Home আইফোন অ্যাপল ফেইসআইডি নিয়ে সংশয়!

অ্যাপল ফেইসআইডি নিয়ে সংশয়!

1234
0
SHARE

অ্যাপলের সদ্য উন্মোচিত ফোন আইফোন টেন এ ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরের বদলে ব্যবহার করা হয়েছে ফেইস রিকগনিশ। ফিচারটির নাম দেওয়া হয়েছে ফেইসআইডি। তবে এই প্রযুক্তির ব্যবহার কতোটা ফলপ্রসূ হবে তা নিয়ে ইতিমধ্যেই কিছু প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

মুখমণ্ডলের তথ্য কোথায় সুরক্ষিত রাখা হবে

অ্যাপল সাধারণত সকল বায়োমেট্রিক তথ্য সিকিউর অনক্লেভ নামক অংশে রক্ষা করে থাকে। ফোনে থাকা এই কম্পিউটারটি শুধুমাত্র বায়োমেট্রিক তথ্য, যেমন আঙুলের ছাপ এবং মুখের অবয়ব নিয়েই কাজ করে থাকে। শুধুমাত্র ফোনেই তথ্যটি থাকার ফলে এটি ক্লাউডে থাকা তথ্যের চেয়ে সুরক্ষিত, তবে হ্যাক হওয়া অসম্ভব নয়।

চেহারা ব্যবহারে ফোন আনলকের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা

সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের পুলিশ আটক করার পর তাদেরকে ওয়ারেন্ট ছাড়াই ফোন আনলক করার জন্য চাপ দিতে পারে না। তবে চেহারার ক্ষেত্রে ব্যাপারটি অত সহজ নয়, কেননা একটি ব্যক্তির অবয়ব ব্যবহারে ওয়ারেন্টের সাধারণত প্রয়োজন হয় না।

এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নিতিমালা না থাকায় পুলিশ এই মুহূর্তে আটক ব্যক্তিদের সামনে ফোনটি ধরে আনলক করে নিতে পারবে ওয়ারেন্ট ছাড়াই, যা ব্যক্তি স্বাধীনতার ওপর বড়সড় হস্তক্ষেপ।

তথ্যটি শুধুমাত্র ফোনে অবস্থান করলেও অ্যাপল ঠিক কিভাবে তথ্যটি ব্যবহার করবে?

আইফোন টেন উন্মোচনের সময় অ্যাপল কর্মকর্তা ক্রেইগ ফেদেরিঘ জানান, ফেইসআইডি সেন্সরগুলো অন্যান্য কাজে, যেমন স্ন্যাপচ্যাটে ফেইস ট্র্যাকিং বা অ্যানিমোজিতে অভিব্যক্তি যুক্ত করার কাজেও ব্যবহার হবে।

এমতাবস্থায় অ্যাপল খুব সহজেই অন্যান্য অ্যাপ চালু অবস্থায় ব্যবহারকারী সেটির কোনো অংশটির দিকে বেশি নজর দিচ্ছেন। সেটির খেয়াল রাখতে পারবে; বুঝতে পারবে ব্যবহারকারীর আবেগ ও মানসিক অবস্থাও। তারা সেটি ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করবে না সেটির কোনো নিশ্চয়তা নেই।

সেন্সরগুলো অ্যাপল ছাড়া আর কারা ব্যবহার করতে পারবে?

অ্যাপল ছাড়াও অন্যান্য অ্যাপ নির্মাতারা ফেইসআইডি এর সেন্সরসমূহ ব্যবহার করতে পারবে কিনা সেটি নিয়ে অ্যাপল তেমন কিছু বলেনি। তবে সেন্সরগুলো সহজেই বিজ্ঞাপনদাতাদের বেশ গভীর পর্যায়ের তথ্য দিতে সক্ষম হবে-যেমন ব্যবহারকারীর অনুভূতি, মানসিক অবস্থা দেখে সে অনুযায়ী বিজ্ঞাপণ দেখানো, বিজ্ঞাপণ দেখে চেহারায় তার ছাপ দেখে সেটির কার্যকারিতা নির্ণয়, এমন অনেক কিছুই এই সেন্সরগুলোর মাধ্যমে সম্ভব। ফোন ব্যবহারকারীর ওপর সর্বোচ্চ পরিমাণ স্পাইগিরি করার জন্য ফেইসআইডি ব্যবহার করা যেতে পারে।

ফেইসআইডির অপব্যবহার

ফেইসআইডি দ্রুততার সঙ্গে ও নির্ভুলভাবে ফোন আনলক করতে সক্ষম। এমতাবস্থায় যদি কেউ ফোনটি ছিনতাই করে ব্যবহারককারীর দিকে তাক করে আনলক করে পালিয়ে যায়?

যদি ফেইস আনলক অ্যাক্সিডেন্ট পরবর্তী সময় কাজ না করে? যদি রাতে অন্ধকারে ফোন ব্যবহারের সময় ঠিকভাবে কাজ না করে? যেহেতু ফেইস আনলক ফোনে বিগত বেশ কিছু বছর ধরেই রয়েছে। কিন্তু জনপ্রিয়তা পায়নি, অতএব ধরে নেয়া যেতে পারে এই প্রযুক্তির বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে যা এখনও কাটিয়ে ওঠা যায়নি।

সব মিলিয়ে ধরে নেয়া যেতে পারে, আগামীতে টাচআইডির ন্যায় ফেইসআইডিও ফোন আনলকের জনপ্রিয় মাধ্যম হয়ে ওঠবে, তবে আঙুলের ছাপ নির্ণয়ের চেয়ে ফেইস আইডির সীমাবদ্ধতা অনেক বেশী।