০৯। আসুন Freelance.com সাইট নিয়ে কিছু গল্প শুনি ও সেই সাথে জেনে নিই আউট সোর্সিং বিষয়ের নানাবিধ প্রতিবেদন!!

বিসমিল্লাহির রাহমাণীর রাহীম

السلام عليكم আসসালামু আলাইকুম

আশা করি সবাই এক প্রকার কুশলেই আছেন।

বর্তমানে আধুনিক বিজ্ঞাণ প্রযুক্তির অআর্শীবাদে সমগ্র বিশ্বের ন্যায় আমাদের দেশেও ইন্টারনেটের ব্যবহার পূর্বের তুলনায় দ্বিগুন আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে। নিশ্চয়ই এটি একটি শুভ দিক। কেননা, বর্তমান ডিজিটাল প্রযুক্তিকে জানতে ও শিখতে হলে অবশ্যই নেটের প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে তাদের নেটের খরচ অনেক কম। সেখানে আমাদের দেশে নেটের খরচ কিন্তু বেশী একটা হ্রাস পাইনি।

যাইহোক নেট ব্যবহার করে অনেক যুবক ভাই বর্তমানে স্বপ্ন দেখছেন কিভাবে বিদেশী টাকা ইনকাম করবেন, কোন সাইটে কাজ করবেন, কার কাছ থেকে সঠিক রিভিউ নিবেন ইত্যাদি। অনেকে কিন্তু প্রফেশনাল হিসাবে ইনকাম সাইটে কাজ করছেন ও কাজ করা শুরু করে দিয়েছেন।

বর্তমানে নেট ব্যবহারের মাধ্যমে ইনকাম করা এখন একটা তেমন স্বপ্নের ব্যাপর নয়। তবে এইজন্য প্রয়োজন কম্পিউটারকে ভাল ভাবে জেনে নেওয়া, কাজ করার মনমানসিকতা, ধৈর্য্য ও পরিশ্রম। বাংলাদেশে এমন বেশ কিছু ফ্রীল্যান্সার আছেন যারা প্রফেশনাল হিসাবে ফ্রীল্যান্স সাইটে কাজ করছেন।এবং আমাদের দেশের যুবক ভাইদের এই বিষয়ে দক্ষ মানব সম্পদ হিসাবে গড়ে তোলার জন্য প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে, সমগ্র পৃথিবীতে ফ্রিল্যান্সার হিসাবে আমাদের বেশ কয়েকজনের অবস্থান প্রায় ৬৫,০০০ জনের মধ্য ৪০০ তম।এদের মধ্য সর্বপ্রথমেই আছেন জনাব, জাকারিয়া চৌধুরী এবং মোহাম্মদ জাবেদ মোর্শেদ চৌধুরী

তাছাড়া আরো অনেকেই আছেন যাদের অবস্থান ১৫০০-২৫০০ এর মধ্য। তাছাড়া সম্প্রতি কিছুদিন পূর্বে অনেকেই জাতীয় পত্রিকার মাধ্যমে জেনেছেন যে, জনপ্রিয় আউটসোর্সিং মার্কেটপ্লেস www.freelancer.com গত ১৫ই নভেম্বর ২০১১ থেকে ৩১শে জানুয়ারী ২০১২ পর্যন্ত “Expose the Freelancer.com” শীর্ষক একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এতে বিভিন্ন দেশের ৪৪০ জন ফ্রিল্যান্সার অংশগ্রহণ করেন। এখানে বাংলাদেশী মধ্য ২জন বড় অংকের পুরষ্কার পেয়েছেন ।

এখানে যারা এত বড় সফল ফ্রিল্যান্সার হয়েছেন তারা কিন্তু একদিনেই সফলতা অর্জন করতে পারেনি। তাদেরকেও অনেক পরিশ্রম ও মেহনত কম করতে হয়নি। অবশ্য বাংলাদেশের এই সফল ফ্রিল্যান্সারকে নিয়ে ও অনুষ্ঠিত ফ্রিল্যান্স বিষয়ের আলোচনা/গল্প আমার এই পোষ্টের শেষের দিকে করব।

যাইহোক বর্তমানে ইন্টারনেটের ইনকামের ৩ টি সেক্টর রয়েছে তথা- Google Ad sense, Freelancer & PTC/PTR Site।

এর মধ্য সবচেয়ে প্রথম দুইটি ইনকামের দিক থেকে সবচেয়ে বিশ্বস্ত সাইট। অপরদিকে PTC/PTR Site নিয়ে অনেক তর্ক বা বিতর্কের ব্যাপার রয়েছে। দুনিয়ার যত সস্তা বস্তার ইনকাম হল এই PTC/PTR সাইট। এইগুলো অনেকটা আবার ভূয়া ব্যবসা হিসাবে দাড়িয়েছে। পৃথিবীতে প্রায় ২০০০ এর মত PTC/PTR সাইট রয়েছে অথচ এর মধ্য বিশ্বস্ত সাইটের সংখ্যা প্রায় ১৫-২০ টির মত। যারা পিটিসি সাইটে ইনকাম করেন এখানে কিন্তু ইনকামের রেট বেশী একটা হয়না আবার এমন কিছু সাইট আছে এখানে যে ভাবে সময় দিবেন তাতে যদি ফ্রিল্যান্স বিষয়ে কাজ করেন তাহলে সেই একই সময়ে একটি প্রোজেক্ট তৈরি হয়ে যাবে।

যেহেতু পূর্বেই বলেছি ফ্রিল্যান্স সাইট ইনকামের একটি বিশ্বস্ত সাইট।এই ফ্রিল্যান্স সাইট নিয়েও কিন্তু কিছু মহল ধান্দাবাজির ব্যবসায় উঠে পড়ে লেগেছে। অথবা এমন কিছু সাইটকে রাতারাতি তৈরি করে প্রকৃত ফ্রিল্যান্স সাইটের মত ইন্টারফেস দিয়ে আমাদের মত অনেক যুবক/বেকার ভাইকে বোকা বানানো হচ্ছে। সত্যি কথা বলতে কি অনেক যুবক ভাইয়েদের ইনকামের নেশাটা বর্তমানে মাথাতে এমন ভাবে চেপে ধরেছে তারা কোন ইনকামের সাইটের নাম শুনলেই যেন বেহুশ হয়ে পড়েন। আবার কোন সাইটের বাছ-বিচার না করেই সেখানে জয়েন্ট করে ফেলেন। এই জন্য কাজ করবার পূর্বে আমাদের প্রয়োজন সঠিক লোকের পরামর্শ, তথ্য ও সঠিক পরিকল্পনা।

Freelancer.com সাইট নিয়ে পৃথিবী খ্যাত বেশ কয়েকটি ভেন্ডর/প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এরা শুধু দুনিয়া জুড়েই খ্যাত নয়। বহু প্রতিষ্ঠান ও ভেন্ডর সার্টিফেকশনে পাস করেছে ও অসংখ্যক পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছে।

দুনিয়া জুড়ে খ্যাত এমন কিছু Freelancer.com সাইট গুলো হল-

www.odesk.com

www.freelancer.com

www.elance.com

www.guru.com

www.vworker.com

www.scriptlance.com

www.getacoder.com

আপনি ইচ্ছা করলে এর যে কোন একটি সাইট বেছে নিয়ে কাজ শুরু করতে পারেন। তবে যেহুতু সারা পৃথিবীর ন্যায় আমাদের freelancer.com ও Odesk.com জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তাই এখানে কাজটা শুরু করেছেন। যেহুতু দেশেই এই ২ টি বিষয়ে সার্পোট প্লাটফর্ম ও প্রশিক্ষণ রয়েছে।

অপরদিকে কিছু সাইট তৈরি হয়েছে যেগুলো freelancer.com বলে হৈ-হৈ রৈ -রৈ রবটা সরগম হয়ে উঠেছে। এদের মধ্য বর্তমানে Dolancer.com, Skylancer.com, Free Adds Sourcing, Online net 2 work, Onlineadd click এর নামটা উঠে এসেছে। আমি/আমরা (Campus Friends Blogger Team) নিজে অবশ্য এখানে কয়েকদিন পূর্বে Ont est হিসাবে একটু ঢুঁ মেরেছিলাম কিন্তু কাজের কাজ কিছুই বুঝতে পারিনি। কেননা freelancer.com সাইটেও আমরাও তো একটু কাজ করে থাকি লেখাপড়ার মধ্য দিয়ে যতটুকু সময় পাই।কিন্তু freelancer.com এর সাথে এর তেমন কোন কাজের প্রোজেক্টের মিল পাইনি।

এখন হয়ত আমার/আমাদের এই লেখা পড়ে ফুলে ফেঁপে উঠতে পারেন- যারা এই দুটি সংগঠনের সাথে জড়িত আছেন। তাদেরকে বলব ভাই, আপনাদেরকে হেয় করার জন্য কিন্তু এই লেখাগুলো আমরা মনগড়া হিসাবে লিখছিনা।বর্তমানে সাম্প্রতিক সময়ে এই সকল সাইট নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়াতে যে তথ্যগুলো উঠে এসেছে তার ফলাও করছি। এখন আপনারা যদি একচেটিয়াভাবে আপনাদের কার্যক্রম চালিয়ে যান বা সারা বাংলাদেশের ১৬ কোটি জনগণকেও যদি সদস্য বানিয়ে ফেলেন তবুও আমরা কিছু বলব না বা প্রতিবাদ করব না। আপনাদের কাজ আপনারা না হয় করতেই থাকুন!

আপনারা হয়ত অনেকেই ভাবতেছেন এই সমস্ত কাথা গুলি ইনিয়ে বানিয়ে লিখছি। আসলে তা এক চূলও সত্যি নই। যা প্রতিবেদনে পেয়েছি তাই উল্লেখ করছি। মনে করুন, এখানে না হয় আমি/আমরা মিথ্যা বলছি কিন্তু যারা সফল ফ্রিল্যান্সার আছেন তারা কি তাহলে মিথ্যা বলছেন? আর মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করে তাদের কি স্বার্থ লুকায়িত আছে। কারন যারা freelancer.com এর কাজ করেন এখানে তো সম্পূর্ন ফ্রিভাবে সদস্য হওয়া যায় বা কাজ করা যায়। কোন সদস্য বানাতে অর্থ দিতে হচ্ছে না। যদি এমন হত এখানে সদস্য বানাতে অর্থ লাগছে বা নিজের পকেটে অর্থ জমা করা যাচ্ছে এই জন্য freelancer.com সাইট বাদ দিয়ে সদস্যরা অন্য দিকে ভিড়ছে। সেইজন্য নিজেদের সাইটে নজর কাড়ানোর জন্য এই কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে! যেহেতু এখানে এই সম্পর্কে কোন জালিয়াতির প্রশ্নই নাই।

যাইহোক কিছুদিন বিভিন্ন পত্রিকাতে Dolancer.com সাইট নিয়ে বেশ লেখালেখি ও প্রতিবেদন হয়েছিল  আমরা তার কিছু Highlights নমূনা দেখব-। এখানে শুধু অবশ্য Dolancer নই, অন্যান্য বিভিন্ন পিটিসি সাইট নিয়ে নেতিবাচক প্রতিবেদন করা হয়েছিল বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে। যেমন- প্রথম আলোতে – ক্লিককের ফাদে সময় ব্যয় করছে শিক্ষার্থী ও চাকুরীজীবিরা, ইত্তেফাকে প্রায় ১ মাস পূর্বে প্রকাশ করা হয়েছিল- Unipay 2U প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের হাজার কোটি  টাকা আত্নসাত করে পলায়র করেছে ইত্যাদি। এখানে শুধু পেপার-পত্রিকা নই, দেখুন এই সকল পিটিসি সাইট নিয়ে  প্রায় প্রতিটি প্রযুক্তি বিষয়ক ব্লগ সাইটে  পোস্ট করা নিদিষ্ধ। এবং যাও পোস্ট করা হয়েছে তার সকই নেতিবাচক কথা নিয়ে। তবে বর্তমানে পিটিসি বিষয়ে যে প্রতিষ্ঠানটির নাম বেশী শোনা যায় তার নাম হল-Dolancer.com ।  ফ্রিল্যান্সার বিশেষজ্ঞগণ বলে থাকেন- বর্তমানে অন্যসকল পিটিসির কার্যক্রম প্রায় Dolancer.com এর অনুরুপা। মুলকথা Dolancer.com এর পথ ধরেই অন্যরা এগোচ্ছে। বর্তমানে Dolancer.com এর সাথে অন্যপিটিসি সাইট গুলো প্রতিযোগীতায় নেমেছে। যেমন- Dolancer.com এ- একজন সদস্য পূর্বে ১০০টি অ্যাডে ক্লিক করে কাজ করত, বর্তমানে দিচ্ছে ২৫ টি। আবার অন্য সকল কোম্পানীগুলো- তারাও অ্যাড ও সময় কমিয়ে দিচ্ছে।

গত ০২/০৬/১২ ইং তারিখের ইত্তেফাক পত্রিকার একটি শিরোনম দিয়ে সংবাদ পাবলিশ করা হয়- “কলা বাগানে অনলাইন প্রতারনা অফিস ভাংচুর” এখানে মূলত স্ক্যাইল্যান্সারের প্রতারনার সংবাদ ছবি সহ পাবলিশ করা হয়। যারা আগ্রহীগণ তারা এই সংবাদটি পড়তে নিচের লিংক ক্লিক করুন-

http://new.ittefaq.com.bd/news/view/101063/2012-06-02/1

এখানে যে স্ক্যাইল্যান্সার কোম্পানী সম্মানীত গ্রাহকদের সাথে এই রকম প্রতারনা করল। তাহলে অন্য সকল কোম্পানী যে প্রতারনা করবে তার গ্যারান্টি কোথায়? বলত পারবেন! আসলে আমাদের মনে হয়- PTC/PTR এই রকম সাইটের মূল কথা হল- ” একজনের লাভ, অপরজনের বাশ, তোমার হবে সর্বনাশ” এই নীতিতে সম্ভাবত চল। এইভাবে যে এই সকল সাইটে কাজ করে মানুষ প্রতারিত হচ্ছে এটা কোন নতুন খবর নই, পূর্বে তো ছিল, বর্তমানে চলছে, ভবিষ্যতেও হয়ত থাকবে। কিন্তু কখনও খবর/সংবাদ দেখেছেন যে ফ্রিল্যান্সার সাইটে কাজ করে কেউ প্রতারিত হয়েছে বা বাপের হোটেলের টাকা দিতে হয়েছে?

আরকেটি প্রমাণ দেখুন- বর্তমানে আমাদের সবার জনপ্রিয় প্রযুক্তি সাইট পিসি হেল্প লাইনের অ্যাডমিন কর্তৃপক্ষও সকল পিটিসি বিষয়ে এই সাইটে পোস্ট করতে নিষেধ করেছেন। আসলে এখানে যারা পোস্ট করতেন- তারা তাদের স্বার্থে, সদস্য ও রেফারেল বৃদ্ধির জন্য পোস্ট করতেন। পূর্বে পিসি হেল্প লাইনে এমন এবটা অবস্থা হয়েছিল মনে হত এই সাইট যেন পিটিসি সাইটের হাট বসেছে। প্রতিদিনই প্রায় পিটিসি সাইট নিয়ে ৩/৪ টি করে পোস্ট থাকতই।  পরবর্তীতে পিসি অ্যাডমিনদের কার্যকারী পদক্ষেপের কারনে বর্তমানে পিটিসি বিষয়ে পোস্ট চোখেই পড়ছে না। অআসলে এটি একটি ইতিবাচক একটি দিক বিশেষত সুস্থশীল ভিজিটর ও লেখকদের জন্য। এই উদ্যোগ গ্রহন করার জন্য আমি ও আমার বন্ধু টিম পিসি হেল্পলাইন কর্তৃপক্ষকেধন্যবাদ জানাচ্ছি।

রহস্যময় ডুল্যান্সার ও ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং

 কম্পিউটার জগৎ ম্যাগাজিনের ফেব্রুয়ারী ২০১২ সংখ্যায় ডুল্যান্সার এবং এর রহস্যময় কার্যক্রম নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন অভিজ্ঞ ফ্রিল্যান্সার মোহাম্মদ জাবেদ মোর্শেদ চৌধুরী। লেখাটিতে ডুল্যান্সার সাইটের করুণ চিত্র, আউটসোর্সিং এর নাম করে MLM ব্যবসা, প্রতিষ্ঠানের স্থায়িত্ব নিয়ে মিথ্যাচার, সাইটে প্রাপ্ত কাজের পরিসংখ্যান আরো নানা বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম কোন ভাবেই জনপ্রিয় আউটসোর্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তথাপি আউটসোর্সিং এর নাম করে সাধারণ জনগণের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অভিজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠিত ফ্রিল্যান্সাররা।

সম্পূর্ণ লেখাটি নিচের লিংক থেকে ডাউনলোড করে পড়া যাবে –

http://adf.ly/607SQ

সচেতনতামূলক প্রতিবেদনটি লেখার জন্য লেখককে অসংখ্য অভিনন্দন জানাচ্ছি। আশা করছি এ থেকে নবীন ফ্রিল্যান্সাররা অবশ্যম্ভাবী বিপদ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন।

 ———————————————————————————-

তাছাড়া Dolancer.com নিয়ে ১৮/০২/২০১২ তারিখে জাতীয় দৈনিক কালের কন্ঠ পত্রিকাতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়-

এর শিরোনাম ছিল- প্রতারনার ডিজিটাল ফাদ। প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করে Dolancer.com এর অনেক গুপ্ত বিষয়ে আমাদের তরুন সমাজকে সচেতন করেছেন। পত্রিকার সাংবাদিক সাহেব- জনাব, হায়দার আলী।

এই জন্য তাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জ্ঞাপণ করছি।

পত্রিকাটিতে উক্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে রিপোর্ট দেখতে এই খানে ক্লিক করুন-

http://adf.ly/607VR

অখবা যারা পিডিএফ ফাইল পড়তে বা নামাতে চান তারা এই লিংকে ক্লিক করুন-

http://adf.ly/607Tw

এখানে জনসাধারনের মন্তব্য সহ পুরো প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা আছে। সুতরাং ঝটপটভাবে ডাউনলোড শুরু করুন।

অবশ্য ডোল্যান্সার কর্তৃপক্ষ উক্ত প্রতিবেদনটি প্রস্তুত হবার পর ১৯/০২/১০১২ কিংবা ২০/০২/২০১২ তারিখের দিকে প্রথম আলো পত্রিকা ও যুগান্তর পত্রিকাতে প্রতিবাদ লিপি হিসাবে একটি বিজ্ঞপ্তি ফলাও করা হয়। এখানে প্রায় ১৫-২০ লাইনের মন্তব্য ছিল। মন্তব্যটি প্রদান করেছিলেন Dolancer.com এর মহাব্যবস্থাপক জনাব, রোকন ইউ.আহমেদ।

অবশ্য উক্ত প্রতিবাদ লিপি হিসাবে বিজ্ঞপ্তিটি তেমন যুতসই হয়নি বা সদুত্তর সঠিক ভাবে দেওয়া হয়নি বলে মনে করেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিক সমাজ ও ফ্রিল্যান্সারগণ।তারা বলেন এখানে যে সদস্য ফী নেওয়া হয় তা কোথায় ব্যয় করা হয়? অআবার এটি যে আমেরিকার বিখ্যাত একটি সার্ভার থেকে  ভাড়া ও ডোমেইন নেওয়া হয়েছে ভাল কথা! তাহলে পৃথিবীর বিখ্যাত Freelancer Site হিসাবে এর নাম নেই কেন? যেখানে Odesk দ্রুতভাবেই এই তালিকাতে নাম লিখাতে পেরেছে সেখানে Dolancer, Skylancer এর কেন এমন অবস্থা? ইত্যাদি।মূলত Formality বজায় রাখার জন্য জনসাধারনের নিকট ইতিবাচক মনোভাব নেবার জন্য প্রতিবাদ লিপিটি পাবলিশ করা হয়।

আপনার অনেকেই লক্ষ করবেন যে, Dolancer.com সাইটে পূর্বে ফ্রি সদস্য হিসাবে নিবন্ধন করা যেত না।কিন্তু বর্তমানে Dolancer.com ফ্রি নিবন্ধনের সুযোগ দিচ্ছে।কিন্তু ফ্রি নিবন্ধন করেও কোন লাভ নাই। কোন কাজই করতে পারবেন না। এখানে চালাকি হিসাবে লেখা রয়েছে Post Forum is Beta Version. তাও আবার সদস্য ফী ৬ মাসের জন্য ৩৫০০/- টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।১ বছরের জন্য ৭০০০/- ফী বহাল রয়েছে।

একটি অনুরোধ-

 ইতিপূর্বে বিভিন্ন ব্লগ সাইটে আমরা দেখেছি সেখানে Dolancer.com বিষয় নিয়ে সাফাই গাওয়া হয়েছে ও ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে এই রকম পোষ্ট। এই গুলো কারা লিখেছে তা আমাকে বলতে হচ্ছে না । নিশ্চয় আপনারা ব্যাপারটি অতি সহজেই বুঝতে পেরেছেন। এখানে  Dolancer.com এর বেশ কিছু সুবিধাবাদী সদস্য তারা Dolancer নিয়ে পোষ্টগুলো করছেন নিজেদেরকে সুবিধা হাসিলের জন্য। এখানে তারা বিভিন্ন রকম প্রলোভন দেখাচ্ছেন তার শিরোনাম গুলো এক নজরে যেমন-

১- Dolancer.com সাইটকে যারা বিশ্বাস করেন না তারা এবার ফ্রিভাবে সদস্য হোন ও নিজেই কাজ করে পরীক্ষা করুন!অফারটি অল্প সময়ের!!

২- সদস্য হতে রেফারেলে আমার নাম দিন।

৩- বিশেষ কোন অসুবিধাতে পড়লে আমার মোবাইলে নম্বরে কল দিয়েন

৪- আমি প্রায় মাসে ৩০০০০/- ইনকাম করছি ও পেয়েছি

৫- কে হবেন গোল্ডেন ও প্লাটিনাম মেম্বার। আজীবনের জন্য ইনকাম করতে পারবেন সদস্য হতে আমার সাথে যোগাযোগ করুন ইত্যাদি…… ইত্যাদি।

যাইহোক আমাদের প্রিয় পিসি হেল্পলাইন সাইটে কিন্তু এই রকম সদস্যদের চোখে পড়েনি। আবার কখন যে পড়বে না এমন কোন গ্যারান্টি নাই। যাই হোক এই ব্যাপারে সবাইকে সচেনতার প্রয়োজন।

এবং আমি সেই সাথে পিসি হেল্পলাইন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও Admin সাইটকেও বিশেষভাবে অনুরোধ রাখব আপনারাও যেন এই দিকে নজর দৃষ্টি রাখবেন। বিশেষ করে এখানে কোন ব্যাক্তি যেন নিজের স্বার্থে ওকালতি বা দালালী না করতে পারেন। আসলে বর্তমানে তো দেখছি- পিসি হেল্প লাইন অ্যাডমিন কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ন যুগপযোগী পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাহল- এই সাইটে পিটিসি বিষয়ে বা কোন ভূয়া সাইট নিয়ে পোস্ট করা যাবেনা, করলে লেখককে ব্যান করে দেয়া হচ্ছে।  যাই হোক আমার/আমাদের এই পোষ্ট লিখে যদি কোন অন্যায় করে থাকি তাহলে অ্যাডমিন/ কর্তৃপক্ষ যদি পোষ্টটি ডিলেট করে দেন তবুও আমার/আমাদের কোন আফসোস বা আকুতি থাকবে না।

সম্মানীত ভিজিটরদের উদ্দেশ্য আমার কিছু কথা-

পিসি হেল্প লাইন সাইটে এমন কিছু ভিজিটর রয়েছেন- যারা Dolancer.com  এর পাশাপাশি অন্যান্য পিটিসি তে কাজ করেন। তারা হয়ত লেখকের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করতে পারেন। কেননা, এখানে তো আমি উৎসাহ মূলক কথাটা লিখতে পরতাম। আসলে এই পোস্টটি করা হয়েছে ফ্রিল্যান্স বিষয়ে আগ্রহীদের জন্য, এবং আমি নিজেও পিটিসি সাইট নিয়ে কাজ করিনা। এই পোস্টটি পড়ে অনেকেরই ফ্রিল্যান্স সাইট নিয়ে কাজ করবার আগ্রহ জন্মাবে তাই এই পোস্টটি লেখার অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে এই পোস্টে কিন্তু আমি বলছিনা- আপনারা কেউ পিটিসি সাইট করেন না। কেননা, এখানে যদি কেউ পিটিসি সাইটে কাজ করেন সেখানে তো আমার /আমাদের পকেট বা বাপের হোটেলের টাকা দিতে হচ্ছে না! তাহলে স্বার্থ কোথায়? কেনই বা নিষেধ করব! আসলে মূল ব্যাপার হল-

১। Dolancer.com এর মত যারা অন্য সকল সাইটে কাজ করেন, তারা কিন্তু অনেকেই টাকা পাচ্ছেন, আবার অনেকেই ধরা খেয়েছেন। এমন বহু নজীর রয়েছে। পিটিসি সাইটে যারা কাজ করেন- মূল সূত্র হল- একজনের লাভ, অন্যজনের বাঁশ!! হয়ত আপনি কিছু লাভ করলেন, কিন্তু আপনার অন্য ভাইয়ের তো লোকসান গেল। কি করবেন?

২। এমন অনেক ভিজিটর আছেন যারা না বূঝে মন্তব্য করেন- যেমন এই সকল সাইটকে তারা ফ্রিল্যান্সার বলে চালিয়ে দেন। এটা মারাত্বক ভূল! কেননা এক কথাতে বলা যায়- যেখানে অ্যাডে ক্লিক করা হয় তাকেই পিটিসি সাইট বলা হয়। এবং লিগ্যাল ফ্রিল্যান্সার সাইটে যারা কাজ করেন এই সকল অ্যাডের কোন সংযুক্তি নাই। যারা ফ্রিল্যান্স সাইটে কাজ করেন, তাদের কাছ হতে জেনে নিন। তাহলে এর পার্থক্য বুঝতে পারবেন।

৩। আচ্ছা এই সকল সাইট যদি সত্যিই ফ্রিল্যান্স সাইট হয়, তাহলে কেন আপনাকে অতগুলো টাকা দিতে হচ্ছে নিবন্ধন করবার জন্য একবার কি ভেবে দেখেছেন?  এখানে তো বাংলাদেশেনর কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু বিশ্বের এমন কিছু ট্রাষ্টেড পিটিসি সাইট রয়েছে (Neobux, Click sense) যেখানে টাকা দিতে হয়না, তাহলে এখানে কেন টাকা দিতে হচ্ছে?

৪। আপনারা কি আমার একটা প্রশ্নের জবাব দিবেন- অবশ্য আমি নিজেও হিসাব মিলাতে পারছিনা যেমন- বাংলাদেশে যে সকল পিটিসি সাইট গুলো গ্রাহকদের এত বিপুল অর্থ দিচ্ছে সেটা কোথা হতে দিচ্ছে? কেননা, টাকা আয় করা কি এতই সস্তা। যেখানে ১৫ টি অ্যাডে ক্লিক করে প্রতিদিনে ২ ডলার করে আয়। ৫ টি একাউন্ট করলে মাসে ১৫,০০০/- টাকার মত আয়। ভাল কথা! কিন্তু এত সদস্যদের অর্খটা কিভাবে এই সকল কোম্পানী পেমেন্ট করবে? টাকার গাছ আছে না কি? আপনি একটু ভাবুন তো, নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করুন।

৫। যেখানে শেয়ার বাজারে ইনভেস্ট করে লোকসান গুণতে হচ্চে। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা চলছে। আর এই সকল কোম্পানীগুলো ………………। এখানে যদি সত্যিই এত সস্তাভাবে টাকা অআয় করা যায়। তাহলে তো- শিক্ষিত বেকার ছেলেরা চাকুরীর পিছনে এত ছুটাছুটি করবেনা, বিসিএস পরীক্ষা দেবার প্রয়োজন নাই।

৬। পিটিসি সাইটে কাজ করে কিন্তু কোন সৃজনশীলতা বিষয়ে শেখা যায়না, কিন্তু ফ্রিল্যান্স সাইটে অনেক সৃজনশীলতার বিষয় অন্তভূক্ত আছে।ফ্রিল্যান্স সাইটকে অবশ্য অনলাইন জব বলা হয়। আপনার ইচ্ছা মত কাজ করতে পারবেন। যেমন- ১ মাস কাজ করলেন, ২ মাস করলেন না, অসুবিধা নাই!!

৭। ফ্রিল্যান্স সাইটে  কোন ইনভেস্ট লাগে না। অবশ্য সদস্য নাম লেখাতে  কিছু অর্থ দিতে হয়। তাও বাধ্যতামূলক নই।

৮। পিটিসি সাইটে কাজ করতে শরীরে পেশার পড়ে যেমন- চক্ষুর দিক দিয়ে। এক নজরে মনিটর স্কীনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়, ফলে এখানে বাত বা মানসিকতার সমস্যা হতে পারে। কিন্তু ফ্রিল্যান্স সাইটে এই সবের কোন প্রশ্নই নাই। কেননা, পিটিসি সাইটে আপনার প্রতিদিনের একই সময়ে কাজ শেষ করতে হয়। ফ্রিল্যান্স সাইটে একটি কাজ কয়েক দিনেও করা যেতে পারে।

——————————————————————-

অনেক অনেক বক বক করা হল। এবার আরেকটি বিষয়ে মূল আলোচনাতে আসি। প্রথমত এই পোষ্টে আলোচনার শুরুতে বলেছিলাম ফ্রিল্যান্স বিষয়ে একটি সেমিনার হয়েছে এবং কে কি পুরষ্কার পেয়েছে তার বিস্তারিত প্রতিবেদন-

ফ্রিল্যান্সাপ্রতিযোগিতা: Expose the Freelancer.com Logo
জনপ্রিয় আউটসোর্সিং মার্কেটপ্লেস www.freelancer.com গত ১৫ই নভেম্বর ২০১১ থেকে ৩১শে জানুয়ারী ২০১২ পর্যন্ত “Expose the Freelancer.com” শীর্ষক একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এতে বিভিন্ন দেশের ৪৪০ জন ফ্রিল্যান্সার অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতার লক্ষ্য ছিল Freelancer.com সাইটের লোগোকে সৃজনশীল উপায়ে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া। প্রতিযোগিতার ফলাফল গত ২৭শে ফেব্রুয়ারী ঘোষণা করা হয়। এতে ১০ হাজার ডলারের প্রথম পুরষ্কার পেয়েছেন বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সার নাজমা রহমান যিনি সাইটিতে Dataexpert01 নামে পরিচিত। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরষ্কার পান যথাক্রমে পাকিস্থান এবং নেপালের দুজন ফ্রিল্যন্সার।

নাজমা রহমান এবং উনার টিম প্রতিযোগিতার জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জে Freelancer.com এর লোগো সম্বলিত ২০০০ স্কয়ার ফুটের একটি বিশাল ব্যানার তৈরি করেন এবং একটি বিশাল র ্যালীর আয়োজন করেন যাতে নারী পুরুষ নির্বিশেষে সকল বয়সের ও বিভিন্ন পেশাজীবির ৩০০০ জন অংশগ্রহণ করেন। র ্যালীটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র ্যালীর পাশাপাশি উপস্থিত জনগণকে Freelancer.com সাইটের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় এবং সাইট থেকে কিভাবে আয় করতে হয় সেদিকে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

প্রতিযোগীতা: Suggestion of the Month (January)

Freelancer.com তাদের সাইটকে উন্নত করার লক্ষ্যে ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে পরামর্শ এবং নতুন আইডিয়া গ্রহণ করে থাকে। এই পরামর্শগুলোর মধ্য থেকে প্রতিমাসে একজন সেরা পরামর্শদাতাকে পুরষ্কৃত করা হয়। গত জানুয়ারি মাসে পরামর্শ দিয়ে ২৫০ ডলারের পুরষ্কারটি পেয়েছেন বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সার সৈয়দ আহমেদ সালিমুদ্দিন সুলতান। সাইটের যে কোন ব্যবহারকারী এতে অংশগ্রহণ করতে পারেন। এজন্য সাইটের সাপোর্ট ডেস্কে গিয়ে সাজেশন বিভাগে পরামর্শটি একটি টিকেট হিসেবে জমা দিতে হয়।

নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টিপস

১- প্রথম কাজ পেতে কয়েক সপ্তাহ থেকে শুরু করে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে, তাই হতাশ না হয়ে ধৈর্য্য ধরে বিড (Bid) করে যেতে হবে।

২- প্রথম দিকে যত কম মূল্যে বিড করা হবে কাজ পাবার সম্ভাবনাও তত বেশি হবে।

৩- সম্ভব হলে বিড করার পূর্বেই যদি কাজটি সম্পন্ন করে ক্লায়েন্টে দেখানো যায় এবং আপনার কাজটি যদি সে পছন্দ করে তাহলে নিশ্চিতভাবে প্রজেক্টটি আপনাকেই দিবে।

৩- কোন কাজ না পারলে সেই প্রজেক্টে কখনই বিড করা উচিত নয়। অনেকেই না বুঝে বিড করে থাকেন এবং ভাবেন কাজটি পেলে অন্য কারো সাহায্য নিয়ে সম্পন্ন করে ফেলবেন। কাজ না জেনে খুব বেশি দূর যাওয়া সম্ভব নয়।

৪- ইন্টারনেটে অসংখ্য ধরনের কাজ পাওয়া যায়। আপনি যে কাজই করে থাকুন না কেন, চেষ্টা করবেন যাতে পরিপূর্ণভাব সেই কাজে আগে দক্ষ হয়ে তারপর কাজের জন্য আবেদন করা।

৫- সাধারণত যে সকল কাজ তুলনামূলকভাবে একটু কঠিন এবং যে সকল কাজে কম বিড পড়ে, সেধরনের কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার পূর্বে সব ধরনের কাজ একটু পর্যবেক্ষণ করে নিন এবং সে অনুযায়ী নিজেকে তৈরি করে নিন।

৬- বলাই বাহুল্য আউটসোর্সিং এর কাজ করতে ইংরেজীতে পারদর্শী হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্তত প্রজেক্টের চাহিদা বুঝা এবং সে অনুযায়ী ক্লায়েন্টের সাথে সাবলীলভাবে যোগাযোগ করার ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন।

৭- একটি প্রজেক্ট সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা না নিয়ে কখনই কাজ শুরু করা উচিত নয়। ক্লায়েন্ট তাদের চাহিদা বিড রিকোয়েস্টের সাথে সম্পূর্ণভাবে উল্লেখ নাও করতে পারে। তাই যতটুকু সম্ভব তাদেরকে প্রশ্ন করুন। তারপর প্রজেক্টের রিকোয়ারমেন্ট আপনার নিজের ভাষায় বায়ারকে লিখে জানান। এতে বায়ারের চাহিদা সম্পর্কে আপনি নিশ্চিত হতে পারবেন এবং কাজ করার সময় আপনার পরিশ্রম অনেকখানি কমে যাবে। প্রশ্ন করলে বায়ার খুশি হয় এবং আপনার আগ্রহ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারে।

৮- সম্পূর্ণ কাজকে কয়েকটি ধাপে ভাগ করুন এবং প্রতিটি ধাপ শেষ হবার পর পর ক্লায়েন্টকে দেখান।

৯- ডেডলাইন সময় শেষ হবার পূর্বেই সম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করুন এবং ক্লায়েন্টের কাছে পাঠিয়ে দিন।

১০- ক্লায়েন্টের কাছে কাজ পাঠানোর পূর্বে ভাল করে রিকোয়ারমেন্ট আরেকবার দেখে নিন এবং সম্পূর্ণ কাজ ভাল করে পরীক্ষা করুন।

১১- সব সময় চেষ্টা করবেন যাতে কাজ শেষে সর্বোচ্চ রেটিং পাওয়া যায়। ভাল রেটিং পেলে পরবর্তী কাজগুলো খুব সহজেই পাওয়া যায়।

১২- ভাল রেটিং পাবার উপায় হচ্ছে – সঠিকভাবে কাজটি করা, সময়মত কাজটি শেষ করা, ক্লায়েন্টের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা।

১৩- রেটিং দেবার পূর্বে ক্লায়েন্টকে জিজ্ঞেস করে নিন যে সে আপনার কাজে সম্পূর্ণ খুশি কিনা এবং আপনাকে সর্বোচ্চ রেটিং দিতে যাচ্ছে কিনা।

১৪-কাজে এবং কথাবার্তায় সবসময় সৎ থাকতে হবে। কখনও ভুল তথ্য প্রদান করা যাবে না। কোন কারনে কাজ করতে না পারলে বিষয়টি ক্লায়েন্টকে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিন, বেশিভাগ ক্ষেত্রেই ক্লায়েন্টের কাছ থেকে যথাযথ সহায়তা পাওয়া যায়।

লেখক -মোহাম্মদ  জাকারিয়া চৌধুরী

বিঃদ্রঃ – এই লেখাটি “প্রথম আলো” পত্রিকার “প্রজন্ম ডট কম” পাতায় ২রা মার্চ ২০১২ ইং তারিখে প্রকাশিত হয়েছে।

একটি বিশেষ পরিচিতি-

উল্লেখ্য কিছুদিন পূর্বে আমাদের পোষ্টে এলার্টপের ব্যবহার কৌশল সম্পর্কে ১টি পোষ্ট করছিলাম। ঐ খানে আপনাদেরকে একটি এলার্টপে সহায়তা রেফারেল হিসাবে পিডিএফ ফাইল ডাউনলোড করতে বলেছিলাম। এবং লিংকে লেখক মোঃ জাকারিয়া চৌধুরী নাম উল্লেখ করেছিলাম। অনেকরই প্রশ্ন থাকতে পারে এই লেখক কে?

যাইহোক আমি বলছি- এই লেখকের অনেক বই ও প্রতিবেদন পড়েছি বিভিন্ন পেপার-পত্রিকাতে। ইনার স্থায়ী নিবাস পবিত্র পূণ্যভূমি সিলেট শহরে। পূর্বে আমি উল্লেখ করেছিলাম ফ্রিল্যান্সার হিসাবে সারা বিশ্বে তার অবস্থান ৪০০ এর মধ্য। বাংলাদেশের দিক থেকে ১ম বলা চলে। তিনি সিলেটে এই বিষয় নিয়ে প্রায়ই সেমিনার করে থাকেন। এবং কিভাবে এই দেশের তরুনেরা সফলকাম ফ্রীল্যান্সার হবেন সেই সব বিষয়ে গবেষনা করেন এবং কাজও শুরু করে দিয়েছেন। আমাদের পিসি হেল্প লাইন যে সকল ব্লগার বা ভিজিটর আছেন (মূলত যারা সিলেট জেলার নিবাসী) তারা এক নামে কৃতীধর স্বনামধণ্য এই ব্যাক্তিকে অনেকটা এক নামেই চিনতে পারবেন।

যাইহোক আমি আর বিস্তারিত কিছু বলছিনা । এখানে লেখক নিজেই তার পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত বলছেন-

  আমি মোঃ জাকারিয়া চৌধুরী, একজন ফ্রিল্যান্সার ওয়েব ও গেম ডেভেলপার। পড়ালেখা করেছি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। চতুর্থ বর্ষে থাকাকালে একটি সফটওয়্যার ফার্মে পার্টটাইম ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে এক বছর কাজ করেছি। পাশ করার পর ২০০৬ সাল থেকে অন্য কোন চাকুরী না করে অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং করছি। বর্তমানে সিলেটে Web craft Bangladesh নামে একটি ওয়েব ও গেম ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠান এবং  সিলেট আইটি একাডেমী নামে একটি তথ্য-প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালনা করছি।

ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেছিলাম রেন্ট-এ-কোডার (ভি-ওয়ার্কার) নামক মার্কেটপ্লেসে কাজ করার মাধ্যমে। ২০১০ পর্যন্ত এই সাইটে কাজ করেছি, সেসময় পর্যন্ত সাইটের তিন লক্ষ ফ্রিল্যান্সারদের মধ্যে আমার রেংকিং ছিল ৪০০,প্রথম অবস্থায় কাজ পাওয়া এতটা সহজ ছিল না। মনে আছে প্রথম কাজ পেতে আমাকে ১৫ থেকে ২০ টি প্রজেক্টে বিড করতে হয়েছিল এবং সময় লেগেছিল প্রায় এক মাস। কিন্তু কয়েকটি প্রজেক্ট সফলভাবে সম্পন্ন করার পর আমাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। প্রথম অবস্থায় আমার রেংকিং ছিল ৮,০০০ যা থেকে ১,০০০ পৌছাতে এক বছর সময় লেগেছিল। ১,০০০ থেকে ৪০০ তে উন্নীত হতে আরেকটি বছর সময় লেগেছে। গত কয়েক বছরে আমি অসংখ্য প্রজেক্ট সফলভাবে সম্পন্ন করেছ। আমি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, স্পেন, মালয়শিয়া, নরওয়ে, নাইজেরিয়া ইত্যাদি বিভিন্ন দেশের ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট করেছি।

বর্তমানে আমি বেশ কয়েকজন ক্লায়েন্টের কাছ থেকে সরাসরি ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজ পেয়ে যাচ্ছি। ক্লায়েন্টদের কাজ করার পাশাপাশি বর্তমানে আমরা নিজেরাই আইফোন ও এন্ড্রয়েডের জন্য গেম এবং এপ্লিকেশন তৈরি করে সরাসরি App Store ও Android Market এ রিলিজ করার উদ্দ্যোগ নিচ্ছি। আশা করছি খুব শিঘ্রী দুইটি গেম পাবলিশ করতে পারব। একই সাথে CodeCanyon মার্কেটপ্লেসে আমরা মোবাইল এপ্লিকেশন বিক্রি করছি।

ফ্রিল্যান্সিং এর স্বীকৃতিসরূপ আমি ২০১১  সালে” বেসিস ফ্রিল্যান্সার অব দ্যা ইয়্যার ২০১১” এওয়ার্ডপ্রাপ্ত হই, যা ছিল আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের। ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিং সম্পর্কে সবাইকে জানাতে আমি প্রায় সময় বিভিন্ন উদ্দ্যোগ গ্রহণ করি। গত কয়েক বছর আমি ঢাকাতে বিভিন্ন সেমিনারে মূল বক্তা হিসেবে অংশগ্রহণ করি। বর্তমানে আমি আমার নিজের শহর সিলেটে এটিকে প্রচার করতে আমার প্রতিষ্ঠান থেকে বিনামূল্যে বিভিন্ন সেমিনারের আয়োজন করছি। বর্তমানে BDO osn Outsourcing  নামক একটি গুগল গ্রুপের এডমিনিস্ট্রেটর হিসেবেও দ্বায়িত্ব পালন করছি। আমি স্বপ্ন দেখি একদিন দেশের তরুণরাই আউটসোর্সিং এর কাজ করার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির চেহারাকে পাল্টে দিবে।

২০০৮ সাল থেকে আমি “কম্পিউটার জগৎ” ম্যাগাজিনে ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন লিখছি। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর থেকে প্রতিদিন আমি অসংখ্য ইমেইল পেতে থাকি। আমি চেষ্টা করি সবার ইমেইলের উত্তর দিতে। কিন্তু ব্যস্ততার কারনে সকল ইমেইলের উত্তর দেয়া সম্ভব হয় না। অনেক ক্ষেত্রে কয়েকজন প্রায় একই ধরনের ইমেইল করে থাকেন। পাঠকদের কথা চিন্তা করে তাই এই সাইটটি তৈরি করেছি। চেষ্টা করব নিয়মিতভাবে এই সাইটে লিখতে।

যাইহোক অনেক কথা লেখা হল। অআপনাদের যদি কারও কোন সামান্যতম উপকারে অআসে তাহলে অআমাদের এই লেখার পরিশ্রম স্বার্থকতা বলে মনে করব। মূলত যারা সঠিক ফ্রিল্যান্সার সাইটে কাজ করতে চান তাদেরকে মনোবল বৃদ্ধি ও উসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টির জন্যই অআজকের এই পোষ্টটি সাজিয়েছি।

বিঃদ্র- এই পোষ্টের কিছু আলোচনা আমাদের চিন্তশক্তিতে ও গবেষনা হিসাবে লিখেছি। এবং বাকি অংশ বিভিন্ন পেপার-পত্রিকার রেফারেল অনুসরনে করেছি। তাছাড়া কিছু অংশ লেখার জন্য লেখকের পূর্ব থেকেই সম্মতি পেয়ে করেছি।

পোষ্টটির কোন ভূল ত্রুটি দৃষ্টি গোচর হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার আহবান রাখছি।

Legal Notice-

বর্তমান সময়ে দেখা যাচ্ছে কতিপয় অসাধু ব্যাক্তি/লেখক আমার এই পোষ্টগুলো হুবহু ও অআংশিক নকল করে অন্য ব্লগ সাইট ও নিজের ব্লগ সাইটে নিজের নামে চালিয়ে দিচ্ছেন।এইগুলো করা মূলত অনৈতিকতার পরিচয় ও বেআইনি কাজও বটে। যেমন-০২/০৩/২০১২ তারিখে এভাস্ট সিকিউরিটি নিয়ে একটি পোষ্ট করেছিলাম সেখানে একটি ব্যক্তিগত সাইটে দেখলাম উক্ত সাইটের লেখক আমার লেখা হুবহু নকল করে নিজের নামে তা প্রকাশ করেছেন। কেউ যদি নিজের লেখা হুবহু নকল করে অন্য কেউ চালিয়ে দেয় বিষয়টি মেনে নেওয়া অনেকটা কষ্টকর ব্যাপার। তবে একটি বিষয় নিয়ে যদি কেউ আপডেট হিসাবে নিজের মেধার বহি প্রকাশ ঘটিয়ে রিভিউ করে তবে সেটিকে নকল বলা অনুচিত নয়। যাই হোক ঐ সকল লেখকদেরকে আমি টেকটুইটস এর পক্ষ থেকে অনুরোধ করব Please Don’t any post/Write Script without author/writer permission. এখানে শুধু আমার লেখা নকল হয়নি অন্য ব্লগার ভাইদের লেখাও হুবহু নকল করা হয়েছে-

N.B- : PLEASE DO NOT COPY MY ANY COLLECTION & AND DO NOT SHARE IT OF OTHER PERSONS  ™ AMD

———————————————————–

Edited By-

AMD-ASLAM-POLLOB-SUMON

Campus Friends Blogger Team (CFBT)

RU-6100

  14 comments for “০৯। আসুন Freelance.com সাইট নিয়ে কিছু গল্প শুনি ও সেই সাথে জেনে নিই আউট সোর্সিং বিষয়ের নানাবিধ প্রতিবেদন!!

  1. abul100
    মে 17, 2013 at 10:19 অপরাহ্ন

    hi,I need a instructor for learning google adsence,odesk,freelancer etc
    also, i will pay for that.i live in uttara.
    01715817872
    kkhan1889@gmail.com
    thanks

  2. এপ্রিল 27, 2013 at 7:51 অপরাহ্ন

    খুব ভালো পোসট।

  3. আগস্ট 18, 2012 at 10:58 অপরাহ্ন

    নাইস। খুব ভাল পোস্ট। ধন্যবাদ আপনাকে।

  4. ali ashraf tohin
    জুলাই 6, 2012 at 3:39 অপরাহ্ন

    Freelancer এ কাজ করতে হলে প্রতিদিন approximately কতক্ষন সময় দিতে হবে ? পড়াশুনার পাশাপাশি freelancer এ কাজ করা যাবে কিনা ? আর freelancer এ কাজ করতে হলে কি কি কাজ জানা থাকা প্রয়োজন ?

  5. farukmiah
    জুন 17, 2012 at 4:41 অপরাহ্ন

    very good

  6. marufhossen
    জুন 13, 2012 at 6:23 অপরাহ্ন

    ভাই আপনাকে ধন্যবাদ

  7. MD Mahmudul Hasan
    জুন 8, 2012 at 3:44 অপরাহ্ন

    vi i want to learn freelanceing. but where can i get training about this. pls give me solution.

    • AMD. ABDULLAH
      জুন 9, 2012 at 6:20 পূর্বাহ্ন

      হ্যা ফ্রিল্যান্সের কাজ করতে হলে প্রথমত একটু কষ্ট করা লাগবেই, বিষয়টি স্বাভাবিক। বর্তমানে বাজারে এই বিষয়ে বিভিন্ন রকমের বই ক্রয় করতে পাওয়া যায় , সেইগুলো দেখতে পারেন। তাছাড়া বিভিন্ন ব্লগ সাইটে ফ্রিল্যান্স বিষয়ে রিভিউ করা হয়, সেইগুলোও পড়লে অনেকটা কাজে দিবে।- ফ্রিল্যান্স বিষয়ে ট্রেনিং গুলো ঢাকা ও বিভাগীয় শহরে বেশী করানো হয়। ট্রেনিং করলেই যে, একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হয়ে যাবেন-এটি নিছক ভূল ধারনা। নিজেকে প্রায় ১ বছর কাজে সময় দিতে হয়।-মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ।

  8. জুন 8, 2012 at 7:05 পূর্বাহ্ন

    বাহ!ভাই আপনি খুব সুন্দর করে,গুছিয়ে লিখতে পারেন। এত সুন্দর পোস্টার জন্য ধন্যবাদ।

    • AMD. ABDULLAH
      জুন 9, 2012 at 6:14 পূর্বাহ্ন

      সুন্দর করে গুছিয়ে না লিখতে পারলে তো অনেকেরই বুঝতে অসুবিধা হবার কথা! তাহলে লেখার স্বার্খকতা কোথায়? – সুন্দর মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।

  9. জুন 8, 2012 at 6:00 পূর্বাহ্ন

    Thanks for share.

মন্তব্য করুন