ভয়ংকর অপরাধ: মোবাইল গ্রামীণফোনের সিম কিনতে

1 163

sim

মোবাইল সিম ব্যবহার করার জন্য ব্যবহারকারীর নিবন্ধন বাধ্যতামূলক । নিবন্ধনের জন্য ব্যবহারকারীর ন্যাশনাল আইডি ও ছবি বাধ্যতামূলক করা হলেও এখন সিম ক্রয় বা ব্যবহারের জন্য এসবের কোনটারই প্রয়োজন হয় না। দোকানে গিয়ে ১০০/১৫০ টাকা দিলেই পেয়ে যাবেন যে কোন অপারেটরের যত খুশি সিম। বিপদের বিষয় হল, প্রত্যেক অপারেটর তাদের অফিসের ফাইলে বিক্রিত প্রত্যেকটি সিম-এর বিপরীতে ন্যাশনাল আইডি ও ছবি মজুদ রাখেন সরকারি অডিট থেকে রেহাই পাবার জন্য। দোকান থেকে নিবন্ধন ছাড়া সিম কিনলেও অপারেটর অফিসে সিম নিবন্ধন করা হয়ে যায় অটোমেটিক। কিভাবে? কোথায় পেল ক্রেতার ন্যাশনাল আইডি? কোথায় পেল ছবি?

জনশ্রুতি আছে যে, সিম বিক্রয়কারী দোকানদার ও এজেন্টরা বিভিন্ন সোর্স থেকে ছবি, ন্যাশনাল আইডি সংগ্রহ করে। এরপর নিজেরাই হাতের ছাপ দিয়ে নিবন্ধণপত্র পূরন করে দেদারসে সিম বিক্রি করে । প্রশ্ন হলো, কার সিম কে ব্যবহার করছে? এসব সিমের কোনটা দিয়ে যদি কোন অপরাধ সংঘটিত হয় তাহলে প্রকৃত অপরাধীকে কি সনাক্ত করা যাবে? নিরাপরাধ ব্যক্তি যার ভোটার আইডি ব্যবহার করা হয়েছে সে ফেঁসে যাবে কি? তখন তার উপায় কী হবে?

কেই দেখার নেই। দুদুকের চোখ অপরাধ প্রতিরোধের, প্রতিশেধকের নয়। রাজনৈতিক দলের মেনুফেস্টুতে এই ভয়ংকর অপরাধ প্রতিরোধ বা প্রতিশেধকের কোন অঙ্গীকার নেই। এই অপরাধ অধিকাংশ অপরাধের সহায়ক।

এরকম একভুক্তি সাংবাদিক দৈনিক সমকালের যুগ্ম সম্পাদক Dippnker Lahery ফেসবুকে তার ওয়ালে নিজের অভিজ্ঞতার লিখেছেন তা হুবুহু তুলে ধরা হলো

Grameenphone Sim Card

গত বছরের ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে গ্রামীণ ফোনের একটি সিম কিনতে গিয়ে নিজেকে পৃথিবীর নং-ওয়ান অপদার্থ হিসেবে আবিষ্কার করলাম। কোনো এক দুপুরে জিপির নতুন একটি সিম কেনার অভিপ্রায় নিয়ে মহল্লার একটি “ফোন-ফ্যাক্সের দোকানে” গিয়েছিলাম। দোকানদার আমাকে বললেন, রেডি সিম নিলে কোনো “কাগজ” প্রয়োজন নেই। রেডি সিম না নিলে চালু হতে ৭২ ঘণ্টা সময় লাগবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও এক কপি পাসপোর্ট সাইজের লেটেস্ট ছবি। আগে থেকেই “কাগজ” জমা দিয়ে সিম কেনার ইচ্ছা থাকায় সেই পথই বেছে নিলাম। টাকা পরিশোধের পর দোকানদার সিম হাতে দিয়ে বললেন, একটু ওয়েট করুন- বস (দোকানের মালিক) এসে চালু করে দেবে। আমার প্রশ্ন, এত তাড়াতাড়ি চালু হবে কী করে? যা, হোক মহল্লার দোকান, বিশ্বাস রেখে হাতের কিছু জমানো কাজ সেরে ঘণ্টা খানেক পর ফিরলাম। ততক্ষণে দোকানের মালিক চলে এসেছেন। উনি আমাকে বললেন, সিমটা নিয়ে যান চালু হয়ে যাবে। আমি গদগদ গাধার মত সিম নিয়ে বাড়ি ফিরলাম। দু’দিন পরেও যখন সিম চালু হলো না, আমি উদ্বিগ্ন হয়ে সেই দোকানদারের দৃষ্টি আকর্ষণ করলাম। উনি সিমটি নিয়ে আমার জাতীয় পরিচয়পত্রের আইডি নম্বর জিপিতে মেসেজ করলেন। আর বললেন, সিমটি রেখে গেলে ডিলারকে দিয়ে চালু করে দেবেন। এবার মনে হলো আমি কোনো ফাঁদে পা দিয়েছি। যা হোক, আমি নিরুপায় হয়ে সিম রেখে গেলাম। আরও দু’দিন কেটে গেল সিম চালু হলো না। এবার দোকানদার আমার সিম ফেরত দিতে গড়িমসি শুরু করলেন। আমারও ধৈর্য্য হারালো।
এরপর কেটে গেল আরও ২৪ ঘণ্টা, আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি রাশেদ ভাইকে আমার এই গাধাপোনার কথা বলায় উনি প্রথমে কিছুটা ভর্ৎসনা করলেও সমস্যা সমাধানের অভয় দিলেন। উনি বিষয়টি গ্রামীণফোনের ঊর্ধতন এক কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন। এরপর দিন দোকানদার আমাকে সিমের টাকা ফেরত দিতে রাজী হলেও ছবি বা আইডি কার্ডের ফটোকপি বা আমার সই করা ফরম দিতে চাননি। পরদিন অবশ্য আমার ছবি ও আইডি কার্ডের ফটোকপি ফেরত দেওয়া হয়। দোকানদারের বিশেষ অনুরোধে ফরমটি দোকানেই ছিঁড়ে ফেলা হয়। মাঝে মাঝে আমি সেই নম্বরে কল করে দেখা শুরু করি।

এরপর কেটে গেল এক মাস। আজ হটাতই কল করলে সেই নম্বরটি চালু পাওয়া যায়। অপর প্রান্ত থেকে একজন কলটি রিসিভ করলেও কথা না বলে কেটে দেন।

আমার সন্দেহ জেগেছে, যিনি এখন এই নম্বরটি ব্যবহার করছেন; তিনি কি ফরমালিটিজ মেইনটেন করে সিম কিনেছেন? নাকি রেডি সিম কিনলেন? রেডি সিম কিনলে আমার আশঙ্কা, সেখানে আমার “কাগজ” ব্যবহার করা হয়েছে। যদি তাই হয়, এই সিমের দায়-দায়িত্ব কে নেবে।

দেশের বৃহত একটি কর্পোরেট হাউজ হিসেবে গ্রামীণফোনের উচিত গ্রাহকের নিরাপত্তার স্বার্থে এই বিষয়গুলোর ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি দেওয়া।

প্রিয় বন্ধুরা, এই ধরনের ভোগান্তি এবং প্রতারণার শিকার হওয়ার পর আমার এখন কী করণীয় বলবেন কি…?

1 টি মন্তব্য
  1. sabbir islam বলেছেন

    ধন্যবাদ ভাই আপনাকে। আমি একটা দোকানের সাথে সম্পৃক্ত, আমার গ্রামের এক ভাইয়ের দোকান। আপনি বললেন জিপি সিমের কথা। কম্পানী থেকে জিপি সিম বিক্রি করতে তেমন কোন চাপ আসে না। কিন্তু বাংলালিঙ্ক সিম চালু করার জন্য প্রচন্ড চাপ আসে এবং কম্পনীর লোক ডুপলিকেট আই ডি দিয়ে জোড় করে সিম চালু করে দেয়। আর আপনি বললেন অন্য কেউ ফেসে যাওয়ার কথা, এখানে কোন সম্ভাবনা নাই কারন যে আই ডি গুলো দিয়ে সিম চালু করা হয় ঐ নাম ঠিকানায় কোনো লোক পাওয়া যাবে না। তবে এর প্রতি কার হওয়া দরকার। সরকারের বিষেষ নজর দেওয়া দরকার।

উত্তর দিন