হ্যাকার ! হ্যাকার ! কি কাজে লাগে হ্যাকার রা ?

1 245

হ্যাকার !!!

শন্দ টা শুনলেই গায়ের লোম দারিয়ে যায় !! শিহরিত হই আমরা! কারা তারা ! মুখসের আড়ালে থেকে কিভাবে ভেঙ্গে ফেলেন সিকিউরিটি !একের পর এক ডাউন করে ফেলেন সার্ভার। আজকে জানবো এই হ্যাকার দের নিয়ে।

মুলত হ্যাকার দের অনেক গুলো শ্রেনীবিভাগ আছে। যেমন প্রফেশনাল, নিউবি, স্ক্রিপ্ট কিডি। কেউ বা শখের বসে হ্যাকিং করেন, কেউ বা প্রফেশনাল ভাবে।

কি টাইপ কাজ করেন তার উপর ভিত্তি কইরা হ্যাকার দের ৩ ভাগে ভাগে ভাগ করা হয়। ব্ল্যাক, গ্রে আর হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার।

ব্ল্যাক হ্যাট দের কাজ কাম সুবিধার না, এনারা নিজ সার্থে (সেইটা মেন্টাল প্রবলেম, অন্যের ক্ষতি বা নিজের ক্ষমতা দেখানো যাই হোক ) হ্যাকিং করেন, আর এতে মানুষের ক্ষতি ই হয়। আমার টিউন তাদের নিয়ে না, আমি কথা বলবো হোয়াইট হ্যাট দের নিয়ে

কি, কেমনে করে, এগুলো অন্য টিউনে, আজকে সুদু তাদের কাজ গুলো বলি।

১। সিকিউরিটিঃ ধরেন আপনার একটা ওয়েবসাইট আছে, সেইটা যখন তখন হ্যাক হইতে পারে , তাই না ? !!!

আপনার ঘরে কেমনে চুরি হবে সেটা চোরের থেকে ভালো কেউ জানে ? উহু না, সেইম ভাবে একটা ওয়েবসাইট কেমনে হ্যাক হইতে পারে তা একজন ভালো হ্যাকার থেকে ভালো কেউ ই জানেন না। তো একজন হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার কাজ করেন কোন ওয়েবসাইট এর সিকুউরিটি নিয়ে, যার কাজ হয় সাইটের বিভিন্ন দুর্বল দিক গুলো খুজে বের করা , আর সেগুলো থেকে কিভাবে সাইট টিকে সেফ রাখা যায় তা সাইটের এ্যাডমিন কে জানানো।

বড় বড় সাইটগুলো তাদের সাইটের সিকিউরিটি এর জন্য হ্যাকার দের মোটা বেতন দিয়ে নিয়োগ দেন।

২। ব্যাবসাঃ আবার ধরেন, আপনি আজকে একটা সাইট বানাইলেন, যেটাতে কোন প্রডাক্ট, ( এই ধরেন জুতা মুজা ) বিক্রি করেন। এই রকম আরো একটা কম্পানী আছে,যারা অনলাইনে এগুলাই বিক্রি করে। তাদের থেকে আপনি কোনভাবেই এগিয়ে যেতে পারতেছেন না। আপনার উঠার একমাত্র রাস্তা হইলো তাদের থামায় দেয়া । সেক্ষেত্রে মালিক একজন হ্যাকার কে নিয়োগ দিতে পারেন, যার কাজ অন্য সাইট টার বারোটা বাজানো । কাজ টা বেয়াইনী হইলেও একটা নির্দিষ্ট পরিমান অর্থের বিনিময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত হ্যাকার তার পেশাদার দায়ীত্ত্ব ই কিন্তু পালন করতেছেন। ( এখন প্রায় সব সার্ভার ই ব্যাকাপ দেয়, বেশিক্ষন সাইট রে ডাউন রাখা সেই ঠ্যালার কাজ )

৩। প্রতিরক্ষাঃ

এই পয়েন্ট টা এক নম্বর পয়েন্টের মত ই। পার্থক্য হইলো সরকারী ভাবেও বিভিন্ন দেশ হ্যাকার দের নিয়োগ দেয়। সুধু নিজেদের সিকিউরিটির জন্য না, শত্রু দেশের সাইবার স্পেস এর বারোটা বাজানোর জন্য ও হ্যাকার দের দরকার হয়। সরকারী বেতন প্রাপ্ত কর্মচারীদের কোনভাবেই ব্ল্যাকহ্যাট হ্যাকার বলার উপায় নাই। তাদের আইটি এক্সপার্ট বলা যেতে পারে।

৪। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনঃ আপনার একটা সাইট আছে, গুগল সার্চ রেজাল্টে যেইটা দুই নাম্বারে আসে। এক নাম্বারে যেই সাইট আসে সেটারে এক মাস বন্ধ রাখতে পারলে আপনারে আর ঠেকায় কে বলেন !!!!!! ডাকেন একজন প্রফেশনাল কে , নামায়া দেন ঐ সাইট ( এক নম্বরে থাকা সাইটের সিকিউরিটি এর দায়িত্ত্বে থাকা লোকটারে আপনার হ্যাকার পরাজিত করতে পারবে কিনা তা আপনি জানেন, আমি জানি না কইলাম ।

হ্যাকিং আর বাংলাদেশ।

এশিয়ান কান্ট্রি গুলার মধ্য বাংলাদেশ বেশ খানিক টা এগিয়ে আছে। সাইবার আর্মি রা তো এখন অনেক টাই সেলিব্রেটী অনলাইন এ্যাকটিভিস্ট দের কাছে। গত সাইবার যুদ্ধ গুলোতে বাংলাদেশী হ্যাকার রা কামাল দেখিয়েছে আমাদের, অনেক টাই উচু করে দিয়েছে আমাদের অবস্থান পৃথিবীর মানচিত্রে। অন্তত আমি এমন অনেক কে চিনি যারা বাংলাদেশ সম্পর্কে খানিক টা জেনেছেন এই যুদ্ধগুলোর পরে।

শেখা দরকার ?

হুম্মম কিছুটা জ্ঞ্যান থাকা ভালোই, আর যদি আপনি আমার টাইপ কোন পেশায় থাকেন, আই মিন ওয়েবসাইট ডিজাইনিং বা ডেভেলপিং, তাহলে খানিক টা জ্ঞ্যান থাকা মাস্ট। কিন্তু হ্যাকিং মানে কখনোই কারো ফেসবুক আইডি হ্যাক করা না, বা ডিডিওস দিয়ে একটা সার্ভার ডাউন করে দেয়া না ( আমার ধারনা এটা আমার ছোটভাই রে দেখিয়ে দিলে সেই সারাদিন পারবে, সময় নষ্ট আর এতে কোন বিরত্ব নাই ) আর একটা কথা, বাংলাদেশে তথ্য প্রযুক্তি আইন ততটা কার্যকর না হবায় এখন পর্যন্ত অনেকে নিজেদের ফেসবুকে আইডিতে পর্যন্ত শেয়ার করেন কি কি করলেন। বাট হ্যাকিং সবসময় একটা ক্রাইম, আর বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে এর জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

শেষে একটা ছোট্ট ঘটনাঃ ক্যালিফোর্নিয়ার একজন মা একবার ঢুকে পরেন তার বাচ্চাদের স্কুলের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের এ্যাডমিন প্যানেলে, আর তার বাচ্চাদের গ্রেড চেঞ্জ করে দেন ২০০৬ সালে 😛 😛 😛

ফুটারঃ লেখাটা এর আগে বাংলাদেশী কুল কেক ফাজলামি ডট কম এ প্রকাশিত আর আমার লেখার আপডেট গুলো পাবেন আমার ফেসবুক আইডি তে। ধন্যবাদ।

1 টি মন্তব্য
  1. মো: রাব্বি মিয়া বলেছেন

    জেনে রাখা ভালো

উত্তর দিন