তরুণ ফ্রিল্যান্সার দের জেনে নেয়া উচিৎ যে ১০ টি ব্যাপার

0 132

ফ্রিল্যান্সিং এর অর্থ একদম সহজ করে বললে যা দাড়ায় তা হল – মুক্ত পেশা,স্বাধীনভাবে কাজ করা।যারা স্বাধীনভাবে কাজ করেন তাদেরকে বলা হয়ে থাকে ফ্রিল্যান্সার ।চাকরি যেমন একটি পেশা তেমনি Freelancing একটি পেশা। ইদানিং অনেক তরুণই ছুটছে এই ফ্রিল্যান্সিং এর দিকে । আসলে অনলাইনে কাজ করতে বা একজন সফল ফ্রিলান্সার হতে “আত্মবিশ্বাস” টাই প্রধান হাতিয়ার। এছাড়া আপনার থাকতে হবে একটি কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট সম্পর্কিত কিছুটা জানা সোনা । আর থাকতে হবে কাজ করার ইচ্ছা ও কিছুটা সময়।

ভাবছেন আপনি খুব ব্যস্ত মানুষ তাই পড়াশুনা/ চাকুরী/ ব্যবসা করেন। মনে রাখবেন দিনে কমপক্ষে ১/২ ঘণ্টা কাজ করেও আয় করা যায়। ইন্টারনেট ব্যবহা করে আয় করার পদ্ধতি আছে তাই এতটুকু নিশ্চিত থাকেন এতে কোন ফাকিবাজি নেই। কারণ অগণিত মানুষ আজ এসব করে ইনকাম করছেন, সারা বিশ্ব তো বটেই, বাংলাদেশও। তাই আপনার ওপরই নির্ভর করছে আপনি কিভাবে শুরু করবেন এবং কবে থেকে করবেন। অনলাইনে অনেক কাজ পাওয়া যায়। যেমনঃ ডাটা এন্ট্রি, গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, আর্টিকেল রাইটিং, ফটোগ্রাফি, ফাইল আপলোড, পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন তৈরি, গুগল এডসেন্স, এফিলিয়েট মার্কেটিং, ই-মেইল মার্কেটিং। (আরও অনেক ধরনের কাজ পাওয়া যায়। আপনারা কস্ট করে গুগল সার্চ দিয়ে জানতে পারবেন।) এদের মধ্যে আপনার পছন্দের কাজটি বেছে নিন। এবং আপনাকে কিছুদিন সময় দিয়ে কাজ শিখতে হবে। কিভাবে কাজ শিখবে সেটাও বলি। আপনি কোন আইটি প্রতিষ্ঠান থেকে কাজ করার ধরন, আপানার কাজের ক্ষেত্র, কোন মার্কেট প্লেস আপানর জন্য ভালো এবং খুঁটিনাটি শিখে নিতে পারেন। কারন কোন কিছু শুরু প্রথম দিকটা হতে মজবুত এবং আপনাকে সব মৌলিক ব্যাপার গুলো জেনেই নামা উচিৎ ফ্রিল্যান্সিং এ । কিছু হয় এখন এমন অনেক প্রতিষ্ঠান তরুণ দের জন্য সুযোগ করে দিচ্ছে , যেমন এই প্রতিষ্ঠান টি আউটসোর্সিং এবং ফ্রিল্যান্সিং এর উপর চালু করেছে স্কলারশিপ প্রোগ্রাম । যদি সেরকম কোন সুবিধা না থাকে তবে নিজেকে করে ফেলুন প্রচুর আত্মবিশ্বাসী। ইন্টারনেট হতে পারে আপনার একমাত্র শিক্ষক। অনলাইনে সব ধরনের

কাজের ওপর অনেক টিউটোরিয়াল সাইট আছে যেখান থেকে আপনি অনায়াসেই কাজ শিখতে পারবেন। তাছাড়া অনলাইনে কাজ করে এমন কিছু মানুষের সাথে যোগাযোগ করুন। জানা-অজানা অনেক দিক নির্দেশনা পাবেন বলে আশা করি। চলুন দেখে নেই ফ্রিল্যান্সার দের জন্য সেরা মার্কেট প্লেস freelancer.com সম্পর্কে ।

আপনারা অনেকেই হয়ত Freelancer.com সম্পর্কে জানেন । এটি বিশ্বের একটি অন্যতম বড় ফ্রিলান্সিং ওয়েবসাইট । আমার এই লেখার মুল উদ্দেশ্য হল এই ওয়েবসাইটের কিছু নিয়ম কানুন সবাইকে জানানো । কারন রেজিস্ট্রেশান করার সময় বলতে গেলে আমরা কেউ ই ওয়েবসাইটের রুলস পড়ে দেখি না । কিন্তু যেহেতু এই ওয়েবসাইটটির নিয়মকানুন অনেক কড়া তাই সবার এইটা জানা উচিত ( যারা ফ্রিলান্সিং করতে আগ্রহী তাদের জন্য )।

১) কখনই একাধিক আকাউন্ট খুলবেন না । এক কম্পিউটার এবং মডেম থেকে একের বেশি আকাউন্ট খোলা যাবে না । কখনও সাইবার কাফে অথবা অন্য কারো কম্পিউটার এ আপনার ফ্রিলান্সার আকাউন্ট থেকে লগিন করা উচিৎ না । Freelancer.com এর সিস্টেম খুবই শক্তিশালী , আপনি কবে কোন আইপি দিয়ে কোন ব্রাউসার দিয়ে লগিন করেছেন ওদের কাছে সব হিসাব থাকে । ১ বছর পড়ে হলেও ধরে ফেলবে ।

২) আকাউন্ট করার সময় আপনার সম্পর্কিত সঠিক তথ্য দিন । তথ্য ভুল থাকলে যেকোনো সময় Freelancer.com আপনার আকাউন্ট সাসপেন্ড / লিমিটেড করে দিয়ে আপনার কাছে আপনার পরিচয় প্রমান করতে বলবে । জাতীয় পরিচয় পত্র / পাসপোর্ট / ড্রাইভিং লাইসেন্স / যে ঠিকানা দিয়েছেন তার যেকোনো ইউটিলিটি বিল এর স্কান করা কপি / ব্যাংক স্টেটমেন্ট দিতে হবে । যদি ভুল তথ্য দিয়ে আকাউন্ট খুললে আপনার প্রফাইল বন্ধ হবার সম্ভাবনা প্রচুর, এতে আয় করা ডলার গুলো হারাতে হতে পারে ।

৩) কখনও বিড করার সময় আপনার ইমেইল এড্রেস / স্কাইপে এড্রেস ক্লায়েন্টকে পাঠাবেন না । ফ্রিলান্সার ধরতে পারলে খবর আছে। তবে আপনার ক্লায়েন্ট যদি আপনাকে প্রোজেক্ট অ্যাওয়ার্ড করে দেয় , সেক্ষেত্রে ইমেইল এড্রেস / স্কাইপে আইডি পাঠাতে কোন সমস্যা নাই । তবে তার আগে কখনই না। অনেক ক্লায়েন্ট স্কাইপে আইডি চাইবে , তাদের বলবেন আগে প্রোজেক্ট অ্যাওয়ার্ড করে দিতে । কারন এইটা ফ্রিলান্সার ডট কমের নিয়মবিরুদ্ধ ।

৪) যেকোনো সমস্যায় ফ্রিলান্সার সাপোর্ট এর সহযোগিতা নিন । এইজন্য [email protected] এ ইমেইল করতে পারেন । অথবা http://www.freelancer.com/users/helpdesk.php যেয়ে লাইভ চ্যাট করতে পারেন ।

৫) ক্লায়েন্টদের কখনও হুমকি ধামকি কিম্বা প্রেসার দিবেন না , অশ্লীল কোন ভাষা ব্যবহার করবেন না । ক্লায়েন্ট যত কোঠর হোক না কেন , আপনি সবসময় ভদ্র ব্যবহার করুন ।

৬) Freelancer.com এ মাসের শুরুতে আপনাকে ১০ টা বিড করার সুযোগ দিবে এবং প্রতি ২ দিন পর পর ১ টা করে বিড বাড়বে । তার মানে আপনি ১০ + ১৫ = ২৫ টা বিড করার সুযোগ পাবেন । বুঝে শুনে বিড করুন । সফলতা আসবে । অনেক বেশি বিড করলে অনেক বেশি কাজ পাওয়া যাবে তা কিন্তু নয় । আপনার বিডটি হতে হবে মানসম্পন্ন ।

৭) কপি পেস্ট করে বিড করবেন না । প্রোজেক্ট এর বিস্তারিত পরুন । তারপর এর সাথে সামাঞ্জস্য রেখে বিড এর মেসেজ লিখুন । ক্লায়েন্ট যদি কোন প্রশ্ন করে থাকে তাহলে তার উত্তর দিন । ধরেন প্রোজেক্ট বলছে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট ডেভলপ , আপনি বিড এ ১০ টা জুমলা দিয়ে বানানো ওয়েবসাইটের লিঙ্ক দিলেন । লাভ কি হবে ? ওয়ার্ডপ্রেস এর প্রোজেক্ট এ ওয়ার্ডপ্রেস এর ওয়েবসাইটের লিঙ্ক ই দিন । তাই বলে আবার অন্যের ওয়েবসাইটের লিঙ্ক নিজের বলে চালাতে যাবেন না ।

৮) ফ্রিলান্সার ডট কমের বেশ কয়েকটি মেম্বারশিপ প্লান আছে । আপনার ইনকাম যদি ভালো হয় তবে মেম্বারশিপ প্লান নিলে আপনার লাভ হবে । ফ্রি মেম্বারশিপ এ অনেক সুবিধাই পাওয়া যায় না , তার উপর পুরো ১০% প্রোজেক্ট ফি কেটে নেয় । আপনার ইনকাম যদি মাসে ৫০০$ এর বেশি হয় তাহলে স্ট্যান্ডার্ড মেম্বারশিপ আপনার জন্য লাভজনক হবে কারন তখন ১০% এর বদলে ৫% করে প্রোজেক্ট ফি কাটবে । আপনার আয় যদি ১০০০ ডলার এর বেশি হয় তাহলে প্রিমিয়াম মেম্বারশিপ আপনার জন্য লাভজনক হবে কারন তখন ১০% এর বদলে ৩% করে প্রোজেক্ট ফি কাটবে ।

৯) কোন প্রোজেক্ট আপনাকে যদি ক্লায়েন্ট অ্যাওয়ার্ড করে তবে সাথে সাথেই প্রোজেক্ট একসেপ্ট করবেন না । আগে দেখুন ক্লায়েন্ট মাইলস্টোন দিয়েছে কি দেয় নাই । মাইলস্টোন পেয়মেনমেন্ট মানে হল প্রোজেক্ট ফি এর একটা অংশ যা আপনার ক্লায়েন্ট আপনার জন্য Freelancer.com এর কাছে জমা করবে । এই টাকাটা Freelancer.com আটকে রাখবে । আপনি এইটা তুলতে পারবেন না যতক্ষণ না আপনি কাজ কমপ্লিট করছেন এবং আপনার ক্লায়েন্ট মাইলস্টোন পেমেন্ট টা রিলিজ করে দিচ্ছে । আবার আপনার ক্লায়েন্ট ও এই টাকা ফেরত নিয়ে নিতে পারবে না । যদি কোন সমস্যা হয় তখন আপনি ডিসপুট দিতে পারবেন । মনে রাখবেন ফ্রিলান্সার ডট কম আপনাকে তখনই কাজের বিনিময়ে টাকার নিশ্চয়তা দিবে যখন আপনার প্রোজেক্ট এর মাইলস্টোন পেমেন্ট থাকবে । যদি আপনি মাইলস্টোন পেমেন্ট ছাড়াই কাজ শুরু করেন তাহলে ঝামেলায় পরার চান্স থাকে । কারন মাইলস্টোন ছাড়া যদি আপনি কাজ করে ফেলেন এবং আপনার ক্লায়েন্ট আপনাকে টাকা না দিয়েই প্রোজেক্ট বাতিল করে দেয় তাহলে Freelancer.com কোন ভাবেই আপনাকে সহয়তা করবে না । কারন Freelancer.com প্রোজেক্ট জেতার সাথে সাথে আপনাকে ইমেইল করে বলে দেয় , ”We strongly suggest that you do not start work until a Milestone Payment is in place from client. In the unlikely event that an issue occurs involving your project we have a dedicated Dispute Resolution System in place to protect you.” তার মানে ফ্রিলান্সার ডট কম তখনই আপনাকে সাহায্য করতে পারবে যখন আপনি মাইলস্টোন পেমেন্ট নিয়ে কাজ শুরু করবেন । অনেক নতুন ক্লায়েন্ট এই বিষয়টা জানে না , তাকে এই পেজ টা দেখতে বলুন http://www.freelancer.com/faq/topic.php?id=2 , তাকে বুঝিয়ে বলুন টাকাটা সে সরাসরি আপনাকে দিচ্ছে না, টাকাটা সে আপনার জন্য ফ্রিলান্সার ডট কমের কাছে জমা রাখছে । আপনি এই টাকা তখনি পাবেন যখন আপনি কাজ শেষ করতে পারবেন এবং আপনার ক্লায়েন্ট মাইলস্টোন পেমেন্ট টা রিলিজ করে দিবে ।

১০) কখনও সরাসরি কারও আকাউন্ট এ ব্যালেন্স ত্রান্সফার করবেন না । আপনার ক্লায়েন্টকেও বলবেন প্রোজেক্ট এর মাধ্যমে পেমেন্ট দিতে । আপনি যদি এমন কারো আকাউন্টে সরাসরি ব্যালেন্স ত্রান্সফার করেন যার সাথে আপনি কোন প্রোজেক্ট করেন নি , তাহলে কিন্তু আপনার এবং তার দুইজনেরই আকাউন্ট সাসপেন্ড করে দিবে এবং আপনাদের জিজ্ঞাসা করবে আপনাদের মধ্যে সম্পর্ক কি এবং কেন আপনি তাকে ব্যালেন্স ত্রান্সফার করলেন । freelancer.com একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান । মানি লন্ডারিং আইন অনুযায়ী এরা অনেক নিয়ম মেনে চলে । তাই সবসময় সঠিক নিয়ম অনুযায়ী কাজ করুন ।

লিখতে গেলে আরও অনেক বড় হয়ে যাবে । ইনশাল্লাহ পরবর্তীতে আরো বিষদ ভাবে লেখার চেষ্টা করব ।।

উত্তর দিন