মুক্তিযুদ্ধ অবলম্বনে লেখক এর দেখা কিছু সত্য কাহিনী পড়ুন

4 100

আমার দেখা সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ছিলো ১০-১২ জন মহিলার মধ্যে একটি মেয়ের ফ্যানের সাথে ওড়না পেচিয়ে আত্নহত্যা………

আমি যে সময়টার কথা লিখছি সেটা ছিলো ১৯৭১ সালের যুদ্ধ পূর্ববর্তী সময়। তখন গ্রাফিক্স আর্টস ইনস্টিটিউট এর সামনে “U” আকারের ছেলেদের একটি হোস্টেল ছিলো। আমি, টুটুল, বোলা, রুপম, জুন, কণা এবং আমার ছোট ভাই জুয়েলসহ আমাদের একটা খেলার দল ছিলো। আমরা এই ছেলেদের হোস্টেলের সামনের খোলা জায়গায় কখনো সাতচারা কখনো ছি-বুড়ি এবং কখনো অডিটেরিয়াম এর ছাদের উপরে লুকোঁচুরি খেলতাম। এভাবেই তখন আমাদের সময়গুলো কাটছিলো।

রাজশাহীতে (বরেন্দ্র রির্সাচ মিউজিয়ামে) আমার কিছু খেলার সাথী ছিলো। সেখানে আমরা বরেন্দ্র রির্সাচ মিউজিয়ামের ভিতরে বিভিন্ন রকমের খেলাধূলা করতাম। কখনো সাতচারা কখনো নতুন নতুন বিভিন্ন রকমের খেলা বানিয়ে খেলতাম।

আমার বাবা  স্বাধীনতার পর পর আমেরিকায় চলে যান। এখানে আমাকে স্কুলে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু আমি কিছুতেই পড়াশোনায় মনোযোগী হতে পারছিলাম না। সারাক্ষন মর্মান্তিক সব ঘটনা আমার মাথায় ঘুরে বেড়াত। আমি বেশ কয়েকটা স্কুল পরিবর্তন করেছিলাম। কারন আমার স্কুল ভালো লাগতনা। আমি প্রথমে সেন্ট জোসেফ স্কুলে ভর্তি হই পরবর্তীতে মোহাম্মদপুর বয়েজ স্কুলে। এরপর আমি চলে যাই রাজশাহীতে ভর্তি হই রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলে। সেখান থেকে আবার চলে যাই রংপুরে চন্ডীপুর শহরে। সেখানে চন্ডীপুর স্কুলে আমি ভর্তি হই। চন্ডীপুর স্কুলে কয়েকজন শিক্ষক ছিলেন যারা ছিলেন আমার বাবার শিক্ষক। উল্লেখ্য আমার বাবাও এই স্কুলে পড়াশোনা করেছিলেন। যাইহোক এখানে স্কুলে যেতে মোটামোটি আমার ভালই লাগতো। আমি চালিয়ে যেতে পারতাম কিন্তু কেন জানি ভালো লাগতোনা সারাক্ষন মনটা খারাপ লাগতো।

আমি ছোট বেলায় গ্রামের বাড়িতে ছিলাম কয়েক বছর। একদিন সেখানে আমি দেখলাম পুকুড়ে একটা মহিলা গোসল শেষে তার শাড়ির আঁচল উপরের দিকে ধরে রোদে শুকাচ্ছে, আবার কিছুক্ষন পর একইভাবে শাড়ির অন্য অংশ রোদে শুকাচ্ছে। আমি আমার দাদিকে জিজ্ঞেস করলাম মহিলাটি এরকম করছে কেন? দাদি আমাকে বললো ঐ মহিলার মাত্র একটি শাড়ি। আর এ কারনেই সে এভাবে তার শাড়িটি রোদে শুকিয়ে নিচ্ছে। আমার খুব খারাপ লাগলো।

আমি দাদিকে বললাম আমার কিছু টাকা লাগবে কারন আমি ঐ মহিলাকে একটা শাড়ি কিনে দেব। দাদি আমাকে টাকা দিয়েছিলেন শাড়ি কেনার জন্য। আমাদের বাড়ির পাশে যে বাজার ছিলো “পাঁচ পীর” -এর বাজার সেখানে মনে হয় শাড়ি ছিলোনা যে কারনে গাইবান্ধা বাজার থেকে শাড়ি আনা হয়েছিলো।

কয়েকদিন অপেক্ষা করার পর মহিলার কথা মনে পড়লো। আমি শাড়ি নিয়ে মহিলার বাড়ি গেলাম এবং তাকে শাড়িটি দিয়ে বললাম এটা আপনার জন্য আমি নিয়ে এসেছি। কিন্তু সে বললো তার শাড়ি দরকার নাই এবং সে শাড়ি নিলোনা। আমি বুঝতে পারলাম গরীব মানুষেরও যথেষ্ট আত্নসম্মানবোধ আছে। একটা শাড়ি আছে বলেই যে ভিক্ষা নিতে হবে তা নয়। আমি একটা বড় ধরনের শিক্ষা পেলাম এই মহিলার কাছ থেকে।

আমার দেখা সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ছিলো ১০-১২ জন মহিলার মধ্যে একটি মেয়ের ফ্যানের সাথে ওড়না পেচিয়ে আত্নহত্যা যা আমি আমার লেখার অন্য অংশে বর্ননা করিয়াছি। কিন্তু এর থেকে ও মর্মান্তিক ঘটনা হলো এই ১০-১২ জন মহিলার মধ্যে ৩ জন মহিলার…………বিস্তারিত কাহিনী এখান থেকে পড়ুন – আমার দেখা কিছু ঘটনা

পুরাপরি কাহিনী এখানে দিতে না পারাই আমারা লিংক দিয়ে দিয়েছি।

কোন কিছু পাওার উদ্দেশ্য আমাদের প্রচার নয়। শুধুমাত্র লেখক কে সম্মান জানানোর জন্য এই প্রচার যিনি এখনো কাদে এবং তার অসংখ্য কাজের মাঝে লিখতে বসেন।

আমারা থাকে একটি লাইক আর ধন্যবাদ লিকে সম্মান দেই।

ফেসবুক পেজ – বিশ্ব বাংলা

ওয়েবসাইট – http://bishwabangla.com

4 মন্তব্য
  1. ব্লগার ভাই বলেছেন

    ভালো লাগলো।

    আইডিয়া বাজ

    1. hmislam30 বলেছেন

      ভাই, বাংলার ইতিহাস কখনো বাজে হয় না। আমরা অনুপ্রানিত করি যারা মুক্তিযুদ্ব করে আমাদের দেশকে স্বাধীন করেছিল। উনার স্মৃতিকে সম্মান দেই। সমস্ত মুক্তিযুদ্বাদের সম্মান জানাই।

  2. MimosaHaque বলেছেন

    অসংখ্য ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য 🙂

    1. hmislam30 বলেছেন

      আপনাকেও ধন্যবাদ জানাই।

উত্তর দিন