গ্যালাক্সি নোট ৮ : স্মার্টফোন দুনিয়ায় এখন সেরা অলরাউন্ডার

0

স্যামসাংয়ের গ্য়ালাক্সি নোট সিরিজটি শুরু থেকেই ব্যবহারকারীদের মন জয় করে আসছে। এই সিরিজের ভক্তরা হ্যান্ডসেটগুলোর প্রতি এতই অনুরাগী যে যখন নোট ৭ ফোনগুলো স্যামসাং ফিরিয়ে নিতে শুরু করে তখন অনেকেই ঝুৃঁকির পরও জমা দিতে চাননি।

তবে সেই ফিরে যাওয়াতে যে নতুন করে বিশ্বজয়ের প্রত্যয় ছিল তা বুঝিয়ে দিল বিশ্বের শীর্ষ স্মার্টফোন নির্মাতা দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান স্যামসাং। দুনিয়ার সেরা অলরাউন্ডার ফোন যে তারাই আনতে পারে তার প্রমাণ গ্যালাক্সি নোট সিরিজের নতুন সংস্করণ ৮ এ।

টেকশহরডটকম গ্যালাক্সি নোট ৮ হ্যান্ডস-অন-রিভিউ করেছে। তাহলে দেখা যাক, কেনো এই সময়ের সেরা অলরাউন্ডার এই বিগ স্মার্টফোনটি?

স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৮-এ যা যা থাকছে:

  • সুপার অ্য়ামোলেড ১৪৪০x২৯৬০ পিক্সেল রেজ্যুলেশনের ৬ দশমিক ৩ ইঞ্চি কোয়াড এইচডি ডিসপ্লে, যার ওপরে রয়েছে কর্নিং গোরিলা গ্লাস ৫ ও এইচডিআর১০ কালার দেখানোর সক্ষমতা
  • ডুয়াল সিম, হাইব্রিড স্লট
  • স্যামসাং এক্সিনস ৮৮৯৫, ২ দশমিক ৩ গিগাহার্জ স্যামসাং কাস্টমাইজড কর্টেক্স এ৭৩ ও কর্টেক্স এ৫৩ মিলিয়ে ৮টি কোর সমৃদ্ধ প্রসেসর (যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারের জন্য কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮৩৫ অক্টাকোর প্রসেসর)
  • এআরএম মালি – জি৭২ এমপি২০ জিপিউ (স্ন্যাপড্রাগন সংস্করণে অ্য়াড্রিনো ৫৪০ জিপিউ)
  • ৬ গিগাবাইট এলপিডিডিআর৪এক্স র‌্যাম

 

  • অ্য়ান্ড্রয়েড ৭.১.১ নুগ্যাট অপারেটিং সিস্টেম, যার ওপর রয়েছে স্যামসাং এক্সপেরিয়েন্স স্কিন
  • ৬৪, ১২৮ ও ২৫৬ গিগাবাইট পর্যন্ত স্টোরেজ, মাইক্রো এসডি কার্ড ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে
  • সর্বশেষ স্যামসাং এস-পেন
  • সম্পূর্ণ পানি ও ধুলা নিরোধী বডি
  • ইউএসবি টাইপ সি ৩ দশমিক ১ জেনারেশন ১ পোর্ট, যার মাধ্যমে ডিসপ্লে আউটসহ স্যামসাং ডেস্কটপ এক্সপেরিয়েন্স ব্যবহার করা যাবে
  • হেডফোন জ্যাক, ৩২বিট ৩৮৪ কিলোহার্জ হাই-ফাই অডিও
  • ডুয়ালব্যান্ড ওয়াইফাই, ব্লুটুথ ৫ দশমিক ০, জিপিএস, এনএফসি

 

  • ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর, আইরিশ স্ক্যানার, ব্যারোমিটার, হার্ট রেট সেন্সর ও রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ মাপার সেন্সর
  • পেছনে ডুয়াল ক্যামেরা, যার একটি f/1.7 ও অপরটি f/2.6 অ্য়াপার্চারের। দুটিই ১২ মেগাপিক্সেল রেজ্যুলেশনের, অপ্টিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন সমৃদ্ধ ও একটি সেন্সরে ২x অপ্টিক্যাল জুম রয়েছে
  • ৮ মেগাপিক্সেল f/1.7 অ্য়াপার্চারের ফ্রন্ট ক্যামেরা
  • ২১৬০পি ৩০এফপিএস, ১০৮০পি ৬০ এফপিএস, ও ৭২০পি ২৪০ এফপিএস ভিডিও ধারণক্ষমতা
  • ৩৩০০ এমএএইচ ধারণক্ষমতার ব্যাটারি
  • ফাস্ট চার্জ সুবিধা, রয়েছে তারবিহীন চি-ওয়্য়ারলেস চার্জিংয়ের ব্যবস্থাও

 

ডিজাইন:

ফোনের ডিজাইন মানে তার ডিসপ্লেতে নতুন কিছু। গ্যালাক্সি এস ৮ এর ক্ষেত্রে অন্তত এমনটাই দেখা গিয়েছে। নোট ৮ ও ব্যাতিক্রম দেখা যায়নি। তবে গ্যালাক্সি এস৮/৮+ এর মত কিছুটা চক্রাকার কোনা ব্যবহার না করে নোট ৮ এর ক্ষেত্রে পুরোটাই চতুষ্কোণ ডিজাইন করা হয়েছে। ডিজাইনের এই পার্থক্যটি খুব বড় নয়, তবে সামনা-সামনি দেখেই মনে হবে গ্যালাক্সি নোট ৮, এস৮+ এর পেশাদার বড়ভাই। ফোনটির সামনের প্রায় পুরোটাই জুড়ে রয়েছে এর সুবিশাল ডিসপ্লে, যার দুপাশ কিছুটা কার্ভ করা হয়েছে যার ফলে ফোনটির আকৃতি বড়সড় হলেও ধরতে কোনও সমস্যা নেই। পুরাতন ১৬:৯ ডিসপ্লের বদলে ১৮:৯ অনুপাতের ডিসপ্লে ব্যবহারের করায় ফোনটি লম্বায় বাড়লেও পাশে তেমন চওড়া হয়নি।

সামনে পেছনে গ্লাস ব্য়বহার করা হলেও পাশের ফ্রেমে ব্যবহার করা হয়েছে পলিশ করা অ্য়ালুমিনিয়াম, তবে সেটির এজ গুলো সামনে ও পেছনের গ্লাসের সাথে সুন্দরভাবে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে। ফোনটির পেছনে দুটি ক্য়ামেরা সেন্সর থাকলেও নেই কোনও ক্যামেরা বাম্প। তবে গ্যালাক্সি এস৮ এর মত ক্যামেরার পাশেই রয়েছে ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর। এর ডান পাশে রয়েছে পাওয়ার বাটন, বাম পাশে রয়েছে ভলিউম বাটন ও বিক্সবি বাটন। ওপরে রয়েছে সিম ও মেমরি কার্ড ট্রে। তলদেশে রয়েছে স্পিকার, মাইক্রোফোন, হেডফোন জ্যাক ও টাইপ-সি পোর্ট। সাথে এস-পেন তো আছেই।

সব মিলিয়ে, ডিজাইনের দিক থেকে স্যামসাং কোনও ঝুঁকি নেয়নি। বহুল প্রশংসিত গ্যালাক্সি এস৮ ও ৮+ এর ডিজাইনকেই নোটের জন্য় কিছুটা এদিক সেদিক করা হয়েছে। তবে বেশিরভাগ ব্যবহারকারীকেই দু-হাতে ফোনটি ব্যবহার করতে হবে।

 

ডিসপ্লে:

শুধুমাত্র উপরে ও নিচে অল্পবিস্তর বেজেলের মাঝে অবস্থিত ইনফিনিটি ডিসপ্লেটি সত্যিই অসাধারণ। হাই ডাইনামিক রেঞ্জ কালার দেখাতে সক্ষম ডিসপ্লেটির পিক্সেল ঘনত্ব ৫২১ পিপিআই – যা ভিআর হেডসেটেও আলাদা করে চোখে পড়বে না। এ বছরের অন্য় বড় ট্রেন্ড ১৮:৯ অনুপাতের ডিসপ্লের সাথে জনপ্রিয় প্রায় সকল অ্য়াপই ইতোমধ্যে মানিয়ে নেয়ার ফলে ডিসপ্লেটির কার্যকারিতা এস৮+ এর চাইতে বেড়েছে।

ইউটিউব ও নেটফ্লিক্সের মত জনপ্রিয় মিডিয়া প্লাটফর্ম ২১:৯ অনুপাতের ভিডিও সাপোর্ট শুরু করার ফলে এরূপ লম্বাটে ডিসপ্লের উপকারিতা দিন দিনই বৃদ্ধি পাবে। তবে লম্বা ডিসপ্লের মূল সুবিধা অ্য়ান্ড্রয়েডে স্প্লিট স্ক্রিন অ্য়াপে পাওয়া যাবে কেননা একই সাথে দুটি অ্যাপ স্ক্রিনে থাকলেও দুটি অ্য়াপই ডিসপ্লেতে আরও বেশী যায়গা ভাগ করে নিতে পারবে।

সুপার অ্য়ামোলেড ডিসপ্লের বড় সমস্য়া সঠিক হোয়াইট ব্যালেন্সের অভাব কাটিয়ে ওঠার জন্য় স্যামসাং পিক্সেলগুলোর আকৃতি বদলেছে। সাধারণত নীল এলইডির ঔজ্জ্বল্য অন্যান্য  রং এর চাইতে কম হবার ফলে সেটির সাইজ করা হয়েছে আর দুটির চেয়ে বড়, আর উল্টো কারণে সবুজ পিক্সেলের সাইজ কমানো হয়েছে। এতে ডিসপ্লেটি সকল ব্রাইটনেসেই সমানভাবে সাদা রংটি দেখাতে পারবে। অন্যান্য সুপার অ্য়ামোলেডের মত এই ডিসপ্লেটিও সুগভীর কন্ট্রাস্ট দেখাতে সক্ষম। সাথে রয়েছে ১৪১% এসআরজিবি কালার গ্য়ামুট – ফলে এটি মোবাইল এইচডিআর সার্টিফাইড। সুপার অ্য়ামোলেড প্রযুক্তির প্যানেলের ভিউইং অ্য়াঙ্গেল সবসময়ই ১৮০ ডিগ্রি, এটিও ব্যাতিক্রম নয়।

ডিসপ্লেটি সর্বোচ্চ ৭০০ নিট পর্যন্ত ব্রাইটনেস দিতে সক্ষম, যা কড়া রোদেও ব্যবহার করার জন্য যথেষ্ট। সব মিলিয়ে, গ্যালাক্সি নোট ৮ এর ডিসপ্লে এ পর্যন্ত তৈরি সকল ফোনের চেয়ে একধাপ এগিয়ে।

 

পারফরম্যান্স:

কোয়ালকম স্ন্য়াপড্রাগন ৮৩৫ বিশিষ্ট ফোন আরও থাকা ও বাংলাদেশের বাজারে স্যামসাং শুধুমাত্র এক্সিনস সংস্করণটি বিক্রি করার ফলে এখানে শুধুমাত্র সেটির পারফরমেন্সই তুলে ধরা হয়েছে। ধরে নেয়া যেতে পারে অন্যান্য় স্ন্যাপড্রাগন ৮৩৫ ফোনের সাথে স্ন্য়াপড্রাগন সংস্করণটির পারফরমেন্সে পার্থক্য থাকবে না। একই পর্যায়ের পারফরমেন্স ছাড়া স্যামসাং একই মডেলের জন্য দুটি প্রসেসর ব্যবহার করবেও না।

পারফরমেন্সে যাওয়ার আগে এক্সিনস প্রসেসরের কোরগুলো নিয়ে কিছু কথা। অন্যান্য স্মার্টফোনের প্রসেসরের মতই এতেও রয়েছে ৪টি স্বল্প শক্তির ব্যাটারি সাশ্রয়ী কোর, যার আর্কিটেকচার সাধারণ এআরএম কর্টেক্স এ৫৩ যার গতি ১.৭ গিগাহার্জ। তবে শক্তিশালী ৪টি কোরে ব্যবহার করা হয়েছে স্যামসাং এর নিজস্ব এম১ মংগুস ভার্সন ২ কোর। যার ডিজাইন এআরএম কর্টেক্স এ৭৩ এর ওপরে ভিত্তি করে করা হলেও শক্তিতে তার থেকে বেশ এগিয়ে রয়েছে। পুরো প্রসেসরটি ১০ ন্য়ানোমিটার ফ্য়াব্রিকেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে ।

গিকবেঞ্চ অনুসারে এক্সিনস ৮৮৯৫ প্রসেসরটি স্ন্যাপড্রাগন ৮৩৫ প্রসেসরটির চেয়ে অল্পবিস্তর এগিয়ে রয়েছে, সেটি হোক সিঙ্গেল কোর অথবা মাল্টিকোর। অর্থাৎ, এই মুহূর্তে সবচাইতে শক্তিশালী অ্য়ান্ড্রয়েড ফোনের খেতাবটি গ্যালাক্সি নোট ৮ এর-ই পাওয়ার যোগ্য়।

জিপিউর দিক থেকে ২০কোরের মালি জি৭১ এমপি২০ গ্রাফিক্স চিপটি সকল প্রকার গেইম সহজেই ৬০ ফ্রেমের বেশি রেটে চালাতে সক্ষম। তাই  হাই রেজুলেশন ডিসপ্লে হলেও ফোনটির ডিসপ্লেতে কোনও ল্য়াগ পাওয়ার সম্ভাবনাই নেই। জিএফএক্সবেঞ্চ ৩ ম্যানহাটান অনুযায়ী এটি সেকেন্ডে ৫১ ফ্রেম ডিসপ্লে করতে সক্ষম, যা আজকের সকল ফ্ল্যাগশিপের সমকক্ষ।

র‌্যামের দিক থেকে গ্যালাক্সি নোট ৮ এগিয়ে রয়েছে। ৬ গিগাবাইট র‌্যাম থাকার ফলে কোনোদিনই র‌্যাম সল্পতায় ভোগার সম্ভাবনা নেই। র‌্যাম ও স্টোরেজের গতির দিক থেকেও ফোনটি এগিয়ে থাকায় সকল প্রকার অ্য়াপ ইন্সটল, লোডিং ও অ্য়াপ থেকে অ্য়াপে সুইচ করার সময় কোনও ল্যাগ পাওয়া যাবেনা।

সব মিলিয়ে, স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৮ এ পারফরমেন্সের ঘাটতি নেই।

 

ক্য়ামেরা:

স্য়ামসাং এর তৈরি সর্বপ্রথম ডুয়াল ক্য়ামেরা সমৃদ্ধ ফোন গ্য়ালাক্সি নোট ৮। অন্যান্য় নির্মাতারা বেশ কিছু বছর আগ থেকেই ডুয়াল ক্য়ামেরার ফোন তৈরি শুরু করেছে, তার মানে এই নয় স্য়ামসাং কোনও দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে। একটি মূল সেন্সর ও একটি ২x জুম সেন্সরযুক্ত ব্যাক ক্যামেরার ট্রেন্ড আইফোন শুরু করলেও  দুটি সেন্সরেই অপ্টিক্য়াল ইমেজ স্টেবিলাইজেশনের শুরু গ্যালাক্সি নোট থেকে। ফলে স্বল্প আলোতে ছবি তোলা বা ভিডিও ধারণে দুটি সেন্সরই সমানভাবে ব্যবহারে কোনো বাধা নেই।

গ্যালাক্সি নোট ৮ এর মূল ১২ মেগাপিক্সেল f/1.7 অ্য়াপার্চার সেন্সরটির ছবির মান অসাধারণ। গ্যালাক্সি এস৮ এর মত এর ক্যামেরাটিও একই সাথে কাছের ও দূরের সকল সাবজেক্টেরই সুন্দর শার্প ডিটেইলে ছবি তুলতে সক্ষম। স্বল্প আলোতেও অতিরিক্ত নয়েজ সেটির মান নামিয়ে দিতে পারেনি। ক্যামেরা অ্যাপটিতে প্রচুর অপশন রয়েছে। এসব ব্য়বহার করে ছবির মান আরও বাড়ানো সম্ভব তবে বেশিরভাগ ব্যবহারকারীই অটো মোডের বাইরে সাধারণত যান না। সে হিসেবে অটো মোডের ছবির মানই যথেষ্ট।

ডুয়াল ক্যামেরা কাজে লাগানোর জন্য় নোট ৮ এ দেয়া হয়েছে লাইভ ফোকাস মোড, যা অনেকটা আইফোনের পোর্ট্রেইট মোডের মত সাবজেক্টের পেছনের ব্যাকগ্রাউন্ড বোকেহ করে দেয়। তবে এক্ষেত্রে স্যামসাং বোকেহ এর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের অপশন রেখেছে, ফলে ছবির ডেপথ ওফ ফিল্ড অস্বাভাবিক লাগবে না।

সেলফি ক্যামেরাটির রেজুলেশন একটু কম হলেও ছবির মানে কোনও কমতি নেই। সামনের ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিওর মানও ভ্লগিং এর জন্য যথেষ্ট।

ভিডিওর দিক থেকে গ্যালাক্সি নোট ৮ প্রফেশনাল ক্যামেরার কাছাকাছি চলে গিয়েছে। ২১৬০পি ৩০ এফপিএস ভিডিওগুলোর মান খুবই উন্নতমানের তবে সাবলীল ভিডিওর জন্য ১০৮০পি ৬০এফপিএস মোডটি ব্যবহার করাই উত্তম।

সব মিলিয়ে ক্যামেরার দিক থেকে গ্যালাক্সি নোট ৮ এ কোনও কমতি নেই।

 

এস পেন:

গ্যালাক্সি নোট সিরিজের মূল ব্য়াতিক্রমী ফিচার এস পেন, যা এবারের সংস্করণে আরও উন্নত করা হয়েছে। পুরো ফোনটির মত পেনটিও এখন পানি নিরোধী। লেখা বা আঁকার জন্য় রয়েছে বেশ কিছু বিভিন্ন সাইজের টিপ। ডিসপ্লেটির সেন্সিটিভিটি ৪০৯৬ লেভেল প্রেশার পয়েন্টে উন্নীত করা হয়েছে।

ফোনটির ডিসপ্লে সবসময়ই চালু থাকবে। সময় দেখার পাশাপাশি স্ক্রিন অন না করেই সেসময় স্ক্রিনে নোট লিখে রাখা যাবে। লাইভ মেসেজ ব্যবহার করে এস পেন এর মাধ্যমে অ্যানিমেটেড চিত্র এঁকেও পাঠানো যাবে।  প্রয়োজনে এস পেন এর মাধ্যমে হাইলাইট করে টেক্স ট্রান্সলেশনও করা যাবে। সব মিলিয়ে নোট সিরিজের অন্যতম সেরা ফিচারকে করা হয়েছে আরও উন্নত।

 

সাউন্ড কোয়ালিটি:

হেডফোন জ্য়াক আর সব ফোন থেকে ক্রমাগত বাদ পড়লেও বাদ যায়নি নোট ৮ থেকে। ৩২বিট, ৩৮৪ কিলোহার্জ মানের হাই ফিডেলিটি ড্যাকটি সঙ্গীতপ্রেমিদের মন জয় করবেই, সাথে থাকা একেজি হেডফোনগুলোও কম কাজের নয়। সুন্দর বেস ও ট্রেবলের ব্যালেন্স করা হেডফোনগুলো সত্য়ই প্রশংসনীয়।

 

ব্যাটারি লাইফ:

নোট সিরিজের ব্য়াটারি লাইফ সবসময়ই অন্য়তম সেরা। তবে অনেকেই সমালোচনা করেছেন ৩৩০০ এমএএইচ ব্যাটারি আসলেই যথেষ্ট কি না। তবে স্ন্যাপড্রাগন ৮৩৫ বা এক্সিনস ৮৮৯৫ যে প্রসেসরই হোক না কেন ১০ ন্যানোমিটার প্রযুক্তির সকল প্রসেসরই বেশ ভাল ব্যাটারি লাইফ দিতে প্রস্তুত। এটি আমরা এর আগে নোকিয়া ৮ ও ওয়ানপ্লাস ৫ এর ক্ষেত্রে দেখেছি। ডিভাইসটি অন্তত ৫ ঘন্টা টানা স্ক্রিন অন টাইম দিতে পারবে, যা পুষিয়ে যাবে সাথে থাকা ফাস্ট চার্জিং ও ওয়্যারলেস চার্জিং সুবিধার ফলে।

পরিশেষ:

স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৮ এই মুহূর্তে বাজারের সেরা অলরাউন্ডার ফোন- এ খেতাবটি এটিকে দেয়া যেতে পারে। তবে হ্যা, দামটা একটু…। ভাল জিনিসের জন্য় ভাল দাম তো দিতেই হবে, এ আর নতুন কি।

এক নজরে ভাল:

  • ডিসপ্লে
  • ক্যামেরা
  • পারফরম্যান্স
  • বাড়তি সুবিধাসমূহ
  • পানি ও ধূলা নিরোধী

এক নজরে ঘাটতি:

  • ডুয়াল স্টেরিও স্পিকার নেই

মূল্য:

ফোনটি ৯৪ হাজার ৯০০ টাকায় প্রি অর্ডার করা যাবে। দেশে সবাই হাতে পেতে শুরু করবেন ২২ সেপ্টেম্বর হতে।

ফেসবুক থেকে মন্তব্যঃ

Leave A Reply