Internet Is A Virtual Drug: ইন্টারনেট টেকনোলজি ও আজকের তরুণ।

0 180

o-INTERNET-ADDICTION-facebook

 

Internet – ইন্টারনেট প্রযুক্তির হাওয়া বদলে বদলে যাচ্ছে জীবনযাত্রার মান। তবে এই হাওয়া বদল শুরু হতে বেশি সময়ও লাগে নি, ২১ শতকে পা রাখতেই টেকনোলজির বিপ্লবের জোয়ার শুরু হয়ে গেছে। একটি জিনিস বলা যায়, আমরা নতুন যুগের নতুন সিস্টেমের বিরুদ্ধে গেয়ে কখনোই সামনে এগিয়ে যেতে পারবো না, বরং নতুন প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে মানিয়ে চলতে হবে। এ ক্ষেত্রে তরুণরা সহজে যেমন মানিয়ে নিতে পারে, সিনিয়র সিটিজেনরা হয়তো তেমন ভাবে পারে না অথবা একটু সময় লাগে। আর তৃতীয় বিশ্বে আমাদের দেশে আমরা হয় তো একটু ধীরে ধীরেই অগ্রসর হচ্ছি, তার ফলেই উন্নতবিশ্বের প্রতি ধাবিত হচ্ছি। আজ আলোচনা করবো টেকনোলজির এপিঠ ওপিঠ নিয়ে…

.

ইন্টারনেট টেকনোলজির এপিঠ ওপিঠঃ

স্বভাবতই সবকিছুরই ভালো-মন্দ দিক রয়েছে। যেকোনোকিছুর ভালো মন্দ নির্ভর করে, তার ব্যবহারের উপর। তেমননি ইন্টারনেটের ভালো-খারাপ দিক রয়েছে, যেখানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা বিশাল তথ্যের ভাণ্ডার পাচ্ছি, নানা বিষয়ে জানতে ও শিখতে পারছি সেখানে আবার খারাপ দিক হল- সাইবার ক্রাইমের মত জখন্ন কাজে তরুণরা লিপ্ত হচ্ছে। আবার এক দিক দিয়ে ফ্রিলেন্সিং এর মাধ্যমে বিশাল অংকের টাকা এ দেশে আসছে অন্যদিকে মানি-লণ্ডারিং/অনলাইন জুয়া এর ফলে মোটা অংকের টাকা ধুলিস্যাৎ হয়ে যাচ্ছে। যে টাকা খরচ করে ইন্টারনেট ব্রাউজিং করছে, আমাদের অবশ্যই তার নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করা উচিত। ইন্টারনেট টেকনোলজি যথাযত সঠিক ব্যবহারেরই ফলেই দেশ ও দশের উন্নতি সম্ভব।

.

junkie1

.

আজকের তরুণরা ইন্টারনেটকে কিভাবে দেখেঃ Internet

বর্তমানে তরুণদের চোখে ইন্টারনেট কি জিনিস? এই প্রশ্ন করলে, প্রথমতো একটা কথায় মাথায় আসে, সেটা হল সোশ্যাল নেটওয়ার্ক! অর্থাৎ ফেসবুক কে ঘিরে আজকের তরুণ প্রজন্ম বেড়ে উঠছে। বলা বাহুল্য যে, এখন বেশির ভাগ তরুণ ফেসবুক ও অন্যান্য সোশ্যাল নেটওয়ার্কের প্রতি আসক্ত হয়ে পরছে। জরিপে দেখা যায়, যেসব তরুণ মুলত সোশ্যাল নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত, তারা নেটে থাকা অবস্থায় ৭৫% সময় সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সাইটে ব্যয় করে। ফলস্বরূপ- তরুণরা সোশ্যাল নেটওয়ার্কের লাইক, শেয়ার, অনলাইন ফ্রেন্ডস সার্কেল এর চক্করে অনেকতা আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পরে, এতে বাস্তব জীবন থেকে তারাঅনেক দূরে সরে যায়।

.

The-Social-Life-of-the-App-Addicted-Teens-infographic

.

কিন্তু আজকের তরুণদের উচিত সোশ্যাল নেটওয়ার্কের নেশায় আত্মকেন্দ্রিক না হয়ে উদ্যোগী হওয়া। ইন্টারনেটকে ভালো কাজে ব্যবহার করা। ইন্টারনেট হল জ্ঞানে বিশাল সমুদ্র। শিক্ষার্থীরা চাইলেই নানা বিষয়ে জ্ঞান আহরণ করতে পারে। উইকিপিডিয়া থেকে পরাশুনা/টেকনোলজি/ইতিহাস/যেকোনো কিছুর ইনফরমেশন পেতে পারে। এছাড়া গ্রামীণফোন থেকে বিনামূল্যে উইকিপিডিয়া ( zero.wikipedia.org ) ভিসিট করা যাবে। এছাড়া কোনকিছু সম্পর্কে প্রশ্ন থাকলে, গুগল মামা তো আছেই! আরেকটি বিষয় রয়েছে তরুণদের জন্য, সেটি হল পড়াশুনার পাশাপাশি ইন্টারনেট টেকনোলজির বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানা। ফ্রিলেন্সিং একটি অন্যতম সাফল্যের পথ তরুণদের কাছে, তবে ফ্রিলেন্সিং করার জন্য প্রচুর জানতে ও শিখতে হবে। সাফল্য পেতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া উচিত। একটা কথা মাথায় রাখা দরকার- Practice makes a man perfect!

.

find-freelance-work .

নতুন প্রযুক্তি- 3G নেটওয়ার্ক কী?

গত বছরে মোবাইল অপারেটররা ৩জি লাইসেন্স পেয়ে, সারা দেশে ৩জি সেবা চালু করছে। ইতিমধ্যে সব জেলায় 3G চালু হয়ে গিয়েছে। প্রথমতো ৩জি নাম শুনলেও, বিস্তারিত ভাবে অনেকেই জানেন না। আসুন আজকে এ বিষয়ে সাধারণ ধারনা নিন। প্রথমট 3G অর্থ- থার্ড জেনারেশন (Third generation) । 3G নেটওয়ার্কের মাধমে আপনি ভিডিও কল, লাইভ টিভি,হাই স্পিড ইন্টারনেট উপভোগ করতে পারবেন। 3G-তে হাই স্পিড প্যাকেট এ্যাক্সেস (HSPA) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, ফলে 3G নেটওয়ার্ক 2G নেটওয়ার্ক থেকে অনেক দ্রুত তথ্য প্রেরন করতে পারে। যেখানে 3G তে ভিডিও কল সুবিধা রয়েছে, কিন্তু 2G তে নেই। নিচে কিছু সংক্ষিপ্ত বিবরণী দেওয়া হল-

.

stay_connected

.

2G = GSM- (Global System for Mobile) গ্লোবাল সিস্টেম ফর মোবাইল। প্রতি সেকেন্ডে 28.8kb ডাটা আদানপ্রদান করতে সক্ষম।

2.5G = GPRS- (General Packet Radio Service) জেনারেল প্যাকেট রেডিওসার্ভিস ।প্রতি সেকেন্ডে 56-114 kb ডাটা প্রদান করতে সক্ষম।

2.75G = EDGE (Enhanced Data Rate for GSM Evolution) উন্নত ডাটা রেট GSM বিবর্তনের জন্য EDGE। প্রতি সেকেন্ডে 400Kb পর্যন্ত
ডাটা প্রদান করতে সক্ষম ।

3G = WCDMA (Wideband Code DivisionMultiple Access) ওয়াইডব্যান্ড কোডডিভিশন মাল্টিপল অ্যাকসেস। যার গতি EDGE চেয়ে কিছুটা বেশী।

3.5G = HSDPA (High Speed Downlink Packet Access) হাই স্পিড ডাউনলিংকপ্যাকেট অ্যাক্সেস। প্রতি সেকেন্ডে 7.2 Mb ডাটা পাওয়া সম্ভব। এবং HSUPA-(High Speed Uplink Packet Access) হাই স্পিড আপলিংক প্যাকেট এক্সেস । প্রতি সেকেন্ডে 5.8 Mb আপলোড স্পীড পাওয়া যায়।

3.75G = HSPA (High Speed Packet Access) হাইস্পিড প্যাকেট এক্সেস HSPA প্রযুক্তিতে প্রতি সেকেন্ডে 21থেকে 28Mb স্পিড পাওয়া সম্ভব।

3.8G, 3.85G, 3.9G = HSPA+ (Evolved High Speed Packet Access) প্রসূত হাই স্পিড প্যাকেট এক্সেস। প্রতি সেকেন্ডে 168mbপর্যন্ত স্পিড পাওয়া সম্ভব ।

4G = LTE (Long Term Evolution) দীর্ঘ মেয়াদী বিবর্তন প্রযুক্তি। প্রতি সেকেন্ডে 299.6 Mb পর্যন্ত গতি পাওয়া সম্ভব। (সূত্র- উইকিপিডিয়া)

.

হ্যাকিং নিয়ে তরুণরা যা ভাবেঃ

Hacking শব্দটা শুনলেই কেমন জানি তরুণরা একটু হলেও উত্তেজিত হয়ে পরে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তরুণদের ভিতর হ্যাক করার ভুত ঢুকে বসে! ফলে তারা হ্যাকিং করার পিছনে দৌড়ায়! ফেসবুক, মেইল অ্যাকাউন্ট, ওয়েবসাইট ইত্যাদি হ্যাক করার ইচ্ছা জাগে তাদের মধ্যে। অন্যকে হ্যাক করার ধান্দায় নানা ভুয়া হ্যাকিং সফটওয়্যার ডাউনলোড করে, যেসব দিয়ে হ্যাক করার চেষ্টা করে! ফলস্বরূপ নিজের অ্যাকাউন্টই হ্যাক হয়ে যায়! কারণ ওসব ভুয়া হ্যাকিং সফটওয়্যারে থাকতে পারে Rats (Remote Access Tool), Phishing, keylogger এবং অনেক ক্ষতি কারক মালওয়্যার! হ্যাকিং থেকে নিজেকে বাছানোর উপায় জেনে নিন-

.

dgdfg

.

১। অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করুন: কম্পিউটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রথম শর্ত হল ভালো অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করা।পিসির সুরক্ষার জন্য অ্যাভাস্ট অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করতে পারেন। ডাউনলোড লিঙ্কঃ http://goo.gl/35v58I

২। ফেসবুক/ইমেইল সুরক্ষিত রাখুন: সবার ভিতর ফেসবুক/ইমেইল অ্যাকাউন্ট হারানোর ভয় থাকে। আপনি চাইলে মোবাইল সিকিউরিটি দিয়ে সর্বচ্চ নিরাপত্তা দান করতে পারেন। এছাড়া পাসওয়ার্ড ৮ ডিজিটের বেশি রাখুন, # @ * এধরনের সেম্বল ইউস করতে পারেন। ফেসবুকের সর্বচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই আর্টিকেল পড়তে পারেনঃ www.pchelplinebd.com/?p=41738

৩। স্পাম থেকে দূরে থাকুনঃ মাঝে মধ্যেই মেইল ইউজাররা স্পাম মেইলের শিকার হন। সেসব মেইলে চটকদারি কিছু লেখা থাকতে পারে, ফলে ইউজার হ্যাকিং বা প্রতারণার শিকার হতে পারেন। এজন্য এসব স্পাম মেইলে ক্লিক করা থেকে দূরে থাকুন। আর কোন সাইটে মেইল দিয়ে লগইন করার আগে জেনে নিন সাইটটি ভেরিফাইড কি না, কারণ ভুয়া সাইট গুলা আপনার মেইল ঠিকানা বিক্রি করে ব্যবসা করে থাকে।

৪। ফায়ারওয়ালঃ যদি অ্যান্টিভাইরাসের নিজস্ব ফায়ারওয়াল না থাকে তাহলে উইন্ডোজের ফায়ারওয়াল চালু রাখবেন। ফলে আপনার অনুমতি ছাড়া পিসিতে কোন কিছু প্রবেশ করতে পারবে না।

৫। কি-লগার থেকে বাঁচুনঃ বর্তমানে হ্যাকিং এর সহজলভ্য টুলস হচ্ছে Key-logger! বাজারে অনেক Key-logger সফটওয়্যার পাওয়া যায় বা তৈরি করা যায়, যা দ্বারা অন্যের ইমেইল, ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা সম্ভব। কি-লগার হল এমন একটি টুল, যেটা আপনার অজান্তে পিসিতে চালু হয়ে থাকে, এবং কি-বোর্ড দিয়ে টাইপ করা সকল তথ্য, ইউজার নেম, পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নিয়ে হ্যাকারকে মেইল করে দেয়! এসব কি-লগার অন্য সফটওয়্যারের সাথে বাইন্ডিং বা ভাইরাসের মাধ্যম পিসিতে ঢুকতে পারে। কি-লগার থেকে বাঁচুতে Key Scrambler সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারেন। ডাউনলোডঃ www.keyscrambler.com

৬। ফ্রী/চটকদার সফটওয়্যার থেকে ১০০ গজ দূরে থাকুনঃ যদি আপনি তেমন অভিজ্ঞ না হন, তাহলে কোন পেইড সফটওয়্যার ফ্রীতে ডাউনলোড করার পিছনে ছুটবেন না। কারণ ক্র্যাক করা সফটওয়্যারে ক্ষতিকারক মালওয়্যার, ট্রাজেন ভাইরাস থাকতে পারে। সুতরাং সাবধান থাকুন।

৭/ Cookies চুরি রোধ করুনঃ সাধারণত আমরা ব্রাউজারে পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করে রাখি, তা আবার Cookies এ গিয়ে জমা হয়। কিন্তু কি-লগার দিয়ে তাও চুরি করা সম্ভব। এজন্য ফায়ারফক্সে মাস্টার পাসওয়ার্ড সেট করুন। এছাড়া, একই পাসওয়ার্ড দিয়ে সকল ওয়েবসাইটে লগইন করেবেন না, ভিন্ন ভিন্ন পাসওয়ার্ড সেট করুন।

৮/ ফিশিং ও হ্যাকিংঃ শেষ কথায় আবারও বলবো, হ্যাক করার লক্ষে না বুঝে কোন চটকদার সফটওয়্যার ডাউনলোড করবেন না, এতে আপনি নিজেই হ্যাকিং এর শিকার হতে পারেন। আর Phishing হল- এমন একটি ভুয়া নকল সাইট, যা অবিকল জনপ্রিয় সাইটের নকল, আর এখানে লগ ইনে সহজেই তারা আপনার পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নেবে। সুতরাং এসব থেকে ১০০ হাত দূরে থাকুন, আর বিশেষ করে কোথাও লগ-ইন রেজিস্ট্রেশন করার আগে ডোমেইনের নাম ভালো ভাবে চেক করবেন।

যেহেতু আজকাল ফেসবুক ফিশিং বেশি হয়, এজন্য এই অ্যাড-অন্সটি ইন্সটল করতে পারেন- ফিশিং প্রটেক্ট করতেঃ https://addons.mozilla.org/en-US/firefox/addon/facebook-phishing-protector

আর যেকোনো ফিশিং সাইট চিনতে হলে এই সাইট ব্যবহার করতে পারেন। এটি আস্থাভাজন ও জনপ্রিয় ভেরিফায়েড সাইটঃ http://urlcheck.info/en/

এছাড়া তাড়াতাড়ি সাইট লিংক চেক করার জন্য এই অ্যাড-অন্স ব্যবহার করতে পারেন। লিংকঃ https://addons.mozilla.org/de/firefox/addon/urlcheck/

.

FBAddict3.

.

[ বিঃদ্রঃ সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি ইন্টারনেটে একেবারে নতুন-অনভিজ্ঞ তরুন থেকে শুরু করে সিনিয়র সিটিজেন এবং সবার জন্য নির্বিশেষে সম্পাদিত হয়েছে। খুব সহজ-সরলভাবে সংক্ষিপ্ত ধারণাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। ]

শেষ কথাঃ আসুন আমরা যেমন সুশীল সমাজ গড়ি, তেমনি ইন্টারনেটকেও পরিবেশ বান্ধব হিসেবে গড়ে তুলি। ২১ শতকের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলি। ইন্টারনেট থেকে যেন কারও জীবন ধ্বংস না হয় বরং উপকৃত হয়– এই চেষ্টা কায়েম করুন। আল্লাহ্‌ হাফেজ।

.

ঈদ মোবারাক

—- মোঃ সায়জার রহমান আকাশ

উত্তর দিন