প্রিন্টার কিনতে চাইলে বুঝে শুনে কিনুন ও প্রিন্টারের দাম জানুন

0 840

বর্তমান জীবনে প্রিন্টার অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটা জিনিস। ব্যক্তিগত কাজে, অফিসের কাজে এবং অন্যান্য কাজেও প্রিন্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। বাজারে বিভিন্ন আকার এবং ফাংশনের মডেল ও বিভিন্ন দামের প্রিন্টার পাওয়া যায় । আপনি যদি একটি নতুন প্রিন্টার কিনতে চান তাহলে আপনাকে কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আপনি কি সাদাকালো নাকি রঙ্গিন প্রিন্ট করতে চান? প্রিন্টারের দাম কত , আপনার কি লেজার, এলইড, ইঙ্কজেট নাকি সলিড-ইঙ্ক প্রযুক্তি পছন্দ? নাকি আপনার  তারহীন নেটওয়ার্কিং অথবা কপি / স্ক্যান / ফ্যাক্স ইত্যাদি  বৈশিষ্ট্য একসাথে প্রযোজন? আপনি  প্রিন্টার দিয়ে কি করতে চান, আপনি কি পরিমান প্রিন্ট করবেন, কতজন প্রিন্টার ব্যবহার করবে এবং স্বভাবত আপনি কত ব্যয় করতে পারেন- প্রিন্টার স্থাপন আর কালি বদলানোর জন্য ইত্যাদি, এই সব বিষয় নির্ভর করবে প্রিন্টার পছন্দ করার ক্ষেত্রে।
আমরা আপনাকে সাহায্য করবো পছন্দের প্রিন্টার খুজে পেতে। এই প্রিন্টার কেনার গাইডে আমরা প্রিন্টারের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করছি যা আপনাকে সাহায্য করবে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সবথেকে ভাল মডেল বেছে নিতে।

Hp Printer Price In Bangladeshক্লাউড/মোবাইল প্রিন্টিং

যেহেতু স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেট প্রচুর সংখ্যায় উৎপাদন করা হচ্ছে তাই এই ডিভাইসের মাধ্যমে প্রিন্টও সুবিধা পেতে চাচ্ছে।  আর তার জন্যই বর্তমানে আমরা ক্লাউড প্রিন্টিং অথবা মোবাইল প্রিন্টিং-এর ব্যাপারে শুনছি। এই দুইটা জিনিষ কম বেশি একই, ড্রাইভার ইনস্টল ছাড়াই একটি কাছাকাছি কোন প্রিন্টারে অথবা অন্য স্থান থেকে প্রিন্টারে কাজ পাঠানো। এই ধারণটা একদম নতুন না। যদিও এখন, ক্লাউড/ মোবাইল প্রিন্টিং একটি সর্বজনীন ফাংশন এবং আমরা  এটাও জানতে পারেছি এটি এক সময় প্রিন্টার ড্রাইভাইসের হ্রাসের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। মোবাইল প্রিন্টিং এর কাজটি আপনি আপনার ডিভাইস থেকে সরাসরি ওয়াইফাই বা বøুটুথের মাধ্যমে প্রিন্টারে পাঠাতে পারেন। ক্লাউড প্রিন্টিঙ্গের কাজ কিছুটা সময় সাপেক্ষ কারণ এইটা সাধারণত ইমেইল সার্ভারের মাধ্যমে পাঠাতে হয় এবং প্রিন্টার নিজস্ব ই-মেইল ঠিকানার মাধ্যমে কাজটা নেওয়া হয়। ক্লাউড/মোবাইল প্রিন্টিং প্রযুক্তির প্রাথমিক পর্যায়ের অনুরূপ কাজ করতে পারবে এইরূপ  বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আপনি খুজে পাবেন যাদের সবগুলোর মধ্যে রয়েছে কিছুটা সীমাবদ্ধতা, যেমন- কোন ধরনের ডিভাইস এবং প্রিন্টার উপযুক্ত অথবা কোন ধরনের ফাইল আপনি প্রিন্ট করতে পারবেন ইত্যাদি।

এয়ার প্রিন্ট, ই-প্রিন্ট, গুগুল  ক্লাউড প্রিন্ট
২০১০ সালে অ্যাপলের এয়ার প্রিন্টা এবং এইচপি এর ই-প্রিন্ট উভয়ই বাজারে আসে। এয়ার প্রিন্ট ছোট এবং আইওস ডিভাইস সমর্থন করে কিন্তু বর্তমানে ক্রমবর্ধমান সব প্রিন্টার ক্যানন এবং এইচপির। ই-প্রিন্ট শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সংখ্যক এইচপি প্রিন্টারের ক্ষেত্রে, আর বেশিরভাগ ব্যবহৃত হয় ব্যক্তিগত এবং ছোট ছোট অফিসের কাজে। ই-প্রিন্ট প্রিন্টার তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ ই-মেইল ঠিকানা সমর্থনযোগ্য। এইচপি-এর নিজস্ব ই-মেইল সার্ভারের মাধ্যমে আপনি আপনার ডিভাইস থেকে  প্রিন্টারের ঠিকানায় ই-মেইল এটাচমেন্টের সাহায্যে একটি কাজ পাঠাতে পারেন। গুগুল ২০১০ এর এপ্রিল মাসে তাদের ক্লাউড প্রিন্ট বিটার ঘোষণা দেন। গুগল  প্রিন্টারকে  “লিগ্যাসি প্রিন্টার,” নামে অভিহিত করেছে। যদি তাই হয় তাহলে আপনাকে চলমান এবং  ইন্টারনেট অ্যাক্সেস রয়েছে এইরূপ একটি কম্পিউটারের সাথে এইটাকে অব্যশই সংযোগ করতে হবে। এই কম্পিউটারে আপনাকে গুগলের ক্রোম ব্রাউজার ইনস্টল করতে হবে যাতে আপনি গুগলের ক্রোম প্রিন্টার ব্যবহার করতে পারেন। আপনার যদি আগে কোন একাউন্ট না থাকে তাহলে একটি জিমেইল একাউন্টও তৈরি করতে হবে। “লিগ্যাসি” প্রক্রিয়া ছাড়াও আপনি এপসন বা কোডাকের নতুন “ক্লাউড রেডি ” প্রিন্টার কিনতে পারেন; এছাড়াও, কোডাক গুগল ক্লাউড প্রিন্টারের একটি নতুন সংস্করণ বাজারে ছাড়ছে যার সাহায্যে এর পুরোনো প্রিন্টার মডেলের সাথে ক্লাউড প্রিন্টিং-এর সংযোগ দেওয়া সম্ভব। এইচপির  ই-প্রিন্টারের প্রিন্টারও ক্লাউড রেডি  সর্মথনযোগ্য। মোবাইল এবং ক্লাউড প্রিন্টিং-এর ক্ষেত্রে আপনাকে তিনটি বিষয় মনে রাখতে হবেঃ
প্রথমত, নিশ্চিত হতে হবে যে সার্ভিস আপনি বেছে নিচ্ছেন তা যেন আপনার ডিভাইস এবং প্রিন্টিং-এর প্রয়োজনের সাথে মানিয়ে যায়।
দ্বিতীয়ত, ধৈর্য্যশীল হতে হবে। ক্লাউডের মাধ্যমে পাঠানো কাজ তাৎÿনিক অথবা পরে হতে পারে.
সর্বশেষ যে জিনিসের ক্ষেত্রে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে তা হলো এর ফাইল ফরম্যাটিং।

ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন:
অন্যান্য ক্লাউড প্রিন্টিং ওয়েব ভিত্তিক প্রিন্টার অ্যাপ্লিকেশনের পদ্ধতি ক্লাউড প্রিন্টিং থেকে ভিন্ন ধরণের। এই ক্ষেত্রে, এইচপি এবং লেক্সমার্ক শীর্ষে রয়েছে। এইচপি ওয়েব সক্রিয় প্রিন্টারের বৈশিষ্টের ক্রমবর্ধমান সংগ্রহ ক্লাউড অ্যাপ্লিকেশন ভিত্তিক। হোম ভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে আপনি গ্রিটিংস কার্ড, মোড়ানো কাগজ, সিনেমার টিকিট, কুপন, সাইনএজ প্রিন্ট করতে পারবেন। আপনি এমনকি বাচ্চাদের জন্য পাজল, কার্যকলাপ পৃষ্ঠা, পেপারক্রাফটস, একসাথে গল্পের বইও প্রিন্ট করতে পারেন। আপনি আগে নির্ধরিত নিবন্ধ থেকে প্রধান সংবাদের সূত্র, মানচিত্র, অনলাইন ছবির সাইট থেকে অথবা প্রিন্ট ইমেজ থেকে প্রিন্ট করতে পারেন। যদিও আপনি কোন কাগজ বা কালি বাঁচাতে পারবে না এইচপি ওয়েব সক্রিয় মডেলে। তারা আপনার পারিবারিক জীবনটা একটু সহজ করতে পারে। লেক্সমার্ক প্রিন্টার কোম্পানির স্মার্টসোলিউসন প্রোগ্রামযোগ্য অ্যাপ্লিকেশন, এরফলে আপনি ওয়ের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে কাজগুলো করে পারবেন। নতুন বড় এলসিডি-এর লেক্সমার্ক প্রিন্টার সংবাদ, আবহাওয়া, এমনকি আপনার ফেসবুক ও টুইটার অ্যাকাউন্ট প্রদর্শন করতে সক্ষম। ওয়েব ভিত্তিক এই নতুন মডেল আপনাকে প্রিন্টারের সাহায্যে অনেক কাজ করার অথবা দৈনন্দিন জীবন আপনার প্রিন্টারকে অধিক কর্ম করার ক্ষমতা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী তবেও, ক্লাউডের সাথে প্রিন্টারের সংযোগ করাটা অপেক্ষাকৃত ভাল।

প্রিন্টারের ধরন:
বর্তমানে প্রিন্টারের প্রযুক্তি বাজারে প্রধানত ইঙ্কজেট, লেজার ও লেড এবং সলিডইঙ্ক ব্যবহ্রত হচ্ছে।
স্ন্যাপশটের প্রিন্টার  প্রচলিত প্রযুক্তি অপেক্ষাকৃত কম ব্যবহার হয়।

ইঙ্কজেট প্রিন্টার্স:
রোমাঞ্চ  খরচ একটি ইঙ্কজেট প্রিন্টারের প্রিন্টথেড এর অত্যন্ত ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে তরল কালি ফিঙ্কির মত বের হয় যার সাহায্যে ইমেজ তৈরি করা হয়। ইঙ্কজেট প্রিন্টার নির্বাচন করার প্রধান কারণ হচ্ছে এর ছবির মানের ইঙ্কজেট এখনও রঙের মসৃণ মিশ্রণের জন্য ভালো। এছাড়াও এর মাধ্যমে বিভিন্ন রকম প্রিন্ট করতে পারেন। অনেক ইঙ্কজেট মডেলের সাহায্যে বিশেষভাবে পরিকল্পিত ক্যানভাসে প্রিন্ট করতে পারে।

ইঙ্কজেট: গতি এবং প্রিন্ট কোয়ালিটি
একটি ইঙ্কজেট থেকে বহুমুখিতা পেতে, আপনি গতি হারাবেন: অধিকাংশ ইঙ্কজেট প্রিন্টার গড়পড়তায় ধীর গতি সম্পন্ন। ব্যবসা ভিত্তিক মডেল সাধারণত হোম মডেলের চেয়ে বেশি গতি সম্পন্ন। আপনি ইঙ্কজেট থেকে কেমন প্রিন্টারের মান পাবেন তা নির্ভর করে কি প্রিন্ট করতে চান প্লেইন কাগজ, কোটেড ইঙ্কজেট কাগজ  বা চকচকে ছবির কাগজের উপর। কয়েক বছরের মধ্যে ইঙ্কজেট বেশ উন্নতি সাধন করেছে, কিন্তু এখনো কিছু মডেলের মাধ্যমে মসৃণ কাগজের উপর ধূসর, ঝাপসা লিখা বা দানাদার অদ্ভুত রঙ্গিন গ্রাফিক্স পাওয়া যায়। এইটি গ্রহণযোগ্য হবে স্কুল রিপোর্ট জন্য, বানিজ্যিক কাজের ক্ষেত্রে নয়। উন্নতি ফলাফলের জন্য প্রয়োজন বিশেষ ধরণের কাগজ, যা কেনার জন্য আপনাকে প্রতি পাতায় অতিরিক্ত খরচ যোগ করতে হবে। প্রিন্টারে যেই কালি ব্যবহার করা হয় তার ধরণের উপর প্রিন্টারের মান নির্ভর করে। ওয়াটার ক্লারসের মত ডাই ভিত্তিক কালি পেন্টিং-এর জন্য ব্যবহৃত হয় এবং মিশ্রণের  জন্য শ্রেষ্ঠ রং। সাধারণত ছবি ভিত্তিক প্রিন্টারে ডাই ভিত্তিক কালি এবং  ব্যবসার-নিবদ্ধ প্রিন্টারের ক্ষেত্রে সাধারণত পিগমেন্ট ভিত্তিক কালি ব্যবহার করা হয়। কিছু প্রিন্টার লেখার জন্য পিগমেন্ট ভিত্তিক কালি এবং রঙিন ইমেজের জন্য ডাই ভিত্তিক কালি উভয়ের সুবিধা দিয়ে থাকে।

কালির খরচ: হিসাব করা প্রয়োজন
যেহেতু  ইঙ্কজেটের রঙিন কালি বদলানো ব্যয়বহুল হতে পারে তাই দোকানে সযতেœ ব্যবহার করা হয়।
আমাদের প্রিন্টার পর্যালোচনাগুলি প্রতিটি মডেলের ব্যাপারে বিবরণ দিতে পারে, কিন্তু খরচের ব্যাপারটা আপনাকেই ঠিক করতে হবে। সাধারণত নিম্নমানের ইঙ্কজেটে ট্রাইকালার কারটিজ ব্যবহৃত হয় যেইটায় সায়ান, ম্যাজেন্টা এবং  হলুদ রং আছে একটি প্যাকেজের মধ্যে।  সাধারণত এইটা একটা খারাপ ব্যাপার, কারণ একবার একটি রঙ পরিবর্তন করতে চাইলে আপনাকে তিনটি রঙ প্রতিস্থাপন করতে হবে। ইঙ্কজেটের প্রতিটি কালির জন্য পৃথক কারটিজ ব্যবহার করা যায়, এরফলে আপনি খরচও কমাতে পারবেন। কিছু প্রিন্টারে উচ্চ মানের কারটিজ সুবিধা রয়েছে, যার দ্বারা প্রতি পাতায় খরচের পরিমান বেশ কম আর্দশ আকারের কারটিজের তুলনায়। আপনি যদি  শুরু থেকে মোটামুটি অল্প প্রিন্ট করেন তাহলে একটি বড়, ব্যয়বহুল কারটিজ প্রিন্টারে  ব্যবহার করা আপনার অথবা কালির জন্য মোটেই ভাল না।

লেজার ও এলইডি প্রিন্টার্স: ব্যবসার ক্ষেত্রে
যদিও কিছু ছোট অফিস বা কার্য বিভাগের কাজে ইঙ্কজেট ব্যবহার করে, কিন্তু সাধারণত অফিসের কাজের জন্য লেজারের বা এলিডি প্রিন্টার প্রয়োজন। ইঙ্কজেটের চেয়ে লেজার ও এলিডি প্রিন্টার সাধারণত বেশি দ্রæত এবং হুবহু টেক্সট তৈরি করতে পারে। এইগুলোর মূল্য অনেক বেশি, যদিও তাদের কালির খরচ একটি ইঙ্কজেটের কালির খরচের থেকে কম। এই খরচ নির্ভর করে মডেলের উপর।
অধিকাংশ সাধারণ প্রিন্টিং-এর জন্য যেমন প্লেইন, প্লেইন কাগজে কালো টেক্সট ইত্যাদির প্রয়োজনেই একটি একবর্ণ লেজারের বা এলিডি প্রিন্টার নির্বাচন করা উচিৎ। এই মডেলগুলো সহজে ব্যবহার করা যায়। এদের কালিও স¯Íা এবং খুব নির্ভরযোগ্য হয়। এই মডেলগুলোর দাম শুরু হয় প্রায় $১০০এবং এর প্রত্যেকটির বৈশিষ্ট্য এবং প্রত্যাশার উপর নির্ভর করে দাম বৃদ্ধি পেতে থাকে।

ধীরে ধীরে রঙ্গিন প্রিন্টার প্রচলন ঘটছে অফিসেও:
ধীরে ধীরে একদিন কালার লেজার বা এলিডি প্রিন্টার থেকে একবর্ণে পরিবর্তন ঘটবে। কিছু কারণ সুস্পষ্ট: উদাহরণ স্বরূপ অফিসের মেশিন প্রতিস্থাপন করতে বেশি সময় লাগতে পারে। আরেকটি প্রধান কারণ সম্পদ। কালার প্রিন্টার বেশ জটিল পরিচালনা করার ক্ষেত্রে। এতে রয়েছে চার রঙের কালি এবং চারটি ড্রামস পরিবর্তন করতে হয়, সেই ক্ষেত্রে মনোক্রম  লেজারে একক ড্রাম আছে। এইসব অতিরিক্ত জিনিসপত্রের ফলে প্রিন্টার অভ্যন্তরে অনেক জায়গা লাগে যা একটি রঙিন প্রিন্টারকে মনোক্রম মডেলের থেকে অনেক বড় এবং বেশি ভারী করে তুলে। আপনার অফিসের সটোররুমে প্রতিস্থাপন করতে অতিরিক্ত  জায়গা লাগবে। এইটা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যে অফিস মধ্যে রঙ্গিন প্রিন্টার সচেতনতার সাথে ব্যবহার করা।  কোন ব্যবস্থাপক চায় না কর্মচারীরা প্রয়োজন ছাড়া রঙ ব্যবহার বা নষ্ট করুক এবং ব্যক্তিগত কাজে প্রিন্টার ব্যবহার করুক। আপনি যদি অফিসের প্রিন্টার জন্য শপিং করতে চান তাহলে সফ্টওয়্যার নির্ভর মডেল কেনা উচিৎ।  এই অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে আপনি ব্যবহারকারীদের প্রবেশাধিকার নির্ধারিত করতে অথবা শুধুমাত্র অফিস ঘন্টা সময় রঙের ব্যবহারের অনুমতি দিতে পারেন।
কিছু সুনির্দিষ্ট অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে রঙের ব্যবহার সীমিত করতে পারেন।

সলিড কালি: ইঙ্কজেট এবং লেসার / এলিডি-এর মধ্যবর্তি অবস্থান।
বহুদিন পূর্বে, রঙ্গিন লেজার আসার আগে অফিসের কাজের জন্য সলিড-ইঙ্ক প্রিন্টার ছিল শ্রেষ্ঠ  মানের।
এইটা এখন বেশ শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। কালির বøকে কোন প্যাকেজ ব্যবহার করা হয় নি। এইটা রাখতে তাই অনেক কম জায়গার প্রয়োজন হয়। এই মডেলগুলো লোড করতে অনেক সহজ। তাদের ছবির গুণমান একটি লেজারের বা এলিডি প্রিন্টারের অনুরূপ, কিন্তু  ইঙ্কজেটের মত ভাল না। ছোট অফিস বা দপ্তরের জন্য ইঙ্কজেটের তুলনায় দ্রæততর কিন্তু  রঙের লেজার বা  এলিডি প্রিন্টার থেকে কিছুটা কম জটিল প্রিন্টার বেশ মানানসই হবে।

স্ন্যাপশটের প্রিন্টার্স: সহজে ছবি প্রিন্টিং
যদিও কোনো রঙ্গিন প্রিন্টারের মাধ্যমে পর্যাপ্ত বা উন্নত ছবি পাওয়া যায়, কিন্তু স্ন্যাপশর্ট প্রিন্টারের মাধ্যমে ছবি দ্রæত প্রিন্ট করা যায় এবং এর ফলে এই মডেল ছবি শেয়ার করার জন্য সবার কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। নিম্নলিখিত প্রশ্নের মাধ্যমে নির্ধারণ করুন ফটো প্রিন্টার এবং নিয়মিত রঙ্গিন প্রিন্টারের মধ্যে কোনটা ভাল।

আপনি কি ছোট ডিভাইস পছন্দ করেন?
স্ন্যাপশটের প্রিন্টারগুলো আটশাট এবং বক্সাকার, এরফলে এইগুলো যেই কোন জায়গায় সহজে মানানসই। অধিকাংশ স্ন্যাপ প্রিন্টার বহনযোগ্য এবং কোন কোনটা আবার ব্যাটারি অপশনও আছে।

আপনি কি মিডিয়া দ্বারা আচ্ছাদিত?
স্ন্যাপশটের প্রিন্টার তৈরি করা হয়েছে ফোটোগ্রাফির জন্য। সাধারণত এটায় একটি পিক্টব্রিজ পোর্ট রয়েছে আপনার ক্যামেরার সাথে সংযোগের জন্য।  এমনকি একটি একক ফাংশন বিশিষ্ট ইঙ্কজেট প্রিন্টার ছবির আউটপুট হ্যান্ডেল করতে পারে। এরজন্য কোন ¯øট বা পিক্টব্রিজ সংযোগের প্রয়োজনীয় হয় না।

আপনি কি প্রিন্টের আগে আপনার ছবি দেখতে পারেন?
ফটো প্রিন্টার  পিসি সংযোগ ছাড়া চলতে পারে। এতে রয়েছে রঙ্গিন এলসিডি স্ক্রিন ছবি দেখা এবং নির্বাচন করার জন্য। ছবি প্রদর্শনের আকার বিভিন্ন মডেলে বিভিন্ন রকম হবে। বড় আকারের স্ক্রিনে সহজ পরিভ্রমন এবং বৃহৎ ইমেজ প্রাকদর্শনের জন্য ভাল,  কিন্তু এই সুবিধা পাওয়ার জন্য আপনাকে অধিক অর্থ খরচ করতে হবে। কিছু স্ক্রিন আবার স্পর্শ সংবেদনশীল হয়। বিপরীতভাবে, একক ফাংশন বিশিষ্ট ইঙ্কজেট মডেলে সাধারণত স্ক্রিন থাকে না।

আপনি কি মাপের কাগজ ব্যবহার করে চান
সব স্ন্যাপ প্রিন্টার ৪-বাই-৬ ইঞ্চির আর্দশ প্রিন্ট তৈরি করতে পারে। এছাড়াও, এইচপি-র স্ন্যাপ মডেল ৫-বাই-৭ ইঞ্চি এবং ৪-বাই ১২ ইঞ্চির ছবির কাগজে প্রিন্ট করতে পারে। আপনি যদি আরো বড় মাপের প্রিন্ট করতে চান তাহলে পূর্ণ আকারের ইঙ্কজেট প্রিন্টার অথবা বড় আকারের মডেলের ব্যাপারে বিবেচনা করতে হবে।
রং, নেটওয়ার্কিং, বহুক্রিয়া এবং বিকল্প অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমান দিনে প্রিন্টার্স যে কোন আকৃতি এবং মাপে পাওয়া যায়। আপনি উচিৎ এখানের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো কেনার আগে বিবেচনা করে দেখা।

রঙ্গিন অথবা সাদাকালো
আপনি কি অনেক টেক্সট, অনেক গ্রাফিক্স, অথবা উভয়ই প্রিন্ট করতে চান? এই প্রশ্নের উত্তর আপনাকে সাহায্য করবে সাদাকালো প্রিন্টার এবং একটি রং মডেলের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে। সাদাকালো লেজারের বা এলিডি প্রিন্টারের বিক্রি ভাল, বিশেষ করে ব্যবসার ক্ষেত্রে। প্রিন্টার দিয়ে আপনি যদি  প্লেইন টেক্সট, স্প্রেডশিট, ডকুমেন্টেশন এবং গ্রাফিক্সের কাজ বলতে শুধু কিছু সহজ লোগো বা কয়েকটা সোজা লাইন প্রিন্ট করেন তাহলে আপনার জন্য সাদাকালো প্রিন্টারই যথেষ্ট হবে। প্লেইন টেক্সট এবং নূন্যতম গ্রাফিক্স যাই হোক না কেন সকল ক্ষেত্রে রঙ্গিন প্রিন্টারই ভাল। ব্যবসার কাজের ক্ষেত্রে আপনি রঙ্গিন প্রিন্টির ব্যাবহার করেন আপনার রিপোর্টের ফটোগ্রাফি অথবা চার্ট যুক্ত করার কাজে। আপনি কখন যদি কালার প্রিন্টার কেনার কথা চিন্তা করেন তাহলে আপনাকে প্রযুক্তির ব্যাপারও চিন্তা করা প্রয়োজন। আপনি কি রঙ্গীন লেজার প্রিন্টার অথবা ইঙ্কজেট প্রিন্টার দরকার? আপনার প্রয়োজনীয় সব কিছু কি একটি স্ন্যাপশর্ট প্রিন্টারে আছে? অবশেষে আপনার মডেলের দাম যুক্তিযুক্ত কি না তা নিশ্চিত করে সাবধানতার সাথে প্রিন্টির কিনুন।

ব্যক্তিগত বনাম ব্যবসা প্রিন্টার্স: কত পাতা প্রিন্ট হবে কত মানুষ দ্বারা
প্রিন্ট করার জন্য আপনার প্রিন্টারের প্রয়োজন কতটুকু? দিনে কয়েকটা শীটের, ডজন, অথবা শত?
প্রিন্টিং-এর পরিমাণের উপর লক্ষ্য না দিয়ে প্রিন্টারের মডেলের দিকে খেয়াল দাওয়া উচিৎ। মনে রাখবেন আপনি যদি নতুন ক্ষমতার একটি প্রিন্টার নির্বাচন করেন, তাহলে আপনি আগের মডেল দিয়ে যেই রূপ প্রিন্ট করতেন তা এখন পারবেন না। একটি ব্যক্তিগত ইঙ্কজেট অথবা লেজার প্রিন্টার এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে এইটা এক ব্যক্তি বা একটি পরিবারের জন্য দিনে ডজন পৃষ্ঠা প্রিন্ট করতে পারবে। গতির ব্যাপারটা এইখানে প্রাধান্য পায় না। অধিকাংশ ব্যক্তিগত প্রিন্টার ইমেজ-প্রসেসিং এর সময় আপনার কম্পিউটারের উপর চাপ দেয়। এইটা কম দামী কিন্তু ধীরগতিও বটে।
কিছু প্রিন্টারের স্বয়ংক্রিয় ডুপ্লেক্সিং এবং
অন্যদের মধ্যে ম্যানুয়াল ডুপ্লেক্সিং  পদ্ধতি দেখা যায়। একটি ইউএসবি পোর্ট একটি সংযোগ দেওয়ার জন্য কিন্তু মাল্টিকম্পিউটার হোমের জন্য বেতার ব্যবস্থা খুব জনপ্রিয়। ব্যবসায়িক ভিত্তিক ইঙ্কজেট অথবা লেজার প্রিন্টার এক দিনে শত পৃষ্ঠা ছাপাতে পারে।
মডেলের প্রাথমিক দাম ৮ হাজার থেকে শুরু করে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে। গতির ব্যাপারটা নির্ভর করে দামের উপর। সফ্টওয়্যার এবং অন্যান্য ক্ষমতা ব্যাপকভাবে পরিবর্তন হচ্ছে। একটি ব্যক্তিগত প্রিন্টারে সফটওয়্যার রয়েছে যা সাধারণ কাজ যেমন একটি ছবির প্রিন্ট করা অথবা একটি আমন্ত্রণ বা অভিবাদন কার্ড তৈরি করা। এইটি নিম্নমানের ব্যবসা প্রিন্টারেও একই ধরনের কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। উচ্চমানের ব্যবসার প্রিন্টার তৈরি করা হয় নিরাপত্তা এবং কাজ পরিচালনার জন্য। অনেক রঙ্গিন ইঙ্কজেট এবং কিছু রঙ্গিন লেজারের / এলিডি প্রিন্টার ব্যানার-সাইজ কাগজে প্রিন্ট করতে পারে। প্রায় সব প্রিন্টারই ভাল ছবি তৈরি করতে পারে।

যখন আপনি একটি বহুক্রিয়া প্রিন্টার  পাবেন?
আপনি কি চান আপনার প্রিন্টার প্রিন্ট ছাড়াও অন্যান্য কিছু করুক? যদি আপনি আপনার নিজের ডকুমেন্ট শুধু প্রিন্ট করেন তাহলে আপনার বহুফাংশন প্রিন্টারের (এমএফপি) প্রয়োজন নেই। কিন্তু যদি আপনি ডিজিটাইজ কাগজ ভিত্তিক ফাইল চান অথবা অন্যান্য ব্যক্তিদের সাথে অনেক যোগাযোগ রাখতে চান তাহলে এমএফপি (মাল্টি ফাংশন প্রিন্টার) ভাল। একটি স্থানে আপনি একটি প্রিন্টার, স্ক্যানার এবং ফ্যাক্স মেশিন রাখতে পারেন। আপনি শুধু কপি করবেন, বৈদ্যুতিক ইমেজ তৈরি করবেন এবং ই-মেইল বা অন্য কোন মাধ্যমে প্রেরণ করতে পারেন। আপনি যদি ¯øাইড বা অত্যন্ত উচ্চমানের রেজল্যুশন পুরোনো ছবির ইলেকট্রনিক ইমেজ তৈরি করে স্ক্যান  করতে চান তাহলে ডেডিকেটেড ছবির স্ক্যানার রেজল্যুশন এবং অ্যাডাপ্টারের প্রয়োজন হবে।

ওয়াইড ফরম্যাট প্রিন্টার্স:
পোস্টার এবং প্রকাশনার কাজে ৩৪সাইজ এবং লিগ্যাল সাইজের অধিকাংশ প্রিন্টার কাগজে প্রিন্ট করে যা ৮.৫ ইঞ্চি চওড়া। ওয়াইড ফরম্যাট প্রিন্টার ১১ ইঞ্চি চওড়া ও ১৭ ইঞ্চি লম্বা কাগজ বা তার বেশিও প্রিন্ট করতে পারে। ওয়াইড ফরম্যাট প্রিন্টারের সাহায্যে আপনি চাইলে পোষ্টারও প্রিন্ট করতে পারবেন। নিয়মিত আকার মডেলের তুলনায় এইটা আকারে বড় এবং ভারি। এমনকি এই প্রিন্টারের দামও বেশি। একটি বড় পৃষ্ঠা প্রিন্ট করতে বেশি সময় নেয়। তাই ইঞ্জিনের গতি এবং অভ্যন্তরীণ মেমোরি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী একটি ভাল প্রিন্টার ব্যবহার করার প্রত্যাশা করছি।

ইসমত আরা বেগম।

উত্তর দিন