মূলপাতা রিভিউ কম্পিউটার রিভিউ দামের বিচারে মানে ভালো আসুস এক্স৫৫৬ইউআর

দামের বিচারে মানে ভালো আসুস এক্স৫৫৬ইউআর

0
ভাগ
EaseUS Data Recovery Wizard

মাঝারি বাজেটের ল্যাপটপের মধ্যে আসুস ভিভোবুক সিরিজটি অন্যতম। এ সিরিজের ৭ম প্রজম্নের প্রসেসরযুক্ত ল্যাপটপ আসুস ভিভোবুক এক্স৫৫৬ইউআর সম্প্রতি বাজারে এসেছে, যার মূল্য ৪২ হাজার টাকারও কম।

মূলত বাজেটের মাঝে ভালো স্পেসিফিকেশন খোঁজেন যারা, তাদের লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে ভিভোবুক সিরিজের ল্যাপটপগুলো।

তাই প্রথমেই বলে নেওয়া ভালো – প্রায় সবদিক থেকেই কম্পিউটারটি মাঝারি মানের। তবে মূল্যের সঙ্গে মানানসই। বিষয়গুলো মাথায় রেখে এ বাজেটের ল্যাপটপটি কেনা ঠিক হবে কি-না সেটি বিস্তারিত দেখে নেওয়া যাক।

এক নজরে আসুস ভিভোবুক এক্স৫৫৬ইউআর

  • ১৫.৬ ইঞ্চি, ফুল এইচডি (১৯২০ x ১০৮০ পিক্সেল রেজুলেশন), টিএন এলসিডি ডিসপ্লে
  • ৭ম প্রজন্মের ইন্টেল কোর আই৩ ৭১০০ইউ ২.৪ গিগাহার্জ ডুয়াল কোর প্রসেসর
  • ৪ গিগাবাইট ডিডিআর৪ র‌্যাম
  • এনভিডিয়া জিটি৯৩০এম ২ গিগাবাইট জিপিউ
  • ১ টেরাবাইট হার্ডডিস্ক
  • ডিভিডি ড্রাইভ
  • গিগাবিট ল্যান, ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ
  • ল্যান পোর্ট, ভিজিএ পোর্ট, এইচডিএমআই পোর্ট
  • একটি ইউএসবি ২ পোর্ট, একটি ইউএসবি ৩ পোর্ট, একটি ইউএসবি টাইপ-সি জেন-১ পোর্ট
  • স্পিকার, ওয়েবক্যাম
  • ২ সেল ৩৮ ওয়াট-আওয়ার ব্যাটারি
  • ২.৩ কিলোগ্রাম ওজন

ডিজাইন

প্লাস্টিক বডির ল্যাপটপটির ওপরের দিকের মাঝখানে বরাবরের মতো রয়েছে আসুস লোগো। এর ডানে রয়েছে ডিভিডি ড্রাইভ, মেমরি কার্ড স্লট, অডিও জ্যাক ও একটি ইউএসবি পোর্ট।

বামে রয়েছে পাওয়ার জ্যাক, ল্যান পোর্ট, ভিজিএ পোর্ট, এইচডিএমআই পোর্ট, একটি ইউএসবি ৩ পোর্ট ও একটি ইউএসবি টাইপ-সি পোর্ট (জেন-১, ৫ গিগাবিট)।

ল্যাপটপটি খোলার পর দেখা যাবে এর ১৫.৬ ইঞ্চি ফুল এইচডি ডিসপ্লেটির ঠিক ওপরে রয়েছে ওয়েবক্যাম, নিচে আসুস লোগো ও তার সামনে রয়েছে নাম্বারপ্যাড সম্বলিত প্রশস্ত কিবোর্ড।

কিবোর্ডটিতে আসুস টাইপিস্টদের কাছে ব্যপক সমাদৃত নিজস্ব চিকলেট লেআউট ব্যবহার করেছে। ফলে টাইপিংয়ের জন্য ল্যাপটপটি খুবই মানানসই। কিবোর্ডটিতে অবশ্য ব্যাকলাইট না থাকা এ বাজেটের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক নয়।

কিবোর্ডের ঠিক নিচে রয়েছে বেশ বড়সড় টাচপ্যাড। স্মুথ ফিনিশ, ভালো অ্যাকুরেসি ও উন্নতমানের ক্লিক থাকায় প্রায় সময়ই ল্যাপটপটির সঙ্গে মাউস ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না।

সবদিক বিবেচনা করলে, ল্যাপটপটির বিল্ড কোয়ালিটি ভালো মানের। যদিও বাজেট ল্যাপটপ হওয়ায় অসাধারণ নয়। প্লাস্টিক বডির কিছু যায়গায় ফিটিং কম-বেশি পাওয়া গিয়েছে।

পুরো ডিভাইসটি কিছুটা নরম। হাতের চাপে হালকা বেঁকে যেতে পারে এবং কিবোর্ডে টাইপ করার সময় অল্পবিস্তর ডেবে যাওয়ার প্রবণতা রেয়েছে। প্লাস্টিক ল্যাপটপের ক্ষেত্রে অবশ্য এসব তুচ্ছ ঘটনা। দৈনন্দিন ব্যবহারের দিক থেকে এসব কোনও প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা নেই।

পারফরমেন্স

ল্যাপটপে ব্যবহার করা ৭ম প্রজন্মের ইন্টেল কোর আই৩ ৭১০০ইউ প্রসেসরটি বেশ ভাল পরিমান কাজ করতে সক্ষম। ২.৪ গিগাহার্জ গতির ডুয়াল কোর প্রসেসরটি মূলত দৈনন্দিন কাজের জন্য তৈরি করা হলেও ৭ম জেনারেশনের ক্ষেত্রে ইন্টেল আই৩ প্রসেসরের দিকে কিছুটা জোর দেয়ায় এর পারফরমেন্স কিছুটা বেড়েছে। ফটো ও ভিডিও এডিটিংয়ে স্বাচ্ছন্দ্য মিলবে।

এরপরেও ভারি কাজের জন্য প্রসেসরটি এখনও ভাল পারফরমেন্স দেখাতে না পারলেও মাঝারি ভিডিও এডিটের কাজ প্রসেসরটি ভাল ভাবেই সামলে নিতে পেরেছে বলে পরীক্ষায় দেখা গেছে।

নিচে এটির গিকবেঞ্চ স্কোর দেওয়া হলো – যা ৬ষ্ঠ প্রজন্মের কোর আই৫ ল্যাপটপ প্রসেসরের চেয়ে তেমন কম নয়।

ডিভাইসটির একটি দুর্বলতা বলা যেতে পারে র‌্যামের ঘাটতি। আজকাল অফিসের কাজ, ব্রাউজিং ও ভিডিও দেখার মত কাজ করার জন্যই ৪ গিগাবাইট র‌্যামের প্রয়োজন। তাই ব্যবহারকারীদের সম্ভব হলে অন্তত ৮ গিগাবাইট র‌্যাম লাগিয়ে নেয়াই ভাল হবে। যেহেতু প্রসেসরটি কিছুটা ভার নিতে সক্ষম, সেজন্য র‌্যাম যোগ করেই এটির ব্যবহারযোগ্যতা বহুগুণে বাড়ানো সম্ভব।

এনভিডিয়া জিটি৯৩০এম জিপিউটি এ বাজেটে বোনাস বলা যেতে পারে। তেমন শক্তিশালী না হলেও গ্রাফিক্স প্রসেসরটি জনপ্রিয় সব মাাল্টিপ্লেয়ার গেম লো সেটিংসে ৭২০পি বা কম রেজুলেশনে স্মুথলি চালাতে সক্ষম। তবে নতুন সব হাই-গ্রাফিক্সের গেইমের ক্ষেত্রে জিপিউটি বাজে পারফরমেন্স দেখিয়েছে। কোনও দিক থেকেই গেমিং মেশিন নয় এ ডিভাইস। যদিও মাঝে মাঝে কিছু গেইম খেলতে চাইলে নিরাশ হতে হবে না।

স্টোরেজের দিক থেকে এটি একেবারেই পিছিয়ে রয়েছে। এক টেরাবাইট পর্যন্ত সাটা রা‌খা গেলেও এসএসডির বদলে হার্ডডিস্ক ব্যবহারের ফলে পুরো সিস্টেমটিই বেশ ধীরগতির মনে হবে। অবশ্য সেটির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারলে সমস্যা নেই।

পরিশেষে, মূল্য অনুযায়ী খুবই ভালো পারফরমেন্সের মেশিন আসুস ভিভোবুক এক্স৫৫৬ইউআর।

অন্যান্য হার্ডওয়্যার

  • ডিসপ্লে : ফুল এইচডি ডিসপ্লে প্যানেল এ বাজেটে বেশ চমকপ্রদ ফিচার। যদিও কালার, কন্ট্রাস্ট ও ব্রাইটনেসের দিক থেকে আসুস বেশ কিছু আপস করেছে। যেমন মাত্র ৩০০ নিট ব্রাইটনেসের ফলে দিনের আলোতে কাজ করতে একটু কষ্ট হতে পারে। আর মাত্র ৪৫% NTSC কালার স্পেস সাপোর্ট থাকায় ফটো এডিটের সময় কালার মিলাতে সমস্যা হবে। তবে পিক্সেলের পরিমাণ ও বাজেট অনুযায়ী, ডিসপ্লেটি ল্যাপটপটির অন্যতম বড় ফিচার
  • সাউন্ড ও ওয়েবক্যাম : ডিভাইসটির স্পিকার ও ওয়েবক্যাম কাজ চালানোর মতো। ভিজিএ ওয়েবক্যাম ও মাঝারি ভলিউমের ছোট স্পিকারের বেশি অবশ্য বাজেটের মাঝে পাওয়াও দুষ্কর। তবে হেডফোনে সাউন্ড যথেষ্ট ভালো, বিশেষত আসুসের নিজস্ব সনিকমাস্টার অপটিমাইজেশনের ফলে বেশ কিছু সাউন্ড মোড এতে রয়েছে।
  • থার্মাল ডিজাইন : যথারীতি আসুসের নিজস্ব আইসকুল কুলিং সিস্টেম ডিজাইন রয়েছে এ ল্যাপটপে। ফলে ভারি কাজের সময়ও হাত রাখার জায়গাগুলো ঠান্ডা থাকবে। যদিও জিপিউ ও সিপিউ ফুল লোডে বেশ গরম হতে বাধ্য। তাই বাতাস চলাচলের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
  • ব্যাটারি লাইফ : ল্যাপটপটিতে ৭ম জেনারেশন প্রসেসর ব্যবহারের ফলে হালকা কাজের সময় ৬-৭ ঘন্টা ব্যাটারি লাইফ পাওয়া যাবে। জিপিউ লোড থাকলে সেটি ২ ঘন্টারও নিচে নেমে যেতে পারে। সে কারণে চার্জার সঙ্গে রাখাই ভাল হবে।

মূল্য : বাজারে ল্যাপটপটি ৪০ থেকে ৪১ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

এক নজরে ভাল

  • বাজেট অনুসারে ভালো প্রসেসর ও জিপিউ
  • ফুল এইচডি রেজুলেশন
  • ভাল কিবোর্ড ও ট্র্যাকপ্যাড

এক নজরে খারাপ

  • জিপিউ ব্যবহারে দ্রুত ব্যাটারি ফুরিয়ে যাবে
  • ডিসপ্লের কালার, কন্ট্রাস্ট ও ব্রাইটনেসে ঘাটতি রয়েছে

ফেসবুক থেকে মন্তব্যঃ