স্মার্টফোন কেনার আগে যে বিষয়গুলো যাচাই করা জরুরি

0

বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির স্মার্টফোন পাওয়া যাচ্ছে। অনেকেই স্মার্টফোন কেনার আগে বাহারী ডিজাইন কেনে। পরবর্তীতে দেখা যায় এর সঠিক গতি নেই, ক্যামেরা সুন্দর সার্ভিস দিচ্ছে না, ব্যাটারি বেশি ব্যাকআপ দিচ্ছে নাসহ অনেক ধরনের সমস্যায় পরেন ক্রেতারা। আমাদের আজকের আয়োজন স্মার্টফোন কেনার আগে যে বিষয়গুলো যাচাই করলে পরবর্তীতে তেমন সমস্যায় পরবেন না সে বিষয় নিয়ে।

 

অপারেটিং সিস্টেম

 

স্মার্টফোন কেনার আগে যে বিষয়গুলো খেয়াল করা জরুরি তার মধ্যে অপারেটিং সিস্টেম একটি। বর্তমান স্মার্টফোন বাজারে মূলত তিন ধরনের প্রধান অপারেটিং সিস্টেম দেখতে পাওয়া যায়; অ্যান্ড্রয়েড, উইন্ডোজ ফোন, এবং আইওএস। সাধারনত নোকিয়া এবং মাইক্রোসফটের ফোন গুলো উইন্ডোজ ফোন অপারেটিং সিস্টেমে চলে তবে আজকাল অনেক চাইনিজ ফোন ব্র্যান্ডেও উইন্ডোজ ফোন অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করতে দেখতে পাওয়া যায়। আইওএস শুধু মাত্র অ্যাপেল আইফোনের ক্ষেত্রে দেখতে পাবেন কারণ এটি অ্যাপেলের নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম এবং সম্ভবত অ্যাপেল কোম্পানি চান না যে, তার অপারেটিং সিস্টেম অন্য কোন কোম্পানি ব্যবহার করুক। বাজারে কমদাম থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ বাজেট পর্যন্ত অ্যান্ড্রয়েড ফোন দেখতে পাওয়া যায়।

 

প্রসেসর

 

প্রসেসর একটি স্মার্টফোনের প্রাণ। গতি সংক্রান্ত বিষয়ে ভাল ফলাফল পেতে হলে ভাল প্রসেসরের স্মার্টফোন কিনতে হবে। আপনি যদি হাই বাজেটের স্মার্টফোন কেনার চিন্তা করেন তবে বাজারে সবচাইতে লেটেস্ট প্রসেসরের দিকে লক্ষ্য রাখা উচিত। মনে রাখবেন যতো লেটেস্ট প্রসেসর ততো ভালো পারফর্মেন্স দেবে এবং কম পাওয়ারে বেশি সময় চলবে। মিড বাজেটের ফোন গুলোর ক্ষেত্রেও যতো নতুন প্রসেসর দেখতে পাওয়া যাবে ততোই ভালো। এখন ১৫-২০ হাজার টাকার ফোন গুলোতেই লেটেস্ট প্রসেসর দেখতে পাওয়া যায়। কম দামের ফোনগুলোতে সাধারনত স্ন্যাপড্রাগন ৪১০, বা স্প্রেক্টট্রামের প্রসেসর দেখতে পাওয়া যায়। প্রসেসরের ক্ষেত্রে আরো দুটি বিষয় হচ্ছে এর ফ্রিকোয়েন্সি এবং কোর। প্রসেসর কোর মানে বলতে পারেন এর আরো হাত। একটি প্রসেসরে যতবেশি কোর থাকবে, প্রসেসরটি ততোবেশি দ্রুতগামী হতে পারবে এবং ফোনেটি চলবে মসৃনভাবে।

 

র্যাম

 

স্মার্টফোন কেনার আগে র্যাম যাচাই করে কিনুন। আপনার ক্রয়কৃত ফোনটিতে যদি র্যাম কম থাকে তাহলে অপারিটিংএর সময় বা ব্রাউজিংয়ের সময় ভাল ফল পাবেন না। র্যাম এবং প্রসেসর স্মার্টফোনের গতি নির্ধারণ করে। দেখুন আপনার ফোনের র্যাম এমন একটি যন্ত্রাংশ যেটি ফোনের যেকোনো প্রসেস এবং অ্যাপস রান করাতে প্রসেসরকে সাহায্য করে। কম্পিউটারের র্যাম আর স্মার্টফোনের র্যাম একই ভাবে এবং একই ভুমিকায় কাজ করে। আজকের দিনে যেকোনো ফোনে ২ জিবি র্যাম থাকাটা আবশ্যক। কেনোনা নতুন অপারেটিং সিস্টেম এবং নতুন অ্যাপস গুলোকে রান করাতে একটু বেশি র্যাম প্রয়োজনীয়। আবার ফোনে ২ জিবি র্যাম থাকলেই যে আপনি ২ জিবিই ব্যবহার করতে পারবেন তেমনটা কিন্তু নয়। অপারেটিং সিস্টেম এবং ফোনের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ প্রসেস সবসময়ই অর্ধেক বা তার বেশি র্যাম দখল করে রাখে। হতে পারে ২ জিবি র্যামের ফোনে ৮০০ মেগাবাইট থেকে ১গিগাবাইট অপারেটিং সিস্টেম নিজেই রিজার্ভ করে রেখেছে। বর্তমান সময়ে১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার বাজেট ফোনেই ৩-৪ জিবি র্যাম দেখতে পাওয়া যায় এবং বাজারে ৬ থেকে ৮ জিবি র্যামের পর্যন্ত ফোন রয়েছে।

 

ডিসপ্লে

 

স্মার্টফোন কেনার আগে ডিসপ্লের কোয়ালিটি ও সাইজ ভাল হওয়া চাই। একটি ভালো মানের ফোনের সাথে ভালো কোয়ালিটির ডিসপ্লে থাকা আবশ্যক এবং অবশ্যই সেটি ভালো কালার এবং ভালো ভিউইং অ্যাঙ্গেলের সাথে।  বর্তমানে সুপার অ্যামোলেড ডিসপ্লে হলো সবচাইতে ভালো। স্যামসাংসহ বিভিন্ন কোম্পানির ফোনে সুপার অ্যামোলেড ডিসপ্লে দেখতে পাওয়া যায়। আপনি যদি ভালো বাজেটের ফোন কেনার চিন্তা করেন তবে অবশ্যই সুপার অ্যামোলেড ডিসপ্লে রয়েছে কিনা সেদিকে লক্ষ রাখবেন। সুপার অ্যামোলেড ডিসপ্লের পরে আরে অ্যামোলেড ডিসপ্লে এবং এলইডি ডিসপ্লে। মিড বাজেটের ফোন গুলোতেও সুপার অ্যামোলেড ডিসপ্লে পেয়ে যাবেন সাথে শুধু অ্যামোলেড ডিসপ্লে হলেও সমস্যা নেই। লো বাজেটে এলইডি ডিসপ্লে থাকতেই হবে। বর্তমান সময়ে এলইডি ডিসপ্লে ও ভিএফডি ডিসপ্লে কেনার প্রশ্নই আসে না।

 

ক্যামেরা

 

স্মার্টফোন কেনার আগে ফোনটির ক্যামেরা সম্পর্কে ভালভাবে যাচাই করে কিনুন। বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন দিয়ে দারুন দারুন ছবি ধারণ করা হয়। একসময় যেকোনো সাধারন ক্যামেরা ফোনের অনেক কদর ছিল, কিন্তু সেটা আজ থেকে ৮ থেকে ১০ বছর আগের কথা। এখনকার স্মার্টফোনে অনেক শক্তিশালী ক্যামেরা ব্যবহার করতে দেখতে পাওয়া যায়। ৫ মেগাপিক্সেল থেকে শুরু করে ২০ মেগাপিক্সেল এবং তার উপরের পর্যন্ত ক্যামেরা দেখতে পাওয়া যায়। যদিও কোন ক্যামেরার মেগাপিক্সেলই সর্বশেষ বিষয় নয়। ক্যামেরা ভালো বা খারাপ হওয়ার পেছনে ক্যামেরা সেন্সর, ইমেজ প্রসেসর, অ্যাপারচার, লেন্স ইত্যাদি বিষয়ে বিশেষ লক্ষ রাখা প্রয়োজন। মনে রাখবেন- প্রতিনিয়তই বাজারে প্রতিযোগিতার জন্য নতুন নতুন স্মার্টফোন আসছে। আপনি এখন একটি মোবাইলফোন কিনলে আগামি ১ বছরে হয়তো আর কিনবেন না। এই ১ বছরে নতুন আসা মডেলগুলো থেকে পিছিয়ে না পরতে চাইলে এখনই ভালমানের একটি ক্যামেরা ফোন কিনে নিতে পারেন।

 

ব্যাটারি

 

র্যাম, প্রসেসর, ডিসপ্লের মতো স্মার্টফোন ব্যাটারিতেও রয়েছে অনেক প্রকারভেদ। আর সঠিক কনফিগারেশন অনুসারে সঠিক ক্ষমতার ব্যাটারি থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। স্মার্টফোনে বর্তমানে ৪ হাজার থেকে শুরু করে ৬ হাজার এমএএইচ পর্যন্ত ব্যাটারি রয়েছে। মাথায় রাখবেন, ব্যাটারির এমএএইচ যতোবেশি হবে ততোই ভালো এবং ততোবেশি ব্যাকআপ পাওয়া যেতে পারে। আপনার ফোনের প্রসেসর শক্তিশালি হলে এবং প্রসেসরে কোর বেশি থাকলে অবশ্যই বেশি ব্যাটারি থাকা প্রয়োজনীয়। সর্বনিম্ন ফোনে সাড়ে ৩ হাজার এমএএইচ এর ব্যাটারি থাকতেই হবে তবে ৪ হাজার বা সাড়ে ৪ হাজার এমএএইচ বা এর চেয়ে বেশি দেখে ফোনটি গ্রহণ করুন।

ফেসবুক থেকে মন্তব্যঃ

Leave A Reply