ব্রাউজিং করার সময় নিরাপদ থাকুনঃ কিছু ব্রাউজার টিপস

0 132

ব্রাউজিং করার সময় নিরাপদ থাকতে কে না চায়? আবার, অনেক সাইট এমন আছে যা অনেক কারনেই আমরা লুকিয়ে রাখতে চাই পরিবারের লোকজন বা ছোট ভাইবোনদের কাছ থেকে। তাই আপনাদের জন্য আজ ছোট্ট এই ব্লগে সর্বাধিক ব্যবহারিত তিনটি ব্রাউজারের কিছু টিপস নিয়ে হাজির হয়েছি। আশা করি কাজে আসবে আপনাদের।

ক্রোম

ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের কাছে গুগলের ‘ক্রোম’ ব্রাউজারটি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ব্রাউজার। গুগলের নিজস্ব প্রোডাক্ট এবং নানা রকম চমৎকার সব ফিচারের কারণে বেশির ভাগ মানুষই এই ব্রাউজারটি ব্যবহার করে থাকেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, “এই ক্রোম ব্যবহার করে অনলাইনে থাকাকালীন সময়ে আপনার নিরাপত্তা কতটুকু দিয়ে থাকে এই ব্রাউজারটি?” আপনারা নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন যে যখন আপনি প্রথম বারের মত ক্রোম ব্রাউজারটি ইন্সটল করে থাকেন তখন এটি আপনাকে আপনার জিমেইল আইডি এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করার জন্য রেকমেন্ড করে থাকে? যদিও আপনি ইচ্ছে করলেই এই ধাপটি স্কিপ করতে পারেন। যাই হোক, গুগল আপনার জিমেইল আইডি এজন্যেই সংযুক্ত করে যেন তা গুগলের অন্যান্য সার্ভিস ব্যবহারে আপনাকে আরও চমৎকার এক্সপেরিয়েন্স দিতে সক্ষম হয়। শুধু তাই নয়, ইমেইল আইডি দেয়ার ফলে গুগল আপনার সেই উক্ত আইডির জন্য একটি ডেটাবেস ক্রিয়েট করে যার মধ্যে আপনার ব্রাউজারের সাথে যুক্ত সব অ্যাড-অন, পাসওয়ার্ড, হিস্টোরি, বুকমার্কস-ইত্যাদি জমা করে রাখে। তবে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। আপনার হয়তো জানা নেই তবে গুগলের রয়েছে বেশ শক্তিশালী সলিড একটি সিস্টেম যেখানে আপনার এই তথ্য গুলো থাকে নিরাপদেই।

গুগলের মতে গুগল আপনার ইনফরমেশন যোগাড় করতে চেষ্টা করে প্রতিনিয়ত আরও ভালো এক্সপেরিয়েন্স দেয়ার জন্য, তবে আপনি ইচ্ছে করলেই কিন্তু এই অপশন গুলো অল্টার করতে পারেন।

Green Hosting

আপনি যদি না চান যে কেউ আপনার অবর্তমানে আপনার ভিসিটেড সাইট গুলোর হিস্টোরি জানুক অথবা কেউ আপনার সিস্টেমের ক্যাশ বা কুকিজে থাকা প্রাইভেট ইনফরমেশন গুলো মুছে দিক তবে আপনি ব্রাউজিং হিস্টোরি ক্লিয়ার করতে পারেন। এজন্যে আপনাকে Options > History > Clear browsing data – তে ক্লিক করতে হবে। ক্রোমে Options খুঁজে পাচ্ছেন না? ডান দিকের উপরের কোনায় নিশ্চয়ই তিনটি হরাইজন্টাল লাইন (ড্যাশ বললেই ভালো মানায়) দেখতে পাচ্ছেন? ঐটাই অপশন।

1

এছাড়াও গুগল ক্রোম ব্যবহারকারীদের সুবিধার জন্য ‘Incognito window’ সুবিধাও প্রদান করে থাকে। এই সুবিধা ব্যবহার করার সময়ে আপনি যে সব ওয়েব সাইট ভিসিট করবেন সেগুলো আপনার ব্রাউজিং হিস্টোরিতে জমা হবেনা, তবে আপনি যদি কোন সাইট বুকমার্ক করে রাখেন অথবা কোন ফাইল ডাউনলোড করেন তবে সেগুলো থেকে যাবে।

ইচ্ছে করলে আপনি আপনার প্রাইভেসি রক্ষার্থে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের ট্র্যাকিং-ও বন্ধ করতে পারেন। এর জন্য আপনাকে যেতে হবে, Settings > Show advanced settings প্যানেলে।

2

Green Hosting

ফায়ারফক্স

ফায়ারফক্স চেনেন না এরকম ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা খুব কমই হবার কথা। আপনিও যদি একজন ফায়ারফক্স ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন তবে একটি বিষয় আপনার সম্পর্কে জানা উচিত। বিষয়টি হচ্ছে, ডিফল্ট সেটিংস অনুসারে ফায়ারফক্স সকল ওয়েবসাইটকেই এর ব্যবহারকারীকে ট্র্যাক করতে দিয়ে থাকে। এটি বন্ধ করতে চাইলে মেন্যু থেকে অপশনে যান এবং এরপর প্রাইভেসি সেটিংসের আন্ডারে থাকা প্রথম অপশন “Tell sites I do not want to be tracked” সিলেক্ট করুন।

3

এবার হিস্টোরি ট্যাবের আন্ডারে থাকা ড্রপডাউন মেন্যু থেকে “Never remember history” সিলেক্ট করে দিন। ফায়ারফক্সেও কিন্তু ক্রোমের মত incognito windows সুবিধা রয়েছে। তবে, এর ক্ষেত্রে সুবিধাটিকে বলা হয় “প্রাইভেট ব্রাউজিং”।

ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার

ক্রোম এবং ফায়ারফক্সের মত ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারেও রয়েছে চমৎকার কাস্টোমাইজ্যাবল সিকিউরিটি সিস্টেম যা আপনি ইচ্ছে মত সাজিয়ে গুছিয়ে আপনার মনের মত করে নিতে পারেন।

green hosting
আপনি যদি চান আপনার প্রতি সেশন ওয়েব ব্রাউজিং-এর পর আপনার ওয়েব হিস্টোরি স্বয়ংক্রিয় ভাবে মুছে যাক তবে তাও সম্ভব। এজন্য আপনাকে বাড়তি কোন অ্যাড-অনও ব্যবহার করতে হবেনা। এর জন্য আপনাকে যেতে হবে Internet options>General এ এবং Delete browsing history on exit সুবিধার আগে টিক চিহ্ন বসাতে হবে।

আপনি চাইলে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারেও ওয়েবসাইট ট্র্যাকিং বন্ধ করতে পারেন। এর জন্য আপনাকে Preferences > Safety তে গিয়ে Turn on Do not Track request অপশনটিকে সিলেক্ট করে দিতে হবে। ব্যাস।

4

শেষ কথাঃ

খুব একটা বিস্তারিত লিখিনি জানি তবে বেসিক পর্যায়ের ব্যবহারকারী যারা আছেন তাদের জন্য অন্তত এই ব্লগটি কাজে আসবে। আর যারা গিক, যদি এমন কেউ থেকে থাকেন তবে আপনাদের জন্যেও আসছে সামনে অনেক কিছু।

Green Hosting

তথ্যসুত্র ও সংগ্রহঃ এখানে

লেখকঃ আবীর হাসান

উত্তর দিন