধাতো আছেই, সাথে এই সুবিধাটিও কিছুটা কাস্টোমাইজ করে দিয়েছে মটোরোলা। আপনি একজন অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহারকারি হলে এতদিনে নিশ্চয়ই জানেন ‘ওকে গুগল’ দ্বারা কীভবে আপনি আপনার স্মার্টফোনটিকে কনট্রোল করবেন। তবে আপনার যদি এই স্মার্টফোনটি থেকে থাকে তবে অন্যদের মত ওকে গুগল বা ওকে মটো বলা ছারাও আপনি নিজের মত কমান্ড কাস্টোমাইজ করে নিতে পারেন।

6

মটোরোলা অ্যাকটিভ ডিসপ্লে

আপনি কি একটি নোটিফিকেশন পাবার সাথে সাথে তা দেখে নিতে চান? যদি তাই হয় তবে স্মার্টফোনটি আপনি ব্যবহার করে খুবই মজা পাবেন। কেননা, স্মার্টফোনটিতে এরকম সুবিধা যোগ করা হয়েছে যার ফলে একটি নোটিফিকেশন আপনার স্মার্টফোনে আসার সাথে সাথে আপনি আপনার স্মার্টফোনের লক না খুলেও সেটি দেখতে পারবেন। এমনকি, আপনার স্মার্টফোনটি ধরতেও হবেনা! কীভাবে?? আপনাকে শুধুমাত্র যা করতে হবে তা হচ্ছে একটি নোটিফিকেশন আসার পরে আপনার স্মার্টফোনের স্ক্রিনের উপর আপনার হাতটি রাখতে হবে এবং এই অ্যাকটিভ ডিসপ্লে ফিচারটি আপনাকে সেই নোটিফিকেশনটি প্রদর্শন করবে। আর আপনি যদি বিস্তারিত তথ্য পেতে চান সেই নোটিফিকেশনটি সম্পর্কে তবে আপনাকে শুধু এক্সট্রা ডিটেইলে ট্যাপ করতে হবে,ব্যাস! ভাবছেন, এতে করেতো ব্যাটারি খরচ হবে বেশি?! নাহ!! একটু ভালো করে ভেবে দেখুন। এর ফলে ব্যাটারি বেশি নয়, বরং কম খরচ হবে।

7

টাচ ফ্রি গেসচার

উপরের পয়েন্টটি, অর্থাৎ ‘অ্যাকটিভ ডিসপ্লের’ ফিচারটিও কিন্তু টাচ-ফ্রি গেসচারের মধ্যেই পরে, যার মধ্যে আপনি আপনার স্মার্টফোনটি, এমনকি এর স্ক্রিনে টাচ না করেও শুধুমাত্র হাত স্ক্রিনের উপরে হোভার করেও আপনার স্মার্টফোনের নোটিফিকেশন গুলো চেক করতে পারবেন। তবে, এখানেই কিন্তু শেষ নয়। আপনি একই ভাবে আপনার হাত স্মার্টফোনের স্ক্রিনের উপর রেখে অ্যালার্ম বন্ধ করতে পারবেন। একই ভাবে কোন কল আসলে আপনি যদি আপনার স্মার্টফোনের স্ক্রিনের উপর আপনার হাত রাখেন তবে সেই কলটির টোন সাইলেন্ট হয়ে যাবে। এটা আসলে তখন খুবই কাজে আসবে যখন ধরুন আপনি কোন কাজ করছেন এবং আপনার হাত ময়লা অবস্থায় রয়েছে, ময়লা হাতে আপনি স্মার্টফোনটি ধরতে চাচ্ছেন না। যেমন ধরুন, রান্না করার সময়! এছাড়াও আরও একটি চমৎকার সুবিধা আছে যেটি হচ্ছে আপনি ইচ্ছা করলে একই ভাবে আপনার স্মার্টফোনে আসা মেসেজ গুলো আপনার ডিভাইসটি দিয়ে পড়িয়ে শুনতে পারবেনা। চমৎকার ফিচার, তাই না?

7

পারফর্মেন্স

“প্রথমে দর্শনদারি, পরে গুণবিচারি” – এরকম একটা প্রবাদ আমাদের দেশে প্রচলিত আছে। একটি ডিভাইসের ক্ষেত্রেও বিষয়টি এরকমই। কেননা একটি স্মার্টফোন তা যতই শক্তিশালী হোক যদি এর লুক ভালো না হয় তবে খুব বেশি মানুষ সেই ডিভাইসটির প্রতি আগ্রহী হবে না। তবে, এই ডিভাইসের ক্ষেত্রে এবিষয়ে চিন্তিত হবার কোন কারণ নেই। কেননা, ২.৫ গিগাহার্যের কোয়াড-কোর স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর বিশিষ্ট এই স্মার্টফোনটি একটি ‘বিউটি’ এবং একই সাথে ‘বিস্ট’ও বটে। গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিটে রয়েছে অ্যাড্রিনো ৩৩০ জিপিইউ যা ৫৭৮ মেগাহার্জ গতিতে চলতে সক্ষম এবং সর্বোচ্চ স্মুথ বা ল্যাগ ফ্রি এক্সপেরিয়েন্সের জন্য যুক্ত করা হয়েছে ২ গিগাবাইট র‍্যাম। বুঝতেই পারছেন, যে কোন গেম রান করানো এই স্মার্টফোনের জন্য কোন ব্যাপারই না! এছাড়াও, আনটুটু বেঞ্চামার্কে এই ডিভাইসটির স্কোর করেছে ৪৩৭১৪ যা সত্যিই চমৎকার।

7

ফাস্ট চার্জিং

একদিন এক ব্লগে একজন ব্যবহারকারী আক্ষেপ করে লিখেছিলেন যে, ‘আগে তিনি দেখেছেন কুকুরের গলায় দড়ি বেঁধে হাঁটতে, আর কয়দিন পর বোধহয় দেখতে হবে স্মার্টফোনের গলায় চার্জার বেঁধে হাঁটতে!’ বুঝতেই পারছেন কি জন্য তার এই আক্ষেপ! হ্যাঁ, স্মার্টফোনের সমস্যাগুলোর মধ্যে চার্জ না থাকা একটা প্রধান সমস্যা। চার্জ থাকতেই চায়না!! আর এদিকে স্মার্টফোনের ব্যাটারি লাইফ বর্তমানে ব্যবহারকারিদের মধ্যে প্রধান চাহিদা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা, আপনি আপনার স্মার্টফোন দিয়ে ছবি তোলেন, গান শোনেন, মুভি দেখেন, গেম খেলেন, ইন্টারনেট ব্রাউজ করেন বা এক কথায় যাই করেন না কেন প্রথমেই তার জন্য আপনার স্মার্টফোনের ব্যাটারিতে চার্জতো থাকতে হবে। যদিও এই ডিভাইসটির ব্যাটারির ক্ষমতা খুব বেশি নয়, মাত্র ২৩০০ মিলি অ্যাম্পিয়ার, তবুও এর ফাস্ট চার্জিং সুবিধা আপনাকে এদিক দিয়ে কিছুটা সুবিধা দিবে। কেননা, ডিভাইসটিতে ব্যবহার করা হয়েছে মটোরোলার কুইক চার্জ ২.০ টেকনোলোজি যার ফলে মাত্র ৩০ মিনিটেই আপনার স্মার্টফোনটির ব্যাটারি ০ থেকে ৬০ শতাংশে পূর্ন হয়ে যাবে। তাই, একটু সময় পেলেই যদি আপনার স্মার্টফোনটি আপনি চার্জ করেন তবে আপনার স্মার্টফোনটি আপনাকে খুব সহজেই সাপোর্ট দিয়ে যাবে। এছাড়াও, আপনি মটোরোলার টার্বো চার্জার দিয়ে যদি আপনার ডিভাইসটি মাত্র ১৫ মিনিট চার্জ করেন তবে আপনি স্মার্টফোনটি পরবর্তী ৮ ঘন্টার জন্য নিশ্চিন্তেই ব্যবহার করতে পারবেন।

8

শেষ কথাঃ

ছোট্ট করে রিভিউ বলতে পারেন এই পোষ্টটিকে, তবে আমি Motorola MOTO X 2014 রিভিউ না বলে টাইটেলের সাথেই যাবো। আমি রিভিউ করিনি, শুধু এর ১০টি চমৎকার ফিচার আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চেষ্টা করলাম মাত্র যে কারণে একজন ব্যবহারকারির এই ডিভাইসটি কেনা উচিৎ। তবে শেষ ইচ্ছাতো আপনারই! তাই আপনার বাজেট যদি বেশি হয়ে থাকে তবে আপনি অন্য যে কোন স্মার্টফোনও কিনতে পারেন। তবে, ৪২-৪৩ হাজার টাকার মধ্যে এই স্মার্টফোনটিও কিন্তু একেবারে খারাপ হয়না, পড়ে হয়তো এটুকু বুঝতে পারছেন? যাই হোক, আজকের লেখাটি এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে নতুন কিছু নিয়ে হাজির হবো আপনাদের সামনে, ততদিন ভালো থাকুম। প্রিয় টেকের সাথে থাকুন।

উত্তর দিন