সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার পর্যটন আকর্ষণ/ ভ্রমন করার স্থান

0 295

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান

 

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি শ্রীমঙ্গলের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। মৌলভীবাজার ফরেস্ট রেঞ্জের আওতাধীন শ্রীমঙ্গলের এই ন্যাশনাল পার্ক শুধু যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অনন্য শুধু তাই নয়, দেশের সবকটি বনাঞ্চলের মধ্যে সব চেয়ে নান্দনিক ও  আকর্ষনীয়। কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত এই জাতীয় উদ্যানটি মৌলভীবাজার জেলা শহর হতে ৩০ কিমি দূরে। শ্রীমঙ্গল থেকে ভানুগাছ-কমলগঞ্জের রাস্তায় ৭ কিমি এগুলেই পাবেন এর সীমানা।

মাধবপুর লেক ও চা বাগান

 

 চারিদিকে সুউচ্চ পাহাড়ের মাঝখানে অবস্থিত লেকটি সত্যি অপূর্ব। লেকের ঝলমল পানি, ছায়া সুনিবিড় পরিবেশ, শাপলা শালুকের উপস্থিতি আরও মনোমুগ্ধকর করে তুলে। কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নে পাত্রখলা চা বাগানে লেকটির অবস্থান। এটি মৌলভীবাজার শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে ও শ্রীমঙ্গল থেকে ১০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত।

মাধবকুন্ড জলপ্রপাত ও ইকোপার্ক

 

মৌলভীবাজার জ়েলার বড়লেখা উপজেলার কাঁঠালতলিতে অবস্থিত। পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে অন্যতম বিখ্যাত এই স্থানটিতে বর্তমানে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের রেস্টহাউজ ও রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এছাড়া সরকারি উদ্যোগে পুরো এলাকাটিকে ঘিরে তৈরি করা হয়েছে “মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক”। সিলেট সদর থেকে ৭২ কিলোমিটার, মৌলভীবাজার জেলা থেকে ৭০ কিলোমিটার, কুলাউড়া রেলওয়ে জংশন থেকে ৩২ কিলোমিটার এবং কাঁঠালতলী থেকে ৮ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত।

 

পরিকুন্ড জলপ্রপাত

 

আমরা কমবেশী সবাই মাধবকুন্ড জলপ্রপাত এর সাথে পরিচিত। কিন্তু অনেকেই হয়তো জানি না যে মাধবকুন্ড জলপ্রপাতের খুব কাছেই লুকিয়ে আছে আর এক বিস্ময়, একটি বুনো ঝর্না- পরিকুন্ড জলপ্রপাত। সবুজে আবৃত আর পাহাড়ে ঘেরা এই জলপ্রপাতটি সিলেট বিভাগের মৌলবিবাজার জেলায় অবস্থিত। মাধবকুন্ড জলপ্রপাত হতে মাত্র ১০-১৫ মিনিট হাটার পথ। তার পরেই পেয়ে যাবেন নিরবে নিভৃতে ঝরে পরা এই দৃষ্টিনন্দন ঝর্নাটি। শীতকালে  জলপ্রপাতে পানি কম থাকে। এজন্য বর্ষায় যাওয়া ভালো।

 

হাকালুকি হাওর

 

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ হাওর।  এর আয়তন ১৮,১১৫ হেক্টর। এটি মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলায় অবস্হিত। বর্ষাকালে বিস্তৃত জলরাশি এ হাওরের রূপ ঠিক যেন ভাসমান সাগর। আদিগন্তু বিস্তৃত জলরাশি। জলের মাঝে মাঝে দুই-একটি বর্ষীয়ান হিজল, তমাল বৃক্ষ। অথচ শীতকালে বিস্তৃত এই হাওর ধু-ধু সবুজপ্রান্তর, কোথাও বা ধান ক্ষেত এবং খানাখন্দ নিচু ভূমিতে প্রায় ২৩৮ টি বিলের সমষ্টি। হাকালুকি হাওর মাছের জন্য প্রসিদ্ধ। হাকালুকি হাওর বাংলাদেশের সংরক্ষিত জলাভূমি। শীত মৌসুমে এশিয়ার উত্তরাংশের সাইবেরিয়া থেকে প্রায় ২৫ প্রজাতির হাঁস এবং জলচর নানা পাখি পরিযায়ী হয়ে আসে। এছাড়া স্থানীয় প্রায় ১০০ প্রজাতির পাখি সারাবছর এখানে দেখা মেলে।

 

 

বাইক্কা বিল

 

শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওড়ের পূর্ব দিকের প্রায় ১০০ হেক্টর আয়তনের একটি জলাভূমির নাম বাইক্কা বিল। ১ জুলাই ২০০৩ তারিখে ভূমি মন্ত্রণালয় এ বিলটিকে মৎস্য সম্পদের একটি স্থায়ী অভয়াশ্রম হিসেবে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিল মাছের জন্যেই শুধু নয়, উপরন্তু পাখি ও অন্যান্য অনেক প্রাণীর জন্যও একটি চমৎকার নিরাপদ আবাসস্থল। নয়নাভিরাম এ জলাভূমিতে হাজারো শাপলা আর পদ্ম ফুল ফোটে। বিলের বুনো বাসিন্দা আর শীতের অতিথিদের ভালোভাবে দেখার জন্য এখানে একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার রয়েছে। মৌলভীবাজার জেলা শহর হতে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থান এই বিলের।

বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনষ্টিটিউট:

১৯৫৭ সালে পাকিস্তান চা গবেষণা প্রতিষ্ঠান (পিটিআরআই) স্থাপন করা হয়। বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৭৩ সালে এ গবেষণা প্রতিষ্ঠানটিকে একটি পূর্নঙ্গ গবেষণা ইনষ্টিটিউট এ রূপান্তর করে এর নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনষ্টিটিউট (বিটিআরআই)। এ ইনষ্টিটিউটটি চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলের গর্ব। শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চায়ের গবেষণার মাধ্যমেতার অবস্থান সুসংহত করে আসছে। দুরত্ব : মৌলভীবাজার জেলা শহর হতে প্রায় ২৫ কিলোমিটার।

 

বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক:

 

সবুজে আচ্ছাদিত, পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত মৌলভীবাজারের বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক। এটি মৌলভীবাজারের ৯০ বছরের পুরনো রিজার্ভ ফরেস্ট। ব্রিটিশ সরকার ১৯১৬ সালে এ এলাকাকে রিজার্ভ ফরেস্ট ঘোষণা করে। ২০০৬ সালের জুলাই মাসে এটিকে ইকোপার্ক ঘোষণা করা হয়। বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক এর অবস্থান মৌলভীবাজার শহর থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার ভিতরে। মিশ্র চিরহরিৎ প্রকৃতির এই বনে একসময় মায়াহরিণ, চিতাবাঘ ও উল্লুক দেখা গেলেও এখন তা বিলুপ্ত। তবে এখনও বানর, হনুমান, শিয়াল, মেছোবাঘ, কাঠবিড়ালি সহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী দেখা যায়। ঘুঘু, শালিক, কাঠঠোকরা, বাবুই সহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি এবং শাল,গর্জন,শিমুল,সেগুন সহ বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ দেখা যায়।

 

হযরত শাহ মোস্তফা (র:) এর মাজার শরীফ:

হযরত শাহজালাল (র:) এর অন্যতম অনুসারী হযরত শাহ মোস্তফা (র:) ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলী (র:) এর বংশধর ছিলেন। প্রায় সাতশত বছর আগে মৌলভীবাজার জেলার মোস্তফাপুর-এ বসতি স্থাপন করেন এবং এলাকায় ইসলাম ধর্ম প্রচার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা পালন করেন। মৌলভীবাজার শহরের প্রতিষ্ঠাতা মৌলভী সৈয়দ কুদরত উল্লা হযরত শাহ মোস্তফা (র:) এর বংশধর ছিলেন।

 

হামহাম জলপ্রপাত

 

সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি রিজার্ভ ফরেস্টের কুরমা বনবিটের গহিন অরণ্যঘেরা দুর্গম পাহাড়ী এলাকার রযেছে অপূর্ব এই জলপ্রপাত। এডভেঞ্চার প্রিয় পর্যটক যারা চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করেন কেবল তাদের জন্যই এই ঝর্না দর্শন। সরকারী কোন উদ্যোগ না থাকায় উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই সেখানে।

সুত্রঃ ট্যুরিজম বাংলাদেশ

উত্তর দিন