সিডনি, ৩০ এপ্রিল: ঠিক ‘টাইটানিক’র মতো নকশাতেই তৈরি হচ্ছে ‘টাইটানিক ২’।।
শুধু বাড়তি হিসেবে থাকবে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি আর সূক্ষ্ম নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
অস্ট্রেলিয়ান বিলিওনিয়ার ক্লিভ পালমার তৈরি করছেন এই বিলাসবহুল ‘টাইটানিক ২’। আর ‘টাইটানিক’ ডুবির একশো বছর পূর্তির দুই সপ্তাহ পরই তিনি এই ঘোষণা দিলেন।
পালমার জানান, তার মালিকানাধীন চাইনিজ এক জাহাজ নির্মাণ কোম্পানিতেই চলছে ‘টাইটানিক ২’র কাজ। ২০১৬ সাল নাগাদ ‘টাইটানিক ২’ একেবারেই প্রস্তুত হয়ে যাবে। ‘টাইটানিক ২’ যাত্রা শুরু করবে ইংল্যান্ড থেকে এবং এর গন্তব্য হবে নিউইয়র্ক।
বিলিওনিয়ার পালমার বলেন, “এটা দেখতে একেবারেই আসল টাইটানিকের মতো হবে। রাজকীয়, বিলাসবহুল এবং সব ধরনের আরাম আয়েশের ব্যবস্থা থাকবে। কিন্তু আগের ‘টাইটানিক’র মতো এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা একেবারে দুর্বল হবে না। এটা হবে এ যুগের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্বলিত ‘টাইটানিক’ জাহাজের আদর্শ উত্তরসূরি।”
তবে পালমার এই জাহাজ নির্মাণের খরচের ব্যাপারে এখনই মুখ খুলতে নারাজ। তিনি জানান, ‘টাইটানিক ২’র পরিচালনা এবং ক্রু টিমের দায়িত্বে থাকবে চাইনিজ নেভির দক্ষ দল। তিনি তার ‘টাইটানিক ২’ জাহাজটিকে সেই সব নির্মাণ শ্রমিক এবং জাহাজ কর্মচারিদের জন্য উৎসর্গ করতে চান যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল ছিল ‘টাইটানিক’।
সেই সব শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে পালমার বলেন, “তারা তাদের শ্রম দিয়ে এমন একটি জাহাজ তৈরি করেছিলেন যা নিঃশেষ হওয়ার ১০০ বছর পরও মানুষের মন থেকে মুছে যায়নি। কিন্তু আমরা তাদেরই সম্মান জানাতে ভুলে গেছি। তাই ‘টাইটানিক ২’ তাদের জন্য উৎসর্গ করা হবে।”
১৯১২ সালে ‘হোয়াইট স্টার লাইন’র প্রমোদতরী সাগরের নীল জলে নামে। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসের শিকার হয়ে করুণ পরিণতি হয় ‘টাইটানিক’ এবং এর এক হাজার ৫১৪ যাত্রীর। অস্ট্রেলিয়ান বিলিওনিয়ার পালমারের ক্রুজ লাইনারের নাম হলো ‘ব্লু স্টার লাইন’।
‘টাইটানিক’র উত্তরসূরি ‘টাইটানিক ২’-এ থাকবে ৮৪০টি অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন বিলাসবহুল রুম, সুইমিংপুল, জিমনেশিয়াম এবং রেস্টুরেন্ট। ‘টাইটানিক ২’ হবে লম্বায় ৮৮৫ ফুট এবং এর ওজন হবে ৪০ হাজার টন। এই জাহাজে আরো থাকবে ‘টাইটানিক’র মতোই সেই পুরানো আমলের আদলে তৈরি একটি কয়লা দ্বারা চালিত ইঞ্জিন ঘর। যা জাদুঘর হিসেবে সেখানে স্থাপন করা হবে। ‘টাইটানিক ২’ জাহাজের আসল ইঞ্জিন ঘর হবে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয়।
ক্লিভ পালমার হলেন অস্ট্রেলিয়ার পঞ্চম ধনী ব্যক্তি। তার সম্পদের পরিমান অস্ট্রেলিয়ান ডলারে পাঁচ বিলিয়ন। তার মূল ব্যবসা হলো খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের। তাছাড়া এই ব্যবসায়ীর অস্ট্রেলিয়ায় বেশ কয়েকটি হোটেল, রিসোর্ট এবং ফাইভ স্টার রেস্টুরেন্টও আছে। জাহাজনির্মাণ কারখানাসহ পালমারের প্রমোদ তরীও ভাসে বিশ্বের বিভিন্ন মহাসাগরে।
‘টাইটানিক ২’ সাগরে ছাড়ার পর এই বিজনেস টাইকুনের ইচ্ছা একাট আন্তর্জাতিক মিডিয়া হাউজ খুলবেন। তবে সবার আগে এখন পালমার নিজের ‘টাইটানিক ২’ স্বপ্ন পূরণের জন্য ব্যতিব্যস্ত।
সূত্র: এএফপি
Advertisement:































নাইস। খুব ভাল পোস্ট। ধন্যবাদ আপনাকে।
Thanks for share.
Thank you for your kind information.