প্রোগ্রামিং!!! এক বিস্ময়ের নাম! যা বদলে দিবে আপনার চিন্তা ধারা

0 192

(যদি প্রোগ্রামার না হয়ে থাকেন) প্রথমেই একটি ছোট চ্যালেঞ্জ, আসুন কম্পিউটারে ১-১০০ পর্যন্ত সংখ্যা কে কত দ্রুত প্রিন্ট করতে পারি? অথবা ১-১০০০। যদি সংখ্যাটি ১-১০০০০০ পর্যন্ত হয় তবে। এবার বোধহয় আপনার একটু ঝুঁকে বসতে হবে। ১-১০০ পর্যন্ত প্রিন্ট করতে আপনার বোধহয় ৪-৫মিনিট লাগবে। কিন্তু একজন প্রোগ্রামার যখন প্রোগ্রাম লিখবেন তখন প্রোগ্রামটি লিখতে ১-২ মিনিট লাগবে এবং প্রিন্ট করতে বড়জোর ০.২সেকেন্ড লাগবে। আর ১-১০০০০০ পর্যন্ত প্রিন্ট করতে লাগবে ২০ সেকেন্ড কিন্তু একই প্রোগ্রাম লিখে(আমার কম্পিউটার স্লো তাই একটু বেশি সময় লাগলো)।

কি মনে হলো?

আপনার কিছুই করতে হবে না শুধু কয়েক লাইনের কোড বদলে দিবে আপনার চিন্তা ধারা। উপরের উদাহরণটি তো খুব ক্ষুদ্রতর। এবার আরেকটি উদাহরণ দেখি।

আপনি Techtunes-এ আমার টিউনটি পড়ছেন। হোক আপনি মোবাইলে বা কম্পিউটারে আছেন। আপনার কি কখনো ইচ্ছে হয়েছে মোবাইল বা কম্পিউটারটি আপনার নিজের ইচ্ছায় চলবে। চলবে আপনার নিজ নির্দেশে। মোবাইলের স্টার্টিং স্ক্রিনে আপনার নাম দেখাবে। বা এমনই একটি অ্যাপস বা সফটওয়্যার তৈরি করবেন যা আপনাকে সমগ্র বিশ্বের কাছে পরিচিত করে তুলবে। এইটা একটু বেশি বেশি হয়ে গেল। কিন্তু বিশ্বাস করু বা নাই করুন আমার বিশ্বাস যে, কম্পিউটার প্রোগ্রমিং-ই পৃথিবীর সবচেয়ে সহজ বিষয় যা আপনাকে সমগ্র বিশ্বের কাছে পরিচিত করবে। আপনি তো প্রতিনিয়তই টেলিভিশনে, পত্রিকায় বিভিন্ন জনপ্রিয় লোকজনের নাম শুনেন। মার্ক জুকারবার্গ, বিল গেটস, ল্যারি পেজ, সুন্দার পিচাই, ইভান উইলিয়ামস এরা সবাই প্রোগ্রামার। এর সবাই বিশ্বের সেরা ১০০ ব্যক্তিদের মধ্যে এক একজন। তাই আর দেরি না করে যদি এতটুকুও আগ্রহ জন্মে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং-এর উপর তবে আজ থেকেই শুরু করে দিন প্রোগ্রামিং।

কম্পিউটার প্রোগ্রামিং কি?

উইকিপেডিয়া অনুসারে, কম্পিউটার প্রোগ্রামিং (ইংরেজিComputer programming) হলো কিছু লিখিত নির্দেশ যা অনুযায়ী একটি কম্পিউটার কাজ করে। প্রোগ্রামের লিখিত রূপটিকে সোর্স কোড বলা হয়। যিনি সোর্স কোড লিখেন তাকে প্রোগ্রামার, কোডার বা ডেভেলপার বলা হয়। যেকোন বই যেমন একটি ভাষাতে যেমন ইংরেজি, রুশ, জাপানি, বাংলা, ইত্যাদিতে লেখা হয়, তেমনি প্রতিটি প্রোগ্রাম কোন একটি নির্দিষ্ট প্রোগ্রামিং ভাষাতে লেখা হয়,যেমন সি++,জাভা ইত্যাদি। প্রোগ্রাম রচনা করার সময় প্রোগ্রামারকে ঐ নির্দিষ্ট প্রোগ্রামিং ভাষার সিনট্যাক্স বা ব্যাকরণ মেনে চলতে হয়।

প্রোগ্রামিং-এর জন্মকথা

আমরা সবাই আধুনিক কম্পিউটারের জনক চার্লস ব্যাবেজের নাম শুনেছেন নিশ্চয়ই। চার্লস ব্যাবেজের তৈরিকৃত প্রথম কম্পিউটারের প্রোগ্রামিং করেন কবি লর্ড বায়রনের কন্যা অ্যাাডা লাভলেস। তিনি যখন প্রথম চার্লস ব্যাবেজের সাথে সাক্ষাৎ করেন তখন ব্যাবেজের কম্পিউটার মডেল দেখে তার মাথায় প্রোগ্রামিং ধারণাটি আসে। পরে ১৯৩৩ সালে চার্লস ব্যাবেজকে সাথে নিয়ে অ্যাাডা লাভলেস প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সামনে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ধারণা প্রকাশ করেন। পরে দেখা যায় যে, অ্যাডা লাভলেসেরে ধারণাটি হল বর্তমান অ্যালগোরিদম প্রোগ্রামিং।

প্রোগ্রামিং-এর বিভিন্ন ধাপঃ

ধাপ শেখার আগে আমরা অ্যাপেল, নেক্সট, পিক্সার কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস-এর একটি বাণী দেখে নিইঃ

Everybody in this country should learn to program a computer, because it teaches you how to think.-Steve Jobs

স্টিভ জবস কখনোই প্রোগ্রামার ছিলেন না। তিনি ছিলেন ডিজাইনার। কিন্তু তিনিও প্রোগ্রামিং-এর উপর কতটা জোর দিয়েছেন। কিন্তু কেন দিয়েছেন? নিচের ধাপগুলো দেখলেই আপনি স্বয়ংই বুঝে যাবেন।

প্রোগ্রামিং এর ধাপগুলো যেকোন সমস্যা সমাধানের ধাপগুলোর মতোই। প্রধান ধাপগুলো হলোঃ

  • সমস্যাকে সংজ্ঞায়িত করা
  • সমাধান তৈরি করা
  • সমাধানকে প্রোগ্রামিং ভাষায় সোর্সকোড হিসাবে লেখা
  • প্রোগ্রামকে পরীক্ষা করে দেখা
  • ডকুমেন্টেশন তৈরি করা

কোন প্রোগ্রাম শুরু করবেন?

আসলে সব প্রোগ্রামিং-এর কাজ একই রকম শুধু মাত্র ভাষা আলাদা। যেমনঃ আপনি সমাধান করা জন্য প্রতিস্থাপন, অপনয়ন, বজ্রগুণন শিখলেন আপনি যেকোন একটি প্রক্রিয়া ব্যবহার করে সমাধান করতে পারবেন। প্রোগ্রামিং-ও অনুরুপ। আপনি যেকোন একটি প্রোগ্রাম শিখেন পরবর্তী সবগুলো একইরকম। শুধুমাত্র ভাষা আলাদা। তাই আমি বলব প্রোগ্রামিং শিখতে হলে আপনি প্রথমে C প্রোগ্রামিং শিখতে পারেন। কারণ এইটা সর্বাপেক্ষা সহজ। ভাষা সাবলীল। সি প্রোগ্রামিং শিখতে হলে আপনি অনলাইনে যেকোন প্রোগ্রামিং শেখার ওয়েবসাইটে যেতে পারেন। তবে আমি শিখেছি তামিম শাহরিয়ার সুবিন ভাইয়ের ওয়েবসাইট থেকে। খুবই সহজভাবে লেখা। যেকোন বয়সের মানুষই শিখতে পারবে।

আজ এই পর্যন্তই।

ভালো থাকবেন।

Happy Programming!!!

উত্তর দিন