ক্যামেরায় সেরা যে তিন ফোন

0 2,509

Hello Visitors,

আমি এস, এম, রাসেল। আমার এখনকার পোস্ট টি মোবাইল সম্পরক্রিত।

মোবাইল ফোনেই এখন এত ভালো ছবি তোলা যায় যে সঙ্গে আলাদা করে ক্যামেরা নেওয়ার দরকার পড়ে না। যদিও সিঙ্গেল লেন্স রিফ্লেক্স (এসএলআর) ক্যামেরার জায়গা স্মার্টফোন দখল করতে পারছে না। এর পরও স্মার্টফোনের ক্যামেরা দিয়ে ভালো মানের ছবি তুলছেন অনেকে। গুগলের নেক্সাস ৬, এলজির জি৩-এর মতো হাই এন্ডের স্মার্টফোন দিয়ে ভালো ছবি তুলতে পারবেন। কিন্তু আপনি কী শুধু ভালো ছবিতেই সন্তুষ্ট? কয়েকটি ফোন আছে, যা আপনার কাঙ্ক্ষিত ছবির জন্য আদর্শ হতে পারে।

আইফোন ৬ ও আইফোন৬ প্লাস (৬৪৯ ও ৭৪৯ মার্কিন ডলার থেকে শুরু)
গত বছরে শীর্ষ ক্যামেরা ফোন হিসেবে বিশ্লেষকেদের চোখে স্থান পেয়েছিল আইফোন ৫এস। এ বছর আইফোন৬ ও আইফোন৬ প্লাসে ক্যামেরা প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করেছে অ্যাপল। এতে আরও দ্রুতগতির ও নিখুঁত ফোকাস সুবিধা যুক্ত হয়েছে। চলমান বস্তুর ছবি তুলতেও নতুন আইফোন কার্যকর। ইনডোরে বা রাতের বেলা ছবি তোলা হলেও তা অস্বচ্ছ হয় না। অনেক ক্যামেরা ফোনে বেশিক্ষণ শাটার খোলা রাখলে ছবি ঘোলা হয়। এ ছাড়া আইফোন৬ প্লাসে ব্লার বা অস্বচ্ছ ছবি ঠেকাতে অ্যান্টি-শেক প্রযুক্তি রয়েছে যাতে কাঁপা কাঁপা হাতে ছবি তুললেও তাতে স্বচ্ছ ছবি ওঠে।
যাঁরা বড় স্ক্রিনের জন্য ফোন কিনবেন, তাঁদের জন্য আইফোন৬ প্লাস ভালো হবে। অ্যাপল নতুন আইফোনে বেশি মেগাপিক্সেল যোগ করেনি, তবে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরাকে আরও উন্নত করেছে। এতে যুক্ত হয়েছে ট্রু টোন ফ্ল্যাশ ও ১.৫ মাইক্রন পিক্সেল সেন্সর। এ ছাড়াও দ্রুতগতির অটোফোকাস ক্যামেরার জন্য ফোকাস পিক্সেল যুক্ত করেছে অ্যাপল।
বর্তমানে সেলফি এখন তুমুল জনপ্রিয়। অ্যাপলও এ জোয়ারে গা ভাসিয়েছে। নতুন আইফোনের সামনের ক্যামেরাও সেলফি তোলার জন্য উন্নত হয়েছে। উন্নত ‘ফেস ডিটেকশন’ প্রযুক্তি সুবিধায় ফেসটাইম এইচডি ক্যামেরা যুক্ত হয়েছে নতুন আইফোনে।
আইফোন৬-এ রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। এতে অন্যান্য ফিচার হিসেবে রয়েছে ডুয়াল এলইডি ফ্ল্যাশ, অ্যাপারচার সাইজ এফটু ডট টু, ব্যাক ইলুমিনেটেড সেন্সর, অটো ফোকাস, ফেস ডিটেকশন, টাচ টু ফোকাস, ডিজিট্যাল ইমেজ স্টেবিলাইজেশন, ডিজিটাল জুম, জিও ট্যাগিং, এইচডিআর প্যানোরমা। এর সামনেও রয়েছে ১.২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা।
অবশ্য আইফোনে তোলা ছবির রেজুলেশন সবসময় যে ভালো হয় তা বলা যাবে না। কোনো নির্দিষ্ট পরিবেশে আইফোনের চেয়ে অন্যান্য ফোন ভালো ছবি তুলতে পারলেও বেশ কিছু ক্ষেত্রে ক্যামেরা ফোন হিসেবেও আইফোনই সেরা।

স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৪ ও নোট এজ (৭০০ ও ৮৪০ মার্কিন ডলার থেকে শুরু)

রংসমৃদ্ধ ছবি বলতে নোট ফোনে তোলা ছবিকেই সেরা বলতে হবে। নোট ৪ দিয়ে তোলা ছবি দেখে বন্ধুরা ‘চমত্কার’ ছবি বলতে বাধ্য। নোটের সঙ্গে থাকা অ্যামোলেড স্ক্রিন প্রযুক্তি তাতে অনেকটাই অবদান রাখে। কিন্তু যখন সাধারণ এলসিডি স্ক্রিনের ল্যাপটপে ওই ছবি দেখা হয়, তখনো প্রায় কাছাকাছি রং পাওয়া যায়। কিন্তু অনেক সময় নোটে আবার মাত্রাতিরিক্ত রং প্রদর্শন করে বলে তা সফটওয়্যার দিয়ে ঠিক করা লাগে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যখন ইনডোরে মুখের ছবি তোলা হয়, তখন এতে কমলা রং বেশি দেখা যায়। রং প্রদর্শনে আইফোন৬ নোট ৪-এর চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও স্বাভাবিক ছবি তোলার জন্য আবার আইফোনই ভালো। নোটের ক্যামেরা ১৬ মেগাপিক্সেলের। অবশ্য বেশি মেগাপিক্সেল মানেই যে ভালো ছবি তা নয়। এই ফোনে কম আলোতে ভালো ছবি ওঠে। এমনটি এতে অ্যান্টি শেকিং প্রযুক্তি আছে যাতে হাত কাপলেও ছবি ভালো ওঠে।

মাইক্রোসফট লুমিয়া আইকন (৪৯৯ মার্কিন ডলার)
ক্যামেরা ফিচারের ফোন হিসেবে আরেকটি উল্লেখযোগ্য ফোন হচ্ছে মাইক্রোসফট লুমিয়া আইকন। মাইক্রোসফটের ফ্ল্যাগশিপ এই স্মার্টফোনটিতে রয়েছে পাঁচ ইঞ্চির অ্যামোলেড ডিসপ্লে। এর বেসিক কানেক্টিভিটি সুবিধার মধ্যে আছে ওয়াইফাই, হটস্পট, এটুডিপি ব্লুটুথ, মাইক্রোইউএসবি ২.০। উচ্চগতির থ্রিজি ও ফোরজি নেটওয়ার্ক সমর্থন করে এটি। স্মার্টফোনটিতে রয়েছে ২০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। ক্যামেরার লেন্স কার্ল জেইস প্রযুক্তির। এ ছাড়াও আছে ডুয়াল এলইডি ফ্ল্যাশ । নিখুঁত ও সর্বোচ্চ কোয়ালিটির ছবির পাশাপাশি ছবি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মতো বেশ কিছু ফিচার রয়েছে এতে। ফ্ল্যাশ, কালার ব্যালেন্স, শাটার স্পিড, আইএসও, এক্সপোজার ইত্যাদি ডিএসএলআরের মতো ম্যানুয়ালি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। এছাড়া ফোনটির ফ্রন্ট ক্যামেরা ১.২ মেগাপিক্সেল।

উত্তর দিন