ফোরজিতে অপারেটরদের আপত্তি টিকছে না

0 25

মোবাইল ফোন অপারেটররা ফোরজি নীতিমালা নিয়ে প্রায় দুই ডজন আপত্তি জানালেও খুব কম ক্ষেত্রেই তাদের অাপত্তি আমলে নেওয়া হচ্ছে।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ জানান, আপত্তির বিষয়গুলো সম্পর্কে জেনেছেন তিনি। এর মধ্যে কিছু বিষয়ে কিছু ছাড়ের ইঙ্গিত দিলেও টাকা-পয়সার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় হবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরে কমিশন চেয়ারম্যান বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটা নীতিমালা পাস করেছেন। সেটা আর পরিবর্তন করা হবে না। বিশেষ করে আর্থিক বিষয়ে পরিবর্তনের সম্ভবনা নেই।

এরপরেও তারা অপারেটরদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটা জায়গায় আসতে পারবেন বলে প্রত্যাশার কথা জানান মাহমুদ।

এরপরেই তরঙ্গ নিলামের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে বলেও জানান চেয়ারম্যান।

গত রোববার সচিবালয়ে টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের সঙ্গে বৈঠকে ফোরজির বিভিন্ন বিষয়ে আপত্তির কথা জানান মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা।

বৈঠকে তারা ফোরজি নীতিমালায় গ্রাহকের ব্রাউজিং কার্যক্রমসহ বিভিন্ন তথ্য এক যুগ সংরক্ষণ রাখার ধারাসহ ২৩টির মতো বিষয়ে আপত্তি তোলেন।

বৈঠকে তারা বলেন, গ্রাহকের ডেটা ১২ বছর সংরক্ষণ রাখতে গেলে এ ব্যয় শেষ পর্যন্ত গ্রাহকের ওপরই চাপবে। এতে ডেটার খরচ অনেক বাড়বে।

অপারেটররা চাইলে দেশি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বা স্থানীয় বিনিয়োগ নিতে পারবে নীতিমালার খসড়ায় এমন ধারা যুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু চূড়ান্ত নীতিমালায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের অনুমোদন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে আপত্তি দেয় অপারেটরগুলো।

এ ছাড়া সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল খরচের ক্ষেত্রে বিটিআরসির অনুমতি নেয়ার বিষয়েও আপত্তি জানান তারা। অপারেটরগুলোর কর্মকর্তরা বলছেন, এটি করা হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার একচেটিয়া আধিপত্য আরও বাড়বে।

বৈঠকে অবশ্য তারানা হালিম বিষয়গুলো নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করবেন বলে অপারেটরগুলোর প্রতিনিধিদের আশ্বাস দেন।

তবে বিটিআরসির চেয়ারম্যান আশ্বাসের দিকে খুব একটা যাননি। তিনি বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব তারা তরঙ্গ নিলামের আয়োজন করবেন।

এর আগেে সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে ফোরজি নীতিমালায় অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর এ অনুমোদনই ছিল দেশে ফোরজি চালুর প্রক্রিয়ায় অনত্যম অগ্রগতি।

এদিকে চলতি বছরের নভেম্বরে ফোরজি সেবার জন্য স্পেকট্রাম নিলাম করা হবে বলে জানিয়েছেন তারানা হালিম। এ নিলাম হতে ১১ হাজার টাকা কোটি টাকা আয়ের আশা করছে সরকার।

নীতিমালা অনুযায়ী, ২১০০ মেগাহার্জ, ১৮০০ মেগাহার্জ ও ৯০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ নিলাম হবে।

এর মধ্যে ২১০০ ব্যান্ডের প্রতি মেগাহার্জের নিলামের ফ্লোর মূল্য হবে ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। আর ১৮০০ ও ৯০০ ব্যান্ডের প্রতি মেগাহার্ডজ স্পেকট্রামের নিলামের ভিত্তি মূল্য হবে তিন কোটি ডলার।

এর বাইরে প্রযুক্তি নিরপেক্ষতার জন্য দিতে হবে প্রতি মেগাহার্জে ৭৫ লাখ ডলার।

Leave A Reply