ইন্টারনেটে মুক্তিযুদ্ধের কথা !!

16

স্বাধীনতার ৪১ বছর পর এখন নানা মাধ্যমে ছড়িয়ে আছে মুক্তিযুদ্ধের কথা। প্রযুক্তির সহায়তায় এখন ডিজিটাল মাধ্যমগুলোয়ও রয়েছে বাংলাদেমের মুক্তিযুদ্ধের কথা, ছবি, গল্পসহ নানা আয়োজন। যা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারন করাতে ভূমিকা রাখছে। নির্দিষ্টভাবে শুধু ওয়েবসাইট নয়, বাংলা ব্লগ, ফোরামসহ জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের নানা প্রসঙ্গ, যার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম জানতে পারছে বাঙালির ইতিহাসের সাহসী সে সময়ের কথা। এ ছাড়া এখন নতুন প্রযুক্তির সহায়তায় মুক্তিযুদ্ধের তথ্যগুলোকে অবিকৃত অবস্থায় সংরক্ষণ করার উদ্যোগও বেশ প্রশংসনীয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার কয়েকটি উদ্যোগ নিয়ে এই আয়োজন

।। মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনো ।।
২০১১ সালের ২৬ জুন সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ফেসবুকে চালু হয় ‘মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনো’ নামের একটি ফ্যান পেইজ (www.facebook.com/Muktijuddhergolpo)। বর্তমানে এ পেইজের সদস্যসংখ্যা ৪১ হাজার ৪১৮। এই পেইজে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক নানা ধরনের লেখা রয়েছে ছবি-ক্যাপশনসহ। পেইজের বর্ণনা অংশে লেখা আছে, প্রায় ২৪ বছরের শোষণের শিকার বাঙালি যখন নিজ অধিকার আদায়ে পুরোপুরি সচেতন হলো, ঠিক তখনই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী গ্রহণ করল এক অভিনব ব্যবস্থা। বাঙালির প্রাপ্য অধিকারের আন্দোলনকে দমিয়ে দিতে তারা শুরু করল ইতিহাসের ঘৃণ্যতম হত্যাযজ্ঞ। ২৫ মার্চের কালরাতের সেই ‘অপারেশন সার্চলাইট’ বিশ্বের ইতিহাসের যেকোনো নিকৃষ্টতম বর্বরতাকেও হার মানায়। বাংলা মায়ের নিরস্ত্র দামাল ছেলেরা কিন্তু থেমে থাকেননি। সর্বস্তরের জনগণ নিয়ে গঠন করলেন মুক্তিবাহিনী। শুরু করলেন দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য যুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধ। নয় মাসের এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাঙালি তার চূড়ান্ত বিজয় ছিনিয়ে আনে এবং জন্ম নেয় লাল-সবুজের পতাকার নতুন একটি দেশ, নাম যার বাংলাদেশ। একাত্তরের নয় মাসের সারাংশ এমন হলেও একটা জাতির স্বাধীনতাসংগ্রামের ইতিহাস কি মাত্র এই এক প্যারাতেই শেষ? না বন্ধুরা। এর ভেতর লুকিয়ে আছে নানা অজানা অধ্যায় আর বহু ত্যাগ-তিতিক্ষা ও কষ্টের অধ্যায়। আর সেসব গল্প নিয়েই আমাদের এই চেষ্টা ‘মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনো’। মূলত গল্পের ঢঙে ইতিহাসকে তুলে ধরতে এ আয়োজন বলে উল্লেখ করা হয় পেইজটিতে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ত্যাগ-তিতিক্ষা আর অর্জনের গল্প, ভালোবাসার গল্প, কষ্ট করে অর্জনের গল্প, এক জ্বলন্ত অধ্যায়ের গল্প, অস্তিত্বের গল্প, ইতিহাসের গল্প, স্মৃতির পাতায় লেপটে থাকা গল্প, নির্মম সত্য গল্প, মনেপ্রাণে মিশে একাকার হয়ে আছে, এমন গল্পসহ মুক্তিযুদ্ধের গল্প নিয়েই সাজানো হয়েছে এ পেইজ। মুক্তিযুদ্ধকালীন ঘটে যাওয়া নানা ধরনের ঘটনার ছবিসহ গল্প। বিভিন্ন তথ্যের পাশাপাশি রয়েছে দুর্লভ সব ছবি।

 

 

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটিজি ফোরাম (আইসিএসএফ)
মুক্তিযুদ্ধকালে যুদ্ধাপরাধ ও মুক্তিযুদ্ধের নানা বিষয় নিয়ে বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাঙালিরা স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে কাজ করছেন অনলাইনের মাধ্যমে। আর এমন একটি উদ্যোগ নিয়ে ফেসবুকে রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটিজি ফোরাম (www.facebook.com/icsforum)নামের একটি ফ্যান পেজ। ২০০৯ সালে চালু হওয়া এ পেজটিতে আছেমুক্তিযুদ্ধের নানা তথ্য, খবর, প্রমাণ ইত্যাদি। এ ছাড়া আইসিএসএফের ওয়েবসাইট (www.icsforum.org), ব্লগ, মিডিয়া আর্কাইভ, লাইব্রেরিতেও রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের নানা কথা। ভার্চুয়াল কার্যক্রমের পাশাপাশি আইসিএসএফের সদস্য নানা সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানববন্ধনসহ নানা কার্যক্রম করে থাকে।
জন্মযুদ্ধ ’৭১
মুক্তিযুদ্ধের নানা কথা নিয়ে ফেসবুকে রয়েছে জন্মযুদ্ধ’৭১(www.facebook.com/jonmojuddho)নামের একটি ফ্যান পেইজ। এ পেইজে বর্তমানে সদস্য সংখ্যা দুই হাজার ৩৯২। গত বছরের ২২ ডিসেম্বর চালু হওয়া এ পেইজেও রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের নানা সময়ের দুর্লভ সব ছবি ও লেখা। এ পেজের বর্ণনায় লেখা রয়েছে—আপনি কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করেন? আপনি কি আমাদের স্বাধীনতার অর্জনগুলো নিয়ে গর্বিত? আপনি কি আহত হন স্বাধীনতাবিরোধীদের মিথ্যা আস্ফালনে? আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে ক্রমাগত বিতর্কিত করার তাদের হীন প্রয়াসে? আপনি কি স্বাধীনতাবিরোধীদের বিচারের কাঠগড়ায় দেখতে চান? আপনি কি চলমান ভার্চুয়াল মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে আগ্রহী? তাহলে আসুন জন্মযুদ্ধে। এ পেইজে সদস্য হয়ে যে কেউ মুক্তিযুদ্ধের ওপর নির্ভরযোগ্য যেকোনো তথ্য প্রকাশ করতে পারবেন।স্বাধীনতার ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করতে এ কাজটি যে কেউ করতে পারেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে যাঁরা কাজ করেছেন, তাঁদের গল্প ও দুর্লভ ছবিরও সংগ্রহ রয়েছে পেজটিতে। রয়েছে সে সময়ের নানা ধরনের হাতে লেখা চিঠি।

বাংলা উইকিপিডিয়ায় মুক্তিযুদ্ধ
ইন্টারনেটে মুক্ত বিশ্বকোষ বাংলা উইকিপিডিয়ায় (http://bn.wikipedia.org) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক নানা তথ্য রয়েছে। স্বাধীনতাযুদ্ধ (http://goo.gl/fOhK0) নামের নিবন্ধে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের নানা তথ্য। শুরুর ঘটনা, পটভূমি, উত্তাল মার্চ, স্বাধীনতার ঘোষণা, যুদ্ধক্ষেত্রে ঘটনা, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, গণহত্যা ইত্যাদির খবর বিস্তারিত রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের খেতাবপ্রাপ্ত বীরশ্রেষ্ঠ (http://goo.gl/GbRXA), বীর উত্তম (http://goo.gl/QAyDi), বীর বিক্রম (http://goo.gl/qUBJ1) ও বীর প্রতীক (http://goo.gl/EFeMe) খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ভূমিকা, অবদানের বিস্তারিত। বাংলা উইকিপিডিয়ার প্রশাসক নাসির খান বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের কথা এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে না থাকলেও আমরা এ ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছি। বিশেষ করে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের কথাও যাতে যুক্ত করতে পারি সে ব্যাপারেও আমরা কাজ করছি।’ এ ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের তথ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন ছবি মুক্ত এ বিশ্বকোষে দেওয়ার জন্যও সবাইকে আহ্বান জানান তিনি। উন্মুক্ত এ বিশ্বকোষে মাতৃভাষায় যে কেউ যুক্ত করতে পারেন মুক্তিযুদ্ধের নানা ছবি ও তথ্য।

আরও নানা মাধ্যম
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির নানা তথ্য রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ওয়েবসাইটে (www.liberationwarmuseum.org)। এ ছাড়া বাংলাদেশ জেনোসাইড আর্কাইভের ওয়েবসাইটেও পাওয়া যাবে ইন্টারনেটে মুক্তিযুদ্ধের নানা তথ্য। দেশি ও প্রবাসের ব্লগারদের উদ্যোগে তৈরি সাইটটিতে (www.genocidebangladesh.org)

১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের নানা তথ্য পাওয়া যাবে। এ ছাড়া দেশ-বিদেশের এক দল বাঙালির উদ্যোগে রয়েছে ওয়ার ক্রাইমস স্ট্র্যাটেজি ফোরাম (www.wcsf.info)। স্বেচ্ছাসেবী ভিত্তিতে এই ফোরামে যুক্ত হয়ে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমে তৈফর ওয়েবসাইটটিতে স্বেচ্ছাসেবকেরা মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধাপরাধ ইত্যাদি বিষয়ে কাজ করছেন।
মূলত বিভিন্ন ভার্চুয়াল সংগঠন ও সংগঠনবহির্ভূত কর্মী-সংগঠকদের বিশাল একটি জোট হচ্ছে ডব্লিউসিএসএফ।
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডারদের সংগঠন ‘সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের ওয়েবসাইটে (www.sectorcommandersforum.org) সংরক্ষণ করছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও (www.molwa.gov.bd) পাওয়া যাবে সরকারের গেজেটে প্রকাশিত মুক্তিযোদ্ধাদের থানা, জেলা ও বিভাগভিত্তিক তালিকা।

( সূত্র =প্রথম আলো )

এই LINK গুল সংগ্রহ করে রাখুন

শেয়ার করবেন নতুন প্রজন্ম-এর কাছে।

যেন নতুন প্রজন্ম ,ডিজিটাল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কথা জানতে পারে।

আপনাদের জন্য শুভ কামনা রইলো । ধন্যবাদ ।

পাঠকগণ  ফেসবুকে Like দিন :https://www.facebook.com/techspeedbd


ফেসবুক থেকে মন্তব্যঃ

16 Comments
  1. Nafiz Ur Rahman says

    নাইস। খুব ভাল পোস্ট। ধন্যবাদ আপনাকে।

  2. পোস্টটি উপহার দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ

  3. নাইস। খুব ভাল পোস্ট। ধন্যবাদ আপনাকে।

  4. Mahabur Sheikh. says

    It is realy Important Post, THANKS Again >>>

  5. Mahabur Sheikh. says

    It Is An Important & Useful Post Thanks For Share…///

  6. Mahabur Sheikh. says

    Very Very Thanks For Share This Important Post…
    We Want More Attractive Post From You.

  7. sabuj4u says

    আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ একটি মূল্যবান পোষ্ট শেয়ার করার জন্য ।
    আশা করি আগামীতে আরও ভাল কিছু আমাদের উপহার দিবেন । ধন্যবাদ আপনাকে ।

  8. Real says

    অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

    1. আকাশ says

      @Real: thanks

  9. vai apni post e ato bivag disen keno. Akti ba duti bivag thik korben. Ate post er man bare. Post bujte subidha hoy. Kisu na mone korle… 🙂

    1. আকাশ says

      @মো: নাসির উদ্দিন: এমন কাজের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি এবং আমি নতুন তো ,এজন্য বিভাগ- ট্যাগ এসব ভাল মত জানি না । তাই বোকার মত বেশি বিভাগ দিয়ে ফেলেসি । আমাকে অবগত করার জন্য ধন্যবাদ

  10. নাইস। খুব ভাল পোস্ট। ধন্যবাদ আপনাকে।

  11. লেখাটি শেয়ার করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আর একটি কথা না বলে পারছিনা আপনার দেয়া ফেসবুকের পেজে আমাদের ব্লগের অনেক লেখা কপি পেস্ট হচ্ছে https://www.facebook.com/techspeedbd দয়া করে সুত্র উল্লেখ করলে ভাল হয় অথবা ব্লগের লিংক শেয়ার করলে।

    1. আকাশ says

      @জাকির হোসেন: ভাই ,আপনার কথার আমি একমত এবং এমন কাজের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। আমি এই মুহূর্তই https://www.facebook.com/techspeedbd সুত্র বা,ব্লগের লিংক উল্লেখ করে প্রকাশ করবো। আমি যখন এটি page ছাড়ই তখন আমি এই ব্লগে ছিলাম না । এবং এর সাথে জড়িয়ে আছে নানা কথা তা নাই বা বললাম।কিন্তু আমি আমার page টি এই মুহূর্ত change করবো। আমাকে অবগত করারা জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

      1. @আকাশ: ধন্যবাদ।

Leave A Reply