দেখে নিন সেন্টমার্টিন দ্বীপ এর ভয়ংকর সেই মৃত্যুফাঁদ (সতর্কতামূলক পোস্ট)

6 480

বেশ কয়েকবছর আগে আমাদের কাছের এক বড় ভাইয়ার এক বন্ধু মারা যান সেন্টমার্টিন দ্বীপ এ পানিতে ডুবে। সব বন্ধু পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে আর চোখের সামনে মায়াবী সেন্টমার্টিন দ্বীপ এ নীল পানি গ্রাস করে নিচ্ছে কাছের বন্ধুকে !! ভাবতেই গা শিউরে উঠে।
এরপর যখন আমরা কয়েকটা বন্ধু মিলে সেন্টমার্টিন দ্বীপ এ যাই তখন কথাটা খুব মনে হচ্ছিল!! যাওয়ার পথেও অনেকের কাছেই শুনলাম এরকম হারিয়ে যাওয়ার কিছু সত্য গল্প। অবাক করা বিষয় হচ্ছে বর্ননায় সবার বলা জায়গাটা একটাই মনে হচ্ছিল। তাই ওখানে গিয়ে আমরাও খুজতে লাগলাম জায়গাটি।।
স্থানীর এক হোটেল কর্মকর্তার সাথে এসব নিয়ে কথা হচ্ছিল , কথা প্রসঙ্গে উনিও জায়গাটা দেখিয়ে দিয়েছিলেন, আর তানা হলে হয়ত আজ আর আমার এই পোস্ট টি লেখা হতনা হয়ত অন্যদের মত আমরাও হারিয়ে যেতাম সেখানে কারন জায়গাটা সেন্টমার্টিন নেমে প্রথম বীচে হাটা শুরু করলেই কয়েক মিনিট পরেই ওত পেতে থাকে অর্থাৎ অনেক কাছেই।

ওখানকার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হতে হতে কিছু বুঝে উঠার আগেই হয়ত ভুলবশত আপনিও পা দিতে পারেন এই জায়গাটিতে!! কারন নীল পানির আচ্ছাদনে আলাদা করে বোঝার কোণ উপায় ই নেই।

আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের সেই ৩৪ জনের মধ্যে একজন রাফিউজ্জামান সিফাত। নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাসে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিজের বন্ধু হারানোর জন্য তিনি দায়ী করেছেন সেন্টমার্টিনের স্থানীয় প্রশাসন ও কোস্ট গার্ডের চরম দুর্বলতা কে। তার স্ট্যাটাসটি হুবহু এখানে দেয়া হল-

status

এরপরেও প্রায় প্রত্যেক বছর এই একি জায়গায় অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন আর এবার ২০১৪ তে এসে আহছান উল্লাহ ইউনিভার্সিটির এতগুলো ছাত্র অকালে প্রাণ হারালো !! খুব নাড়া দিয়ে উঠলো  আর ধিক্কার দিতে ইচ্ছে করতেছে আমাদের নিষ্ঠুর বিবেক কে, এতটা নিশ্চিত জানা সত্তেও ওখানকার প্রশাসন কোণ ব্যবস্থা নেয়নি এই অভিশপ্ত জায়গা সম্পর্কে !!

Sabbir Hasan Saint Martinsযাহোক কথা না বাড়িয়ে আমি আপনাদের কে জায়গাটা একটূ ছবি দিয়ে দেখিয়ে দিতে চাচ্ছি।।

যার গেছেন তারা নিশ্চই জানেন যে প্রথমে জাহাজে করে সবাইকে সেন্টমার্টিন ফেরীলাইনে নামিয়ে দেয়া হয়। আর সেখান থেকে পায়ে হেটে ব্রীজটা পার হয়ে এসে নামতে হয় সেন্টমার্টীন দ্বীপে।

saint martin
Saint Martins
এখানে নামলেই হাতের ডানদিকে যে বীচ টা দেখতে পাই প্রায় বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই আমরা সবাই এই বীচ ধরে হাটি এবং ব্রীজের গোড়ার দিক থেকে পানিতে নামি আর কিনারা ঘেষে ডান দিকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকি।।

পানিতে একবার নেমে পড়োলে আমরা আর কেউই কিন্তু বালিতে উঠে আসিনা সামনে এগুতে থাকি পানি ধরেই। ঠিক সোজা সামনের দিকে এগিয়ে গেলে এবার দ্বীপটা হাতের বা দিকে টার্ন নেয়। ঐ জায়গাকে বলা হয় “জিনজিরা উত্তরপাড়া” স্থানীয়রা বলেন উত্তর বীচ।।

দুইদিকের পানির স্রোত এবং ঐ ত্রিকোনাকৃতির মধ্যস্রোত এই জায়গাটিতে মিলিত হয়েছে এবং ত্রিমুখি স্রোতের কারনে পানির চাপ খুব বেশী ওখানটায় এবং চাপটা নিন্মমুখি।

saint Martins Beatch Danger Zone

Saint Martines Danger Zone
মার্ক দেওয়া সকল জায়গা বিপদজনক

স্থানটা দেখতে অনেকটা লম্ভাটে খালের মত, আর এই ত্রিমুখি স্রোতের কারনে অনেক জায়গাজুড়ে বড়সড়ো গর্ত তৈরী হয়েছে। জানিনা এবং কোন নির্দেশনা নেই বলেই আমরা সাতার কাটতে কাটতে এই টার্ন দিয়েই বা পাশের বীচের দিকে এগুতে থাকি, আর তখনি কিছু বুঝে উঠার আগেই সমুদ্রের অতলে হারিয়ে যায় অনেকেই
একিভাবে আমি এবং আমার বন্ধু জাকির ও রিয়াদ সাতার কেটে ওইদিকেই এগুচ্ছিলাম হঠাত ওখানে বীচে হাটাহাটি করা স্থানীয় দুইটা বাচ্ছা ছেলে আমাদের কে বললো ‘ভাইয়া ওইদিকে যাইয়েন না, গর্ত আছে’ আর হয়ত এভাবেই আল্লাহ আমাদের বাঁচিয়েছেন !!

sant 2

প্লিইজ সবার কাছে অনুরোধ রইলো এই স্থানটা সম্পর্কে আপনার কাছের সবাইকে সচেতন করে দিন। ছবিগুলো ফোনে নিয়ে নিন যখন যার সাথে কথা হবে দেখিয়ে দিন, যদি আর একটি প্রাণ ও বাঁচে আপনার এই ছোট্র কাজ থেকে তাহলে অনেক বেশী উপকৃত হবেন।। বুঝার সুবিধার্থে আমাদের ক্যামেরায় তোলা কিছু ছবি দিচ্ছিঃ

ফেরী লাইনের ব্রীজে দাঁড়িয়ে তোলা ছবি।।
sant 3

ব্রীজ থেকে নেমে তোলা সেই একি জায়গার ছবি। জায়গাটার নাম উত্তর বীচ।

 লেখকঃ Nazmul Hassan Mehedi

সূত্রঃ blog.seudolab.com

মেহেদী ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ এই পোস্ট উপহার দিয়ে সকল কে সচেতন করার জন্য  ।

নিজে জানুন শেয়ার করে অন্যকে জানান ও সতর্ক করুন ।

6 মন্তব্য
  1. Emon বলেছেন

    Actually R8 সব দোষ নন্দঘোষ ! Boka Choda Public, Beshi KhuShi-ta AttohaRa Hoya Bipod dayka Anay.! *So B Careful.! *Don’t B Over Load Executing !

  2. infobd বলেছেন

    আমরা এমন একটি দেশে বাস করি, যেখানে সরকারের কোন দায়বদ্ধতা নেই।আমি তাদের আত্নার মাগফিরত কামনা করি, যারা এই স্থানে প্রাণ হারিয়েছে। আর মেহেদি ভাই আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এমন একটি পোস্ট করার জন্য।

  3. petrofac বলেছেন

    I think that there have no safety introductions about for this area.
    As a like High risk June please don’t come this area this time……
    I think one more this student is educate person they looking this area is very difficult
    And sudation gone is very very bed sectors why they come luffing hare???

  4. তনু বলেছেন

    অামি খুব অবাক হলাম। না পোষ্ট পড়ে নয়। কমেন্টস গুলো পড়ে। এতো গুলো মানুষ কমেন্টস করেছে অথচ এক জন মানুষ ও এ নির্মম মৃত্যুর জন্য প্রতিবাদ বা নিন্দা করেনি। সবার ধারনা গিয়েছিলাম জানতাম না এখন জানলাম যাক প্রানে বেচে গেছি বা এখনো যাইনি জেনে নিলাম ও দিকে যাবনা ইত্যাদি। কেউ এক বারও বললোনা স্থানিয় প্রসাশন ও হোটেলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা উচিৎ।
    যে সব যুবক ছেলে গুলো অকালে প্রান হারালো তারা তো আর কোন মিডিয়াতে কাজ করতোনা বা তারা কোন রাজনৈতিক দলের মিনিষ্টার না তাই মিডিয়া গুলো 40 সেকেন্ডের একটু খানি খবর পড়েই খালাস। যদি ওখানে কোন মিনিষ্কোটারের ছেলে বা কোন মিডিয়ার লোক মারা যেতো তাহলে দেখা যেতো বাংলাদেশ আইন সাশ্বানের সর্বচ্চো প্রয়োগ। সবাই যে যার তালে। আরে ভাবো এক বার তোমার ছোট বা বড় ভাই ওখানে বেড়াতে গিয়েছিল, একদিন আগেও তোমার সাথে কথা বলেছে আর হঠাৎ এখ শুনছেঅ সে আর নেই। একবার ফিল করো দেখ কিছু মনে হয় কিনা।এক বার ভাবো ওদের মা বাবর কথা। তাদের মনের ভিতর কি চলছে। আসলে কাকে দোস দেব আমরা সবাই সার্থপর সবাই দায়িত্ব জ্ঞানহীন।

    সেব কিছুর পরও আমি তো ঠিক আছি। তাতেই সব হবে। আরে বাবা এভাবে চলতে থাকলে তোমার সাথেও এমন টি এক সময় হবে আর অন্য সবাই বলবে আমি তো ঠিক আছি তাহলেই চলবে।

    আর আমি তোমাদের মতো হতে চাইনা, আমার হাতে কোন পাওয়ার নেই কিন্তু আমার বলার স্বাধীনতা আছে। আর আমি অত্যন্ত কঠোর ভাবে প্রতিবাদ করছি। আমাদের টাকায় চলে প্রসাশন এবং ঐ হোটেল গুলো চলেআমাদের দেওয় ভাড়ায় আর তাই আমাদের নিকট তাদের দায়বদ্নীধতা আছে। প্রসাশন ও হোটেলগুলো কেন পর্যয়টকদের সঠিকতথ্য দেয়নি এ জণ্য আমি স্থানীয় প্রশাসন ও ঐ সব হোলের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেয়া হোক এই বলে প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

    আর আমি চাই আপনারা সবাই আমার সাথে প্রতিবাদ করুন।

    ধন্যবাদ।

  5. মোঃ রুবেল আহমেদ বলেছেন

    সেন্টমার্টিন দ্বীপের ভয়ংকর স্থানের চিত্র মেহেদী ভাই যেভাবে তুলে ধরেছেন আপনাকে ধন্যবাদ , সেন্টমার্টিন দ্বীপ এ মানুষ এখন বেড়াতে গেলে একটু ভেবে চিনতে যাবে ও আপনার পোস্ট পড়ে নিবে ।

  6. Sumon বলেছেন

    খুবই গুরুত্বপূর্ণ পোষ্ট,শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

উত্তর দিন