হ্যান্ডস অন রিভিউ Walton Primo H3 ফোনের দাম সহ জেনে নিন

0

কয়েক দিন থেকেই Walton Primo H3 মোবাইলের রিভিউ করবো বলে ভাবছিলাম। আজকে একটু সময় নিয়েই Walton Primo H3 রিভিউ লিখতে বসলাম। Walton ইতি মধ্যেই বেশ কিছু প্রমিজিং মোবাইল বাজারজাত করণ শুরু করেছে। Walton এর ফ্লাগশিপ মোবাইলের মধ্যে বর্তমানে ZX অন্যতম। এছাড়া S2, V1 যথেষ্ট সারা ফেলেছে ইতি মধ্যে। যদিও এই মোবাইল গুলোর দাম মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য একটু বেশি মনে হবে। আমরা সবাই কম দামে মান সম্মত মোবাইল চাই, আবার ব্রান্ড মোবাইল না হলে নাক সিটকাই। কিন্তু আমাদের এটা মাথায় রাখতে হবে, আমাদের উচিৎ বাজেট অনুযায়ী মোবাইল কেনা। Walton এবার সেই চিন্তা মাথায় রেখেই সবার হাতের নাগালে আর মোটামুটি মান সম্মত একটা মোবাইল ইতি মধ্যেই বাজারজাত করন শুরু করেছে। মোবাইলটার নাম হলো Walton Primo H3.

Walton Primo H3

এক নজরে Walton Primo H3 মোবাইলের কনফিগারেশন দেখে নেই

ও.এস: 4.2.2 Jelly bean
প্রসেসর:  Quad-Core 1.3 GHz
চিপসেট: MediaTek  Mt6582
র‌্যাম: 1Gb
জি.পি.ইউ: Mali-400
ডিসপ্লে: 4.7 inch, qHD (540×960) Pixels-234 ppi
ক্যামেরা: CMOS: BSI 8 MP, 3264×2448 pixels  Auto Focus camera, Front camera: BSI 2 Mega pixels, LED Flash: Support.
ষ্টোরেজ: 8 GB  built in, 32 GB expandable
সিম কার্ড: ডুয়াল সিম, Dual Standby. Sim 1 3G
ব্যাটারি: 1800 Mah (removable)
 

বিল্ড কোয়ালিটি ও ডিজাইন

৪.৭” ডিসপ্লে সমন্বয়ে তৈরী এই মোবাইল দেখতে যথেষ্ট দৃষ্টি নন্দন আর ওজনেও হালকা। এই মোবাইলের ওজন মাত্র ১৪৩.২৪ গ্রাম। ডিসপ্লে ৫” এর কম হওয়ায় এটি সহজেই পকেটে নিয়ে চলাফেরা করা যায়। এই মোবাইলের বডি ডাইমেনশন হলো 134.5 x 67.8 x 805 mm. যদিও এই মোবাইল ফুল HD নয়, কিন্তু তারপরেও Video এবং Graphics Quality ভালো বলতে হবে। চলুন এবার এই মোবাইল এর কিছু স্থির চিত্র দেখে নেই।

সি.পি.ইউ এবং জি.পি.ইউ

এই মোবাইলে রয়েছে quadcore 1.3 GHZ processor আর MediaTek MT6582 এর চিপসেট। জি.পি.ইউ রয়েছে Mali-400. আমাদের অনেকের কাছেই এখন আর মিডিয়াটেক পছন্দ হয়না। কিন্তু আপনাদের এটা মাথায় রাখতে হবে আপনার বাজেট অনুযায়ী এই চিপসেট একেবারে খারাপ না আর জি.পি.ইউ সম্পর্কে বলতে গেলে এটা বলতে হয় MediaTek এর সাথে Mali-400 একেবারে খারাপ নয়। বরং আমার কাছে যথেষ্ট রিজেনেবল মনে হয়েছে। গ্রাফিক্স নিয়ে বলতে গেলে বলতে হবে গান আর HD Games এর কথা। যা আমি পরের সেকশনে আলোচনা করবো। চলুন, এবার আমরা এক নজরে সি.পি.ইউ এবং জি.পি.ইউ দেখে নেবো।

র‌্যাম এবং রম

এই মোবাইলে রয়েছে 1Gb ram আর 8GB Rom. 1Gb র‌্যামের মধ্যে আপনি 970 MB ইউজ করতে পারবেন। আর 8GB Rom এর মধ্যে  1GB+ apps install করতে পারবেন আর বাকি টুকু SD card হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। আসুন এবার দেখে নেই র‌্যাম এবং রম সম্পর্কে কিছু স্থির চিত্র।

ডিসপ্লে এবং টাচ

এই মোবাইলে ব্যবহার করা হয়েছে ৪.৭” QHD IPS Display with multi finger touch response. এর রেজুল্যুশন হলো (540*960) with 234 pixel per inch. আমি আগেই বলে নিয়েছি এই মোবাইলের ডিসপ্লে কিন্তু ফুল HD নয়। কিন্তু তারপরেও বলবো, ডিসপ্লে একে বারে খারাপ না, বরং যথেষ্ট ভালোই বলতে হবে। টাচ রেসপঞ্ছ অনেক ভালো বর্তমানে প্রচলিত এন্ড্রয়েড মোবাইলের মত। কোন প্রকার ল্যাগিং আমি দেখিনি। আমি এই মোবাইলের টাচ কে নম্বর দেই, তবে ৫০ এ ৫০ ই্ দেবো। চলুন এবার আমরা এই মোবাইলের ডিসপ্লে বিভিন্ন আঙ্গিকে দেখার চেষ্টা করি।

ইউজার ইন্টারফেস

এই মোবাইরের ইউজার ইন্টারফেস অন্যান্য এন্ড্রয়েড মোবাইলের মত গতানুগতিক নয়। বরং একটু অন্যরকম। আমরা যারা কাষ্টম রম ইউজ করেছি বা এখনো করছি তাদের মধ্যে MIUI কাষ্টম রম বহুল প্রচলিত আর জনপ্রিয় একটি রম। এই মোবাইলের ইউজার ইন্টারফেস অনেকটা সেই রকম। বিশেষ করে আইকন গুলো। যদিও এই মোবাইলে ডেস্কটপ আর এপস ড্রয়ার সম্পূর্ণ আলাদা, তাই এটাকে সম্পূর্ণ ভাবে Miui না বলাই ভালো্। আমার কাছে অত্যান্ত ভালো লেগেছে এর ই্‌উজার ইন্টারফেস। আসা করি যারা এই মোবাইলে দেখবেন বা কিনবেন তারাও এইটা পছন্দ করবেন। আর তাছাড়া থিম চেঞ্জ আর লঞ্চার ইউজ করার সুবিধা তো রয়েছেই। চলুন, এবার আমরা এই মোবাইলের ইউজার ইন্টারফেসের কিছু স্থির চিত্র দেখে নেই।

হার্ডওয়্যার ইনফো……

আমরা ইতি মধ্যেই জেনে গেছি এই মোবাইলের টোটাল ইনফরমেশন। চলুন এবার কিছু স্থিরচিত্র দেখে আরো নিশ্চিত হয়ে নেই আসলেই ইনফো গুলো ঠিক আছে কি না।

এপস ড্রয়ার এবং ডেস্কটপ

ক্যামেরা

এই মোবাইলে রয়েছে BSI 8MP Rear Camera supported 1080p video recording @30fps. আর তাছাড়াও ফ্রন্ট ক্যামেরা রয়েছে BSI 2MP, যা একেবারে খারাপ বলা যায়না। আমি আমোর আলোচনার নিচের অংশে মোবাইল দিয়ে তোলা কিছু পিক এড করে দিবো। এবার আসুন আমরা দেখে নেই ক্যামেরার কিছু অপশন।

ইমেজ স্যাম্পল

Front Camera

আমি বিভিন্ন সমসাময়ীক ব্র্যান্ড মোবাইলের সাথে Walton Primo H3 এর পারফরমেন্স তুলনা করে দেখেছি। যা আমার কাছে মোবাইলের দাম অনুযায়ী ঠিক লেগেছে। চলুন এবার আমরা বিভিন্ন ব্র্যান্ড মোবাইলের সাথে Walton Primo H3 এর পারফরমেন্স এর কিছু স্থির চিত্র দেখে নেই।

কানেক্টিভিটি ও সেন্সর

এই মোবাইলে কানেক্টিভিটির মধ্যে রয়েছে WLAN b/g/n (Wi-Fi), Bluetooth V4, Micro USB V2, WLAN Hotspot. তবে বলে রাখা ভালো সেন্সর কিন্তু খুব একটা বেশি নেই। তবে যে গুলা আছে সেগুলা আপনার কাজে আসবে। সেন্সর এর মধ্যে রয়েছে Proximity, orientation, compass, Accelerometer (3D), environment sensor.

গেমিং রিভিউ

ব্যাটারি ব্যাকাপ

এই মোবাইলে রয়েছে 1800 MAH removable battery, যা 4.7″ ডিসপ্লের জন্য যথেষ্ট নয়।  যেখানে Walton X1 এর 4.65″ ডিসপ্লের জন্য রয়েছে 2100 MAh ব্যাটারি সেখানে 4.7″ ডিসপ্লের জন্য 1800 MAH অনেক কম। ব্যাটারি ব্যাকাপ কমপক্ষে 2100 MAH হলে ভালো হতো।

Walton কি জেলীবিন’ই আটকে থাকবে!!!!!!!

আমার তো মনে হচ্ছে সহসাই Walton user রা কিটক্যাট পাচ্ছেন না। হয়তো এর জন্য আমাদের এই বছরের পুরোটাই অপেক্ষা করতে হবে। তবে আমরা আশা করতে পারি Walton কর্তৃপক্ষ এই ব্যাপারে দৃষ্টি দেবেন আর গ্রাহকদের কথা বিবেচনা করে কিটক্যাট আপডেট নিয়ে আসবেন।

দাম

মোবা্‌ইলের কনফিগ অনুযায়ী আমি বলবো এই মোবাইলের দাম হাতের নাগালেই আছে। এই মোবাইলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৪৯০ টাকা। এই দামের মধ্যে যদি আমি মোবাইল কেনার কথা চিন্তা করি তো লোকাল রি-ব্র্যান্ড এর মধ্যে আমি এই মোবাইলকে প্রাধান্য দেবো।

সিদ্ধান্ত

আমি সবাইকে একটা সাজেশন-ই দেবো আর সেটা হলো মোবাইলে কেনার আগে আপনার বাজেট অনুযায়ী মার্কেেটে পাওয়া যায় এমন মোবাইল গুলো যাচাই করে, দেখে শুনে বুঝে কিনুন। আর অবশ্যই কেনার আগে মোবাইলের কনফিগ দেখে নেবেন। আর আপনি যদি কনফিগ বিচার করে মোবাইল কিনতে চান তো ১২হাজার টাকার নিচে এই মোবাইলটিকে আমি আদর্শ মোবাইল বলবো। 

ফেসবুক থেকে মন্তব্যঃ

Leave A Reply