বাংলাদেশ বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচে শ্বাসরুদ্ধকর জয়! বাংলাদেশের স্বপ্নের কোয়াটার ফাইনাল ।

0 128
টানটান উত্তেজনা, সঙ্গে রাজ্যের হৃদয় কাঁপুনি আবহ। রোমাঞ্চের আবহে বুদ ছিল গোটা অ্যাডিলেড ওভাল। সঙ্গে গোটা বাংলাদেশও কি নয়? শেষ উইকেটে ব্যাট করছেন অ্যান্ডারসন। বল হাতে রুবেলের আগ্রাসী আগমন। উড়ে গেল স্ট্যাম্প। হতবাক ইংলিশ শিবির।  উৎসবের রেনু ছড়িয়ে পড়ল গোটা টাইগার শিবিরে। উন্মন্ত উল্লম্ফনে সে কি উল্লাস মাশরাফিদের। তাদের সঙ্গে সেই উল্লাসে মাতল সাত সমুদ্দর তেরো নদী ওপারের ১৬ কোটি মানুষের বাংলাদেশও। ইংল্যান্ডকে ১৫ রানে হারিয়ে স্বপ্নের কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল ইংল্যান্ড। কি অবিশ্বাস্য, কি আনন্দ!

Bangladesh Tiger

টসে হেরেও আগে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের করা ২৭৫ রানের জবাবে ৪৮.৩ ওভারে ইংল্যান্ড অলআউট ২৬০ রানে। যাতে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করল মাশরাফির দল। হতাশায় আচ্ছাদিত গোটা ইংলিশ শিবির। নির্বাক ইংলিশ অধিনায়ক মরগ্যান, গোটা ইংলিশ মিডিয়াতে চলছে মুন্ডুপাত।

অ্যাডিলেড ওভালে শেষ মুহূর্তে তৈরী হয়েছিল টান টান উত্তেজনা। শ্বাসরূদ্ধর পরিস্থিতিতে যখন বাংলাদেশের প্রয়োজন আরও ২ উইকেট, ওই সময় ৪৮তম ওভারের তৃতীয় বলে তাসকিন আহমেদের বল খেলতে গিয়ে লং অনে ক্যাচ তুলে দেন ক্রিস ওকস। বাংলাদেশের জয়ের পথে যিনি শেষ বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু লং অনে দাঁড়িয়ে থাকা তামিম ইকবাল সহজ ক্যাচটি ফেলে দিয়ে পুরো বাংলাদেশকে শঙ্কায় ফেলে দেন।

৪৯তম ওভারে বল করতে আসেন রুবেল হোসেন। ১২ বলে তখন ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ১৬ রান। প্রথম বলেই স্টুয়ার্ট ব্রডকে বোল্ড করে ফিরিয়ে দেন তিনি। দ্বিতীয় বল কোনমতে ফেরান অ্যান্ডারসন। এরপর তৃতীয় বলেই জেমস অ্যান্ডারসনকে বোল্ড করে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন বাংলাদেশের পেসার রুবেল হোসেন। সঙ্গে সঙ্গে আনন্দে লাফিয়ে ওঠে পুরো এডিলেড। সেই আনন্দের ঢেউ একই সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে পুরো বাংলাদেশেও।

২৭৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওভারেই বাংলাদেশকে ব্রেক থ্রু প্রায় এনে দিয়েছিলেন রুবেল হোসেন। ওভারের পঞ্চম বলেই আউট সুইঙ্গার বলটি খেলতে গিয়ে পরাস্ত হন ইংলিশ ওপেনার মঈন আলি। একসঙ্গে আউটের আবেদন জানান বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। আম্পায়ার পল রেইফল সাথে সাথে লেগবিফোর আউটের আঙ্গুল তুলে দিলেন।

সঙ্গে সঙ্গে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে রিভিউ চেয়ে বসেন মঈন আলি। রিভিতে দেখা গেলো রুবেলের বলটিই পিচ করেছে লাইনের বাইরে। আউট সুইং করে বলটি শেষ পর্যন্ত লেগ স্ট্যাম্পও পুরোপুরি মিস করতো। যে কারণে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে বদলে নট আউটই ঘোষণা করা হলো মঈনকে। রিভিউ থাকায় বেঁচে গেলেনে ইংলিশ ওপেনার। আর শুরুতেই ব্রেক থ্রু হলো না বাংলাদেশের।

শেষ পর্যন্ত অষ্টম ওভারে এসে রানআউট হয়ে গেলেন মঈন আলি। আরাফাত সানির একটি বল থেকে দ্রুত রান তুলতে গিয়ে ইয়ান বেলের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হলেন তিনি।

qua

মঈন আলি আউট হলেও ইয়ান বেল আর আলেক্স হেলস মিলে ৫৪ রানের জুটি গড়ে ফেলেন। শেষ পর্যন্ত আলেক্স হেলসকে উইকেটের পেছনে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। এরপর রুবেল চমক। ক্রমেই ভয়ানক রুপে আবির্ভুত হওয়া ইয়ান বেলকে আউট করেন বাংলাদেশের তুখোর পেসার রুবেল হোসেন। ব্যক্তিগত ৬৩ রানে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দেন বেল। এর ঠিক তিন বল পরেই আবারো রুবেল ঝলক। চতুর্থ বলেই রুবেল ফেরান ইংলিশ অধিনায়ক মরগ্যানকে। তিন বলে মাত্র শুন্য রানেই সাকিব আল হাসানের ক্যাচ দেন মরগান।

গতির ঝড়ে রুবেলের পর নাম লেখান তরুন পেসার তাসকিন আহমেদ। দলীয় ১৩২ রানের মাথায় টেইলরকে স্লিপে দাঁড়ানো ইমরুল কায়েসের হাতে তালুবন্দী করেন তিনি। চার বলে মাত্র এক রান করে সাজঘরে ফেরেন টেইলর। এরপর অধিনায়ক মাশরাফির আগমন। ক্রমেই বিপদজনক হয়ে ওঠা জো রুটকে বিদায় করেন তিনি। ২৯ রান করে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রুট।

এরপর বাটলার-ওকস জুটি ভয়ই ধরিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশকে। সপ্তম উইকেট জুটিতে তারা যোগ করেন গুরুত্বপূর্ণ ৭৫ রান। দলীয় রান তখন ২৩৮। জটিল এই মুহুর্তে টাইগার শিবিরে স্বস্তি আনেন তরুন পেসার তাসকিন আহমেদ। ফেরান ৬৫ রান করা বাটলারকে। এর পরের গল্পটা সাকিবের দুর্দান্ত থ্রোতে রান আউট আর রুবেলময়। বাটলারের বিদায়ের পরই জর্ডানকে রান আউট করেন সাকিব। দলীয় রান তখন ২৩৮। নবম উইকেট জুটিতে ব্রড ও ওকস আবারো প্রতিরোধের দেয়াল করে তোলে। এই জুটিতে তারা করেন ২২ রান। এরপরই রুবেল ঝড়। ২৬০ রানের মাথায় সরাসরি বোল্ড করেন ব্রড ও ওকসকে। সেই সঙ্গে দারুণ এক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ শিবির। বাংলাদেশের হয়ে রুবেল ৪টি, তাসকিন ও মাশরাফি দুটি করে উইকেট নেন।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের সেঞ্চুরি ও মুশফিকুর রহীমের অনবদ্য ৮৯ রানের সুবাদে সাত উইকেটে ২৭৫ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডের হয়ে জর্ডান, অ্যান্ডারসন দুটি, ব্রড ও ওকস নেন একটি করে উইকেট। ম্যাচ সেরা মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।

উত্তর দিন