সেন্ট মার্টিনের ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশের মিডিয়া তে চরম তামাশা

2 158

সেন্ট মার্টিনের ঘটনা সেই ভয়াল ঘটনা সবার জানা, প্রশাসনের চরম অবহেলার কারনে সেন্ট মার্টিন দ্বীপেআহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ ছাত্র মারা যায়, এনিয়ে নিহতের বন্ধুবান্ধবরা সেন্ট মার্টিনের ঘটনা সেই ভয়াল ঘটনা নিয়ে মিডিয়া ও প্রসাশনের ভুমিকা নিয়ে নিয়ে চরম ক্ষোভ করে আসছে সেন্ট মার্টিনের ঘটনা নিয়ে মিডিয়া ভূমিকা নিয়ে আজআহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক ছাত্র Jaodat Rahman মিডিয়া প্রশাসনের ভুমিকার সমালোচনা করে মিডিয়ার মুখোশ খুলে দিতে ফেসবুকের মাধ্যমে নোট লিখেছেন । ফেসবুকের নোটটি হুবুহু তুলে ধরা হলো;

সেন্ট মার্টিনের ঘটনা নিয়ে মিডিয়ার যত মিথ্যাচার

April 17, 2014 at 11:15am
অনেক পেপারে, খবরের চ্যানেলে সংবাদ দেয়ার পরও আমার কথা প্রকাশ করা হয় নি! সত্যটাকে বার বার ঘোলাটে করা হচ্ছে। ধিক্কার বাংলাদেশের সংবাদ পত্র, টিভি চ্যানেল , পুরো মিডিয়া আর সেই সকল মানুষ কে যারা না জেনেই নিজের মতামত দিয়ে ফেইসবুকে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করছেন!

প্রথমেই বলে নেই যেই ছবি টা শেয়ার করে সবাই মৃত্যুর ফাদ সনাক্ত করছেন এখানে লাল মার্ক করা জায়গার আশে পাশেও আমরা ছিলাম না! এর অনেক বামে উত্তর বীচের নীল চিহ্নিত অংশেই আমাদের সবাই ছিল!

সেন্ট মার্টিনের এর ঘটনাস্তল

সেন্ট মার্টিনের এর ঘটনাস্তল

বিপদজনক সম্পূর্ণ জায়গাটুকু  শেয়ার করলেই তবে আরেকটা জীবন বাচতে পারবেন। শেয়ার করার আগে একটু জেনে পড়ে শেয়ার করুন।  তখনও আমি বন্ধুর দেহগুলো জীবিত কি মৃত এটাও সিউর হতে পারিনি আমাকে একুশে টিভি থেকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করল “ঘটনা কি একটু খুলে বলুন”, হাতে বন্ধুর লাশটাকে মাত্র স্পিড বোর্ড থেকে নামালাম মানবতাকর্মী ফোনে জিজ্ঞেস করল “কেমন লাগছে আপনার”? এই ছিল বাংলাদেশ এর মানবতা কর্মী এবং সাংবাদিকদের মানবতার অবস্থা! যাই হোক মেনে নিলাম তারা তাদের কাজ করছিল এটা করার জন্যই তাদের পারিশ্রমিক দেয়া হয়। তবে প্রশ্ন করারও একটা গাইড বুক থাকা উচিৎ তাই না? তাহলে যেই কাজটার জন্য আপনাদের রাখা হয়েছে ওই কাজটা তো আপনারা ঠিক মত করবেন! মানুষদের সঠিক তথ্য দেয়া তো আপনাদের কর্তব্য তাই না! ফেইসবুক/ সোসিয়াল মিডিয়ায় একটা ভুল খবর প্রচারিত হতেই পারে কারণ এই খবরটি দেয়া তার পেশা নয়! এই খবর মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য তাদের রাখা হয় নি! আপনারা কেন মিথ্যা সংবাদ দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন!   সংবাদ পত্র এবং মানুষের ছড়ানো কিছু মিথ্যা সংবাদগুলোর কিছুটা বললাম। কারণ সংখ্যায় এতই বেশি ছিল যে এর সব গুলো বলাও সম্ভব না! প্রথমে ইন্ডিপেনডেন্ট টিভিতে বলা হয়, কোস্ট গার্ড বার বার মানা করার পরেও, সঙ্কেত দেয়ার পরও ছেলেরা পানিতে লাফালাফি করছিল এবং অনেক দুরে চলে যায়। যেখানে ওই সময় সেখানে কোন কোস্ট গার্ডই ছিলনা।

একজন কোস্ট গার্ডও ঘটনা স্থলে অথবা ঘটনা ঘটার ১০-১৫ মিনিট এর সময় ব্যাবধানে থাকলেও আমাদের একটি প্রাণও যেত না।

এ টি এন বাংলা তে বলা হয়েছে, ঘটনা স্তলে লাল পতাকা দেয়া ছিল ছেলে রা তা খেয়াল করে নি। কিন্তু সত্য হল লাল পতাকা দেয়া হয়েছে আমাদের ২ জন এর মৃত দেহ পাওয়ার পর এবং ৪ জন নিখোঁজ হয়ার পর আমাদেরই চাপে, আমাদেরই বলাবলির পর, পরের দিন রোজ ১৫ এপ্রিল সকাল ৮ ঘটিকায়( নিশ্চিত করতে স্থানীয়দের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন )।

জনৈক বুদ্ধিজীবী প্রশ্ন তুলেছেন “শিক্ষা সফরে শিক্ষক নেই কেন?”

এটা কোন শিক্ষা সফর ছিল না। আমরা গত ৯ এপ্রিল আমাদের ভার্সিটি জীবনের অধ্যায় শেষ করি আমাদের শেষ পরীক্ষা দেয়ার মাধ্যমে। আগেই প্ল্যান ছিল সবাই মিলে ঘুরতে যাব সেন্ট মারটিন। ২৩-২৪ বছরের ভার্সিটি পাশ ছেলেদের এই ঘুরতে আসায় শিক্ষক বা গার্জিয়ানদের টেনে এনে কেন আসল ব্যাপার টা ঘোলাটে করা হচ্ছে? আঙ্গুল তুলতেই যদি হয় আসল খবরে আঙ্গুল তুলুন!

মাত্রই তীরে ভিড়ানো ফারহান শোভন আর আশিফ মজতুবা তখন মাটিতে শুয়ে আছে তখন তাদের ছবি তুলে ছাপানো হল এরা মারা গেছে!

এই হচ্ছে আমাদের দেশের সংবাদপত্র আর সাংবাদিকতার নমুনা? মানুষের মৃত্যু নিয়ে অন্তত্য একটু গুরুত্বের সাথে লিখুন।   লাশ সনাক্ত করার জন্য আমাদের ছবি দেয়া হল আমরা তখনও লাশ সনাক্ত করে বলিও নাই এর আগেই সকল খবরের চ্যানেল বলে দিল এটা

সাব্বির হাসান এর লাশ।

লাশ টা ছিল শাহরিয়ার নোমান এর। না জেনে এভাবে সকল খবরের চ্যানেল কিভাবে একটা ভুল সংবাদ প্রচার করতে পারে! কিভাবে ? আমি নিজে মাছরাঙ্গা সহ আরও কিছু টিভি চ্যানেল এ নিশ্চিত করেছিলাম যে দয়া করে সত্য নাম ছাপান বিভ্রান্ত করার সংবাদ দিবেন না। এর পরও ঘন্টা দেড় এক পরে দেখি মাছরাঙ্গাও বাকি সব চ্যানেল এর মত মৃত দেহের নাম দেখাচ্ছে সাব্বির।   এত ভয়ঙ্কর একটা এলাকা,  স্থানীয়রা পরে আমাদের বলল এই একই এলাকায় প্রতি বছর লোক মারা যায়, বছর খানেক আগে ফ্ল্যাগও নাকি ছিল তাহলে কথায় গেল সেই লাল ফ্ল্যাগ? বাইরের মানুষ কিভাবে জানবে এইখানে একটা খাদ আছে? প্রসাশন থেকে কোন প্রকার সতরকতা দেয়া হয়নি। হোটেল (sand shore) আমাদের সতর্ক করেনি। কেন হোটেল থেকে জানানো হল না, কেন এই রকম জায়গায় একটা সাইনবোর্ড নেই? কেন কোন প্রকার রেস্কিউ টিম নাই,

হয়ত ১০ মিনিট পরও একটা রেস্কিউ টিম পেলেও মানুষ গুলি বেচে যেত।

লোকাল মানুষ ৬ জন কে না বাচালে তারাও মারা যেত। অন্তত ১২ জন মানুষ আমরা মারা যেতাম ওখানে। তীরে কোন টিউব ছিল না। রেস্কিউ টিউব নেই, কেন তীরের আশে পাশে কোন টিউব থাকবে না এত বড় পর্যটন স্থানে? বলে নেয়া ভাল আমরা এমন কোন তীরে যাই নি যেখানে আমরা একা ছিলাম কিংবা যেখানে সচরাচর মানুষ যায় না। উত্তর বিচ বলে ওই জায়গাটাতেই সেন্ট মারটিনে সবাই বিচে নামে। ঘাটির প্রান্তে কেউ নামে না। যারা সেন্ট মারটিন জান তারা সবাই জানেন তীরে কোন দিকে মানুষ সাতার কাটতে নামে।   বন্ধুদের দেহ ভ্যান এ তুলে সেন্টমারটিনে কোন চিকিৎসক বা হাসপাতাল পেলাম না! নুন্যতম প্রাথমিক চিকিৎসা করার মতও কোন সাহায্য পেলাম না। হয়তো ওই প্রাথমিক চিকিৎতশটুকু পেলেও কিছু জীবন বাঁচে। কেন থাকবে না কোন চিকিৎসা ব্যাবস্থা?

আসল সংবাদ না ছাপিয়ে, মানুষ গুলোর নামও ঠিক মত না ছাপিয়ে ভুল সংবাদ দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার আর আমাদের পরিবার আর শিক্ষকদের লাঞ্ছনা দেয়ার অধিকার মিডিয়াকে কে দিয়েছে?

আমাদের দুর্বলতা, আমাদের শিক্ষক, বাবা মা নিয়ে সবাই কথা বলছে অথচ কেউ প্রসাশনের চরম দুর্বলতা, অবহেলা আর দায়িত্বহীনতা নিয়ে নিউজ দিল না । কেউ না। গত কয়েক বছরে এই একই জায়গায় ১৪ জন ( আমাদের সহ) ছেলে মারা গেল। আর কতটা মায়ের বুক খালি হলে আর কতটা স্বজন হারালে প্রসাশন ব্যাপারটা কে গুরুত্বের সাথে নিবে?   যেই খবর গুলো ছাপালে ভবিষ্যতে মানুষের জীবন বাঁচবে, আর হারাবোনা ছেলে, মেয়ে, সন্তান, ভাই বা বন্ধুকে সেগুলো আগে ছাপান।

এরপর না হয় আমাদের দোষ, দুর্বলতা, কান্ডজ্ঞ্যানহীনতা নিয়ে কথা বলবেন।

অবশ্যই আমাদের দোষ তো ছিলই ! আমারা ঘুরা পাগল ছেলেরা সব সময় বাংলাদেশ এর সৌন্দর্যই দেখতে যেতাম বা চেতাম! বাংলাদেশ যে ঘুরার জন্য নয় ! বাংলাদেশ এ যে কোন পর্যটন নেই এটা জানা উচিৎ ছিল আমাদের সবার তাহলেই আর হারাতাম না বাপ্পি, সাব্বির, অঙ্কুর, নোমান, ইভান আর উদায়কে।

আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের সেই ৩৪ জনের মধ্যে একজন রাফিউজ্জামান সিফাত। নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাসে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিজের বন্ধু হারানোর জন্য তিনি দায়ী করেছেন সেন্টমার্টিনের স্থানীয় প্রশাসন ও কোস্ট গার্ডের চরম দুর্বলতা কে। তার স্ট্যাটাসটি হুবহু এখানে দেয়া হল- status

সেন্ট মার্টিনের ঘটনা নিয়ে কক্সবাজারের এক সাংবাদিকের ফেসবুক স্ট্যাটাস নিচে দেওয়া হল ।

দায়িত্বজ্ঞানহীন মিডিয়া আর মৃত্যু নিয়ে তামাশা!

“অন্য মিডিয়াগুলো তো ৪জন উদ্ধারের সংবাদ দিচ্ছে, আপনি কেন ২ জন বলছেন?” অফিস থেকে করা প্রশ্নটির অসংখ্যবার উত্তর দিলাম সারাটা দিন।
এখন রাতে ওই মিডিয়াগুলোও দেখি ৪ জন থেকে কমিয়ে ২ জনে নেমে এসেছে। সকালের দিকে নেয়া স্ক্রীনশটগুলো দেখে দেখে এখন নিজের কাছেই কেবল প্রশ্ন করছি, “ এ কেমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মিডিয়া! এ কেমন মৃত্যু নিয়ে তামাশা!!”
হ্যাঁ, সেন্টমার্টিনে ছাত্রদের মৃত্যু ও নিখোঁজদের লাশ উদ্ধারের সংবাদ পরিবেশন প্রসংগেই বলছি।
একটু আগে রাত ১০টায়ও উদ্ধারকারী টিমের সাথে কথা বলেছি। জানিয়েছেন, বাকি ২ জন ছাত্রের লাশের সন্ধানে আগামী কাল সকাল থেকে পুনরায় তৎপরতা চালাবেন তারা।
এবং সারাদিন উদ্ধারকারী টিমের কোন একজন ব্যক্তিও আমাকে জানায়নি যে, ২ জনের বাইরে কেউ উদ্ধার হয়েছে। তাহলে ওইসব মিডিয়ায় ৪জন উদ্ধারের সংবাদ পায় কোথায়?
আমরা যখন নির্দিষ্ট একটি সংবাদ সংগ্রহের জন্য একসাথে অনেক সাংবাদিক থাকি তখনো দেখি মৃত্যুর সংখ্যা ইচ্ছেমতো বাড়ানোর অশুভ প্রতিযোগিতা। এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে বরং পাল্টা যুক্তি শুনতে হয়, “ততক্ষণে ঠিকই মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাবে।”
যেমন: ট্রলার ডুবিতে ১ জেলের মৃত্যু হওয়ার সংবাদ পেলাম। ঠিক এই সংবাদটি কোন কোন মিডিয়ায় ২জন কিংবা ৩জন এমনকি কোন কোন মিডিয়ায় ৪/৫ জন জেলের মৃত্যু হয়েছে বলে সংবাদ পরিবেশন করে। আমি যখনই সংশ্লিষ্ট ওই সাংবাদিককে বলি, “ভাই মৃত্যু হয়েছে ১ জন জেলের, আপনি এতোজন দিলেন কেন?”। হরেক রকম উত্তর শুনতে হয়। কমন উত্তর হয়, “১জনের মৃত্যু বললে নিউজ ভ্যালু কমে যায়” অথবা “বিশাল সাগরের কোথাও না কোথাও ঠিকই ৫/৬ জন জেলে মারা যাবে, সাগরে গিয়ে তো গণনা করা সম্ভব হবে না, আমি বরং ৩/৪ জন দিছি কম দিছি।”
আমার এক সিনিয়র সাংবাদিকের একটি পাল্টা প্রশ্নের কথাই মনে পড়ে গেলো। “মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ালে কি কেউ হত্যা মামলা করবে আমার বিরুদ্ধে?”
এবার চুপ থাকা ছাড়া আর কি করার থাকে?
তাহলে কি সংবাদ পরিবেশনের এই অশুভ প্রতিযোগিতা, দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও মৃত্যু নিয়ে তামাশা অব্যাহত থাকবে?
watching হলুদ নাকি নীল সাংবাদিকতা?

 

নিজে জানুন শেয়ার করে অন্যকে জানান ও সতর্ক করুন ।

2 মন্তব্য
  1. MimosaHaque বলেছেন

    হুম খুব খারাপ লাগলো খবরটা শুনে 🙁

  2. Shimanto Neer বলেছেন

    Jos Post Thank

উত্তর দিন