রবি ও এয়ারটেল একিভুত পরিকল্পনা পেছাচ্ছে।

0 121

ব্যবসায়িক কার্যক্রম একীভূত (মার্জার) করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাস সময় বাড়িয়েছে মুঠোফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা ও এয়ারটেল। অপারেটর দুটির মূল বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান আজিয়াটা গ্রুপ বারহাদ ও ভারতী এয়ারটেল এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
দুই কোম্পানির যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একীভূত হতে চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক চুক্তি করে আজিয়াটা গ্রুপ বারহাদ ও ভারতী এয়ারটেল। এ বছরের জুনের মধ্যে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল দুই পক্ষ। সেই লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত তিন মাস বাড়ানো হয়েছে।
সাড়ে তিন কোটির বেশি গ্রাহক নিয়ে একীভূত রবি-এয়ারটেল হবে গ্রামীণফোনের পর দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ মুঠোফোন অপারেটর। এই কোম্পানিতে রবি আজিয়াটার ৬৮ দশমিক ৩ শতাংশ, এয়ারটেলের ২৫ শতাংশ ও জাপানের এনটিটি ডোকোমোর ৬ দশমিক ৭ শতাংশ মালিকানা থাকবে। একীভূত হতে যাওয়া প্রতিষ্ঠান দুটির সম্পদমূল্যের পরিমাণ নির্ধারিত হয়েছে ২০০ কোটি ডলার বা ১৬ হাজার কোটি টাকা।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে একীভূত হতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করে রবি-এয়ারটেল। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, একীভূত হওয়ার ঘোষণার ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত দিতে না পারায় দুটি প্রতিষ্ঠানেরই আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে।

একীভূতকরণের ঘোষণা দেওয়ার পর গত টানা দুই প্রান্তিকে রবির মুনাফা কমে গেছে। গত বছরের তৃতীয় (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রান্তিকে রবির মুনাফা ছিল ১১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা, সেটি চলতি বছরের প্রথম (জানুয়ারি-মার্চ) প্রান্তিকে কমে ৯২ কোটি টাকা হয়েছে। ২০১৪ সালে রবির মোট মুনাফা ছিল ৪৪০ কোটি টাকা, সেটি ২০১৫ সালে কমে হয়েছে ৪০০ কোটি টাকা।
একীভূতকরণের বিলম্বের কারণে রবির চেয়ে এয়ারটেলের বেশি ক্ষতি হচ্ছে বলে মনে করছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা। এয়ারটেলের বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় গত ১০ মাসে শতাধিক কর্মী চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। একীভূত হওয়ার আগে গত বছরের আগস্টে এয়ারটেলের স্থায়ী কর্মীর সংখ্যা ছিল ৫২৮, যা এখন কমে ৪০০ হয়েছে।

এয়ারটেল সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রতি মাসে অপারেটরটির আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ এখন ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকা। এই অর্থ ছাড়া ভারতী এয়ারটেল থেকে এখন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে নতুন কোনো বিনিয়োগ আসছে না। অন্তর্বর্তীকালীন এ সময়ে বাংলাদেশের কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকেও ঋণ নিতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি।

ভারতী এয়ারটেলের বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুয়ায়ী, এপ্রিল ২০১৪ থেকে মার্চ ২০১৫ পর্যন্ত এয়ারটেল বাংলাদেশের মোট সম্পদের অর্থমূল্য ৩ হাজার ২৬০ কোটি রুপি। প্রতিষ্ঠানটির দেনার পরিমাণ ৪ হাজার ৫৫৮ কোটি রুপি। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটির কর-পরবর্তী লোকসান হয়েছে ৬৭৪ কোটি টাকা। বিটিআরসিতে জমা দেওয়া প্রস্তাব অনুযায়ী, এয়ারটেলের এসব দায়দেনার দায়িত্ব নেবে রবি।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ও বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, রবি-এয়ারটেলের তরঙ্গ কোন প্রক্রিয়ায় একীভূত হবে ও এর জন্য বাড়তি কত অর্থ নেওয়া হবে, মূলত এই বিষয়ের ওপর আটকে আছে পুরো একীভূতকরণ প্রক্রিয়া। এর সঙ্গে নতুন শেয়ার ইস্যু ও একীভূতকরণের ফি হিসেবে আরও ২০০ কোটি টাকার বেশি যোগ করে মোট ৭০০ কোটি টাকা নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ৭০০ কোটি টাকার বেশি অর্থ দিয়ে একীভূত হওয়া সম্ভব নয় বলে রবির পক্ষ থেকে সরকারকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিটিআরসি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই বিষয়ে কাজ করেছে। বিশেষ সভা ডেকে আদালতের নির্ধারিত সময়েই এ-সংক্রান্ত মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগির এ বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।’

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার আর্থিক বিষয়ে মতামত নিতে এ-সংক্রান্ত সব নথি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত পেলেই এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে।

নীতিগতভাবে আমরা রবি-এয়ারটেলের একীভূতকরণের পক্ষে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকে সে রকম মতামত যুক্ত করেই অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব প্রক্রিয়াটি শেষ করার ব্যাপারে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।

উত্তর দিন