ল্যাপটপ কুলার নিয়ে কিছু কথা !!!

0 131

এমন একটা সময় ছিল যখন ল্যাপটপ কমপিউটার সমাজের ব্যবসায়ী শ্রেণীর মানুষ ছাড়া কেউ ব্যবহার করার চিন্তা করত না। কিন্তু বর্তমানে ডেস্কটপ কমপিউটার এবং ল্যাপটপ কমপিউটারের দামের ব্যবধান কমে আসায় সাধারণ মানুষের কাছে ল্যাপটপের কদর দিন দিন বেড়েই চলেছে। বেশিরভাগ ল্যাপটপ ক্রেতার ক্ষেত্রে দেখা যায় ল্যাপটপের কনফিগারেশনের সাথে এর ওজনটাও বেশ ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। ওজন বেশি হলে ল্যাপটপের বহনযোগ্যতা কমে যায়। তাই হাল্কা-পাতলা গড়নের ল্যাপটপগুলো বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্রেতা বুঝতে পারেন না, ল্যাপটপের তাপমাত্রাও একটি বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে। এ লেখাটি ল্যাপটপের তাপমাত্রাজনিত সমস্যা ও তার সমাধানের বিষয় নিয়ে সাজানো হয়েছে।

তাপমাত্রাজনিত সমস্যা

অনেক বেশি সময় ধরে ল্যাপটপ ব্যবহারের পর উচ্চ তাপমাত্রা সৃষ্টির প্রবণতা লক্ষ করার মতো। আপাত দৃষ্টিতে উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাবে ল্যাপটপের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা বোঝা যায় না। উচ্চ তাপমাত্রার কারণে ল্যাপটপের ব্যাটারি ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ ধীরে ধীরে ক্ষতিসাধিত হয়, যা বেশ কিছুদিন পর প্রকটরূপে প্রকাশিত হয় এবং ল্যাপটপের কোনো যন্ত্রাংশ নষ্ট বা পুরো ল্যাপটপ বিকল হয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশের গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়া ল্যাপটপের উচ্চ তাপমাত্রা প্রশমনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে না। প্রত্যেকটি ল্যাপটপের নিজস্ব তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকে। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা ভেন্টিলেশন ব্যবস্থাটি ল্যাপটপ প্রস্ত্ততকারক কোম্পানি ও তার অভ্যন্তরীণ আর্কিটেকচার বা গঠনভেদ ভিন্ন হয়ে থাকে। বেশিরভাগ ল্যাপটপ নিচের অংশ দিয়ে বাতাস নিয়ে কুলিং ফ্যানের মাধ্যমে তা বাইরে বের করে দেয়। ল্যাপটপ বিছানা অথবা বাতাস চলাচল কম করে এমন স্থানে বেশিক্ষণ ব্যবহার করা ঠিক নয়। এতে ল্যাপটপ গরম হয়ে ওঠে এবং ব্যবহারকারীও অস্বস্তিবোধ করেন। শুধু তাই নয়, আপনার প্রিয় ল্যাপটপের ক্ষতির কারণ হতে পারে এই বাড়তি তাপমাত্রা।

Laptop in open fire

প্রত্যেকটি যন্ত্রাংশেরই একটি নির্দিষ্ট মাত্রার তাপ সহ্য করার ক্ষমতা রয়েছে। ল্যাপটপ যদি এ তাপ বাইরে পরিচালিত বা বের করতে অথবা মুক্ত বাতাস তাপ উৎপাদনকারী যন্ত্রাংশগুলোকে সরবরাহ করে তা ঠান্ডা হবার সুযোগ না করতে পারে, তাহলে ল্যাপটপের কার্যক্ষমতা, ব্যাটারির ব্যাকআপ, ডিসপ্লের সমস্যাসহ বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটি সৃষ্টি হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তাপের প্রভাবে যন্ত্রাংশ পুড়ে যেতে পারে এবং এর ফলে ল্যাপটপের প্রোডাক্ট ওয়ারেন্টির মেয়াদ শেষ করে দেয়। তাই ল্যাপটপে দীর্ঘক্ষণ কাজ করার জন্য স্থান নির্বাচনে একটু সচেতন হতে হবে। সরাসরি বাতাস প্রবাহিত হয় এমন জায়গা ল্যাপটপে দীর্ঘ সময় কাজ করার জন্য বেছে নিন। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থানে ল্যাপটপ ব্যবহারের জায়গা নির্বাচনের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ল্যাপটপ কুলার

মুক্ত বাতাস অথবা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের ব্যবস্থা সব জায়গায় এবং সব পরিস্থিতে পাওয়া সম্ভব হয় না। প্রযুক্তি এখানে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে পৃথিবীর অনেক দেশে ল্যাপটপ কুলার প্রস্ত্তত হচ্ছে। ল্যাপটপের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সাথে সাথে গ্রীষ্মপ্রধান দেশসহ অনেক পশ্চিমা দেশে ল্যাপটপ কুলার প্যাডের চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে। ল্যাপটপ কুলার অথবা চিল ম্যাট সাধারণত এক বা একের অধিক ফ্যানবিশিষ্ট অথবা লিকুইডবিশিষ্ট কুলিং ব্যবস্থা সম্বলিত, যা ল্যাপটপকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। সাধারণত ট্রে আকৃতির হওয়ায় ল্যাপটপ কুলিং প্যাড নামেও এটি পরিচিত। এটি বাইরে থেকে বাতাস ল্যাপটপের ভেন্টিলেশন ব্যবস্থায় প্রবাহিত করে তথা ল্যাপটপের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোয় মুক্ত বাতাসের ভারসাম্য বজায় রাখে। সব কুলারেই ল্যাপটপকে ওই প্যাডের ওপর রেখে ব্যবহার করতে হয়। অনেক ল্যাপটপ কুলারে এক বিশেষ ধরনের কুলিং ক্রিস্টাল ব্যবহার করা হয় ল্যাপটপকে ঠান্ডা করার জন্য। এই ধরনের কুলারে সাধারণত লিকুইডগুলো শক্ত বস্ত্তর মতো ক্রিস্টালাইজড অবস্থায় থাকে। যখন ল্যাপটপকে এই কুলারের ওপর রেখে ব্যবহার করা হয় তখন এর ক্রিস্টালাইজড পদার্থ জেলে পরিণত হয় এবং তাপ শোষণ করে। তাপ না থাকলে পদার্থগুলো পুনরায় তাপ ছেড়ে দিয়ে শক্ত হয়ে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে এ ধরনের কুলারগুলো অন্যান্য কুলারের তুলনায় ভালো কাজ করে।

coo

ল্যাপটপ কুলারের ধরন

ল্যাপটপের প্রতি ক্রেতা ও জনসাধারণের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ লক্ষ করার মতো। তাদের আগ্রহের দিকে খেয়াল রেখে বাংলাদেশের বেশ কিছু কমপিউটার বিক্রি ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ল্যাপটপ কুলার এনেছে। বিভিন্ন কমপিউটার মার্কেট ঘুরলে বেশ কিছু ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ কুলিং প্যাড পাওয়া যাবে। তাদের মধ্যে বেলকিন, ভিশন, থারমালটেক এর কুলিং প্যাড উল্লেখযোগ্য। আমেরিকান ব্র্যান্ড বেলকিন ইউএসবি হাব সমৃদ্ধ ও ছাড়া দুই ধরনেরই কুলিং প্যাড বাজারজাত করছে। বেলকিনের এ ল্যাপটপ কুলার প্যাডগুলো হাল্কা গড়নের এবং সহজে বহনযোগ্য। এক ফ্যানবিশিষ্ট এ প্যাডগুলো ইউএসবি থেকে পাওয়ার নিয়ে সচল থাকে। আরেক আমেরিকান ব্র্যান্ড থারমালটেক কুলিং ক্রিস্টালসমৃদ্ধ ফ্যানহীন ল্যাপটপ কুলিং প্যাড নিয়ে এসেছে। এই কুলিং প্যাডে কোনো পাওয়ার লাইন দিতে হয় না। থারমালটেকের ডবল ফ্যানসমৃদ্ধ ল্যাপটপ কুলারও মার্কেটগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়াও চাইনিজ ব্র্যান্ড ভিশন অনেক জায়গায় দেখা গেছে। ভিশন ল্যাপটপ কুলার এক অথবা দুই ফ্যানবিশিষ্ট হয়ে থাকে। এছাড়াও মার্কেটে নন ব্র্যান্ডেরও কিছু ল্যাপটপ কুলার রয়েছে। ল্যাপটপ কুলারগুলো ব্র্যান্ডভেদে ৫৫০-৪০০০ টাকার মধ্যে প্রায় সব মার্কেটে পাওয়া যাচ্ছে।

images (2)

images (4)

শেষের কথা

ল্যাপটপ কুলারগুলোর মাঝে রয়েছে বেশ বৈচিত্র্য। নানান রঙের পাশাপাশি রয়েছে রকমারি ডিজাইনের কুলার। কিছু রয়েছে একাধিক ফ্যানবিশিষ্ট, কিছু রয়েছে বড় আকারের একটি ফ্যানবিশিষ্ট, আবার কিছু আছে যাতে রয়েছে ছোট কিছু খুব শক্তিশালী ফ্যান। ফ্যানবিশিষ্ট কুলারের তুলনায় লিকুইড ক্রিস্টাল কুলিং সিস্টেমযুক্ত কুলারগুলোর দাম একটু বেশি, তবে সেগুলো অধিক কার্যকরি ও তাতে কোনো বিদ্যুৎশক্তির প্রয়োজন পড়ে না। নিজের ল্যাপটপের রঙের সাথে মিল রেখে ক্রেতারা তাদের পছন্দসই কুলার বাজারে একটু খোঁজ করলেই পেয়ে যাবেন। ল্যাপটপের ব্যাটারি ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ সুরক্ষিত রাখার জন্য এবং তা বেশিদিন কার্যক্ষম রাখার জন্য অবশ্যই ল্যাপটপ কুলার কিনে নেয়া উচিত।

আমার লিখা যদি আপনাদের ভাল লাগে টা হলে আমার ব্লগে ঘুরে আসতে পারেন। আশা করি আপনার ক্লিকটি বৃথা যাবে না।

উত্তর দিন