শেষ, শেষ বাংলাদেশের ইন্টারনেট একেবারে শেষ

1 94

বেশ দরকারী একটা টিউন, ছোট বড় সবার দেখা দরকার।

টাইটেল দেখিয়ে ভয় পাইয়ে দেয়ার জন্য দুঃখিত, বাট আমার আর কিছু করার নাই, কথা সত্য।

কদিন হলো, একটা ব্যাপার খেয়াল করেছেন কি ? বাংলাদেশের হিট ওয়েবসাইট কোনগুলো এখন বলেন তো।

হুম আমিও জানি, শুরুতেই আছে ফেসবুক, দা সোসাল নেটয়ার্ক, বা টেক জায়ান্ট ফেসবুক। আমাদের দেশে এর প্রভাব এতটাই বেশী যে আমরা গুগলের থেকেও ফেসবুক কে বেশী প্রাধান্য দেই। অনেকে আছেন যারা ইন্টারনেট বলতে ফেসবুক কেই বুঝি, অনেকে একটা ফোন বা ইন্টারনেট কানেকশন নেই, ফেসবুক ব্রাউজ করার জন্য।

পেছনের কারন গুলো কি আমরা জানি ???

১। মার্কেটিং পলিসি।ভয়াবহ, ফেসবুকের একটা আলাদা মনোবিজ্ঞানী টিম আছে, যাদের পরামর্শে ফেসবুকের ডিজাইন এমন ভাবে করা , যে আপনি একটু পর পর কে কি মেসেজ দিলো, কি নোটিফকেশন আসলো, চেক করতে ঢুকেন ফেসবুকে।

২। আমাদের দেশের গ্রামীনফোন টাইপ সর্বগ্রাসী কম্পানীর বিজনেস পলিসি, যারা নিজেদের ব্যাবহারকারী বাড়াতে রাত ১২ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ফ্রি করে দিয়েছে। এতে করে সব নেট ব্যাবহারকারী ফেসবুকেই পড়ে থাকতেছেন, অন্য সাইটগুলোর কথা মাথাতেও আসতেছে না।সন্ধ্যা ৬ টায় আপনার অনলাইন ফ্রেন্ড এর সংখ্যা চেক করলে বুঝতে পারবেন আমার কথা।

আচ্ছা ফেসবুক মানলাম ভালো জিনিষ, এরপরে আছে নিউজ পেপার সাইট।

নায়কের মোবাইল খেয়ে ফেললেন নাইকা” টাইপ খবর আমাদের খাওয়ান এনারা। কবছর আগেও দেশে নিউজপেপার সাইট ছিলো হাতেগোনা কয়েক টা । এখন ঘরে ঘরে নিউজ পেপার, বিডিনিউজ এর মত সাইট যেখানে খবর সংগ্রহের জন্য রিপোর্টার রেখেছেন , সেখানে এনারা সেই খবর কপি পেস্ট মেরে নিজেদের সাইট হিট করে ফেলতেছেন ফেসবুকে লিঙ্ক শেয়ার করে। অবশ্য দরকারী লিঙ্ক না, লিঙ্কগুলো হয় “নায়কের প্যান্ট প্যারাসুট হয়ে গেলো, নাইকা তাতে করে উড়ে গেলেন দুবাই তে” টাইপের। ভিজিটর ধরে রাখতে পুরাতন সাইটগুলো একি মার্কেটিং পলিসির আশ্রয় নিতেছেন, এতে ভিজিটর বাড়লেও মান যে কমে যাচ্ছে, সেদিকে কারো নজর নাই। আমাকে পেশার খাতিরে মাসে অন্তত একটা নিউজ পেপার ওয়েবসাইট বানিয়ে দিতে হয়, এগুলো চলে কেমনে আমার কোন ধারনা নাই।

ও হ্যা, সরকারী রেজাল্টের ওয়েবসাইট।কি কোয়ালিটির সার্ভার ব্যাবহার করে আল্লাহ মালুম। আমি কোনদিন রেজাল্টের সময় একবার চেষ্টা করে ঢুকতে পারি নাই। সরকারী টাকায় কটাকা আর লাগে একটা ভালো ভিপিএস কি ডেডীকেটেড সার্ভার ব্যাবহার করতে এনাদের জানার কথা। তবু কি সার্ভার ব্যাবহার করে এই সাইটগুলো চলে খুজে বের করা দরকার। আমার মিউজিক সার্চ ইঞ্জিনে একদিন ৪৪ গিগাবাইট ব্যান্ডওয়াডথ পর্যন্ত খরচ হইলেও সাইট ডাউন হয় নাই এ পর্যন্ত। আর হায়রে আমাদের সরকারী ওয়েবসাইট………

টেকটিউন্স এর মত সাইট পিছিয়ে পড়তেছে । টেকটিউন্স নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে রেজিষ্ট্রেষন ওপেন করে দেয় কমাস আগে। এতে নিজেদের সার্থ হাসিল কারী টাইপ ব্যাক্তিরা সারাদিন পোস্ট করতে থাকেন, পুরনো টিউনার দের লেখা হারায়া যায় পোস্ট করার একটু পরেই। আগে যেখানে আমি টিউন করলে ২ হাজার ভিউ হতো, সেটা এখন ১০০ পার হয়না। পুরোনো টিউনার দের হতাস কইরা কি লাভ হলো না লস হলো কতৃপক্ষ যানেন। আমার সমসাময়ীক টিউনার দের অনেক কেই দেখি না। “ ওমুক পিটিসি সাইটে যায়া একরাতে কোটিপতি হয়ে যান “ টিউন দেখতে আমরা টিটিতে পইড়া থাকতাম ??

সো, কয়েক বছরের মধ্য বাংলাদেশের সব ভালো ওয়েবসাইট শেষ হয়ে যাবে । অনলাইনে থাকতে বেচে দেন, অস্লীল নিউজ পড়েন ওয়েবসাইট। পঙ্গু বাংলাদেশী জাতি ইন্টারনেটের মাধ্যমে উন্নত হবার আশা শেষ, ইন্টারনেট হয়ে যাবে সুধু টাকা আয় করুন দের জন্য। জানতে চাই, জানাতে চাই, শিখতে চাই সব শেষ।

লেখাটা অতি দুঃখের সাথে ফাজলামী ডট কমে প্রথম প্রকাশিত।

1 টি মন্তব্য
  1. Shamim Osman Khan বলেছেন

    আপনার সাথে আমি একমত। ব্যাংঙের ছাতার মত জম্মানো নিউজ সাইট গুলোক সম্পর্কে আপনি ঠিকই বলেছেন। টেকটিউন্স আর পিসি হেল্পলাইন দুটোর কিন্তু দিন দিন জনপ্রিয়তা কমছে। আসলে এই দুটো বা এই রকম সাইট গুলোতে যারা লেখা লেখি করে তারা কিছু দিন পরে নিজেই সাইট খুলে বসে। যার ফলে প্রতিযোগীতামূলক বাজারে প্রযুক্তিক এই সাইটগুলোর জনপ্রিয়তা ধরে রাখাটা খুবই কঠিন সাধ্য ব্যপার হয়ে দাড়িয়েছে।
    তাছাড়া আপনি বলেছেন বাংলাদেশের সরকারী সাইট গুলোর কথা। একথাতও আমি আপনার সাথে একমত কারণ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোন রেজাল্ট প্রকাশিত হলে মাত্র আধা থেকে এক ঘন্টার মধ্যেই Server not found হয়ে যায়। আর এসএসসি বা এইচ এসসি রেজাল্ট দিলেতো অবস্থা আরোও খারাপ হয়ে যায়।
    যাক এসব কথা তবে আপনার পোষ্ট পড়ে মনে হলো আপনি প্রফেশনাল ব্লগার 🙂

উত্তর দিন