যেভাবে হার্ডডিস্ক থেকেই বুট করে উইন্ডোজ সেটআপ দিবেন (সুপার ফাস্ট সেটআপ )!!!

5 221

স্লামুয়ালাইকুম ! জুম্মা মোবারক । সৃষ্টিকর্তার অশেষ মেহেরবানীতে আশাকরি সবাই ভাল ও সুস্থ আছেন ।বহুদিন লেখা লেখি করছি না । সময় আর মানসিক অবস্থা ভাল না । দিনে দিনে পাগল হয়ে যাচ্ছি (আশেপাশের সবাই বলে ) 🙁  । আমিও জানি আমার মাথায় কিঞ্চিৎ সমস্যা আছে । যে পোস্টটি আজ করছি এটা লিখেছি আরও ৩-৪ মাস বা তারও আগে 😛 । পোস্ট করতে মনে ছিল না :v ।

আমি সব সময় চেষ্টা করি আনকমন কিন্তু দরকারি টাইপ কিছু পোস্ট করার । কিন্তু আমি সত্যি জানি না পোস্টটা আপনাদের জন্য কতটা দরকারি হবে বা এখনো এটা আনকমন এর পর্যায় আছে কিনা । যা-ই হোক , ৫/১০ জন লাগবে না , এই পোস্ট পড়ে যদি ১ জনের ও একটু উপকার হয় তবেই আমি ধন্য । আসলে টেকনোলোজি হল শেয়ারের বিষয় । নতুন কিছু করা আর শেয়ার করায় অস্বাভাবিক আনন্দ । তাই সময় পেলেই ” পিসি হেল্পলাইন বিডি ”  😀 । সেই প্রায় প্রথম থেকে মানে ২০১১ থেকেই এর সাথে থাকার কারণে কেরাম যেন মায়া পড়ে গেছে :v ; নিজের ব্লগের প্রতিও এত মায়া নাই 😀 ।  কিন্তু , আমি একটু মাথাফুলা টাইপ , শর্টটাইম মেমোরি আর মাথায় কিঞ্চিৎ সমস্যা থাকার কারণে পোস্ট খুবই কম 🙁 । আবার মাঝে এক দুর্ঘটনায় অনেক পোস্ট রিমুভ হয়ে গিয়েছিল 🙁 ।

যা ই হোক আসল কাজে যাই …

আমারা সবাই ই কম বেশি উইন্ডোজ সেটআপ করেছি বা করি । কিন্তু সে গুলো সব-ই সাধারনত সিডি/ডিভিডি বা পেনড্রাইভ এর সাহায্যে ।

হার্ডডিস্ক থেকে উইন্ডোজ সেটআপ প্রসেস জানে বা করে এমন লোক সংখা খুব কম । কেউ কেউ হয়ত করেছে … কিন্তু তা ব্যাকাপ রিষ্টোর ।এ পদ্ধতিতে, আগে একটা সেটআপ দিয়ে তার ইমেজ হার্ডডিস্ক এ রেখে একটা রিকভারি সিডি দিয়ে বুট করে সেটআপ বা ওই ইমেজ রিষ্টোর করা হয় । সাধারণত সব সার্ভিসিং সেন্টার বা নতুন কম্পিউটার বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুল এভাবেই উইন্ডোজ সেটআপ করে ।

কিন্তু আমি যে পদ্ধতি এখন আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চলেছে এটা পুরোটাই ভিন্ন । এ পদ্ধতি আমারা হার্ডডিস্ক এর একটা পার্টিশনকে বুটেবেল সিডি / ডিভিডি বা পেনড্রাইভ হিসেবে ইউজ করব । এবং ওই পার্টিশন থেকে বুট করে ফ্রেশ বা ক্লিন উইন্ডোজ সেটআপ দিব ।

 

প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিঃ

  • উইন্ডোজ এর একটা ISO ইমেজ ফাইল বা সিডি ।
  • Easy BCD সফটওয়্যার ।
  • হার্ডডিস্ক পার্টিশন করার জন্য ৪/৬ জিবি খালি জায়গা ।

১। প্রথমে ওয়েব থেকে বা সিডি/ডিভিডি থেকে যে উইন্ডোজ সেটআপ দিতে চান তার একটা আইএসও ইমেজ সংগ্রহ করুন ।

২। এখানে থেকে Easy BCD ডাউনলোড করুন ।

৩। এবার My Computer > Manage > Disk Management এ যান ।

computer manage

 

৪। Disk Management এ গেলে আপনার কম্পিউটার এর সব ড্রাইভ বা পার্টিশন শো করবে । আপনি যে পার্টিশন থেকে জায়গা নিয়ে নতুন পার্টিশন করতে চান , সেটার উপর রাইট ক্লিক করে “Shrink Volume  “  এ ক্লিক করুন ।

srink vol

 

৫। এবার জায়গা চেক করার জন্য কিছু সময় লাগতে পারে । অপেক্ষা করুন ।

 

wait..

 

৬। এবার নিচের ছবির মত উইন্ডো এলে হাইলাইট করা এলাকায় ছবির মত 6144 দিন । আপনার আইএসও ইমেজ অনুযায়ী আরও বেশি বা কমও দিতে পারেন ।  এখানে , কাঙ্ক্ষিত পার্টিশন তৈরি করার জন্য আমারা বর্তমান পার্টিশন থেকে ৬ জিবি জায়গা নিচ্ছি । আপনি চাইলে ৪ বা ৩ জিবি ও নিতে পারেন , আপনার চাহিদা মত । এবার “Shrink” বাটনে ক্লিক করুন ।

 

srink vol2

 

৭। এখন দেখুন ৬ জিবি জায়গা আন-অ্যাালকেটেড নামে খালি হয়েছে । ওখানে রাইট ক্লিক করে “New simple volume …” এ ক্লিক করুন ।

 

new simple vol

 

৮। এবার “New simple volume wizard “ আসবে ওখানে “Next” বাটনে ক্লিক করুন ।

৯। পরের উইন্ডোতে সব কিছু অপরিবর্তিত রেখে “Next “ বাটনে ক্লিক করুন ।

১০।পরের উইন্ডোতে চাইলে একটি পছন্দ মত ড্রাইভ লেটার সিলেক্ট করতে পারেন । ইচ্ছ না হলে অপরিবর্তিত রেখে “Next “ বাটনে ক্লিক করুন ।

১১। এবার নিচের ছবির মত সেটিং করুন । লেভেল এ “Recovery” বা একটা নাম দিন । এবং Next বাটন ক্লিক করুন ।

১২। পরের উইন্ডোতে Finish বাটনে ক্লিক করুন আর পার্টিশন তৈরি ও ফরম্যাট এর জন্য কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করুন । দেখুন আগের আন-অ্যাালকেটেড অংশ এখন Recovery নামে একটা পার্টিশন এ পরিবর্তিত হয়েছে ।

১৩। এবার ISO ফাইলটি কে মাউন্ট করুন বা Extract করুন । মাউন্ট এর ক্ষেত্রে এবং  Extract এর ক্ষেত্রে WinRAR ব্যাবহার করতে পারেন ।

 

ISO mount

 

১৪। Extract হয়ে গেলে ওই ফোল্ডার এর ভিতরে থাকা সব ফাইল কপি করে আগের তৈরি করা Recovery নামক নতুন পার্টিশন এর নিয়ে যান … এবং পেস্ট করুন ।

১৫। এবার Control Panel > Appearance and Personalization > এ যান এবং Folder Option এ ক্লিক করে ওপেন করুন । এক্সপি এর ক্ষেত্রে উপরে ম্যানুবার এ অপশন পেয়ে যাবেন । ওখানে গিয়ে নিচের ছবির মত সেটিং করে Apply > ok ।

 

folder options

 

১৬। এবার আগে ডাউনলোড করা Easy BCD ইন্সটল করে করে ওপেন করুন । add new entry তে ক্লিক করুন । নিচে potable/external media অপশন গ্যালারি থেকে Win PE ট্যাব সিলেক্ট করুন । Type: WIM Image (ramdiisk) , Name: Recovery রেখে Path বক্স এর পাশের ব্রাউজ বাটনে ক্লিক করে ব্রাউজ করে আপনার “Recovery” পার্টিশন এর Source ফোল্ডার থেকে boot.wim সিলেক্ট করুন এবং Add new entry তে ক্লিক করুন । তাহলে একটি Successful ম্যাসেজ দেখতে পাবেন । মানে কাজ শেষ …

 

easy BCD

 

মূল কাজ শেষ এবার সুধু কম্পিউটার রিস্টার্ট দিন । তাহলে Boot selection menu তে আপনার বর্তমান উইন্ডোজ ও Recovery নামে দুইটা অপশন দেখতে পাবেন ।

উইন্ডোজ সেটআপ দেয়ার জন্য Recovery সিলেক্ট করেবন । তার পরে কাজ সব আগের মানে সিডি/ডিভিডি বা পেনড্রাইভ থেকে সেটআপ দেয়ার মতই ।

আশাকরি সবাই বুঝতে পেরেছেন এবং কারও না কারও উপকারে আসবে । আজকের মত এ পর্যন্তই । বেঁচে থাকলে আর সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে ভবিষ্যতে অবশ্যই নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব । সবাই সব সময় ভাল থাকুন । সুস্থ থাকুন এই কামনা করি । আর একটা অনুরোধ টেকনোলজির সঠিক ব্যাবহার করুন । গ্যাস ও বিদ্যুৎ ব্যাবহারে সচেতন হোন ।

যে কোন সমস্যা বা জিজ্ঞাসা থাকলে আমার সাথে ফেসবুক এ যোগাযোগ করুন । আমার প্রফাইল

হাতে সময় থাকলে আমার টেক সম্পর্কিত ফেসবুক পেজ থেকে ঘুরে আসতে পারেন । ১০০% ভুয়া ও এ্যড ফ্রী পেজ । আশাকরি ভাল লাগবে 🙂 । ফেসবুক পেজ

5 মন্তব্য
  1. Helal Ahmed বলেছেন

    Dhonnobad! asolei Onnorokom ekta post!

  2. Tasfid Mahfuj বলেছেন

    Darun…

    1. কম্পিউটার ভাইরাস বলেছেন

      থ্যাংকস 🙂

  3. সুমন বলেছেন

    Onek Dhonnobad Vai. Kaje Ashbe….

    1. কম্পিউটার ভাইরাস বলেছেন

      জেনে খুশি হলাম । 😀

উত্তর দিন