তিন যুবকের মহতী উদ্যোগে ঝিনাইদহে ফ্রি WIFI সেবা । সবাই পড়ুন

0 121

.

কয়েক মাস আগেও যেখানে উন্মূক্ত মাদক সেবন করা হতো, রাতের গভীরতা বাড়ার সাথে সাথে ভ্রাম্যমান পতিতার আনাগোনা বৃদ্ধি পেত, ঝিনাইদহের সেই মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি পার্কটি এখন প্রযুক্তি প্রেমীদের পদচারণায় মুখরিত। সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত পার্কে প্রতিদিন শত,শত প্রযুক্তিপ্রেমীরা পাচ্ছেন ফ্রি ওয়াই ফাই সেবা। ধুমপান মূক্ত মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি পার্কে প্রতিদিন অনেক কর্ম-ক্লান্ত মানুষ আসেন, ক্ষণিকের জন্য হারিয়ে যান ভার্চুয়াল জগতে, ক্লান্তি দূর করে আবার ছুটে চলেন গন্তব্যে। পার্কে ফ্রি পত্রিকা পড়ার সুযোগ থাকায় ছাত্র, শিক্ষকসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষের উপস্থিতিও লক্ষণীয়। যাদের মহতী উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধা পার্ক প্রযুক্তির পার্কে পরিণত হয়েছে তারা হলেন, ঝিনাইদহ শহরের সাব্বির আহম্মেদ জুয়েল(৩০), আক্তার হোসেন(৩২), উৎপল কুমার চোধুরী দিপু(৩০)। সাব্বির পেশায় একজন শিক্ষক। অন্য দু’জন গ্রামীণ ফোনের কাষ্টমার ম্যানেজার।

gyy
সাব্বির আহম্মেদ জানান, ছাত্র জীবন থেকেই বিভিন্ন সোস্যাল ওয়ার্কের সাথে জড়িত ছিলেন তিনি। ঝিনাইদহে পড়াশুনা করাকালীন সময়ে শিশু , প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করতেন। পরে পড়াশুনার জন্য ঢাকাতে চলে যেতে হয়। ঢাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোবিজ্ঞানে মাষ্টার্স শেষে ২০১৩ সালে নিজ শহর ঝিনাইদহে ফিরে এসে একটি প্রতিবন্ধী স্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করার সুযোগ হওয়ায় আবারো সামাজিক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করার ইচ্ছা জাগ্রত হয়। প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকা ঝিনাইদহবাসীকে প্রযুক্তির সাথে সম্পর্কযুক্ত করার চিন্তা আসে মাথায়। এজন্য শহরে একটি নির্দিষ্ট স্থান প্রয়োজন। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে নজরে আসে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি পার্ক। সাব্বির জানান, কয়েকদিন এসে দেখি পার্কটি মাদক সেবীদের দখলে। আর রাত বাড়ার সাথে সাথে ভ্রাম্যমান পতিতার আনাগোনা। চিন্তা করি পার্কটিকে ফ্রি ওয়াই ফাই জোনে পরিনত করার। এতে এক দিকে ঝিনাইদহের মানুষ প্রযুক্তির সেবা পাবে, অন্যদিকে পার্কটি মাদকসেবী ও পতিতামূক্ত হবে। বিষয়টি নিয়ে বন্ধুদের সাথে কথা বলি।
তাদের উৎসাহে এক সময় মেয়র সাইদুল করিম মিন্টুকে আমার পরিকল্পনার কথা জানাই। তিনিও সাধুবাদ জানান, পাশাপাশি সহযোগিতারও আশ্বাস দেন। পার্কটি ব্যবহার করতে জেলা প্রশাসনের অনুমতি লাগবে। একদিন জেলা প্রশাসক শফিকুল ইসলামকে পার্ক ঘিরে পরিকল্পনার কথা জানাই। তিনিও রাজি হলেন। ৩০এপ্রিল’১৪ জেলা প্রশাসক শফিকুল ইসলাম ও মেয়র সাইদুল করীম মিন্টু পার্কটিতে ফ্রি ওয়াই ফাই জোনের শুভ উদ্ভোধন করেন। ওয়াই জোন তৈরী ও পার্কটির শোভাবর্ধনে তিন বন্ধু মিলে অর্থলগ্নি করেন। কিন্তু নিজেদের অর্থ দিয়ে পার্কটিতে ফ্রি এই সেবা প্রদান দীর্ঘ স্থায়ী করা সম্ভব হবেনা। তাই পার্কে একটি খাবারের ক্যাফে গড়ে তোলা হয়। ক্যাফেটি পার্কে আসা মানুষেরা নাস্তা চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অর্থের যোগানও দিচ্ছে। ক্যাফে থেকে যা আয় হয় তা দিয়েই এখন পার্কে ফ্রি ওয়াই ফাই সেবা দেয়া হচ্ছে। সাব্বির আরো জানান, ক্যাফেতে ১০জন লোক কাজ করে। এদের মধ্যে ৩জন সূস্থ্য বাকি ৭জন প্রতিবন্ধী। প্রতিবন্ধীদের কর্মস্থানের ব্যাবস্থা করার লক্ষে শহরের বিভিন্ন যায়গা থেকে ৭জন প্রতিবন্ধীদের পার্কের ক্যাফেতে চাকরী দেওয়া হয়। তাদেরকে পার্কে আসা মানুষদের চাহিদা অনুযায়ী নাস্তা সরবরাহ করার কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে। উদ্দেশ্য মানুষ ওদেরকে যাতে সমাজের বোঝা না ভাবে সুযোগ করে দিলে ওরাও আয় করতে পারবে। সাব্বির আরো জানান, পার্কে প্রতিদিন একসাথে গড়ে ৫০-১’শ জন ইন্টারনেট ব্রাউজ করে। প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে দুপুর ১২টা এবং বিকাল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ফ্রি ওয়াই ফাই সেবা দেয়া হয়। এছাড়া পার্কে ৮/১০টি পত্রিকা রাখা হয়।

প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ পত্রিকা পড়তে পার্কে আসেন। গত ২৩ মে পার্কে ফ্রি ল্যান্সিং প্রশিক্ষণের উদ্ভোধন করা হয়। পার্কে দক্ষ প্রশিক্ষক দ্বারা ফ্রিল্যান্সিং কোর্স করানো ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই প্রশিক্ষণ বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেবে বলে তিনি আশাবাদী।
পার্কে আসা ঝিনাইদহ টিটিসির চিফ ইন্সট্রাক্টর হায়দার হোসেন জানান তিনি প্রতি সপ্তাহে স্ত্রী সন্তানসহ এখানে ঘুরতে আসেন এবং ফ্রি ওয়াই ফাই সুবিধা গ্রহণ করে বাচ্চার জন্য বিভিন্ন কার্টুন ও শিক্ষামূলক সফটওয়্যার ডাউনলোড করেন। টেকনিক্যাল স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র রাহুল প্রায় এখানে আসে। বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফ্রি ওয়াই ফাই সুবিধা গ্রহণ করে ফেসবুক চালায়, বিভিন্ন শিক্ষকের সাজেশন ডাউনলোড করে।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র সাইদুল করীম মিন্টু বলেন, ছেলেরা পার্কটিতে ইন্টারনেট চালু করতে চেয়েছিল আমি তাদের এ ব্যপারে সহযোগিতা করি। ওদের উদ্যোগ মহৎ। আমি তাদের সাফল্য কামনা করি।

বিডি লাইভ ২৪ থেকে নেয়া

উত্তর দিন